রাজর্ষি রায় / সাগরময় ঘোষ

রা জ র্ষি  রা য় 


সাগরময়  ঘোষ : শ্রদ্ধা ও স্মরণে   

বাংলা পত্র-পত্রিকা ও সাহিত্য জগতের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব হলেন সাগরময় ঘোষ। তিনি জন্মেছিলেন ১৯১২ সালের জুন মাসে,অধুনা বাংলাদেশের কুমিল্লার চাঁন্দিপুর গ্রামে। তাঁর বাবা কালীমোহন ঘোষ ছিলেন রবীন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠ সহযোগী, যাঁর উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল শ্রীনিকেতন। তাঁরা ছিলেন ছয় ভাই ও এক বোন। সাগর ছিলেন দ্বিতীয়। বাংলাদেশ থেকে যখন শান্তিনিকেতনে কালীমোহন সপরিবারে চলে আসেন তখন সাগর ছিলেন নিতান্ত ছোট। তাঁর শিক্ষা শুরু হয় শান্তিনিকেতনে, রবীন্দ্র- আবহে। তিনি বিশ্বভারতী থেকে আই. এ.পাস করেন এবং পরে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিটি কলেজ থেকে  বি.এ.পড়েন । তাঁর দাদা শান্তিদেব ঘোষ ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের উজ্জ্বল নক্ষত্র। দাদার মতো সাগরময়ও ছিলেন সুকণ্ঠের অধিকারী। তবে সাহিত্য ছিল তাঁর চিরদিনের পছন্দের বিষয়।

