ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -৩৩

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -৩৩

সম্পাদকীয়,
এই যে তোমাদের স্কুলবেলাটা করোনা ভাইরাস এসে চুরি করে নিল তারবেলা? তোমরা কি কিছুই করবে না শুধুই ভয় পাবে ভাইরাসটাকে? আরে না তোমাদের যা করতে হবে সেটা এবারের সংখ্যায় জানিয়ে দিয়েছেন ডাক্তার নবনীতা। স্কুলবেলা চুরি করার জন্য করোনাকে কিভাবে জব্দ করবে সেটা শেখানোর জন্য ডাক্তার নবনীতা আন্টিকে আমি তোমাদের হয়ে বলে দেব 'থ্যাঙ্কু ডাক্তার আণ্টি'।  চুরির দারুণ মজা আছে, মানসী গাঙ্গুলীর ভূট্টা চুরির গল্প পড়লে বুঝতে পারবে সেই মজার ব্যাপারটা।  আম, কুল, ভূট্টা চুরি কে না করেছে ছোটোবেলায়? কিন্তু তোমরা কি জানো বইমেলায় কত বইচুরি হয়? জানো না? তবে জেনে নাও তোমাদের বন্ধু সমাদৃতার গল্প পড়ে। আর রাগের কথাটা শেষে হলেও বলা দরকার, নিজেরা মজা বাড়ানোর জন্য যত খুশী চুরির প্ল্যান করি না কেন তাবলে দু-দুটো রবীন্দ্র জয়ন্তীর মজা চুরি করা  - এতো মোটেও মজা নয়। হ্যাঁ হ্যাঁ ঠিকই বলেছে, বানীয়া সাহা আর তোমাদের বন্ধু শতভিষা, তাদের কবিতায়। করোনা ভাইরাস সব খেলার মজা চুরি করে নিয়েছে। তাবলে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে তো চলবে না। রবি ঠাকুরকে আমরা স্মরণ করবই। এবারের সংখ্যায় তোমাদের আঁকা রবি ঠাকুরের ছবিগুলো তার প্রমাণ। আর শ্রদ্ধেয় কথাকার অভিজিৎ চৌধুরী তোমরা করোনাকালে কিভাবে রবি ঠাকুরকে স্মরণ করবে মনে মনে তার একটা সুন্দর গল্প লিখেছেন।  প্রতিবারের মতো এবারেও রতনতনু ঘাটী মহাশয়ের লেখা ধারাবাহিক উপন্যাসের একটি পর্ব তো থাকছেই। ষষ্ঠ পর্ব হয়ে গেল ধারাবাহিকের, অথচ এখনও জানতে পারলাম না কেন ত্রিপাঠী বাড়ির নাম গিনেসে উঠবে। কি তাই তো? তাইতো অধৈর্য তো হওয়ারই স্বাভাবিক। আর সোমরাজের মতো তোমরা পাঠ প্রতিক্রিয়া পাঠিয়ে দাও। অদিতি আন্টিও কিন্তু সুদূর আমেরিকা থেকে পাঠ প্রতিক্রিয়া পাঠিয়েছেন। সুতরাং নেটের দুনিয়ায় করলাম কিনা আমরা দূরত্ব চুরি?   আমাদের ছোটোবেলার গ্রীষ্মের বিকেলগুলোকে কালবৈশাখী এসে চুরি করে নিয়ে যেত। শুনেছ নিশ্চয়ই? কালবৈশাখীর ঘন মেঘ হঠাৎ এলেই খেলা বন্ধ হয়ে যেত। এই যে দেখ না প্রচ্ছদের অপূর্ব যে ছবিটা কল্যাণ সাহা তুলে পাঠিয়েছে তাতেও তো.... 
না বলব না তোমাদের বলতে হবে এটা কালবৈশাখীর আগের তোলা ছবি না পরের। এটাই আজকের খেলা।      - মৌসুমী ঘোষ।


