খুকু ভূঞ্যা


খু কু  ভূ ঞ্যা


মায়াগাছ

জীবন নয়, আশ্চর্য মায়াগাছ,
যার পাতা কালো, ফুল নীল
শিকড়ে বাঁধা বেড়ি জন্মকাল।

ইচ্ছে তার পাখি হতে চায়,
বিছিয়ে দেবার সাধ নক্ষত্র
 তপোবনে সন্ন্যাস
ডানা পেল না।

ঘুমের ঘোরে আসে অশ্বিনী কুমার, আলোর কৃষিকাজ সারারাত,
দুচোখে সেরে ওঠা ভোর
কাকের আওয়াজ পেল যেই, ফিরে গেল সে।

লাল চিতার ভেতর থেকে উঠে আসছে ক্লান্ত ছায়া,
শোক নেই, অশ্রু নেই
বাঁচা আর বাঁচানোর দায় স্বীকার,মুঠো ভর্তি ছাই--


ঋতু সন্ধ্যা

এ যেন আশ্চর্য চমক,
সুপ্ত শামুকের ভেতর থেকে আস্তে আস্তে জেগে উঠছে আগুন,
সেই সঙ্গে জন্ম নিল লক্ষ্মণরেখা।
মায়ের বাজ পাখি চোখ,নজর বন্দী গামছা শরীর।
পুকুর ঝাপটানো, আম কুড়ানো,চু কিতকিত খেলার সাথী ভয়।
প্রথম লাল রঙ দেখে কেঁদে ফেলা; শরীরী চিহ্নের পাহারায় নিজেকে নিজের কাছে রাখা, অদ্ভুত--

এতো রাবণ যোগী বনে বাদাড়ে, এতো দুঃশাসনের ছায়া
লাজু মেয়েটি তেরোয় চিতা।
ঋতু গন্ধে মাংসাশী সময় চায় কুঁড়ি নদীর রক্ত!
আমি তখন মায়ের ঘুনসি বন্দী কড়ি
লাজুর পুড়ে যাওয়ার শব্দ শুনি--
ছায়াদহ

মাঠ ধরব না চোখে,
যদিও নুইয়ে পড়েছে ধানশিষ, চৌকাঠ পেরোনো বধূর মতো বাতাস
মুক্ত আবেগে ছুঁয়ে যায়,রাতের শিশির ঝরে ভালোবাসার শব্দে
তবুও আকাশ দেখব না।

লালন করছি প্রিয় অন্ধকার,
ভেতরের সব বন্ধন বিষন্ন বাঁশীতে ভরে বাজাব
যতক্ষণ না কন্ঠ ছিঁড়ে যায়।

যদিও ফুলের সাম্রাজ্য ছিল না
একমুঠো ঘাস ছিল আর মেঘরোদ আলপথ
ডুবে গেল ছায়াদহে--


সূর্যাস্ত

বৃষ্টি নয়, ধানের শীষ ধরে কাঁদছে মানুষ
ভাতে বিপর্যয়।
জানি যম ফিরবে না খালি হাতে
স্পর্শে স্পর্শে ভরে যাচ্ছে শ্মশানের কোল,
তবু সে ধান হতে চেয়েছিল,
ঝরা ঘামে ফোটাতে জুন ফুল
ভবিতব্যও কেমন কপাল ফাটিয়ে রুয়ে দিচ্ছে সন্ধা
থালায় সাজানো নতুন চালের ভাত মড়ক খায়।

বীজ ধানে তা দেওয়া লোকটি কঙ্কাল হয়ে খসে পড়ছে
সূর্যাস্তের চারপাশে
চৌকাঠ থেকে মুছে যাচ্ছে একটু একটু কিশোরী আলতা দাগ--

সন্ধ্যা ঝুঁকে এলে

শরীর নয়, পাঁজরের ভেতরে অপূর্ব এক যন্ত্রণা
ঠাকুর বাড়ির ঘন্টার মতো বাজছে, নিঃশব্দে।
কুয়াশা জমছে আস্তে আস্তে বামুন বন থেকে আকুন্দা,
চারপাশ জুড়ে আচ্ছন্ন এক মায়া
অনেক দূরের কোনো সন্ধ্যাকে কোলে বসিয়ে
জোনাকের টিপ পরিয়ে দিচ্ছে নৈঃশব্দ্য প্রেমিক।
কী সুন্দর সেই সম্পর্ক
প্রাণের সঙ্গে বাঁধা নিবিড়,
সাধ হয় নাড়ীতে নাড়ীতে বেঁধে বেঁধে থাকি।
তাকে সামনে বসিয়ে দুচোখ ভরে দেখি-
সন্ধ্যা ঝুঁকে এলে বিশ্বাস ভাঙার শব্দ পেয়ে
দুটো সারস উড়ে যায় দুই দিকে--

-----

Comments

  1. কবিতাগুলি পড়ে ভালো লাগলো । ধন্যবাদ জ্বলদর্চি ..

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি