অনিন্দিতা শাসমল
ভালোবাসা চিরকালীন হলে
তোমার জন্মদিন জানতে চাই ,ওই দিন সকালে তোমাকে নতুন কবিতা উপহার দেব বলে।
আমার বাগানের রঙিন ফুল তোমাকে দেখাতে চাই , একসাথে ফুলগাছের গোড়ায় জল দেবো বলে।
তোমার সঙ্গে যাদের নিত্য বসবাস ,তাদের ছবি দেখতে চাই ,আমিও তাদের একজন হয়ে উঠতে চাই বলে।
আমার রান্নাঘরের দরজায় প্রতিদিন তোমাকে চাই, হাতের রান্না কতটা সুস্বাদু হয়েছে তার প্রশংসা শুনবো বলে।
তোমার বিছানার চাদরের রঙ জানতে চাই কতটা ভালোবাসা জমে আছে তার ভাঁজে ভাঁজে,তা অনুভব করবো বলে।
আমার ছাদে পূর্ণিমার চাঁদ কতটা আলো ছড়িয়েছে তোমাকেই জানাতে চাই ,হিম জ্যোৎস্নায় দুজনে অবগাহন করবো বলে ।
তুমি আমার এইসব ব্যক্তিগত আগ্রহে উদাসীন থাকো।
তুমি মুহূর্তে বিশ্বাসী, আমি প্রতিদিন যাপনে।
লাবণ্য শিলং পাহাড়ে আনাচে কানাচে প্রতিদিন একটু একটু করে চিনেছিল অমিতকে।
তাই তাদের ভালোবাসা থেকে গেছে চিরন্তন হয়ে।
আমার রান্নাঘর
তোমার কথা ভাবতে ভাবতে রান্না করছি বলে ,ভেবোনা রান্নাটা খুব খারাপ করছি।
তেল মশলা নুন মিষ্টি ঝাল...
সব যথাযথ।
বুঝলে মশাই ?
রান্নাঘরটাই আমার কাছে
একটা আস্ত পৃথিবী ।
চিমনির একটানা শব্দের বিরক্তি।
তবুও সেখানে দাঁড়িয়েই একমনে কবিতা পড়ি। মন্তব্য লিখি ।
খাতা কলম খোলা থাকে সবসময়।
নুন তেল হলুদের ছিটে লাগা রুল টানা পাতায়, দু চারটে লাইন ফুটেও ওঠে কালো অক্ষরে।
শরণার্থী শিবিরের জনসংখ্যা, ভারত-পাক দ্বৈরথ ঘিরে জনগণের উত্তেজনা থেকে রবিবাসরীয়র অমোঘ আকর্ষণ--
কোনোটাই উপেক্ষা করতে পারেনা সুনিপুণ গৃহিণী।
এইসব কোনো কিছুই
তার রান্নার স্বাদ কমাতে পারে না ।
শুধু ডাইনিংএ চলতে থাকা টেলিভিশন থেকে কোথাও কোনো দুর্ঘটনার বা ধর্ষণের খবর কানে এলে, চমকে উঠি।
হাতে থেকে আচমকাই মেঝেতে পড়ে যায় খুন্তিটা।
অথবা , এক ঝলক মন খারাপের অবাধ্য উত্তুরে হাওয়া জানালা দিয়ে হঠাৎ ঢুকে পড়লে ,
তরকারিতে নুন একটু বেশি পড়ে যায়।
এইটুকুই !
এসো দুঃখ ভুলি
এত বিষণ্ণতা কেন কবি ?
সব দুঃখ বিষাদ ভুলে,
এসো ভালো থাকি আমরা--
একে অপরের প্রশ্রয়ে, আশ্রয়ে ,অকৃপণ বন্ধুতায় আর অন্তহীন ভালোবাসায় ।
এসো।
আমরা ঢেউ ভেঙে ভেঙে
স্রোতের বিপরীতে হাঁটি।
মানবিক আমরা ।
আমরা সুন্দরের উপাসক।
আমাদের অভিধানে ক্ষমা শব্দটি বাঙ্ময় হয়ে থাক।
এসো ।
আনন্দগানে ভ'রে তুলি আমাদের অনন্ত যাত্রাপথ।
2 Comments
ভালো লাগলো কবিতাগুলো।
ReplyDeleteভালো লাগলো।
ReplyDelete