বিশ্বজিৎ কর


বি শ্ব জিৎ ক র 


কবিতার আলো 

ঝাড়বাতির আলোগুলো জ্বালিয়ে দাও -
কবিতার আসর বসবে। 
যে কবিতায় মা আসেন, 
ভালবাসার ফটিকজল টলমল করে, 
মৃত্যু শাসিত হয় বর্ণচ্ছটায়, 
প্রতিবাদ প্রতিধ্বনিত হয় শব্দের দেওয়ালে, 
নীরবতা কথা বলে বাক্যের কশাঘাতে! 
জানালা খুলে রাখো -
প্রকৃতির খেয়ালিপনায় শব্দগুলো ঘূর্ণাবর্তে রয়েছে, 
আঁচল বিছিয়ে দাও -
ঐ দেখো, তোমার গন্ধে ওরা ছটফট করছে! 
ওদের কাছে টেনে নাও, 
এসো, এইবার কবিতা লিখি! 
ঝাড়বাতির আলো এইবার নিভিয়ে দাও -
দেখতে পাচ্ছ আলোর রোশনাই, 
হ্যাঁ, এই তো কবিতার আলো! 

রাতের নির্জনতায় 

রাত গভীর হয়-
পাহাড়ের নির্জনতা দাপটে টহল দেয়! 
তুমি ঠিক চলে আসো ভাবনার অলিন্দে-
অকারণের সন্দেহগুলো তোমাকে কলংকিত করতে চায়! 
দিনের আলোর গভীরে থাকা সব তারার আলোয় তোমাকে খুঁজেই চলি, 
কেউ কাউকে কাছে না পাওয়ার বেদনায় কষ্ট পায়, 
পাহাড়িয়া ঢালু রাস্তায় চুম্বনের নির্যাস কোন এক পাহাড়ি কন্যার অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে! 
আমি তোমার অব্যক্ত যন্ত্রণার ছন্দগুলোকে কবিতায় রেখে চলেছি, 
অবসরে তোমাকে স্বস্তি দেবে।


তুমি যখন আড়ালে

কাকভোরেই তুমি মনে চলে আসো -
দখলদারির ভূমিকায়! 
রাতবিরেতে অনিদ্রার ফসল হয়তো, 
কর্মব্যস্ততায় তুমি হয়ে ওঠো বটগাছের ছায়া! 
একাগ্রতায় চিড় ধরে সাঁওতাল  রমণীদের কাজমিছিলের ছন্দে! 
কৃষ্ণকলির লড়াই-এর প্রতিচ্ছায়া, 
ওরা কাজ করে খোঁপায় লাল পলাশ গুঁজে! 
ওদের নিরলস পরিশ্রমে আমি খুঁজে চলি তোমাকে, 
দৃষ্টি উদাস হয় -
বেহিসেবি মননের চালচিত্র দেখে বলেই দেয় -"ই বাবু, কার কুথা ভাবছিস রে! "
লজ্জায় অর্থহীন হাসির নায়ক  হয়ে উঠি -
লাল পলাশ হাতে দিয়ে বলে -
"ইটা তুর মনের মানুষেরে দিয়া দিবি! "
ভালবাসার অদ্ভুত গন্ধ সেই ফুলে -
এসো, তোমার খোঁপায় পরিয়ে দিই! 
ধারাবিবরণী

দিনগুলো কখন যে চলে যায়, 
ভবিষ্যতের দিকে চেয়ে -
মহার্ঘ্যভাতার হিসেব হয়, 
একটু আড়চোখ, কিছু ভাবনা! 
ফিসফাস হজম, স্রোতের ধাক্কায় এদিক ওদিক, কবিতার সাথে প্রেম, বাবুগণের লেকচার -
শুধুই চ্যানেল পাল্টানো, হৃদয় নিয়ন্ত্রণে আর এন টেগোর, 
নিয়মিত চুমু খাওয়া -ফেসবুকে! 
মাঝে মাঝে জানতে চাওয়া -স্কোর কত? 
উইকেট পড়ে, রানও হয়! 
ভাষ্যকার ক্লান্তিহীন! 


পথিক

পথভোলা পথিকের দেখা চাই, 
মুক্ত বিহঙ্গের মননে! 
ভালবাসার ঠিকানা খুঁজব -
তোমার খোলা হাওয়ায়! 
বার্তা পাঠিয়ে দেব সুনীল -শক্তি -জয়ের লেটারবক্সে! 
জবাব না পেলে কবিতা লিখব, 
তোমার চুম্বনের নির্যাসে! 
তুমি ভালবাসার মন্দিরে 
প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখো!

------

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

মহাভারতের স্বল্পখ্যাত চার চরিত্র /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শিবচতুর্দশী /ভাস্করব্রত পতি