ঋণ, সময়ের কাছে/ত প ন জ্যো তি মা জি

  ফোটোগ্রাফি- সৈয়দ স্নেহাংশু   


ঋণ , সময়ের কাছে  

ত প ন জ্যো তি  মা জি 

সমন্বয় জেনেছি তোমার কাছে 
এখন যে কোনও স্রোতের মুখে স্থির থাকি , 
ঝড়ের অভিমুখে উড়িয়ে দিই নীল কালিতে লেখা 
সময়ের বিষন্ন পদাবলী I 

উচ্চতম তবু নিরাকার 
ছুঁয়েছি মনোভূমি যখন আলোর আভাসে ঘুমন্ত 
মুখ জেগে ওঠে I 
নদীর সান্নিধ্যে  বুঝেছি জলের উদারতা ,
সেভাবেই ঋণী I 

অরণ্য শীর্ষের বিপুল সবুজে পৃথিবীর মুক্তি 
দ্যাখে নির্মোহ আকাশ I 
 চিত্ররেখা লোকগানের মতো মিশে যায় ধর্মহীন গ্রামে ,
 সেখানে পটুয়ারা গীতিকার I

তিলোত্তমা নগরী থেকে বহুদূরে বাস 
তবু তুমি শ্রেষ্ঠ রমণী I 
নীরব অঙ্গীকারে শব্দরা মিশে যায় গোলার্ধ ডিঙিয়ে 
শীত ও বরফের দেশে I 

 সমিধ ও শস্য সমার্থক 
 জীবন মাত্রেই অগ্নি উপাসক I নির্বিকল্প আহূতি প্রদানের 
 পরেও কেঊ কেউ খোঁজে আল্হাদিত মুক্তি ,
 তুমিও  জেনেছো সব তরঙ্গ পরবাসী I 

কিছু কিছু অভিজ্ঞান নিয়ে পথ চলা 
কিছুদিন  নির্বাসন চাই I শ্রম ও অধ্যয়ন কাল শেষ হলে 
দেখা হবে মুখোমুখি ,
নীরব চোখের ভাষা প্রিয় পাঠক্রম I
প্রচ্ছদে আহত সময়ের মুখ 
 আম্ফানে উড়ে  গেছে শত শত ঘর , 
 চোরাবালি চেনা চতুর্ভুজ 
 কে বাজায় সম্পর্ক ভোলানো বাঁশি I 

 কেউ কি ডেকেছিল ভোরের পূর্বাভাসে ?
 কার মুখ শিল্প হয়ে যায় ?
 সম্পন্ন আঁধারে তপস্যার ভূমি খোঁজে মন 
 নিরাবরণ শরীরের ভাঁজে চাঁদ I 

অধিকার ও অনধিকারের দ্বন্দ্বে রক্তে ভেজে মাটি 
রাজনীতি ছলনার খেলা I  
অবিশ্বাস্য মনে হয় কবিতার অমোঘ লাইন , 
ধর্ম দেশ চতুর বুজরুকি I 

 সংবাদ শিরোনাম বিক্রি হয়ে  যায় in
 মুখে মুখে  বিজ্ঞাপনের আলো I 
 সব অগ্রাধিকার তবু দীর্ঘ অপেক্ষার দিকে ধাবমান ,
 ধান খেতে কিশোরীর শব I 

 নদীমাতৃকতার কাছে ফিরে যাই বার বার
 সবুজ শস্যে ভাসে গান I 
 পণ্যের বিপণন নিয়ে কৃষক অসহায় , অভাবের সংসারে 
  আত্মহনন বার্ষিক সংবাদ I 

  কোন প্রজন্মের কাছে রেখে যাবো 
  এই সব আত্মসংঘাতময় দীর্ঘ স্বীকারোক্তি?
  সময়তো ক্রুশবিদ্ধ যীশু I শোনিত স্রোতের দুদিকে 
  নির্বাক নগর ও গ্রাম I
সমর্পনের দিকে যাত্রা শুরু 
 সব কথা বলতে পারিনি সংকোচে I  
রাতের নির্জন বারান্দায় দেখেছি আত্মদহনের  নির্বাক আগুন , 
এখন তোমার কাছে সংশয়হীন রোদ জল I 

উদাসীন এ জীবন কার ?
মৌলিক প্রশ্নে হুলুস্থূল পরিব্রাজকের পথ l 
নতশির বসেছি ভূমিতলে ,
দিগন্ত অবধি কে এঁকেছে নিষ্ক্রমণ চিহ্ন ?

বৃষ্টির মুখর শুভেচ্ছা মেখে সন্ধ্যা এলো ,
রবীন্দ্র চিত্রের মতো ছায়া ছায়া কে দাঁড়িয়ে ছাদের দরজায় ?
ওষ্ঠে কবিতার মুগ্ধ আমন্ত্রণ , 
আগুন অনির্বাণ আলো হলে প্রেম I 

শ্রেষ্ঠ কবিতার মতো এ জীবন নির্বাচিত নয় ,
 আত্মজৈবনিক কিছু লিখবে বলেছিলো অহংকার I 
 অনিবার্য যা কিছু গ্রহণ করছি বিনত ,
 জ্যোতিষ্কের সংসারে অভাবী অন্ধকার I 
 
  মায়ামৃগ কবচকুণ্ডল , মিথ  থেকে মিথ্যার অঙ্কুরোদগম ,
  গ্রহে গ্রহে সৌর শৃঙ্খল I 
  লাল আলো বিপদ সংকেত ,
  সবুজ  জ্বললেই শুরু হবে দুরন্ত লং মার্চ I 

 প্রচারবিহীন এ জীবন সময়ের ,
 মধ্যবর্তী উজ্ব্বল প্রমাদ মুছে দাও I 
 অন্যমনস্ক তোমার আঙুলে আমার নির্জন  আঙুল , 
চক্ষুষ্মান অক্ষর প্রতিমা। 

   ফোটোগ্রাফি- সৈয়দ স্নেহাংশু   

Comments

Trending Posts

মেদিনীপুরের কৃষিবিজ্ঞানী ড. রামচন্দ্র মণ্ডল স্যারের বর্ণময় জীবনের উত্থান-পতনের রোমহর্ষক কাহিনী /উপপর্ব — ০১ /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১১

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শিবচতুর্দশী /ভাস্করব্রত পতি

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

জঙ্গলমহলের 'জান কহনি' বা ধাঁধা /সূর্যকান্ত মাহাতো