বিকাশ গায়েন


বি কা শ  গা য়ে ন 


বকুলগাছ

এখন কাউকেই সতর্ক করার প্রয়োজন নেই,পাখি-পড়ানোর
পায়ের চিহ্ন দেখে প্রত্যেকেই জেনে গেছে
কোনটা জঙ্গলের পথ ,কোনটা হাইওয়ের

গরীব কাঠুরে জানে
বৃষ্টিপতনের শব্দ কতটা ধাতব হলে
কাঁটাতার খুলে দিয়ে ঘুমু যান রেঞ্জারসাহেব
বনস্থলি কাঁপিয়ে সাঁই-সাঁই বেরিয়ে যায় ট্রাক

 লাঞ্ছিতারমণী জানে
টেলিফোনের ভাষা কতটা প্রখর হলে
নিমেষে পাংচার হয়ে যায় থানার সমস্ত কালোভ্যান
রাস্তাজুড়ে পড়ে থাকে রক্তাক্ত শাড়ি

অসহায় জনগণ জানে
হাওয়া কতটা নিরঙ্কুশ হলে
উড়তে উড়তে মন্ত্রী দেখেন দাঙ্গাবিধ্বস্ত গ্রাম,ক্ষুধিত ভারত
রক্ত মেশে জলে ,কাঁকরে মেশে চাল

এখন কাউকেই সতর্ক করার প্রয়োজন নেই,পাখি-পড়ানোর
প্রত্যেকে নিজেই এক একবার ঢাল তলোয়ার 
এবং বকুলগাছ।

চৈতন্য

ছিল সে মস্তকে সূর্য অধোমুখে ধায়
এ কী তীব্র ধারাস্রোত কৃষ্ণবর্ণ কালো
সর্বব্যাপী অগ্নি ছোটে দারুণ পিপাসা
মেরুদেশ ছুঁয়ে শিখা স্নায়ুতে জড়ালে
পতঙ্গসমান ঝাঁপে সর্বস্ব পোড়াবে।

খাবে দশহাতে খাবে মেধার টিয়া-টি
আগলিয়ে ছিলে বেশ এবার নিজেকে
আগলাও দেখি মাঝি স্রোতে কত দড়
সোজা স্রোতে ভেসে যাবে উল্টোটাই ধরো;
জেগেছে বেয়াড়া অশ্ব ধরো তার রাশ।

ফেরাও হেঁচকা টানে উৎসের মিনারে
ভাটাতে যা শ্বেতবর্ণ উজানে সে পীত
আনন্দ-আধার গঙ্গা চৈতন্যপ্রয়াসী
হলে কবি ডেকে নিয়ে দীর্ণ জনে-জনে
তোমার প্রেমের ভাষ্য সহজ শুনিও।


দানো

ভেতর থেকে ফুটে উঠল তোমার ছোট
প্রায় মুঠোয় এঁটে যাওয়া শরীর
                      আমি ঘায়েল হলাম।
এত ছোট,অথচ কী সর্বনাশা কুহক
আঙুল পরিমান গভীরতা কিন্তু কী সাঙ্ঘাতিক
                   মরণ-যমুনা!
তুমি জাদু জানো
তিলমাত্র ছিটিয়ে দিতেই ভরে গেল
                    খুশবুদার রং ।


“কই  খোল”-----আর আমি খুলতে থাকলাম।

খুলি আর তোমার সামনে মেলে ধরি
খুলি আর তোমার সামনে মেলে ধরি
বিরক্তিকে খাদে নামিয়ে
                      তুমি যা বললে
অনুবাদে তিনরকম মানে দাঁড়াল তার ।
একটা গেল সমুদ্রের দিকে,
                            আরেকটা অরণ্যে
অন্যটাকে নিজেরই আড়ালে
মমি করে রেখে দেব যেই না ভেবেছি
                     আমার টুঁটি
চেপে ধরল তোমার বগলামুখি ক্রোধ

তখন চোখের সামনে
আমার বড় শরীর নিয়ে আমি ছোট হচ্ছি
                       আর তুমি,
তোমার ছোট শরীর নিয়ে হয়ে উঠলে 
                     ক্রমে দৈত্যকায়।


আয়ুর পুত্তলি

প্লিজ ,কোন কথা নয়,দেখো রাত্রি তারা অগণন
ফুটে আছে দিব্য বিভা স্বাতী জ্যেষ্ঠা কৃত্তিকা ভরণী।
আলো দূর থেকে আসে লক্ষ কোটি অর্বুদ মাইল
একের পিছনে শূন্য বৃষ্টিফোঁটা অলীক অসীম
শূন্য এসে বাঁধা পড়ে অঙ্কের ধরায় দুই তিন….

কতরকমের অঙ্ক----কুলি নেতা বসে অধস্তনে
চেয়ারে চেয়ারে প্রেম,পরকিয়া,প্যাঁচ-পয়জার
তেল মারো আখের গোছাও----আলো,ছুটে আসা বাণী
আমিও ছিলাম,নেই,তুমি ভাবো নাকি আমি আছি?
তুমিও রয়েছ,থাকো,যতদিন শূন্য বেড়ে যায়।

একের পিছনে শূন্য,মহাশূন্য,মহা মহা ব্যোম
অনন্ত সে যাত্রাপথে অনিশ্চিত আয়ুর পুত্তলি
নদী-মাঠ-চাঁদ-ফাঁদ নিয়ে থাকো;ভাবো বেশ আছি।
আমি ফুরিয়েছি কবে তুমিও থোড়াই থাকলে তো!
যতক্ষণ কাঁদা হাসা  আরে ভাই ততক্ষণই প্রাণ

ভয়ে কাঁপি,কাঁপতে থাকি----এই বুঝি ব্রহ্মাণ্ড ফুরায়।
স্বাগত মনখারাপ

মনখারাপের দিনক্ষণ নেই----এই মেঘছায়া, এই রোদ্দুর
শিরোনামহীণ কষ্টগুলিকে জুড়ে জুড়ে এক পেল্লাই ঘুড়ি
আকাশে উড়ল শিখে নেবে বলে মৃতপ্রায় যত
                                                                  তারাদের ভাষা
যে তারা ব্রাত্য,যে তারা অতীত,যে তারা টানছে অন্ধকূপে
সে মহাশূন্যে কোনও আলো নেই,বায়ু নেই,কোন বৃষ্টির ফোঁটা
সে মহাশূন্য শূন্যেই গাঁথা…..

মনখারাপের তুমি ঈশ্বরী,তুমি বাগ্ দেবী,বারাঙ্গনাও
বুকে টেনে নাও ,পথে ফেলে মারো,ক্ষতে ভরে দাও                             
অপমান জ্বালা।
এই আশমানি,এই জাফরান শুধু ক্ষণে ক্ষণে রং বদলাও
ঘুঙুরে নুপুরে বাজাও রাত্রি;সাজালে ইচ্ছা ঘন দেওদার
ট্রেন চলে গেলে ফাঁকা প্লাটফর্ম পথ বেঁকে বসে ঘরে ফিরবার
মনখারপের দিনগুলি আসে----প্রতিবার কিছু দিয়ে চলে যায় 
                                                                        মনে রাখবার।

------

Comments

  1. সুন্দর । ভালো লাগলো।

    ReplyDelete
  2. আপনার কবিতা সব সময় ভালো লাগে ..

    ReplyDelete
  3. সব গুলি খুবই ভাললাগা কবিতা।

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

মহাভারতের স্বল্পখ্যাত চার চরিত্র /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