ফুলকুসুমপুর খুব কাছে- ৬
রতনতনু ঘাটী
আজ সকলে দুপুরে খাবার টেবিলে এসে বসে গেছেন। রোববার হলে এই ত্রিপাঠী বাড়িতে কী দুপুরে, কী রাতে, দাদু, বাবা-কাকাদের সঙ্গে   ছোটদের একই সঙ্গে খাওয়ার নিয়ম। এমনকী, বিলম্বদাদুও বড় টেবিলে জায়গা কুলোয় না বলে, পাশে একটা টুল নিয়ে একটা ছোট টেবিলে খেতে বসে। এ নিয়ম অনেক দিন থেকেই চলে আসছে। ইচ্ছেঠাকুরমা টেবিলের পাশে একটা টুল নিয়ে বসেন। কাকে কী দেওয়া হচ্ছে, বসে-বসে সব তদারক করেন। আজ রাধাগোবিন্দর খাওয়ার জন্যে ঠাকুমার আসতে দেরি হচ্ছিল। এইমাত্র ইচ্ছেঠাকুরমা এসে তাঁর টুলটায় বসে বকুলকাকিকে ডাক দিয়ে বললেন, ‘বকুল, বুম্বাকে মাছের পেটি দেখে দাও। ও মাছের কাঁটা ছাড়িয়ে খেতে পারে না, তা কি জানো না?’
   ঠাকুরমার এ কথা শুনে শুধুকাকা বললেন, ‘মা, বুম্বা ক্লাস টু-তে পড়ে। এখন কাঁটা ছাড়িয়ে মাছ না খেতে শিখলে আর কবে শিখবে?’ 
   এমন সময় খাওয়ার টেবিলের নীচ থেকে খুব মিহি আলতো আদর-মাখা গলায় একটা ডাক ভেসে এল ‘মিঁয়াও!’ 
   ইচ্ছেদাদু ভুরু কুঁচকে বড়বাবুর দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘বড়বাবু, এটা কেন হল? টাকা খরচ করে তোমাদের সব পোষ্যদের জন্যেই খাঁচা কেনা হল যখন, তখন এই উপদ্রব বরদাস্ত করব না। তোমার বিড়াল খাঁচার বাইরে কেন? তারপর কার পাত থেকে মাছের মুড়ো তুলে নেবে তার ঠিক কী?’
   বড়বাবু আত্মরক্ষার ভঙ্গিতে বললেন, ‘বাবা, শাস্ত্রমতে বিড়ালকে বলা হয় ‘মা ষষ্ঠীর বাহন’। এ কি এমনি-এমনি? সন্তানের দীর্ঘায়ু কামনা করে মায়েরা মা ষষ্ঠীর পুজো করেন। বিড়ালও তার ছেলেমেয়েদের পরম মমতায় লালনপালন করে। বিড়াল তার জিভ দিয়ে বাচ্চাদের শরীর পরিষ্কার করে দেয়, দুধ খাওয়ায়। দেবীভাগবত পুরাণের নবম স্কন্ধে একটি শ্লোকে আছে...’ 

   ইচ্ছেদাদু খাওয়া থামিয়ে হাত তুলে বড়বাবুকে থামিয়ে দিলেন। বললেন, ‘ওসব শাস্ত্রকথা রাখো বড়বাবু! খাওয়ার সময় বিড়াল আমার একেবারেই পছন্দ নয়। জানো না, বাতাসে ওদের গায়ের লোম ওড়ে। সে খেলে আর খাওয়ার পরিপাক হবে না!’
   তিন্নির বাবা বললেন, ‘বাবা, বিড়াল হল পৃথিবীর সবচেয়ে আদরের পোষা প্রাণীর মধ্যে একটি। জানো, পথিবী জুড়ে এখন আট আগস্ট ‘বিশ্ব বিড়াল দিবস’ পালন করা হয়? সে কি এমনি-এমনি?’ তারপর ছোটদের দিকে তাকিয়ে বড়বাবু বললেন, ‘তোরা কে কে অন্নদাশঙ্কর রায়ের বিড়াল নিয়ে সেই মজাদার ছড়াটা জানিস?’
   বিন্নি ভাত-মাখা ডান হাত তুলে বলল, ‘আমি জানি বাবা, ‘ঘণ্টা বাজে ঢং ঢং, বিড়াল যাবেন কালিম্পঙ।’
   ‘ঠিক বলেছিস! আচ্ছা বুম্বা, তিন্নি, আর বিন্নি, তোরা তো পড়েছিস সুকুমার রায়ের হ-য-ব-র-ল তে--- ছিল রুমাল, হয়ে গেল বিড়াল? আচ্ছা তিন্নি, তুই তো সত্যজিৎ রায়ের গল্পের পোকা। তুই বল তো, প্রোফেসর শঙ্কুর পোষা বিড়ালের নাম কী?’ তিন্নির বাবা হাসি-হাসি মুখে তাকালেন তিন্নির মুখের দিকে।
   সঙ্গে-সঙ্গে তিন্নি-বিন্নি দু’জনেই হাত তুলল। এ বাড়িতে বড়দের কথার উত্তরে একসঙ্গে দু’জনের কথা বলা বারণ। তিন্নি বলল, ‘নিউটন!’
   বুম্বা কথা বলার সুযোগ পায়নি বলে চটপট করে বলল, ‘বড়বাবু, আমাদের বইতে একটা রাইমস ছিল---পুসি ক্যাট, পুসি ক্যাট, হোয়ার হ্যাভ ইউ বিন?/আই হ্যাভ বিন টু লন্ডন টু সি দ্য কুইন।’
   ইচ্ছেদাদু গম্ভীর মুখে একবার তাকালেন বুম্বার দিকে। তারপর ভাত খেতে লাগলেন গপগপ করে। ইচ্ছেঠাকুরমা দাদুর এই পরাজয়ের উত্তরে শাড়ির আঁচলে মুখ ঢেকে হাসি লুকোলেন।
   শুধুকাকা চুপ করে খাচ্ছিলেন। এতক্ষণ পরে ইচ্ছেদাদুকে বুঝিয়ে বললেন, ‘বাবা, মিঁউকে নিয়ে রাগ করছ কেন?’ তারপর তিন্নির বাবার দিকে তাকালেন, ‘দাদা, তুই মিঁউকে খাঁচায় রাখিসনি কেন? ওর তো এখনও চোখই ভাল করে ফোটেনি?’
   গল্পকাকা এতক্ষণ মুখে কোনও কথাই বলেননি। তিনি ইচ্ছেদাদুকে শুনিয়ে বললেন, ‘উপেন্দ্রকিশোরের ‘টুনটুনির বই’-এর ‘মজন্তালি সরকারের কথা পড়োনি ছেলেবেলায়? বিড়াল নিয়ে সারা পৃথিবীতে কত না গল্প লেখা হয়েছে। তাকে উপেক্ষা করা ঠিক হবে না বাবা!’ 
   তিন্নির বাবা গল্পকাকাকে থামিয়ে ইচ্ছেদাদুকে বললেন, ‘বাবা, বিড়াল কিন্তু মোটেও হেলাফেলার প্রাণী নয়। তুমি শুনলে অবাক হয়ে যাবে, ‘টাউজার’ নামে একটা বিড়াল আটাশ হাজার আটশো নিরানব্বইটা ইঁদুর শিকার করে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় শিকারি বিড়াল হিসেবে গিনেস বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস বইতে জায়গা করে নিয়েছে? এ কি চাট্টিখানি কথা?’
   ইচ্ছেদাদু সে কথার কোনও উত্তর দিলেন না। শেষ পাতে শুক্তো খেয়েছেন এমন মুখের আকৃতির মধ্যে খাওয়া শেষ করে উঠে গেলেন। 
   বুম্বা বিন্নিদির কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে ফিসফিস করে জিজ্ঞেস করল, ‘হ্যাঁ রে বিন্নিদি, তুই যে সকালে বললি, আমাদের বাড়ির নামও নাকি গিনেস রেকর্ড বইতে উঠবে, কবে উঠবে রে?’
   বিন্নি চোখ ঘুরিয়ে বুম্বাকে বলল, ‘সে তোকে পরে বলব! এখন চুপ কর তো!’
(এর পর আগামী রোববার)

