সোমনাথ প্রধান


সো ম না থ  প্র ধা ন 


রবীন্দ্রনাথের প্রতি

আজ তোমার জন্মদিন ;
তোমার ছবির সামনে
এই ধূপ, এই মোমবাতি
আমি কি হিংসের আগুনে জ্বালিয়েছি !
এখনও তোমার গীতবিতান বুকে নিয়ে
ঘুমোতে যায় আমার প্রেমিকা...

আসলে প্রেমিকারা সব সূর্যকন্যা,
তবে রোদ হয়ে নয়, 
ওরা জোছনা হয়েই ধরা দেয় প্রেমিকের কাছে...
গুরুদেব, জোছনা তো সেকেণ্ড হ্যাণ্ড রোদ !
চাঁদের হাত বদলানো ওরা !
তুমিও কি চাঁদ, রবীন্দ্রনাথ !
তোমার জন্য বিশ্বভরা প্রেমিকাদের
জোছনার মতোই শুভ-বদনাম...

আজ তোমার জন্মদিন ;
তোমার ছবির সামনে
এই ধূপ, এই মোমবাতি
আমি কি হিংসের আগুনে জ্বালিয়েছি !

অভিশাপ

সে ক্লান্তি অন্ধ হয়ে গেছে,
সে ক্লান্তি ভীষণ অবলা, তুমি জানতে
ভ্রষ্ট রাখাল ! 
বাঁশি বাজিয়ে তবু ডেকে নাও নি তাদের
শ্রেয় অঞ্চলে...
মৃত্যুরেখার খিদে মেটাতে ঠেলেছ দ্বিধাহীন !

বাঁশি বাজাও নি,
আসলে তোমার দু'ঠোঁট ব্যস্ত
অন্ধকারের যোনীর ভেতর,
কর্মছুট তুমি, তুমিও সঙ্গমের মত্ততায় অন্ধ...
ভ্রষ্ট রাখাল ! কান পেতে শোনো,
ঘনীভূত দীর্ঘশ্বাসের ঘূর্ণি-প্রজন্ম,
দেরি নেই 
যখন অন্ধকারেরও অতৃপ্তির নীচে
বসে থাকবে তুমি,
নিজের হাতে নিজের উৎপাটিত লিঙ্গ ধরে
বসে থাকবে...


আয়নার আবাদ করেছি

আয়নার আবাদ করেছি ছাদের টবে,
মুখ নয়, মন দেখা যায়,
দেখা যায় অপার্থিব কিংবা বিমূর্তের প্রতিবিম্ব,
আমি রোজ তাদের কাছে বসি...

আমার অন্তরের, 
আমার অংশের যাকিছু আবশ্যিক অলক্ষ্য,
সে অলক্ষ্যের সুগন্ধি প্রতিবিম্ব দেখি...
ডানদিককে বামদিক ক'রে নয়,
সতত সে আয়নায়
প্রতিবিম্বগুলো আসলে এক একটা সমাধান! 

প্রিয় কিছু গাছ লাগিয়েছি ছাদের টবে...


দশ বছর ধরে লেখা একটি কবিতা

একটা কবিতা পূর্ণাঙ্গ দাঁড়ালে
তাকে শুঁকতে ভাললাগে,
ঝড় থামবার পর
প্রকৃতির গায়ের গন্ধের মতো...

তুমিও এসেছ রোজ, বছর দশ,
অথচ কখনও পূর্ণাঙ্গ দাঁড়ানো হয়নি !
মনে মনে সেই না-পাওয়ার ছোট ছোট মুগ্ধতা
লেপ্টে থেকেছে বার্ষিক গতির ভেতর...

আজ নৈতিকতা আর নহবত
একসাথে আলাপ ঋদ্ধ মাতনদোলায়,
আজ ফুলের আত্মীয়তা আর রাতের বন্ধুতার মাঝে 
গীতিবহুল শরীর...
কবিতার মতোই শায়িত তুমি !
অথচ আজই যেন পূর্ণাঙ্গ দাঁড়ালে়...

ঝড় খামার পর আজও সেই
প্রকৃতির গায়ের গন্ধ,

সমাগত মত্ততায় বয়ে যাচ্ছে বিগলিত সঙ্কোচ...

এসময়ের উপহার

সুন্দর কভারে মোড়া উপহারের বাক্স এসেছে,
খুলে দেখছি...
উপরের সোনালি ফিতে কাটতেই 
মনে হল,
উদয়রাগ মাখা স্বচ্ছ নদীটি
লজ্জার ব্যস্ততা নিয়ে নাচতে নাচতে বয়ে গেল !

কভারে ফুলেরা হাসছে,
এ হাসি দূষণ থেকে দুশো যোজন দূরে থাকার
আস্থা কিংবা অহং,
কভারে সবুজ বনানী, শুভঙ্কর পাখির দল,
ঠোঁটের জন্য ঠোঁটের 
গানে গানে ডোবানো
সেই চিরায়ত চাওয়ার উৎসব...

এসব দেখতে দেখতে সরিয়ে ফেলি কভার,
বাক্সটাকে মুক্ত করি,
আর মাত্র একটা ধাপ, 
অথচ বাক্স খুলে দেখি, চৌকনো অন্দর জুড়ে
সে শুধু আমার
মনখারাপ ! মনখারাপ ! মনখারাপ !

-----

Comments

Trending Posts

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা /সূর্যকান্ত মাহাতো

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সুন্দরবনের উপর গুচ্ছ কবিতা/ওয়াহিদা খাতুন