রেঙ্গুনে রবীন্দ্র-সংবর্ধনা ও শরৎচন্দ্র/মুক্তি দাশ

রেঙ্গুনে রবীন্দ্র-সংবর্ধনা ও শরৎচন্দ্র

মুক্তি দাশ

১৯১৬ সালের মে মাসের গোড়ার দিক। একটি টেলিগ্রাম এসে পৌঁছলো রেঙ্গুনের তৎকালীন বিখ্যাত দুর্ধর্ষ ব্যারিষ্টার পূর্ণচন্দ্র সেনের নামে। টেলিগ্রামটি স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ-প্রেরিত। টেলিগ্রামের বিষয়বস্তু : এইবছর কবি তাঁর পুণ্য জন্মদিবস অর্থাৎ ১৩২৩ বঙ্গাব্দের ২৫শে বৈশাখ রেঙ্গুনে কাটাতে সম্মত হয়েছেন।
 
  রেঙ্গুনবাসীদের কাছে এ এক অভূতপূর্ব সংবাদ। হাজার হোক, রবীন্দ্রনাথ নোবেলজয়ী কবি। সবে বছর দু’তিন হয়েছে তিনি নোবেলে ভূষুত হয়েছেন। বিশ্বজোড়া তাঁর নাম। প্রচ্ছন্ন গৌরবমিশ্রিত এক অনাস্বাদিত পুলকের শিহরণ স্বভাবতই বয়ে গেল রেঙ্গুনের বাঙালি-সমাজে।

  পূর্ণচন্দ্র সেন কেশবচন্দ্রের কনিষ্ঠা কন্যা সুজাতার শ্বশুরমশাই। এবং রবীন্দ্রনাথের অভিন্নহৃদয় বন্ধু। আইন-ব্যবসায় রেঙ্গুনে সুপ্রতিষ্ঠিত। দুঁদে ব্যারিষ্টার। তিনি তৎক্ষণাৎ সব কাজকর্ম শিকেয় তুলে রেখে টেলিগ্রাম হাতে নিয়ে ছুটলেন ওখানকার বাঙালি-সমাজের কর্ণধার ও গণ্যমান্য মানুষ গিরীন্দ্রনাথ সরকারের কাছে। তদানীন্তন রেঙ্গুনে বসবাসকারী বাঙালিদের সমস্তরকম অনুষ্ঠান ও প্রতিষ্ঠানের সংগে জড়িত ও অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী গিরীন্দ্রনাথ তো খবরটা শুনেই রীতিমতো লাফিয়ে উঠলেন। আর শুধুই কি গিরীন্দ্রনাথ? সারা রেঙ্গুন শহরে নিমেষে একেবারে খুশির বন্যা বয়ে গেল কবির আগমন-সংবাদে। এতবড় বিশাল মাপের এজন কবি তাঁর নিজের জন্মদিনে রেঙ্গুনে স্বয়ং উপস্থিত থাকবেন – এ কি কম সৌভাগ্যের কথা! তাঁকে যথোচিত সংবর্ধিত করা চাই, অভিনন্দিত করা চাই।

  কয়েকদিন ধরে তারই প্রস্তুতি ও মহড়া চললো পুরোদমে। ঠিক হলো, পূর্ণচন্দ্র সেনের বাড়িতেই বিশ্বকবি এসে উঠবেন। রেঙ্গুনের জুবিলী হলে ব্যবস্থা হলো কবি-সংবর্ধনার। সবই তো হলো। কিন্তু সমস্যা দেখা দিল অন্য জায়গায়। সংবর্ধনা-সভায় কবির জন্যে ‘অভিনন্দন পত্র’ কে লিখবে? বাংলা ও ইংরেজি – দু’রকম ভাষাতেই ‘অভিনন্দন পত্র’ লিখতে হবে। বিশ্বকবি বলে কথা! এ-ব্যাপারে পূর্ণচন্দ্র সেন দ্বারস্থ হলেন গিরীন্দ্রনাথের। গিরীন্দ্রনাথ পূর্ণচন্দ্রকে আশ্বস্ত করে জানালেন যে, বাংলায় ‘অভিনন্দন পত্র’ লেখার ভার তিনি নিতে রাজি। কিন্তু ইংরেজি ‘অভিনন্দন পত্র’-র  দায়িত্ব পূর্ণচন্দ্রকেই নিতে হবে।