ডা: নবনীতা ভদ্র ভট্টাচার্যের পরামর্শ

ছোট্টবন্ধুরা আজকে আমি তোমাদের জানাব দুষ্টু করোনাভাইরাস এর সম্বন্ধে কিছু প্রয়োজনীয় কথা যা আমাদের এখন সুস্থ থাকার জন্য খুবই মেনে চলা দরকার। সারা পৃথিবীর মানুষ ভয়ে কাঁপছে নিকট আত্মীয় স্বজনরা বন্ধুরা মৃত্যু ভয় পাচ্ছে কাঁদছে।
 কিন্তু এখন ভয় কে জয় করে তোমাদেরকেও বড়দের পাশে দাঁড়াতে হবে তবে আমরা সবাই মিলে দুষ্টের দমন করতে পারব। এসো আমরা জেনে নিই আমাদের কি কি করতে হবে।
        প্রথমত দুইহাত অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। মনে রাখতে হবে এটি যেন চোখে আর মুখের ভিতরে ঢুকে না যায় ।তারপর সাবান দিয়ে বারেবারে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে ।বাড়ির বাইরে থেকে ফিরে এলে প্রতিবার একই কাজ করতে হবে।
        এখন তো স্কুল বন্ধ ।পড়তে যাওয়া ও বন্ধ। যেটুকু পড়তে হচ্ছে সেটুকু অনলাইনেই হচ্ছে ।খুব প্রয়োজন না থাকলে বাড়ির বাইরে না যাওয়াই ভালো ।যদি যেতে হয় তবে অন্য মানুষের সাথে অন্তত 1 মিটার দূরত্ব রেখে কথা বলতে হবে আর তাও মুখে মাস্ক পরে। মনে রেখো মাস্ক যেন সম্পূর্ণ ত্রিস্তরীয় আচ্ছাদনের হয় এবং নাক ও মুখ সম্পূর্ণভাবে ঢেকে থাকে।
    স্বাস্থ্য   সম্মত বাড়ি তৈরি খাবার খেতে হবে।
    যদি কাছাকাছি কোন জ্বর হওয়া বা অসুস্থ কোন ব্যক্তি থাকে তার থেকে দূরে থাকতে হবে।
    নিজেদের শরীর যদি খারাপ লাগে বা জ্বর আসে বা বমি বা পাতলা পায়খানা অথবা শ্বাসের কষ্ট হয় তৎক্ষণাৎ মা-বাবাকে জানাতে হবে এবং নিকটবর্তী ডাক্তারবাবুর পরামর্শ নিতে হবে এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ খেতে হবে।
    সবশেষে বলি ভয় পেয়ো না। মনে জোর রাখ পৃথিবীর এই ভয়ঙ্কর অসুখে তোমাদেরকে হাসিখুশি থাকতে হবে।


রবি ও মাম্ 
অভিজিৎ চৌধুরী 

বাবা, বাবা আজ যেন কি!
পঁচিশে বৈশাখ মা।
আমাদের ছোট নদীর জন্মদিন!
হো হো করে হেসে উঠল শুভ।
হাসছ যে বাবা! 
না, এমনিই। রবি ঠাকুরের জন্মদিন।
কি করব আজ আমরা!
একটা ছাতিম গাছ খুঁজে বের করব।
আমি চিনি তো!
কী করে মা!
ছাতিম ফুলের গন্ধ খুব মিষ্টি। আমি তোমায় নিয়ে যেতে পারব।তবে...
শুভ বলল, ভয় পাচ্ছিস বাইরে যেতে!
মা বকবে, এখন করোনা না!
আমরা পালিয়ে যাব আজ। মা জানতে পারবে না।
তারপর ওরা দু'জনে গেল ছাতিম গাছের তলায়। মাস্ক খুলে ছাতিম ফুলের গন্ধ  নিল।
কয়েকদিন পর মামের জ্বর এল।কিছুতেই না কমতে টেস্ট হল।কোভিড পজিটিভ। 
খুব মন খারাপ হল শুভর।তবে টিকা নিয়েছিল বলেই চোদ্দ দিন পর সেরে উঠল মাম।
সেদিন ছিল বৈশাখের সন্ধে।কালবৈশাখীর ঝড় উঠেছে।আকাশে ডাকছে দেয়া।
মাম্ হঠাৎ বলল, বাপি,দেখে যাও।ওই যে রবি ঠাকুর।
শুভ বলল, দূর পাগলি। ও তো শিলাবতী নদী।
মাম্ বলল, রবি ঠাকুর। আমাদের ছোট নদী।

রুপকথা  
রঞ্জনা বসু

অন্ধকারের দেওয়াল ভেঙ্গে ভোরের কড়ানাড়া
চোখ মেলতে ভূবন জুড়ে ছুটলো আলোর ঘোড়া,

আলোর বুকে উঠলো ফুটে সবুজ ঘেরা গ্ৰাম
ফুল কুঁড়িরা শুনছে বসে হলুদ পাখির গান।

নদীর বুকে যাচ্ছে ভেসে মধু মাঝির নাও
যাবে নাকি সাগর ছুঁতে, একটু শুনে যাও?

সেইখানেতে আছে বুঝি রুপকথার রাজার পুরী
ফর্সা রোদে মেলে রাখে রাজকন্যার ডুরে শাড়ি!

ডালিম বনে রাজকুমার ছোট্ট কৌটো লুকিয়ে রাখে
তার ভিতরে একটা ভোমর, সে ভোমরাটি সব জানে।

ইচ্ছে জাগে খুকুর মনে, সেই দেশেতে দেবে পাড়ি
স্বপ্ন দেখে ঘুম সাজিয়ে ডাকছে তাকে আলোর পরী।


ভুট্টা চুরি
মানসী গাঙ্গুলী

"এই চল,আজ আমরা সবাই মিলে ধীরুদার বাগানে ভুট্টা চুরি করতে যাব", দলের পান্ডা মিনিদিদি প্রস্তাবটা রাখল সবার কাছে। দলে আছে পাড়ার সববাড়ির ছেলেমেয়েরা। সবাই খুব মজা পেল ব্যাপারটায়,কেউ কেউ আবার আনন্দে হাততালি দিয়ে উঠল। মিনিদিদি সবার বড়,বয়স বছর ১৫/১৬ হবে আর দলের সব থেকে ছোট সদস্য হল রানী,বয়স ৫ বছর। একদিকে চক্রবর্তী পাড়া অন্যদিকে যোগী পাড়া,মাঝে হল হরের পুকুর। বিশাল বড় পুকুর। হরের পুকুরের পাশে হল হরের মাঠ আর তার পাশেই ধীরুদার বাগান। এই ধীরুদা হলো ইউনিভার্সাল ধীরুদা। বাবাদেরও ধীরুদা,ছেলেমেয়েদেরও ধীরুদা। এলাকার এক সময়কার জমিদার বাড়ির ছেলে ধীরুদা আবার কুস্তিগীর,সে তার চেহারা দেখলেই বোঝা যায়। এই  ধীরুদার বাগানে সেবার ভুট্টার চাষ হয়েছিল। বাগানভরা ভুট্টা। লম্বা লম্বা গাছ আর তাদের ডগায় ডগায় ভুট্টা। বাগানটা বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘেরা। বাগানের তদারকি মালি গোবিন্দর হাতে।
          গরমের ছুটি চলছিল তখন। দুপুরে গোবিন্দ খেয়েদেয়ে  সুখের দিবানিদ্রায় ডুব দিয়েছে কেবল আর ছেলেপুলের দল বেড়া টপকে বাগান জুড়ে দাপিয়ে ভুট্টা তুলতে শুরু করে দিল। অতগুলো ছেলেমেয়ের দাপাদাপি,ভুট্টা তোলার মটমট আওয়াজ, ফিসফাস, হাসি, একটু তো শোরগোল হয়েছিলই। গোবিন্দর ঘুমটা গেল ভেঙে। "কে রে?" করে হাঁক দিয়ে ঘর থেকে বেরোতেই ছেলেপুলের দল দুরে দাঁড়িয়ে যে যেমন পারল বেড়া টপকে ছুট লাগাল। ছোট্ট রানী অত তাড়াতাড়ি বেড়া টপকাতে পারল না। ধুপ করে পড়ে গেল। গোবিন্দ কাউকে না পেয়ে রানীকেই ধরল এসে। রানী তো ভয়েই কেঁদে ফেলল। ওর হাতে একটাই ভুট্টা ছিল কেবল,তাও পড়ে যাওয়ায় তা মাটিতেই গড়াগড়ি খেতে লাগল। গোবিন্দ ভয় দেখাল,বলল,"পুলিশে দেব"। বেচারী রানীর দু'চোখ বেয়ে জলের ধারা বয়ে চলল। একটু দূর থেকে দেবু সব দেখছিল। রানী ওর পিছন পিছন বেড়া টপকাতে গিয়ে পড়ে যায়,সবই দেখেছিল ও কিন্তু সেই মুহূর্তে ধরা পড়ার ভয়ে দৌড়ে পালিয়েছিল সেখান থেকে। খানিকটা  গিয়ে গাছের আড়াল থেকে লক্ষ্য রাখছিল কি হয় দেখবার জন্য। ছোট্ট রানীকে একা ধরা পড়ে কাঁদতে দেখে আর থাকতে পারে না সে। গোবিন্দর কাছে গিয়ে ধরা দিয়ে বলে,"এই নাও তোমার চারটে ভুট্টা আমি তুলেছিলাম,রানীকে ছেড়ে দাও,ও তো ছোট।" "ওকেও ছাড়ব না,তোমাকেও না",এই বলে দেবুর হাতটা চেপে ধরে। বলে,"ছোট হলেও চোর তো,চোরকে সাজা পেতেই হবে"। দেবু বলে,"বেশ তুমি আমাকে পুলিশে দাও কিন্তু ওকে ছেড়ে দাও,ও আমার ছোট বোনের মত"। দেবুর এই কথায় গোবিন্দর মনটা কেমন করে উঠল। রানীর চোখের জল মুছিয়ে ওর দুই হাতে দুটো ভুট্টা দিয়ে বলল,"যাও,বাড়ি চলে যাও,আর কখনও চুরি কোরো না"। রানী ঘাড় নাড়ল। গোবিন্দ এবার দেবুকে বলল,"দেখলাম প্রায় ১৫/১৬টা ছেলে মেয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে কিন্তু তুমি ফিরে এসে নিজে ধরা দিলে। ছোট্ট মেয়েটার কথা কেউ ভাবল না,তুমি ভাবলে। তাই তোমাকেও আমি ছেড়ে দিলাম। যাও ও ভুট্টা তুলেছ যখন নিয়ে যাও,ফেরত নিয়ে আর আমি কি করব? তবে আর এমন কোরো না। আমাকে তো আমার মালিকের কাছে জবাবদিহি করতে হবে এর জন্য।" ১০বছরের দেবু মাথা নিচু করে ঘাড় নাড়ল,"আর কখনও এমন করব না গোবিন্দদা। মজা করবার জন্য দলবেঁধে চুরি করতে এসেছিলাম,তোমার কথাটা একবারও ভাবিনি"। গোবিন্দ দেবুর মাথার চুলগুলো নেড়ে দিয়ে বলল,"যাও বাড়ি যাও"। ওরা দুজন হাত ধরাধরি করে চলে গেল আর ওদের চলার পথের দিকে তাকিয়ে গোবিন্দর চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ল। ও যেন দেখতে পেল ছোট্ট গোবিন্দ আর ওর ৫বছরের বোন পিলুকে। মনে পড়ল, ছোটবেলায় ওর ছোটবোন এমনি ওর হাত ধরে সব জায়গায় যেত যে আজ আর নেই। একদিনের জন্য গোবিন্দ পিসির বাড়ি গেলে সেদিন সে পুকুরে ডুবে মারা যায়।
কিডন্যাপ 
বানীয়া সাহা

অবহেলায় ঘুম নেমেছে কুমির ডাঙার চোখে
স্বপ্নে সে আজ খুঁজছে ভীষণ সেই পুরোনো তোকে।

লুকোচুরি লুকিয়েছে কোথায় তা নেই জানা
তবে কী সে নিরুদ্দেশেই দিলো এবার হানা?

বিকেল গুলোর ছুটোছুটি এখন নেই আর কাছে
কানামাছির টুকরো কাপড় কোথায় পড়ে অছে!

রুমাল চুরির চোরগুলোরও হাতদুটো আজ খালি
সে হাত এখন সেলফি তোলে হেসে দুএক ফালি।

ছোট্ট সে সব পা গুলো আর মাখে না সেই ধূলো
সবই বোধহয় পাল্টে গেছে বদলেছে চালচুলো।

অ্যানরয়েডের কারসাজিতে নিঁখোজ এরা যেন
এ কিডন্যাপে অপরাধীর হয়না সাজা কেন?


বৃষ্টি
শতভিষা মিশ্র
অষ্টম শ্রেণী, জ্ঞানদীপ বিদ্যাপীঠ, এগরা, পূর্ব মেদিনীপুর

কালো মেঘে আকাশ ঢাকা
সুয্যি মামা যায় না দেখা
মেঘের ফাঁকে একটু আলো
দেখতে লাগে দারুন ভালো।।

বৃষ্টি এলো মৃদু বেগে
সবুজ ঘাসে পুলক লাগে
নৌকো এল ঘাটে ফিরে
পাখিরা সব ঘরে ফেরে।।

বাতাস বহে ঝড়ের বেগে
বিজলি চমকি ওঠে
বৃষ্টি নুপুর ঝুমুর ঝামুর
বাজছে আমার মনের মাঝে।।

স্বপ্নের দুষ্টুমি 
সমাদৃতা হালদার
অষ্টম শ্রেণী, পাঠভবন, কোলকাতা

হঠাৎ একদিন মা, বাবাকে বলল, 'অনেক দিন কোথাও ঘুরতে যাওয়া হয় না, চল, আজকে আমরা একটু চিড়িয়াখানায় যাই।' বাবা সেই প্রস্তাবে রাজী হল। দিদি সেই শুনে খুশী হলেও আমার সেদিন চিড়িয়াখানা যেতে ইচ্ছে করছিল না। কারণ আমার পাশের বাড়ির বন্ধু টুনির বাড়িতে জন্মদিনের নিমন্ত্রণছিল বিকেলবেলায়। ওর জন্মদিন থাকা সত্ত্বেও আমি যদি চিড়িয়াখানা যাই তাহলে যে জন্মদিনের আনন্দটাই হবে না। 
 যাইহোক, ছোট থেকে সবার জন্মদিনে গিয়ে কেক খেয়ে মুখে নাকে মাখিয়ে দেওয়ার দুষ্টুমি বুদ্ধি খুব মাথায় খেলত। বিকেলে যখন একটু টুনির জন্য উপহার কেনার জন্য দোকানে গেছি, অমনি কানে এল যে আজ নাকি মল্লিকবাবুর মাঠে বই বিক্রেতারা আসবে। অমনি মাথায় নতুন মজা গজিয়ে উঠলো। সেই মজার জন্য টুনির উপহারটা কিনতে ভুলে গেলাম।

  বাড়ি এসে তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে চলে গেলাম মল্লিকবাবুর মাঠে। কিন্তু ওখানে গিয়ে মনে পড়ল সঙ্গে টাকা আনতে ভুলে গেছি! এবার আমার মাথায় অন্য একটা দুষ্টু বুদ্ধি এসে গেল। আমি ঠিক করলাম বিক্রেতাদের টাকা না দিয়েই বই নেব। তারপর কয়েকটা মনের মতো বই বেছে নিলাম। 
কিন্তু আর এক ঝামেলা হল, যখন বইগুলো নিয়ে বেরোচ্ছি, তখন দেখলাম কিছু দূরে একটা পুলিশ দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে। আমার তো তখন মাথায় হাত! আমি বইগুলো আবার রেখে দিলাম যেন আমার কোন বই নেবার মতলবই ছিল না! তারপর ঐ পুলিশ কাকু আমাকে  বলল, 'কী খুকি এখানে কোন বই পছন্দ হল না? তাহলে ঐ দিকে যাও, ভালো রহস্যের বই পাবে।' আমি বললাম, 'পুলিশকাকু, আসলে আমি টাকা নিয়ে আসতে ভুলে গেছি, তাই আর বই কিনব না।' এই বলে আমি যখনই বেরোচ্ছি, ঠিক তখনই পুলিশ কাকু নিজের পকেট থেকে টাকা বার করে দোকানের কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেল। তখনই আমার কানে এল মায়ের ডাক।

  মা বলছে, 'কি রে স্নেহা, ওঠ্, অনলাইন ক্লাস শুরু হয়ে যাবে যে।' আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। মায়ের ডাক শুনে বুঝলাম আমি স্বপ্ন দেখছিলাম আর এখন তো লকডাউন চলছে।
  চিড়িয়াখানা যাওয়া, বইমেলা থেকে বইকেনা, জন্মদিনের পার্টির মজাগুলো স্বপ্নের সাথে সাথে কোথায় হারিয়ে গেল আর খুঁজেও পেলাম না। বালিশের পাশে কাল রাতে শুতে যাবার সময় পড়া কিশোর অমনিবাসটা তুলে নিলাম হাতে।


পাঠ প্রতিক্রিয়া ১
(নবম শ্রেণীর ছাত্র সোমরাজ দাস, জ্বলদর্চির ৩২ তম ছোটবেলা সংখ‍্যা পড়ে যা লিখল) 

এইবারের পত্রিকার শুরুতেই মৃণাল মামার ছবিটি আমার খুব ভালো লেগেছে। আমি মৃণাল মামার ছবির খুবই ভক্ত মা প্রায়ই মামার তোলা ছবি দেখায়। বিশেষ করে ছবিতার ছবি গুলো আমার খুবই প্রিয়।এটাও ভালো লাগলো।আর মৌসুমী মাসিমুনির লেখা পড়ে খুবই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লাম।আমার ইচ্ছে হল আজই মাস্টার সেজে আমার  এ্যাভেঞ্জারদের পড়াব। আমার টেডি আগে ছিল এখন শুধু একটা পেণ্ডা আছে।ও আমার পড়ার টেবিলেই থাকে। ও আসলে মার জাসুস আমায় পাহারা দেয়। এবার বলি ফুলকুসুমপুর খুব কাছে ধারাবাহিক টির কথা।আমার খুব ভালো লাগছে তিন্নি বিন্নি বুম্বাকে।আমি তো বাড়িতে একা আর ওরা কি সুন্দর একসাথে থাকে। তবে রাধাগোবিন্দ কি খাঁচা ভেঙে উড়তে চায়? আমার কেন যেন মনে হচ্ছে ও মুক্তি চায়। তাই লেখিকা তপশ্রী পালের লেখা মুক্তির আকাশ গল্পে তাতান যখন বদ্রী গুলোকে উড়িয়ে দিল আমার ভীষণ ভালো লেগেছে। সাপটার উপর খুব রাগ হচ্ছিল কেন খেয়ে নিল ডিমগুলো?

এইবার একটা কথা বলি, পেঁচির চিলেকোঠা গল্পে লেখক ওর ভালো নাম দেননি তো। ওর ভালো নামটা কি? আর ভূত দাদু খুবই ভালো যদিও আমি হলে ভয় পেতাম খুব। পেঁচির কিন্তু ভালোই সাহস। বুঝেও পরে চিলেকোঠায় গিয়েছিল। বিশ্বনাথ চৌধুরীর লেখা ভূতের বর কবিতা টি আমার খুব ভালো লেগেছে। ভীষণ আশার কথা লেখা আছে। আমিও আবার ফিরে পেতে চাই আমার স্কুল জীবন।

আমি শুধু কিশলয়ের কুন্ঠা কবিতাটি অত ভালো বুঝিনি মা হয়তো পরে বুঝিয়ে দেবেন। তবে দারুণ লেগেছে ইমন মুখার্জির আঁকা ছবি।চরিত্রগুলো জীবন্ত হয়ে উঠেছে তার আঁকায়। তরমুজ আমার প্রিয় ফল তাই তুলি বোনের আঁকা তরমুজ আমার খুব খুব ভালো লেগেছে। সৃজা,অংশিকা (ওর নামটি অন‍্যরকম) মৌলিসা, সাত্ত্বিকী দের আঁকাও খুব ভালো।পরের সংখ‍্যার অপেক্ষায় রইলাম।


পাঠ প্রতিক্রিয়া ২
(জ্বলদর্চির বিশেষ ছোটোবেলা সংখ্যা ৩২ পড়ে সুদূর আমেরিকাবাসী অদিতি ঘোষদস্তিদার যা লিখলেন) 
              
"বহে নিরন্তর অনন্ত আনন্দধারা"...সকল দুঃখের মাঝেও রম্যবীণায় আনন্দের সুর যে একাগ্র চিত্তে বাজিয়ে যেতে পারেন তিনিই তো সেই হ্যামলিনের বাঁশিওয়ালা, যিনি শিশু কিশোরের মনকে রাখেন সজীব, প্রাণবন্ত। আর সেই আনন্দের শ্রাবণধারায় শুকনো বুড়ো মনেও জাগে প্রাণের স্পন্দন।

  জ্বলদর্চির ৩২তম সংখ্যা শেষ করলাম পড়া। পড়ছি সবকটি সংখ্যাই।  এক নিরলস প্রচেষ্টায় একের পর এক সুন্দর মানের পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যা  উপহার দিয়ে চলেছেন যে সম্পাদিকা, সেই বাঁশিওয়ালা মৌসুমী ঘোষকে ছোট বড় নির্বিশেষে প্রতিটি পাঠকের তরফ থেকে অকুন্ঠ ধন্যবাদ!

  মুখে মাস্ক পরে ছোট্ট বন্ধু শারণ্যা টেডির সঙ্গে খেলছে। কী সুন্দর ছবি তুলেছেন মৃণাল ঘোষ! কত কী বলা আছে এই ছোট্ট ছবির মধ্যে দিয়ে! সবার জন্যে সতর্কতা আর নিয়মবিধি মানার প্রতীক এই ছবিটি। ছোট্ট শিশু মানছে আর আমরা বড়রা মানব না? মৌলিশা সেনাপতিও ছবি এঁকে  জানিয়েছে সাবধানবাণী। আমরা সতর্ক হব আর সবাই মিলে আবার  নিশ্চয়ই পাড়ি দেব মারের সাগর। কূল মিলবেই।

  ছোটদের ধারাবাহিক লিখছেন রতনতনু ঘাটী।  মনে পড়ে ছোটবেলার কথা।  ছোটদের জন্যে যে মাসিক পত্রিকাগুলো বেরোত, সেখানে ধারাবাহিকগুলো পড়ার জন্যে অপেক্ষা করতাম একটা গোটা মাস।  তোমাদের কিন্তু একটু একটু হিংসে হয় ছোট্ট বন্ধুরা।  তোমরা কেমন ইচ্ছে দাদু আর অনিচ্ছে ঠাকুমার গল্প হপ্তা ফুরোলেই হাতে পাচ্ছ! কিন্তু বেশি রাগ হচ্ছে না - ছোটবেলায় পাইনি তো কী হয়েছে? এখন তো পাচ্ছি প্রত্যেক সপ্তায়। তাই চুটিয়ে উপভোগ করছি। হীরামন কি কথা শিখবে? কে জানে। তবে সে শিখুক আর না শিখুক ওকে ঘিরে যে মজাটা চলছে পরিবারের মধ্যে সেটাতে ভারি মজা পাচ্ছি। বিলম্বদাদুকেও খুব ভালো লাগল। ভালো মানুষ হওয়াটাই শেষ কথা - তাই না?

  তোমরা কি রবি ঠাকুরের "খাঁচার পাখি, বনের পাখি" গানটা শুনেছ? না শুনলে শুনে নিও। জানি না তাতান শুনেছে কিনা। কিন্তু বুঝেছে তার বন্ধুর কষ্ট।  জানো, যে কোন পোষ্যকে দেখলেই আমার মন কেমন হয়. মনে হয় আমরা যতই ভালোবাসি না কেন ও তো সাথীহারা! স্বাধীনতা বড় আদরের জিনিস।  তাই তাতানকে আমার তরফ থেকে অনেক আদর যে ও ঠিক তার বন্ধু পাখিকে বুঝতে পেরেছে বলে। তাই তো সেই পাখি ভালোবেসে হাতে এসে বসেছে- চিনেছে বন্ধুকে। এমন একটি গল্প উপহার দেবার জন্যে লেখিকা তপশ্রী পালকে তোমরা অনেক ধন্যবাদ জানিও কেমন!

  পেঁচির দাদু মাঝেমাঝেই কাউকে না কাউকে দেখা দেন - জানতো? তোমরাও বুঝবে , যখন দেখবে ক্লাসের  খুব দুষ্টু ছেলে বা মেয়েটা হঠাৎ শান্ত আর লক্ষ্মী হয়ে গেছে, তখনই বুঝবে এ সব পেঁচির দাদুর কাজ। লেখক ধ্রুব মুখোপাধ্যায়ের কাছেও কি কোনদিন দাদু এসেছিলেন? কে জানে! তোমরা চুপি চুপি জেনে নিও তো! তারপর আমাকে জানাতে ভুলোনা কিন্তু!

  ভীমের লটারি পাওয়ার গল্প মজা করে লিখেছে প্রীতি জ্যোতি। কেমন করে এক কোটি টাকা পেল! কিন্তু  সরল ভীমের নাম করে দুষ্ট ব্যবসায়ীরা যেটা করছেন একদম  ভালো কথা নয়-তাই না?
 
  অংশিকা সরকার আর সাত্ত্বিকী নস্কর দুটি চমৎকার ছবি এঁকে আমাদের মন ভরিয়ে দিয়েছে। তুলি দাসের আঁকা কাটা তরমুজের টুকরোগুলো তো মনে হচ্ছে টপাস করে মুখে ফেলি - এমন সুন্দর!

  আচ্ছা শ্রীজা তুমি কি করে জানলে যে আমার বাড়ির সামনের পুকুরে কারা আসে।  ঠিক এমন হাঁসেরা কলকল করে. আর জলের ধারে বড় একটা বক ঘাপটি মেরে বসে থাকে। নাঃ, জানতেই হবে তুমি কোথায় দেখলে এদের! খুব সুন্দর রঙের খেলা ছবিতে।

  সিক্তা গোস্বামী আর সুশ্রী কোলে দুজনেই চমৎকার ভাষায় পাঠ প্রতিক্রিয়া লিখেছেন ৩১-তম সংখ্যার! সত্যিই প্রতিটি সংখ্যাই বড় কাছের, আদরের!

  মন খারাপ তোমাদের তাইতো! স্কুলে যাওয়া হচ্ছে না কতদিন! চিন্তা নেই, কবি বিশ্বনাথ চৌধুরী ভূতের বরের ব্যবস্থা করে ফেলছেন-এবার আর একটু খানি অপেক্ষা!

  অনন্যা মৈত্র আর তথাগত ব্যানার্জী দুজনেই ছোটোবেলাকে ফিরে আসার জন্যে আকুল হয়ে ডাকছেন। সেই ডাকে সাড়া দিতেই তো জ্বলদর্চির বিশেষ ছোটোবেলা সংখ্যা! ছোটোবেলার গন্ধ মাখা জ্বলদর্চি চলতে থাকুক অসীম কাল ধরে - আনন্দ বিলাক দুহাতে!

 
আজকের বিষয় : তৎকালীন কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তাদের প্রতিষ্ঠাতা, সাথে প্রতিষ্ঠিত সাল।(ইতিহাস)

১.বিশ্বভারতীর প্রতিষ্ঠাতা কে?
২. জাতীয় গৌরব সম্বোধনী এর প্রতিষ্ঠাতা কে?
৩. বসু বিজ্ঞান মন্দির কে প্রতিষ্ঠা করেন?
৪. শ্রীরামপুর মিশন কে প্রতিষ্ঠা করেন?
৫.ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ কে প্রতিষ্ঠা করেন?
৬. এশিয়াটিক সোসাইটি কে প্রতিষ্ঠা করেন?
৭. একাডেমিক এসোসিয়েশন কে প্রতিষ্ঠাতা করেন?
৮. বসু বিজ্ঞান মন্দির কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
৯. বেথুন কলেজ কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?
১০. কোলকাতা মাদ্রাসা কবে প্রতিষ্ঠিত হয়?

গত সপ্তাহের উত্তর:
১. ডুরান্ড লাইন ২. চীন ৩. রেডফ্লিক ৪. ভারত আর পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ৫.ভারত আর পাকিস্তান (পাকিস্তানের দাবি) ৬.ভারত আর পাক অধিকৃত কাশ্মীর ৭.১৯৬২ ৮. পাঞ্জাব ৯.৩,৩২৩ ১০. ৩,৩৮০

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇
আরও পড়ুন 

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি