অনির্বাণ ঘোষ


অ নি র্বা ণ  ঘো ষ


চিলপাখির দল

ঘুম ভাঙতে না  ভাঙতেই চিলের দল শুনিয়ে গেল এক দুঃসংবাদ।
আমাকে নাকি এবার চলে যেতে হবে!
না নরকে না,স্বর্গেই...
একটু জিজ্ঞাসা করতেই তারা বলে;
আমি নাকি কোনো কাজই ঠিকমতো করছি না
তাই যমরাজ ওদের দিয়ে ডাক পাঠিয়েছেন।
কি অদ্ভুত! আমি আবার কীসে ফাঁকি দিলাম!
উত্তরে ওরা বলে,
'তুই মানুষ রে! এদেশ তোর জন‍্য নয়।
দুর্নীতি-সাম্প্রদায়িকতা-বৈষম‍্য-অবিচারের নোংরা 
দুনিয়ায় তুই বড়োই বেমানান।'

ঘুম ভাঙল দেরিতে, এই সমাজেই...
চলে যাবো বললেই সবাই চলে যেতে পারে না।


অচেনা বাড়ির বুকে

আমার বাড়িতে একটা গাছেরও মূল‍্য আছে।
আমার অনুপস্থিতিতে তুমি তাকে মেরে ফেললে,
একটু জল চেয়েছিলো সে
তারপরে আর গাছ আনিনি বাড়িতে।

ভালোবেসে একটা কুকু্র পুষছিলাম তিনবছর ধরে,
অযত্নে অযত্নে সেও বাঁচলো না।
বিষমাখা দুধরুটি ধরেছিলে ওর মুখের সামনে...

এখন বাড়িটা প্রায় শূন‍্য,
শুধু তুমি ছাড়া আর একটিও প্রাণ নেই।
ভিটেমাটিকেই বড্ড অচেনা লাগে এখন,
ফেরার ইচ্ছেটুকুও বড়োই ক্ষীণ।
শুধু তোমায় একটাই প্রশ্ন--
ওই একতলা বাড়িতে কেন তুমি তার সঙ্গে 
থাকো এখনও?
একটা জীবন গাছের সঙ্গে

আমি ভালোবেসে একটা গাছ লাগিয়েছিলাম।
গাছটি এখন রোজ জল চায়,
আমিও আদর করে তাকে স্নান করিয়ে দিই।
তখন সে মুখ তোলে দু'মুঠো সারের জন‍্য
করুণ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকে,
হাসিমুখে বিকেলবেলা তার জন‍্য সারেরও ব‍্যবস্থা করি।
এখন গাছটা বেশ বড়ো,
আমাকে ছায়া দেয়, ফুল দেয়, ফল দেয়,
আবার ঝড় হলে প্রচণ্ড নোংরা করে দালান...
আমরা কে কার কাছে ঋণী?
গাছ আমার কাছে? না আমি গাছের কাছে?
চুল-দাঁড়িতে পাক ধরেছে,
এখন আর ওকে ভালোবাসতে পারি না।


নিজস্ব

১.
আমার তো কিছু দেখানোর নেই।
যতটুকু জানি, তাতেই আমি ঈশ্বর
বাদবাকিটা অজ্ঞতা।

২.
এটুকু জন্মভূমি,
বেড়া দিয়ে ঘেরা...
ছাগল-কুকুরেরও প্রবেশ নিষেধ
তুমি তো আগন্তুক!

 ৩.
শব্দ দিয়ে বুনছি বর্ণমালা...
গান গেয়ে যদি নিজেই হাসতে না পারো,
তাহলে কে শুনবে তোমার গান,বলো?

৪.
আঙিনার ওপর সবুজ আকাশ
পাশে নীল চারাগাছ,
এর বেশি কিছু নেই।
বাড়িতে একটিই দরজা
সেখানে তুমি যেও না কখনো...

কোথায় যাবে

যাবার জন‍্যে যে এত ব‍্যস্ত,কোথায় যাবে?
না না,বলে যাও তুমি
জানোই তো এভাবে তোমার চলে যাওয়াকে
কেউই ভালোভাবে দেখবে না...
তাও আমি তোমার যাওয়ার জন‍্য সব ব‍্যবস্থা করে রেখেছি।
চুলের খোঁপা,বেনারসীর পাড় আঁচল,শাখা,সিঁদুর-একি!
এগুলো কার জন‍্যে ফেলে যাচ্ছো তুমি?
দিনকালের অবস্থা খুব ভালো নয়,
তাও তুমি যেতে চাইছো বলে,আটকাচ্ছি না তোমাকে।
শুধু জেনে রাখো;
যে সম্পর্ককে অবহেলা করলে তুমি,
তাকে নিয়ে শঙ্খ ঘোষ কবিতা লিখতে বসেছেন।
                                         
--------

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

মহাভারতের স্বল্পখ্যাত চার চরিত্র /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