  গিরীন্দ্রনাথের কথা শুনে পূর্ণচন্দ্র তো হেসেই অস্থির। গিরীন লিখবে বাংলায় ‘অভিনন্দন পত্র’? তবেই হয়েছে! গিরীনের বাংলা লেখার যা বহর, রবীন্দ্রনাথ সভা-টভা ছেড়ে না পালিয়ে যান!

  পূর্ণচন্দ্রের উপহাস ক্ষুণ্ণমনে হজম করে নিয়ে গিরীন্দ্রনাথ এবার আসল কথাটি খুলে বললেন। না। ‘অভিনন্দন পত্র’ তিনি নিজে লিখবেন না। লেখাবেন তাঁর এক সাহিত্যিক বন্ধুকে দিয়ে। 

পূর্ণচন্দ্র অবাক। গিরীনের সাহিত্যিক বন্ধু? কে তিনি? কী নাম তাঁর? জানা গেল, তাঁর নাম শ্রী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। নাম শুনেও তেমন উৎসাহবোধ করলেন না পূর্ণচন্দ্র। সংক্ষেপে শুধু বললেন, ‘অ।’

  এ তো যাহোক একটা সুরাহা হলো। এবার আরও একটি সমস্যা দেখা দিল। সংবর্ধনা সভায় উদ্বোধনী সংগীত গাইবে কে? এর পথও বাৎলে দিলেন সেই সর্ব-মুশকিল-আসানকারী গিরীন্দ্রনাথই। কেন, সেই শরৎবাবুকে দিয়েই তো উদ্বোধনী সংগীত গাওয়ানো যেতে পারে। তিনি গান-টানও মন্দ করেন না। তবে তিনি রাজি হলে হয়। সভা-সমিতি বা অনুষ্ঠানের নাম শুনলেই তাঁর আবার জ্বর আসে! বড্ড লাজুক কিনা!

  রবীন্দ্রনাথ রেঙ্গুনের মাটিতে পা রাখলেন ১৯১৬ সালের ৭ই মে। পরের দিনই কবির জন্মদিন। স্থানীয় জুবিলী হলে বিরাট জনসভার বিশাল আয়োজন। সেই জনসভার সংবর্ধিত হবেন বিশ্ববরেণ্য কবি রবীন্দ্রনাথ।
নির্দিষ্টদিনে ও সময়ে সংবর্ধনা সভা শুরু হলো। সারা শহর ভেঙে পড়েছে জুবিলীহলের সামনে। তিলধারণেরও জায়গা নেই। সংবর্ধনা-কমিটির পক্ষ থেকে কবিকে মাল্যদানে ভূষিত করলেন গিরীন্দ্রনাথ। রেঙ্গুনের বহু উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব সশরীরে সভায় উপস্থিত। নেই কেবল একজন। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। বন্ধু গিরীন্দ্রনাথের অনুরোধে উদ্বোধনী সংগীত গাইতে সম্মত হলেও শেষঅবধি শরৎচন্দ্র রবীন্দ্রনাথের সংবর্ধনা সভায় অনুপস্থিতই থেকে গেলেন। অগত্যা অন্য একজনকে দিয়ে উদ্বোধনী-সংগীত গাওয়াতে হলো। তবে গিরীন্দ্রনাথের ফরমায়েশ মতো কবির উদ্দেশে ‘অভিনন্দন পত্র’টি লিখে তিনি যে যথারীতি পাঠাতে পেরেছেন - তাই যথেষ্ট।

 সেই বিশাল সভায় শরৎচন্দ্র লিখিত ‘অভিনন্দন পত্র’টি পড়ে শোনালেন নির্মলচন্দ্র সেন। ‘অভিনন্দন পত্র’টি এইরকম :

“শ্রীযুত সার্ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নাইট, ডি.লিট., মহোদয় করকমলেষু –

 কবিবর, এই সুদূর সমুদ্রপারে বঙ্গমাতার ক্রোড়বিচ্যুত সন্তান আমরা আজ হৃদয়ের গভীরতম শ্রদ্ধা ও আনন্দের অর্ঘ্য লইয়া, আমাদের স্বদেশের প্রিয়তম কবি, জগতের ভাব ও জ্ঞানরাজ্যের সম্রাট – আপনাকে অভিনন্দন করিতেছি।

 আপনি অপূর্ব্ব কবি-প্রতিভাবলে নব নব সৌন্দর্য্য ও নব নব আনন্দ আহরণ করিয়া বঙ্গসাহিত্য-ভান্ডার পরিপুর্ণ করিয়াছেন এবং নব সুরে , নব রাগিনীতে বঙ্গহৃদয়কে এক নব-চেতনায় উদ্বুদ্ধ করিয়াছেন।

 আপনার কাব্যকলার সৌন্দর্য্যের মধ্য দিয়া প্রাচ্যহৃদয়ের এক অভিনব পরিচয় অধুনা প্রতীচ্যের নিকট সুপরিস্ফুট হইয়া উঠিয়াছে এবং সেই পরিচয়ের আনন্দে প্রতীচ্য আজ প্রাচ্যের কবিশিরে সাহিত্যের যে সর্ব্বশ্রেষ্ঠ মহিমা-মুকুট পরাইয়া দিয়াছে, তাহার আলোকে জননী বঙ্গবাণীর মুখশ্রী মধুর স্মিতোজ্জ্বল হইয়া উঠিয়াছে।

 আপনার কাব্যবীণায় সহস্র অনির্বচনীয় সুরে ভারতের চিরন্তন বাণী, সত্য-শিব-সুন্দরের অনাদি গাথা ধ্বনিত হইয়া এক বিশ্বব্যাপী আনন্দ, অপরিসীম আশা ও অসীম আশ্বাসে মানব-হৃদয়কে আকুল ও উদ্বেল করিয়া তুলিয়াছে। এই বিশাল সৃষ্টির অণু-পরমাণু যে এক আনন্দে নিত্য পরিস্পন্দিত হইতেছে এবং এক অপরিচ্ছিন্ন প্রেমসূত্রে যে এই নিখিল জগত গ্রথিত রহিয়াছে, আপনার কাব্যে সেই পরম সত্যের সন্ধান পাইয়াছি এবং আপনাকে – কোন দেশ বা যুগবিশেষের নয় – সমগ্র বিশ্বের কবি বলিয়া চিনিতে পারিয়ছি।

 আপনার কথায়, কাব্যে, নাট্যে ও সংগীতে যে মহান আদর্শ আত্মপ্রকাশ করিয়াছে, তাহাতে বুঝিয়াছি, এক লোকাতীত রাজ্যের আলোকে আপনার নয়ন উদ্ভাসিত, এক অমৃত সত্ত্বার আনন্দরসে আপনার হৃদয় অভিষিক্ত।

আপনার অকৃত্রিম একনিষ্ঠ বাণীসাধনা আজ যে অতীন্দ্রিয় রাজ্যের স্বর্ণউপকূলে আপনাকে উত্তীর্ণ করিয়া দিয়াছে, তথাকার আনন্দগীতি নিখিল মানবহৃদয়কে নব নব আশা ও আশ্বাসে পরিপূর্ণ করিয়া আপনার সুমোহন কাব্যবীণায় নিত্যকাল ঝঙ্কৃত হইতে থাকুক, ইহাই বিশ্বেশ্বরের চরণে প্রর্থনা। ইতি –

রেঙ্গুন,                                          ভবদীয় গুণমুগ্ধ –
২৫শে বৈশাখ                                    রেঙ্গুনপ্রবাসী বঙ্গসন্তানগণ”
১৩২৩ বঙ্গাব্দ

 সভা একসময় শেষ হলো। আগেই বলা হয়েছে, রবীন্দ্রনাথের থাকার ব্যবস্থা ব্যারিষ্টার পূর্ণচন্দ্র সেনের বাড়িতে। তাঁর পুত্রবধূ, অর্থাৎ কেশবচন্দ্র সেনের কন্যা সুজাতা কবির স্নেহধন্যা। তাঁদের সান্নিধ্যে রাতটা কাটিয়ে তিনি পরদিন দুপুরেই শহর ছেড়ে চলে যাবেন।

 এদিকে সেদিন একটু বেশি রাতের দিকে প্রায় চুপিসাড়ে গিরীন্দ্রনাথের বাড়ির উঠোনের একদিকে এসে দাঁড়ালেন শরৎচন্দ্র। গিরীন্দ্রনাথ তো হাঁ। সংবর্ধনা-সভায় অনুপস্থিত দেখে তিনি ভেবে নিয়েছিলেন, শরৎচন্দ্র হয়তো হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে্ছেন, তাই আসতে পারেন নি। এখন বহাল তবিয়তে শরৎচন্দ্রকে তাঁর সামনে জলজ্যান্ত হাজির হতে দেখে গিরীন্দ্রনাথ রাগে অগ্নিশর্মা। প্রথমেই একচোট নিলেন শরৎচন্দ্রকে- “তুমি কী-ই শরৎদা! গুরুদেবকে দেখার জন্যে আজ শহরসুদ্ধু লোক ভেঙে পড়ল জুবিলীহলে, আর তুমি কিনা-” 

 শরৎচন্দ্র স্মিতহাস্যে অপরাধীর গলায় বললেন, “তুমি তো জানো ভাইসভাসমিতি আআর ধাতে সয় না। কেমন যেন অস্বস্তি হয়, দমবন্ধ হবে আসে। কিন্তু ভাই বিশ্বাস কর, গুরুদেবের সান্নিধ্য পেতে বা তাঁর কথাবার্তা শুনতে আমার বড় ইচ্ছে করে। …আচ্ছা উনি কবে যাবেন?”

 ব্যাজারমুখে ঈষৎ ঝাঁঝের সংগে গিরীন্দ্রনাথ বললেন, কবে আবার কী! কালই। কাল দুপুরেই ওঁর স্টিমার ছাড়বে!” 

 শরৎচন্দ্র এবার গিরীন্দ্রনাথের একেবারে কাছটিতে সরে এসে, যেন অতিশয় গোপন কথা বলছেন, বললেন, “কাল সকালে তাঁর সংগে আমার একবারটি দেখা করিয়ে দিতে পারো? একান্তে, নিভৃতে?

 পরদিন সকালে যথারীতি শরৎচন্দ্রকে সাথে নিয়ে গিরীন্দ্রনাথ হাজির হলেন পূর্ণচন্দ্র সেনের বাড়িতে। কিন্তু কবিকে নিভৃতে পাওয়া কি চাট্টিখানি কথা! সেই সাতসকালেই পূর্ণচন্দ্রের ড্রইংরুমে শহরের বহু সম্ভ্রান্ত ব্যক্তি রবীন্দ্রনাথের দর্শনপ্রার্থী হয়ে বসে আছেন। গৃহকর্তা পূর্ণচন্দ্রের সংগে শরৎচন্দ্রের পরিচয় করিয়ে দিলেন গিরীন্দ্রনাথ। বললেন, “ইনিই শরৎচন্দ্র। বাংলা অভিনন্দন পত্রের লেখক।”

 পূর্ণচন্দের তো দম ফেলারও ফুরসৎ নেই। প্রচন্ড ব্যস্ততার মধ্যে তিনি শুধু বললেন, “ও, তাই বুঝি? বসুন, বসুন…” বলেই উপরের ঘরে রবীন্দ্রনাথের কাছে চলে গেলেন।

 শরৎচন্দ্র বসবেল কি! এত মানুষজনের সমাগম দেখে তাঁর মুখ-টুখ শুকিয়ে ফ্যাকাশে। তারই মধ্যে গিরীন্দ্রনাথ সুযোগের অপেক্ষায় রইলেন প্রতিশ্রুতিমতো শরৎচন্দ্রের সাথে একান্তে রবীন্দ্রনাথের সাক্ষাৎ করিয়ে দেবার। শরৎচন্দ্রকে নিচের ঘরে বসিয়ে রেখে গিরীন্দ্রনাথ সোজা উপরে উঠে গেলেন।

 রবীন্দ্রনাথ তখন উপরের হলঘরে পায়চারি করছেন। একা। এই তো সুযোগ! গিরীন্দ্রনাথ আর দেরি না করে কবির কাছে কথাটা পাড়তে যাবেন, এমন সময় সুজাতা এসে খবর দিলেন, নিচে নাকি ফটোগ্রাফার এসে গেছে। রবীন্দ্রনাথকে মধ্যমণি করে একটা গ্রুপফটো তোলানোর ব্যবস্থা হয়েছে – তারই তোড়জোড়।

 রবীন্দ্রনাথ বললেন, “আমার আবার ফটো তোলা কেন…” বলে অবশ্য ছবি তোলার উপযোগী সাজসজ্জা করতে ঘরের ভেতর ঢুকলেন। শরৎচন্দ্রের ব্যাপারটা, স্বভাবতই চাপা পড়ে গেল। মন্দ কপাল!

 গিরীন্দ্রনাথ নিরাশ মনে নিচে নেমে দেখলেন, গভীর উৎকন্ঠা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন শরৎচন্দ্র। সান্ত্বনার সুরে গিরীন্দ্রনাথ বললেন, “একটু অপেক্ষা কর শরৎদা, রবিবাবুকে নিয়ে এখুনি একটা গ্রুপফটো তোলা হবে। তুমিও থেকো কিন্তু…”

 একেবারে আকাশ ভেঙে পড়লো বুঝি শরৎচন্দ্রের মাথায়। বলে কি! শরৎচন্দ্র মিনমিন করে বললেন, “আমি! এই চড়াই পাখির মতো চেহারা নিয়ে রবিবাবুর সংগে ছবি তুলতে বসবো আমি? হ্যাঃ, কি যে বলো!”

 সিঁড়িতে পায়ের শব্দ। রবীন্দ্রনাথ নামছেন। ফটোগ্রাফার প্রস্তুত। বিশ্ববরেণ্য কবির সংগে ফটো তুলতে সবাই আগ্রহী এবং উৎসাহী। রেভারেন্ড এন্ড্রুজ এবং পিয়ারসন সাহেবও হাজির। একদিকে রবীন্দ্রনাথ সাজগোজ করে একপা একপা করে সিঁড়ি দিয়ে নামছেন। অপরদিকে শরৎচন্দ্র নিঃশব্দে একপা একপা করে বাড়ির ফটকের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। এবং একসময় সত্যিই যেন পালিয়ে বাঁচলেন শরৎচন্দ্র। গিরীন্দ্রনাথ পরে লিখেছেন – “রবীন্দ্রনাথের প্রতি শরৎচন্দ্রের গভীর শ্রদ্ধা ছিল, কিন্তু সাধারণের মধ্যে আসিয়া মেলামেশা করিতে তিনি বড়ই ভয় পাইতেন।”

 পরে অবশ্য বন্ধু গিরীন্দ্রনাথের কাছ থেকে রবিকবিকে মধ্যমণি করে শরৎহীন সেই গ্রুপফটোর একটি কপি সংগ্রহ করে নিতে ভোলেননি শরৎচন্দ্র।


Comments

Trending Posts

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

পুঁড়া পরব /ভাস্করব্রত পতি

পতনমনের ছবি /শতাব্দী দাশ

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া