কলকাতায় কলেজে পড়ার সময় সাগরময় ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। এই আন্দোলনে তিনি কারাবরণও করেছিলেন। কারাগার থেকে বেরিয়ে তিনি পড়াশোনা শেষ করেন ও পরে 'যুগান্তর' পত্রিকায় চাকরি নেন। সেখানে তিনি তিন বছরের বেশি কাজ করেন। তারপর তিনি আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত হন। তখন আনন্দবাজারের সম্পাদক ছিলেন অশোক কুমার সরকার। কাজে যোগ দিয়ে প্রথম দিন রিপোর্টিং-এর পর প্রফুল্লকুমার সরকারের ইচ্ছানুসারে তিনি 'দেশ' পত্রিকার সহকারী সম্পাদক হন। তখন সেই পদে একজনকে নিযুক্ত করতে চেয়েছিল আনন্দবাজার। সাগরময়ও তাঁর ইচ্ছানুসারে এই পথ বেছে নিয়েছিলেন।
তাঁর ছোটবেলার শৈশব-কৈশোর ও যৌবনের বেশ কয়েকটি বছর কেটেছিল শান্তিনিকেতনে। তাঁর কথায়, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে এমন ব্যবস্থা রেখেছিলেন, যাতে একটি শিশু বেড়ে উঠতে পারে সব দিক দিয়ে। একটি শিশু শিক্ষায় যেন উৎসাহ, আগ্রহ এবং আনন্দ পায় সেই রকম ব্যবস্থা করেছিলেন। এমনকি গান সেখানে ছিল যেন ভোরের পাখির ডাকের মতো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের গান মুখে লেগেই থাকত। তাঁর শিল্পবোধ তৈরি হয়েছিল কলাভবনের নন্দলাল বসুর কাছে। কলাভবনের লাইব্রেরীতে যেসব বই পাওয়া যেত তা থেকে দেশ-বিদেশের নানা ছবির সঙ্গে তাঁর পরিচিতি ঘটেছিল। শান্তিনিকেতনে বড় হওয়ার ফলে নাটক দেখায় তাঁর ছিল অদম্য আকর্ষণ। তার সঙ্গে খেলাধুলা তো ছিলই--ফুটবল, ব্যাডমিন্টন প্রভৃতি। রবীন্দ্রনাথ যা ভেবছিলেন,একটা চারাগাছ যদি একটু আলো-বাতাস না পায়, তাহলে তার যেদিকটা ছায়ায় ঢাকা পড়ে যায়, সেদিকটা বাড়তে পারে না, তেমনি  একটি ছেলের বড় হয়ে ওঠার পেছনে সব রকম উন্নতির ব্যবস্থা তিনি করেছিলেন। তারই মাঝে তিনি বড় হয়ে উঠেছিলেন। সেইরকম ভবিষ্যৎ জীবনে তিনি দেখেছিলেন, শিক্ষিত মানুষ অনেক কিছুই জানতে চায়, শুধু গল্প-উপন্যাস বা কবিতা নয় তার সঙ্গে আরও অনেক কিছু জানার কৌতুহল থাকে--তাকেই তিনি পত্রিকার কাজে লাগিয়েছিলেন সম্পাদক হিসেবে।
১৯৩৯ সাল থেকে 'দেশ' পত্রিকার সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ গড়ে ওঠে। কাগজে-কলমে তিনি সম্পাদক হয়েছেন অনেক পরে- ১৯৭৬ সালে। সেই দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন ১৯৯৭-এর অক্টোবর পর্যন্ত। 'দেশ' পত্রিকায় যোগ দিয়েই তিনি গোড়া থেকে সম্পাদনার কাজে নিজেকে পুরোদস্তুর জড়িয়ে ফেলেছিলেন। নিজে বড় একটা লিখতেন না বরং নিজের লেখকসত্তাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে অন্যকে লেখক বানাবার দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি। নিজেকে আড়ালে রেখে অন্যের লেখার গুণগত মানবিচার, নবীন লেখকদের খুঁজে বার করা এবং দক্ষতা অনুযায়ী প্রবীণ ও নবীন সকলের কাছ থেকে তাঁর শ্রেষ্ঠ লেখাটি আদায় করে নেওয়ার  ব্যাপারে অসামান্য ক্ষমতা ছিল তাঁর। তিনি যখন 'দেশ'-এ আসেন তখন রবীন্দ্রনাথ জীবিত। রবীন্দ্রনাথের 'শেষকথা' গল্পটি তিনি তাঁর কাছ থেকে আদায় করে 'দেশ' পত্রিকায় ছাপিয়েছিলেন। ১৯৪৪ সাল থেকেই সহকারী সম্পাদক হিসেবে 'দেশ' পত্রিকায় তাঁর নাম ছাপা হতে থাকে। তখন সম্পাদক ছিলেন বঙ্কিম সেন।
তিনি যখন সম্পাদনার কাজে আসেন তখন একদিকে যেমন ছিলেন বিমল মিত্র, প্রেমেন্দ্র মিত্র, সুবোধ ঘোষ, প্রবোধ সান্যাল, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, সৈয়দ মুজতবা আলী, শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়, বুদ্ধদেব বসু প্রমুখ বাংলা সাহিত্যের অপরাজেয় সাহিত্যিকগণ, অন্যদিকে সমরেশ বসু, শংকর, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়, সমরেশ মজুমদার, জয় গোস্বামী প্রমুখ তরুণ লেখকগণ। দুই প্রজন্মের সাহিত্যিকদের রচনা তিনি সমান নিষ্ঠা ও ঐকান্তিকতায় সামলে ছিলেন।
'দেশ' পত্রিকার সুবর্ণজয়ন্তী সংখ্যায়  'অতীত ও বর্তমান' শীর্ষক প্রবন্ধে অশোককুমার সরকার লিখেছেন- "আমি দীর্ঘকাল 'দেশে'র সম্পাদক ছিলাম কিন্তু উপন্যাস, গল্প নির্বাচনের ব্যাপারে সমস্ত দায়িত্ব ন্যস্ত ছিল সাগরময় ঘোষের উপর।" সেই প্রবন্ধে তিনি আরও বলেন-
"সাহিত্যধর্মী সাপ্তাহিকের সম্পাদককে সব কিছু দেখেশুনে ছাপাতে হবে...কোনটা পর্নোগ্রাফি আর কোনটা সাহিত্য এটাই বিচার করে নিতে হবে সম্পাদককে। সে দিক থেকে দেশ সম্পাদক সাগরময় যথেষ্ট দক্ষতা এবং বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন।"
সাগরময়ে'র যত বয়স বেড়েছে ততই সমৃদ্ধ হয়েছে 'দেশ'। এক কথায় বলতে গেলে দীর্ঘ সময় জুড়ে 'দেশ' ও সাগরময় ঘোষ ছিলেন পরস্পরের পরিপূরক। পত্রিকাটির সঙ্গে তাঁর নাম একইরকম ভাবে উচ্চারিত হয়।

