মুহম্মদ মতিউল্লাহ্


মু হ ম্ম দ  ম তি উ ল্লা হ্

 
তোমার পিতা

অনেক দূরে দাঁড়িয়ে আছেন তোমার পিতা
তাঁর সমস্ত উচ্চারণ তুমি শুনতে পাচ্ছ,                                               উচ্চারণের মগ্নতা

প্রতিটি উচ্চারণের ভেতর এক একটি                                              দুপুরবেলার ইতিবৃত্ত
তোমার পিতার স্তোত্রবচন, দুপুর বলছে
আনন্দের ভেতর  গোপন  আর্তির ভেতর 
তুমি দূরে দাঁড়িয়ে দেখে নিচ্ছ 
সমস্ত দুপুরভরা সহজ পাঠ

তোমার জন্য জানালা খোলা। উন্মুক্ত আকাশ
তোমার জন্য রোদ আর অন্ধকার ডিঙিয়ে 
সুবর্ণরেখা নদী

তোমার পিতা দাঁড়িয়ে আছেন অনেক দূরে
সবুজ শাসন...

  দূরের রিকশা

একটি রিকশা চলে গেল দূরের রাস্তায়
আমি তার ঘন্টাধ্বনি তোমাকে শোনাবো, ভাবি
রাস্তা কত ধূসর.. নিস্তব্ধতা
যাত্রীর অস্পষ্ট মুখে গ্রীষ্মের রুমাল জ্বলে
সেই সব নিস্তব্ধ দুপুর আমাদের
ধর্মগ্রন্থের পাতায় বিবর্ণ কারুকাজ, মনে পড়ে?

এসবের ভেতর দিয়ে দূরের রিকশা চলে গেল।


বোগেনভিলিয়া ফুলকে

চৈত্রের রোদচশমায় তোমার আলোকচিত্র ফুটে উঠলে নীরক্ত কুসুমবন্ধু আমি পান্তাভাতের শীতে
লুকোতে চাই। আবার কয়েক হাজার দিন  হাহাকার পোড়ানো শূন্যদুপুর, সখি, উত্তর দক্ষিণ
সব জানালা খোলা।শূন্যতার জলচৌকি বেয়ে
দুপুরের বাঁশি ঘুমোচ্ছে নিমের ছায়ায়। তাকে ডেকে বলি: একপা একপা করে এগোতে চাই
রোদের আলোকচিত্র চিনে। ওই রুপোলি অস্থিরতায় আমার শূন্য শাঁখামুঠি, হাতের পাঁচটা আঙুল খুলে যাওয়া সরলতা... নাগালশিখরে ফুটে ওঠা ও রক্তবর্ণ হাহাকার, আলপথের বালিকারা দিন গেলে তোমার পাশে শোবে, আকাশে জ্বলবে জন্মান্ধ নক্ষত্র পুরুষ
অদূর পদমূলে পোড়ামাটির কুসুমবন্ধু আরও সংবৃত হবো প্রত্যহের অসুখে...


ঈশ্বরের পত্রাবলি

অনেকদিনের পুরনো চিঠির ভেতর ঈশ্বরবিশ্বাস খেলা করে
তোরঙ্গের অন্ধকার এক অনন্ত নিস্তব্ধতা
ছেঁড়া মোড়ক, মৃত পোস্টকার্ড  ক্রমঅভিব্যক্ত
কত মায়া

রুক্ষ ধূ ধূ আর কিছুদিন পর
বসন্তকাল আরও চৈত্রমাস হবে
বটের ঝুরির ভেতর নেমে আসবে প্রাচীনতা

একদিন সন্ধ্যাভাষার মোড়কগুলি চর্যাপদের
দেশে উড়ে যাবে পত্রপ্রাপকবিহীন–

তারপর ঈশ্বরের পত্রাবলি ঘিরে নম্রধূসরতা।
 অঋণ

আমার নাম সুধা। তাহার নাম যদি অমল হইত...
আমি তাহাকে রূপকথার রাজকন্যা হইয়া ঘুম ভাঙাইবার কথা ভাবি, একদা তাম্বুল লইয়া সে কী কাণ্ডটা করিয়াছিল, সে নৌকা একাকী জ্যোৎস্নায় জাগিয়া আছে...আজ মনে পড়িলে ইচ্ছে করে একের পর এক পাথর ছুঁড়িয়া তাহার অনন্ত ঘুম ভাঙাইয়া দিই–
সে আমার দারুণপ্রহরগুলি অকারণ স্বপ্নে বিপন্ন করিয়াছিল কেন–তাহাকে ঘুম ভাঙিলে জিজ্ঞাসা করিব। একদা সে বিড়বিড় করিয়া গাহিত 'আজি জ্যোৎস্নারাতে সবাই গেছে বনে'–
আজ অসহ্য জ্যোৎস্নায় পুড়িতেছে অরণ্যপ্রহর, আজ তাহার ঘুম কাহার বাড়াভাতে ফেলিতেছে ছাই, সে তাহার খবর জানে না–
যদি তাহার ঘুম না ভাঙে তবে বিজ্ঞাপনের জ্বলন্ত বাঘ হইয়া তাহার স্বপ্নের ভেতর ঝড় তুলিব। আমার নাম পালটাইয়া অরণ্য নিধনের শেষ যজ্ঞে হাতে পুরিব শুক্লপক্ষের চাঁদ। আমার ছায়া তাহাকে গ্রাস করিবে, ছন্নছাড়া করিবে, তাহার সমূহ অসুস্থতা জুড়িয়া যে নিষ্ঠুরতা, 
যে আত্মমগ্ন স্বার্থপরতা তাহার কলস খুলিয়া যাইবে। আমি প্রাকৃত প্রহর হইয়া ঝরিব তাহার নিষ্ঠুরতায় তুমুল প্রতিপক্ষ হইব–প্রাকৃত রমনী...
-------

Comments

  1. এমন কবিতা ভাবনা'র পাশে এনে দাঁড় করিয়ে দেয়।

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

মহাভারতের স্বল্পখ্যাত চার চরিত্র /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