আরাধনা বিশ্বাস


আ রা ধ না  বি শ্বা স 

বাংলা গল্পের পরম্পরা  || ১ম পর্ব
                    

 গল্পের আঁতুড়ঘর

গল্প বলা এবং গল্প শোনা আমাদের দীর্ঘ কালের পরম্পরা।  'গল্প' কথা'টা শুনলেই শিশু থেকে বয়স্ক সকলের মনেই এক অনাবিল আনন্দের সঞ্চার হয়।  সে মা-ঠাকুমা'দের মুখে শোনা রূপকথার গল্পই হোক কিংবা আধুনিক ছোটগল্প। সবেতেই আমাদের মন কৌতূহলী হয়ে থাকে।  ছোটোগল্প তো হালআমলের সৃষ্টি।  অতীতে যা ছিলো,  তা হলো আখ্যানমূলক গদ্য কাহিনী।  গদ্য রচনার পূর্বেও গল্প ছিলো।   তখন তা আঞ্চলিক গল্পকথা রূপে প্রচলিত ছিলো।  একজনের মুখ থেকে অন্যদের মুখে মুখে তা ছড়িয়ে পরতো।  তারপর ধীরে ধীরে লেখকেরা সেটাকে পুঁথিতে অক্ষয় করে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন।   সেই সময়ের গল্পে গ্রামীণ লোককথা, নরনারীর প্রেম, গ্রাম্য রম্য কাহিনী,  ধর্মীয় কাহিনী,  পুরাণকথা,  নীতিমূলক রচনাগুলিই বইয়ের পাতায় স্থান পেলো।  এসবই ছিলো আখ্যানমূলক গদ্যকাহিনী।   
     সময়ের সাথে সাথে সাহিত্যের উচ্চাসন দখল করে নিলো উপন্যাস।  অনেক বিখ্যাত ঔপন্যাসিক তাঁদের প্রতিভা দিয়ে সাহিত্যের কলেবরকে সৌন্দর্য দান করলেন।   সাহিত্য তো গতিশীল,  তা কখনোই একজায়গায় থেমে থাকতে পারেনা।  সেইসময় কিছু লেখকের মনে উপন্যাসের বিশাল কলেবরকে ছোটো রূপ দিয়ে তাকে গল্প বানানোর দিকে ঝোঁক বাড়লো।  তৈরী হলো বড়োগল্প। সেইসময়ের কোন লেখকই ছোটোগল্পের স্বতন্ত্র শিল্পকলা সম্পর্কে সচেতন ছিলেন না।  তাঁরা ভাবতেন,  উপন্যাসের ডালপালা কেটে ছোটো করে  দিলেই তা ছোটগল্প হয়ে যায়। পাঠকও সেটাই ভাবতো।  
      এডগার এলান পো -এর মতে, "যে গল্প অর্ধ হতে এক বা দুই ঘন্টার মধ্যে এক নিশ্বাসে পড়ে শেষ করা যায়, তাকে ছোটগল্প বলে।"
        আবার এইচ জি ওয়েলস বলেছেন,  "ছোটগল্প সাধারণত ১০ থেকে ৫০ মিনিটের মধ্যে শেষ হওয়া বাঞ্ছনীয়।"                 
     ছোটোগল্প এবং উপন্যাসের গঠন বিন্যাস যে সম্পূর্ণ ভিন্ন সেকথা প্রথম রবীন্দ্রনাথই আমাদের জানান।  তাঁর আগে সঞ্জীবচন্দ্রের দু-একটি রচনায় ছোটোগল্পের কিছু লক্ষ্মণ ছিল।  তবে তা সার্থক ছোটোগল্প ছিল না।  রবীন্দ্রনাথই প্রথম সচেতনভাবে ছোটোগল্প লিখতে প্রবৃত্ত হন। তিনিই তার পথনির্মাতা, আবার তিনিই এর শ্রেষ্ঠ  শিল্পী।  
    পরবর্তী পর্বে সার্থক ছোটোগল্প নিয়ে আমাদের আলোচনা চলবে।  

------                                                                                         

Comments

Trending Posts

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা /সূর্যকান্ত মাহাতো

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সুন্দরবনের উপর গুচ্ছ কবিতা/ওয়াহিদা খাতুন