অমিত্রসূদন ভট্টাচার্যকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, 'প্রবাসী'- পত্রিকার প্রখ্যাত সম্পাদক রামানন্দ চট্টোপাধ্যায় ছিলেন সম্পাদনার ক্ষেত্রে তাঁর গুরুস্থানীয় এবং তিনি মনে মনে তাঁকেই গুরু বলে স্বীকার করেছিলেন। নিজের জীবনে রাজনীতি করতে গিয়ে তাঁর যে অভিজ্ঞতা হয়েছিল তারই ফলে তিনি কখনোই রাজনৈতিক নেতাদের আমল দিতে চাননি। সব সময় তিনি তাদের ছায়া এড়িয়ে চলেছেন। কখনো তাদের দেখে দূর থেকে একটু নমস্কার বা মৃদু হেসে সরে গেছেন। তাঁর জীবিত কালে তাই পত্রিকার উপর হয়তো সেই কারণে কোন রাজনৈতিক চাপও দেখা যায়নি।
তাঁর প‌‌ঞ্চাশ বছরেরও অধিক সম্পাদনার জীবনে নানাজনকে নানারূপে সাহিত্যিক হিসেবে পেয়েছিলেন তিনি। তাঁর আগের যুগের লেখকদের মধ্যে- তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায় যেমন ছিলেন,  তেমনি ১৯৫০-এর পর থেকেও বহু সাহিত্যিক দীর্ঘকাল ধরে বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছিলেন এই 'দেশ' পত্রিকার মধ্য দিয়ে। তাঁদের মধ্যে সন্তোষকুমার ঘোষ, নরেন্দ্রনাথ মিত্র, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী প্রমুখ আরো বহু নাম 'দেশ' পত্রিকার সঙ্গে জড়িত হয়েছিল। 
"সম্পাদক হতে গেলে যা যা দরকার তার সবই সাগরদার ছিল। কিন্তু কখনও নিজেকে তিনি জাহির করতেন না।"- -একথা বলেন সাহিত্যিক শংকর। ১৯৬৭ সালে আমেরিকা থেকে যেদিন তরুণ লেখক শংকর ফিরে আসেন সেদিন তাঁকে স্বাগত জানাতে দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছে গিয়েছিলেন সাগরময়। এই প্রসঙ্গে সাহিত্যিক সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় বলেন-
"সম্পাদনা হলো ধরা। একই সঙ্গে অনেক কিছু ধরা। একহাতে পাঠকের নাড়ি, অন্য হাতে লেখক ও প্রকাশনা যন্ত্রের কব্জি। সম্পাদনার কাজে ছুটি নেই, অবকাশ নেই, ফুলটাইম অকুপেশন। চূড়ান্ত টেনশন।সম্পাদক সাহিত্য করেন না, সাফল্যের অংশীদার হন না, তিনি সাহিত্যিকের জন্ম দেন। ময়রার মতো। সন্দেশ, রসগোল্লা নিজে খান না, তুলে দেন অন্যের পাতে।...সাগরদার আদর্শমানব রবীন্দ্রনাথ, আর তাঁর পূজা হল সম্পাদনা, আর মন্দির হল 'দেশ' পত্রিকা। এই 'টাওয়ারিং পারসোনালিটি' তাঁকে সকলের শ্রদ্ধেয় করে তুলেছে।"
যখন কোনো সাংবাদিক এসে তাঁকে প্রশ্ন করতেন যে অমুক সাহিত্যিক আকাদেমি পেলেন তখন সাগরবাবু হেসে বলতেন- "আমি আরও একবার আকাদেমি পেলাম।"
সাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায আনন্দবাজার ও দেশ পত্রিকায় চাকরি করার সুবাদে  সাগরময় ঘোষকে ঘনিষ্ঠভাবে চিনেছিলেন। তিনি বলেন- " নতুন লেখকদের উৎসাহ এবং স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার মত মহৎ হৃদয় ছিল সম্পাদক সাগরময় ঘোষের।"
কবি জয় গোস্বামী মনে করেন- "কোন লেখকের ভিতরে যা সুপ্ত, তাকে বের করে আনতে পারতেন সাগরদা।" সেই হিসেবে কবিতা থেকে তাঁর গদ্য রচনার সূত্রপাত।১৯৮৮ সালে 'দেশ' পত্রিকায় তাঁর গদ্য রচনা প্রকাশিত হয়- 'নিজের জীবন বীজের জীবন', 'হৃদয়ে প্রেমের শীর্ষ' প্রভৃতি।
সব সময় সাহিত্যের পরিমণ্ডলে বাস করলেও সভা-সমিতিতে তিনি খুবই কম যেতেন। বাইরের জগতের থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে চাইতেন সর্বদা। নিজের সম্পর্কে মূল্যায়ন করতে গিয়ে অনুজ লেখকদের তিনি কখনো কখনো বলতেন-"আমি তো স্টেজের মালিক। শুধু স্টেজ ভাড়া দিই। নাচবে তুমি। ভুগলে তুমি ভুগবে।" আবার কখনো কাউকে বলতেন- "অনেকদিন কিছু লিখছো না। কয়েকদিন ছুটি নাও। কয়েকটা কবিতা লিখে নিয়ে আসবে।" 
ঠিক যেন শিক্ষকের মতন ছিলেন তিনি, যেন হোমটাক্স দিতেন লেখকদের। আবার শুধু নতুন লেখক আবিষ্কারই করতেন না, কারুর সুন্দর লেখা পেলে তাঁকে ডেকে আনতেন এবং বলতেন,' এত সুন্দর লেখা 'দেশে' দিলে না' অর্থাৎ তাঁর ধ্যান-জ্ঞান ছিল 'দেশ' পত্রিকা। নিজেকে সবরকম ভাবে আড়ালে রেখে সারাজীবন অন্য স্রষ্টাদের এগিয়ে দেওয়ার এই যে নির্মোহ মন তা সাগরময় ঘোষকে সম্পাদক হিসেবে শ্রদ্ধার আসনে বসিয়েছে।

 গল্পে-গানে-মুড়ি-বাদাম-তেলেভাজায় তিনি আড্ডা দিতে বেশী পছন্দ করতেন। সেই পরিসরও তাঁর খুব একটা কম ছিল না। পছন্দের অল্প লোকজনকে নিয়ে সপ্তাহের শেষে চৌরঙ্গীর একটি নির্দিষ্ট রেস্তোরাঁয় পানভোজনের আড্ডাতেও যেতেন তিনি। দানা বাঁধত বিচিত্র ভাবনা। প্রেমেন্দ্র মিত্র একবার তাঁকে নিয়ে লেখেন- 'বিলেত না গিয়ে সাহেব' নামে একটি লেখা, তবে সাগরবাবুর পীড়াপীড়িতে সে লেখা প্রকাশের মুখ দেখতে পায়নি। তিনি তাঁদের সেই আড্ডার কথা লিখে রেখেছেন তাঁর রচিত 'সম্পাদকের বৈঠক' নামক গ্রন্থে।

সম্পাদনার  ফাঁকেই  তিনি  রচনা করেন-'একটি পেরেকের কাহিনী', 'হীরের নাকছাবি' 'দণ্ডকারণ্যের বাঘ' প্রভৃতি গ্রন্থ। 'একটি পেরেকের কাহিনী' গ্রন্থটির জন্য তিনি ১৯৮৪ সালে লাভ করেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায় স্মারক পুরস্কার। 
এছাড়াও রয়েছে তাঁর সম্পাদিত অনেকগুলি গ্রন্থ, যেমন- 'দেশ শারদীয় গল্প সংকলন', 'পরম রমণীয়', 'দেশ সুবর্ণজয়ন্তী' গল্প, কবিতা ও প্রবন্ধ সংকলন, 'শতবর্ষের শতগল্প' প্রভৃতি। ১৯৮৬ সালে তিনি লাভ করেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে 'দেশিকোত্তম' পুরস্কার, ১৯৮৪ সালে তিনি 'আনন্দ পুরস্কার' পান সুকুমার সেন এবং বিমল মিত্রের সঙ্গে। তাঁর মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে আনন্দ পাবলিশার্স থেকে প্রকাশিত হয় তাঁর 'রচনা সংগ্রহ'।
জীবনে তিনি সবসময় চেষ্টা করেছেন সোজা পথে চলতে। সত্যকে বোঝবার বা জানবার চেষ্টা করেছেন যুক্তি দিয়ে। তাঁর মোটো ছিল আচরণে এমন কিছু প্রকাশ পাবে না, যাতে অন্যের ক্ষতি হয় কিংবা অন্যে আঘাত পান, সেইরকম তিনিও প্রত্যাশা করতেন অন্যের কাছে। নিজেকে আনন্দের মধ্যে রাখতেই সারাজীবন চেষ্টা করেছেন। ঈশ্বরের থেকে তিনি আনন্দকেই বড় করে দেখতেন। অফিসে তিনি ছিলেন রাশভারী, আড্ডায় ছিলেন মজলিসি ব্যক্তি কিন্তু পরিবারে তিনি ছিলেন একদম সদাশিব গৃহকর্তা। সাংসারিক খুঁটিনাটিতে তিনি কখনও মাথা গলাতেন না। জীবনযাপন ছিল একেবারে ঘড়ি-ধরা। যদি দশটায় খাবেন বলতেন, তাহলে তাঁর এক মিনিটও নড়চড় হতো না।ইলিশ, চিংড়ি, পারশে- এইসব খেতে বেশি ভালোবাসতেন আর রবিবার দিন পাঁঠার মাংস ছিল তাঁর বাঁধাধরা। কিন্তু পাতে সবকিছুই অল্প পরিমাণ নিতেন, শত অনুরোধেও টলতেন না।

তিনি চিরকালই ছিলেন খেলাপাগল মানুষ। ফুটবলে তিনি ছিলেন ইস্টবেঙ্গলের সমর্থক। মৃত্যুর ঠিক আগের মুহূর্তে তিনি খেলা দেখছিলেন, সেদিন ইডেনে ক্রিকেট খেলা হচ্ছিল। খেলা দেখতে দেখতেই তিনি অসুস্থ হয়ে ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে, জীবনের খেলা সাঙ্গ করে, ১৯৯৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি।

তিনি জন্মেছিলেন ২২ শে জুন,১৯১২ সালের এই দিনে। যতদিন এই পৃথিবীতে বাঙালি ও বাংলা ভাষা বর্তমান থাকবে ততদিন সাগরময় ঘোষ স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তাঁর সম্পাদনা ও সফল মানুষ হিসেবে।

-----

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি