শ্রদ্ধা ও স্মরণে নিমাই ভট্টাচার্য


প্র শা ন্ত  ভৌ মি ক

মেমসাহেব ও নিমাইয়ের ভুবন

সাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্যের জন্ম ব্রিটিশ ভারতের বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির যশোর জেলার মাগুরা মহকুমার শালিখা থানার শরশুনা গ্রামে ১৯৩১ সালের ১০ এপ্রিল (বর্তমানে বাংলাদেশের মাগুরা জেলার শালিখা উপজেলার শরশুনা গ্রাম)।  মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সে তাঁর মা মারা যান।
১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর থেকেই তিনি পরিবারের সাথে পশ্চিমবঙ্গে স্থায়ী হন।

 
নিমাই ভট্টাচার্যের প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা দেড় শতাধিক। দুই বাংলা মিলিয়ে তাঁর সবচেয়ে বেশি পঠিত ও জনপ্রিয় উপন্যাস 'মেমসাহেব'।  ১৯৬৮ সালে প্রকাশিত বইয়ের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০১৮ সালে বাংলাদেশের বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নিমাই ভট্টাচার্য বলেছিলেন-  ‘‘আমার ৩৫ বছর বয়সে বইটি লিখেছি। তখন আমি রিপোর্টার। এটি অসম্ভব জনপ্রিয় এবং সবচেয়ে বিক্রিত বই। এবারে এটি প্রকাশের ৫০ বছর হয়েছে। আমার লেখা বইয়ের মধ্যে এটি এখনও পর্যন্ত সমানভাবে জনপ্রিয় বই। ৫০ বছর ধরে একটা বই সমানভাবে জনপ্রিয় তা খুব একটা দেখা যায় না। খুবই খুশি!’’
১৯৫০ সালে 'লোকসেবক' পত্রিকা দিয়ে সাংবাদিকতা জীবনের শুরু৷ পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি কাগজের পার্লামেন্ট,  ডিপ্লোমেটিক ও পলিটিক্যাল করেসপন্ডেন্ট হিসেবে কাজ করেছেন। ১৯৫০ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত ৩০ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের বড় অংশই কাটিয়েছেন দিল্লিতে৷ খবরের কাগজের রিপোর্ট লিখতে লিখতেই উপন্যাস লেখার শুরু৷ প্রথম উপন্যাস ১৯৬৩ সালে 'অমৃতবাজার পত্রিকা'য় প্রকাশিত হয় এবং ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে। 

এত এত রিপোর্টের পাশাপাশি দেড় শতাধিক বই,  যার মধ্যে অধিকাংশই উপন্যাস। এত লেখা কীভাবে লিখেছেন,  জানতে চাইলে লেখক জানান-  ‘‘রিপোর্ট যা লিখি তা লিখেই গেলাম, প্রায় একবারেই লেখা শেষ হয়ে যায়। সে অভ্যাসটি থাকায় উপন্যাস লিখতে গেলেও প্রায় একই রকম। উপন্যাস বা অন্য লেখাও একবারেই লিখেছি। বারবার ড্রাফট দেখা, করেকশন করার কম দরকার হতো।" 
লেখার তৃপ্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন- "কিছু লিখে তৃপ্ত হলেও আরও অনেক লেখা উচিত ছিল বলে এখন এসে মনে হয়।"

‘মেমসাহেব’ এর বাইরে তাঁর লেখাগুলোর মধ্যে প্রিয় বইয়ের কথা জানতে চাইলে তিনি ‘রিপোর্টার’, ‘ডিপ্লোম্যাট’ ও ‘নাচনী’র কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া আরও বেশ কয়েকটি বই তাঁর প্রিয় বলে জানান।

নিমাই ভট্টাচার্যের লেখা 'মেমসাহেব' উপন্যাস নিয়ে ১৯৭২ সালে পিনাকী মুখার্জি তৈরি করেন চলচ্চিত্র 'মেমসাহেব', যাতে অভিনয় করেছিলেন উত্তম কুমার ও অপর্ণা সেন। 
২০১৫ সালে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে শরীরের একাংশ অবশ হয়ে যায় নিমাই ভট্টাচার্যের।  তারপর থেকে লেখালেখি সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে বলেন- "লিখতে ইচ্ছে করে, কিন্তু পারছি না।"
সাহিত্যিক ও সাংবাদিক নিমাই ভট্টাচার্য ২০২০ সালের ২৫ জুন  কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
-----

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি