মহুয়া ব্যানার্জী


ম হু য়া  ব্যা না র্জী


অপেক্ষা
         ‌‌      
ধূসর বারান্দা জুড়ে খেলা 
করে কনে দেখা আলো।
ছাদের নির্জনতা ঘুঘুর পালকের মতো
পেলবতায় কেমন আলতো ছড়িয়ে 
আছে  মধ্যবয়সের ছায়াশরীর জুড়ে।
অসহ্য নিস্তব্ধতা শাড়ীর ভাঁজেভাঁজে 
পোকায় কাটা ছিদ্রের মতো লুকিয়ে আছে।
অন্ধ অপেক্ষায় আজো একলা ছাদে 
আটপৌরে ভালোবাসা  পরিপাটি সাজে।
দিন গুজরানের চপলতা ভরা
আত্মমর্যাদা একসময় ক্লান্ত,
আত্মসমর্পণের সুখ চায়।
অহঙ্কারী হাতব্যাগে লুকিয়ে 
রাখে মধ্যবিত্ত  ভীরু লজ্জা, তারপর...
এক আকাশ প্রত্যাশায় দিন গোনে,গুনেই চলে -
অপেক্ষা আসলে এক দীর্ঘ অন্ধত্ব।

আগুন সময়ের গাথা

চারিদিকে চিতার আগুন
তবু গাঢ় অন্ধকার ...
প্রমত্ত হুঙ্কারে আজ ঢাকা
পড়ে গেছে শান্তির পথ।
যুযুধান দুই পক্ষের ক্ষমতার
আস্ফালন শবের ওপর।
পালাবার পথের খোঁজে কানাগলিতে 
স্থবির রাম ও রহিম।


কার কি তাতে?

একলা জীবন এক কোণেতে
ছেঁড়া ফাটা টুকরো মতন।
ফাগুন হাওয়ায় তার মনেতে
লাগল হঠাৎ কিসের কাঁপন!
খুব কি হলো ক্ষতি তাতে?
কে জানে তায় কার কি গেল!

চৈত্রমাসের রুক্ষ বাতাস
তাদের মনে কালবোশেখী।
একটা জীবন হাত বাড়ালে
আরেক জীবন মস্ত সুখী।
কার কি এলো গেলো তাতে?
কেনই বা সুখ সর্বনাশী?

এক আদরের আলতো ছোঁয়ায়
গুটিয়ে থাকা শামুক খোলে
ভরসা যোগায় আবার চলার 
অন্ধ কালকে সরিয়ে ঠেলে।
ক্ষতি তাতে কার কি বলো?
কি এসে যায় সমাজটাতে?

আলো আঁধারের মায়ার খেলায়
দেখিস আমায় অবাক চোখে।
জোনাক জ্বলা সন্ধ্যা রাতে 
থাকবো সুখে তোরই বুকে।
ক্ষতি বলো কার কি হলো?
কি এসে যায় কার কি তাতে


কামনা

তুমি গর্ভগৃহ হও আমি 
বিগ্ৰহরূপে তোমাতে অধিষ্ঠিত হবো।
নিত্য স্নানজলে ধুয়ে যাবে
ক্লেদাক্ত সময় যাপন।
তুমি গৌরীপট্ট হলে আমি
সৃষ্টির দেবতা হয়ে তোমাতে
প্রোথিত হবো হে শক্তিময়ী।
আমাদের যৌথ নৃত্যে সৃষ্টি 
স্থিতি হবে মহাকালে।
তুমি ভূমি হও আমি
আজন্ম পূজারী হয়ে নত
হই তোমার প্রেমেতে।
তুমি মোহন বাঁশি হও,
আমি শ্রীমতীর বিরহ হয়ে
অবিরল উৎসারিত হবো 
তোমার গভীর গহন থেকে।
তুমি এসব কিছুই যদি 
না হতে চাও তবে এসো
দুজনে এক হই।
অর্ধনারীশ্বর রূপে প্রকাশিত 
হোক আমাদের সত্য স্বরূপ।
আলাপে প্রলাপে

চারিদিকে বন্ধ দুয়ার 
বিষন্নতার চওড়া প্রাচীর।
তবুও ঘাসে খেলছে চড়াই
বুক ভিজেছে শক্ত মাটির।
তোমার থাকুক অবসাদ
আর হিংসে ভরা এই জীবন।
আমার আছে বিশ্বজুড়ে
ভালোবাসার বন্ধু স্বজন।
তোমার কেবল খুঁত ধরা 
আর সারাদিন মিথ্যে প্রলাপ।
আমার থাকুক জলফড়িং 
আর মেঘমল্লারে প্রাণের আলাপ।
তুমি থাকো অকারণেই 
নিন্দে মন্দ খারাপ নিয়ে।
আমায় তখন কবিতারা সব
আকুল করে যায় ভিজিয়ে।
আমার আছে জীবনানন্দ
সুভাষ সুনীল রবীন্দ্রনাথ।
এদের নিয়েই আমার কিন্তু
বেঁচে থাকার প্রবল সাধ

-----

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি