নারায়ণপ্রসাদ জানা


না রা য় ণ প্র সা দ  জা না


নির্বাণ

নেই কোনো মোহ অমরত্বের অমৃতে ; - দাও পরমান্ন
যে পরমান্ন অন্তরে জাগায় প্রেম 
প্রশান্ত হয় প্রাণ,
আলোকিত হয়ে ওঠে হিরন্ময় জ্ঞান
যা চির শাশ্বত চরম সত্যের।
চাইনা ছলনাময়ী মোহিনীর থেকে- অমৃতের আস্বাদ,
যে ইন্দ্রলোকে দেবতার অস্তিত্ব বিপন্ন
বিতাড়িত হয় বার বার,
চাইনা সে সুরপুরের ভোগ ঐশ্বর্যের অধিকার।
হে শূদ্র চূন্দ দাও শূকর মর্দব 
সে আহার পরিপূত শুদ্ধ প্রেম ভক্তি শ্রদ্ধার 
দান করে চির শান্তির- মহানির্বাণ ।
নিবোধত

বোধিবৃক্ষের তলে খোঁজ প্রেম মুক্তির পথ
যন্ত্র নয় নাসদীয় মন্ত্র শক্তির কর উদ্বোধন
থাক পড়ে যুক্তি তর্ক বাক বিতন্ডা বিশ্লেষণ
এ মহাবিশ্বের প্রান্তরে জঞ্জাল রূপে,
হৃদয়ের কথা শোনো ; সে পরম অনুভূতির
জ্ঞান কেবলি অকূল সিন্ধুর বুকে সুনামির ঢেউ
ক্ষনিকের উচ্ছাস ; মোহজালে করে আচ্ছাদন
বিশাল তটভূমি পারে আছড়ে পড়ে
অহংকারের শিখর চূড়া হয় খান খান,
এ অতীব ক্ষুদ্র ভ্যূলোক-দ্যূলোক 
চোখ মেল ঊর্দ্ধপানে ত্রিনয়ন দিয়ে - চিদাকাশে
তোমার অন্তরে প্রকাশিত অনন্ত ব্রহ্মের তেজ।


শোভন পাখি

এ ধরণির রূপ -রস- স্বাদ -গন্ধ -বর্ণ  করেছি আস্বাদন
সদা জাগ্ৰত ইন্দ্রিয় দিয়ে,
তুমি থাক বসে গাছের ডালে - শোভন পাখিটি হয়ে।
আমি কেবল সেজে উঠি নিত্য নতুন সাজে
ক্রীড়া-কৌতুকে মাতি,
জড়িয়েছি রঙ বাহারি লতায়
ফুল ফলের সমাহারে -এ বনস্পতি দেহে।
সে লতা আমায় জড়িয়ে মস্তকে চড়ে---
আশীবিষির কলাপ মেলে।
আমি বাঁচিয়ে চলি শুধু শির টাকে
সে মস্তক করবো নত তোমার পদতলে,
তুমি থাক গাছের ডালে বসে 
শোভন পাখিটি হয়ে।


প্রেম

আমি চাইনা  ধর্ম
চাইনা মন্দির-  চাইনা মসজিদ-গীর্জা-গুরুদ্বার
আমি তোমার প্রেম হৃদয়ে ধরে
নিজেকে হারাতে চাই।
তোমায় স্মরণ -তোমায় মনন- তোমায়
শঁপেছি তনু প্রাণ মন,
তোমার বাঁশির সুরেতে জুড়াক 
এ অতৃপ্ত চিও মন।
তোমার তরে ভুলেছে ঘর-
রাইকিশোরী - মীরাবাঈ ,
সংস্কার ভেঙে কলঙ্ক ভুলে
তোমার প্রেমে জুড়াতে চাই।
যুগে যুগে কালে এসেছে কত 
সাধুসন্ত -বীর পুরুষের দল
তোমার তরে গিরি কন্দরে -তপোবনে-সাগর সঙ্গমে
তোমার প্রেমের পরশে 
করেছে জীবন দিন নিপাত।
আমি চাই না ধর্ম- চাই না মন্দির
মসজিদ-গীর্জা -গুরুদ্বার।
শুধু তোমার প্রেমে সব ভূলে
অতল সাগরে ডুবে যেতে চাই।
তোমার প্রেমের প্রদীপ খানি প্রাণেতে জ্বেলে
শিবে জীবে বিভেদ ভোলাতে চাই।
বৈতরনীর তীরে

একদিন তুমি এসে হাত ধরে নিয়ে গেলে 
বৈতরনীর তীরে।
তারপর আলোর ঝর্ণাধারার ঢেউয়ে ভেসে
দু'জনে একসাথে অনেক দিনের জমানো 
কথা হল ইশারায়,
চিত্তের সাথে চিত্তের হল রমণ,
অনেক দিনের তৃষ্ণা মিটল চাতকের মত
স্বাতী নক্ষত্র থেকে ঝরে পড়া নীরে।

একদিন তুমি এসে হাত ধরে 
নিয়ে গেলে অমরার পথে 
পারিজাত বৃক্ষের তলে বসে
মোহনবীনার তার জোড়া দিয়ে
গাইলে বিলম্বিতগৎ রেজাখানি
মন্দাকিনীর ঢেউয়ে সে সুর ভেসে গেল
অমরাবতীর পথে পথে।

যে নদীতে একদিন তুমি এসে
নিয়ে গেলে হাত ধরে 
সে নদীর পুষ্করে আমার মুখ রেখে
দিলে আমার পরিচয়।

----

Comments

Popular posts from this blog

মেদিনীপুরের বিজ্ঞানীদের কথা

মেদিনীপুরের চোখের মণি বিজ্ঞানী মণিলাল ভৌমিক /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের রসায়ন বিজ্ঞানী ড. নন্দগোপাল সাহু : সাধারণ থেকে অসাধারণে উত্তরণের রোমহর্ষক কাহিনী /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের পদার্থবিজ্ঞানী সূর্যেন্দুবিকাশ কর মহাপাত্র এবং তাঁর 'মাসস্পেকট্রোগ্রাফ' যন্ত্র /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

ঋত্বিক ত্রিপাঠী / আত্মহত্যার সপক্ষে

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজই আদর্শ সমাজ 'কালের যাত্রা' নাটকের শেষ কথা/সন্দীপ কাঞ্জিলাল

অংশুমান কর

আসুন স্বীকার করি: আমরাই খুনী, আমরাই ধর্ষক /ঋত্বিক ত্রিপাঠী

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল