রবীন্দ্র কবিতায় বিচিত্র শিশুজগৎ/প্রতাপ সিংহ

রবীন্দ্র কবিতায় বিচিত্র শিশুজগৎ

প্রতাপ সিংহ

বাঙালির সাহিত্য ও কৃষ্টিতে, মেধায়-মননে, সভ্যতায় ও সংস্কৃতিতে যে মানুষটির দৃষ্টি আজীবন বৃষ্টির মতো বর্ষিত হয়েছে তিনি হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর রচিত গল্প,উপন্যাস, নাটক, প্রবন্ধের মতো কবিতা এবং গানেও নিরন্তর আলোকিত হয়েছে মানবশিশু কিংবা শিশুভাবনা। জগৎ  পারাবারের তীরে যে শিশুর মহামেলা, সেখানে তিনি অবাধে বিচরণ করেছেন। শৈশবে তাঁর জীবন শাসনে আর অনাদরে ছিল বলেই হয়তো সারাজীবন ধরে বাঙালির শিশুমনের অনাবিল জগৎটিকে ভাবনার ভাস্কর্যে সমাদর করতে চেয়েছেন। আমরা দেখেছি তাঁর কবি - চৈতন্যে ঘর হলো অন্তর আর বাহির হলো বিশ্ব।এই ঘর আর বাহির তথা অন্তর এবং বিশ্বের  সংযোগ সাধনার প্রয়াস অন্যান্য ধারার মতো শিশুকে ঘিরেও অনেকখানি আবর্তিত হয়েছে। সেই কারণে রবি - চৈতন্যে এমন শিশুদের আমরা খুঁজে পাই, যাদের কেউ প্রশ্নমনস্ক, কেউ বিজ্ঞ, ব্যাকুল, অার্ত, সমব্যথী অথবা কেউ সদানন্দময় ভোলানাথরূপে আমাদের কাছে পরিচিত।  নীরস প্রাণহীন তোতাকাহিনির পরিমণ্ডল সংস্কারের ব্রত নিয়ে হাসি গান আনন্দের পটভূমিতে শিশু বিকাশের মন্ত্রই যেন আমরা শুনতে পেলাম তাঁর অফুরান সৃজন - ভাণ্ডারের মধ্যে।
 
     বর্ণময় শিশুজগৎ  নিয়ে রবীন্দ্রনাথের গভীর চিন্তা-ভাবনার আশ্চর্য প্রকাশ আমরা দেখতে পাই সচিত্র 'সহজ পাঠ' -এর ১ম,২য় ও ৩য় ভাগের বিভিন্ন অধ্যায়ে। এই শিক্ষাচেতনার ধারা বিভিন্ন কাব্যগ্রন্থ গুলোতেও লক্ষ করা যায়। যেমন - 'শিশু', 'শিশু ভোলানাথ', 'লিপিকা', 'খাপছাড়া', 'সে', 'ছড়ার ছবি', এবং 'গীতবিতান'-এর বেশ কিছু গানে। শিশু শিক্ষার পাশাপাশি শিশুমনের অপরিসীম আনন্দবর্ধনেও এইসব কাব্যের ছড়া-কবিতা বা গানগুলির ভূমিকার কথা বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে। রবীন্দ্রনাথের ব্যাপ্ত  কবিভাবনায় হীরকখণ্ডের  মতো যেখানে যেখানে শিশুচেতনা উজ্জ্বল হয়ে আছে আমরা শুধু ছড়া-কবিতা বা গানকেই সেক্ষেত্রে আলোচনার জন্য সীমাবদ্ধ রাখছি, যদিও বিশ্বকবির শিশুভাবনা যে তাঁর উপন্যাস গল্প নাটক প্রবন্ধ কিংবা পত্রসাহিত্যেও সম্যকভাবে ভাস্বর হয়ে আছে তা নতুন করে না বললেও চলে।

       'সহজপাঠ' আমাদের বাঙালি জীবনে সহজভাবে শিক্ষা লাভের সোপান স্বরূপ। "অত্যাবশ্যক শিক্ষার সহিত স্বাধীন পাঠ না মিশাইলে ছেলে ভালো করিয়া মানুষ হইতে পারে না। "১  মা-বাবার কাছ থেকে শ্রুতি সুখের আনন্দ, সেই সঙ্গে সহজ ছন্দের দোলায় পাঠ - অভ্যাস শুরু করে দিচ্ছে সহজ পাঠের শিক্ষা --
     ছোট খোকা বলে অ আ 
    শেখেনি সে কথা কওয়া। ২
 অনবদ্য ছন্দ মিলের সাহায্যে স্বরধ্বনি থেকে  ব্যঞ্জনধ্বনিগুলি শিশুর কাছে তাই আর অনায়ত্ত   থাকে না। 'সহজপাঠের' "বর্ণপরিচয়বাহী ছড়াগুলি  শুধু যে কাব্যগুণে শ্রেষ্ঠ তা-ই নয়, সেগুলিতে বর্ণ- ই বর্ণনীয় অর্থাৎ বর্ণের দিকেই শিশুর মনোযোগ আকর্ষণ করা হচ্ছে।"৩  মাতৃভাষায় ছন্দের দুলুনিতে সহজ পাঠের সহজরস শিশুমনে এখানে যেন অতি সহজেই নাড়া দিয়ে যায় আর তাতে কথাও যেন শিশুর চিত্তে বহুবর্ণ ছবির মতোই হাজির হয়, মনে নির্মল আনন্দ ও মাধুর্যের সঞ্চার করে :   
ছায়ার ঘোমটা মুখে টানি
আছে আমাদের পাড়াখানি
দিঘি তার মাঝখানটিতে
তালবন তারি চারি ভিতে।৪
কিংবা 
 ঢেঁকি পেতে ধান ভানে বুড়ি
খোলা পেতে ভাজে খই মুড়ি
বিধু গয়লানী মায় পোয়
সকাল বেলায় গোরু দোয়।৫

 তখন শিশুমনে কত সহজেই হাজির হয় দৈনন্দিন চিত্রসমষ্টি। বাস্তব জগতের চেনাশোনার সঙ্গে রহস্যময় অসীম প্রকৃতিলোকের ছবিও মনের মধ্যে গেঁথে যায়। সংসারের বাঁধাজীবনের ছকে থেকেও শিশুর কাছে সহজ প্রশ্ন সহজ পাঠের মধ্যে দিয়েই মূর্ত হয়ে ওঠে :
কাল ছিল ডাল খালি
  আজ ফুলে যায় ভ'রে 
বল্ দেখি তুই মালী
 হয় সে কেমন ক'রে। ৬
বাল্যকালে রবীন্দ্রনাথ চার দেওয়ালের একাকিত্বের গণ্ডিটাকে বারবার অতিক্রম করতে চেয়েছেন জানালায় চোখ রেখে। বারবার তাঁকে নানা প্রশ্ন আকুল করেছে, হাতছানি দিয়েছে সুদূর, বিপুল সুদূর। নাগরিক জীবনের কংক্রিটে অনবরত আহত হয়েছে তাঁর প্রশ্নাতুর কৌতূহলী শিশুমন। তাই তাঁর অনুভব আজকের পড়ুয়াকেও  স্পর্শ করে গভীরভাবে --
 থাকি ঘরের কোণে /সাধ জাগে মোর মনে
 অমনি করে যাই ভেসে ভাই / নতুন নগর - বনে।৭
এখানে যেন আমরা সুদূরের পিয়াসী কবির ব্যাকুল বাউল মনটিকে খুঁজে পাই। যে বদ্ধ জীবনের মাঝে বাধাহীন গণ্ডিহীন মুক্তজীবনের পাখিটিকে খোঁজে সেই খোঁজার মধ্যেই অফুরান গতিতে প্রাণের আনন্দে শিশুমন ছুটে যায় আকাশে --
কভু ভাবি পাখি হয়ে উড়িব গগনে
 কখনো হবে না সে কি ভাবি যাহা মনে? ৮
বৃষ্টি না - হওয়া মেঘের মতোই আনন্দও যে মাঝে- মাঝে আশঙ্কা আর ব্যথার ভারে আন্দোলিত হয়, এ যেন তারই বিশ্বস্ত চিত্র। তাই রবীন্দ্রনাথ শিশুহৃদয় নিয়ে যথার্থই উপলব্ধি করেছেন --
   আরাম কেদারায় তারা আরাম চায় না।
    গাছের ডালে ডালে তারা চায় ছুটি। ৯
যুক্তাক্ষর, ভাষাশিক্ষা এমনকি নীতি সমাজ - পরিবেশভাবনার পথটিও শিশুহৃদয়ের জন্য উন্মোচিত হয়েছে ধাপে ধাপে সহজপাঠের বিভিন্ন অধ্যায়ে।'হাট' কবিতায় গ্রামজীবনের বেচাকেনার বাস্তুজগতের দৃশ্যগুলো যেমন শিশুমনে একে একে জড়ো হয়,তেমনি 'সহজপাঠে'র দ্বিতীয় কবিতাটিতে মা-কে নিয়ে শিশুর যে অন্তরঙ্গ কল্পনা তা-ও বহুদূর প্রসারিত হয় রঙিন হয়ে --
  "ঐ খানে মা পুকুর - পাড়ে
জিয়ল গাছের বেড়ার ধারে...

তার চেয়ে মা আমি হব ঢেউ 
তুমি হবে অনেক দূরের দেশ
লুটিয়ে আমি পড়ব তোমার কোলে 
কেউ আমাদের পাবে না উদ্দেশ।"১০
মা-কে একান্তভাবে কাছে পাওয়ার বাসনা শিশুপাঠকেরও এভাবেই মন জয় করে নেয়। প্রকৃতির সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কটিকে ছন্দের দোলায় আন্দোলিত করার পাশাপাশি শিশুদের ভাবুক মনে আজগুবি-অবাস্তব স্বপ্নের ছবি সহজপাঠের সৌজন্যে গড়ে উঠতে থাকে ক্রমশ --
 " আমি মনে মনে ভাবি চিন্তা তো নাই, 
  কলিকাতা যাক নাকো সোজা বোম্বাই। 
দিল্লি লাহোর যাক,যাকনা আগরা
... কিসের শব্দে ঘুম ভেঙে গেল যেই
  দেখি কলিকাতা আছে কলিকাতাতেই।" ১১
সহজপাঠের শেষ কবিতায় কুঞ্জবিহারীর কাহিনি অতিক্রম করে ভাবুক শিশুমনে আগমনির সুরে জাগরণ ঘটে যায় কবিচিত্তের --
   কল্লোলে কোলাহলে জাগে এক ধ্বনি
    অন্ধের কণ্ঠের গান আগমনী।১২
শিশুকাল হল মানবজীবনের বিস্ময়মাখানো দিনের সমাবেশ  কৌতূহলের জাগরণ আকর্ষণের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকা অকারণ চঞ্চলতার মতো,  না লেখা সাদা পাতার মতো অথবা আকার না-পাওয়া মাটির তালের  মতো নানা রঙের দিন। তাই সেখানে রবীন্দ্র কবিতায় শৈশবচেতনা শিশুকে শরীরে মনে সঠিকভাবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যেন প্রকৃতির দানের মতোই আশীর্বাদস্বরূপ। "রবীন্দ্রনাথ মানবধর্মের উদ্বোধনের ক্ষেত্রে শিশুচিত্তকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দান করেছেন। তার প্রধান কারণ শিশুচিত্ত প্রভাতের নির্মল আলোকের মতো, ঝরনা ধারার মতো।" ১৩
 তাই সহজপাঠের 'নদী' কবিতায় চলার গতি, আশ্চর্য ছন্দে স্ফূর্ত হয়েছে। যুক্তাক্ষর বর্জিত আবৃত্তি-উপযোগী এই কবিতায় সেই রসস্ফূর্তির স্পন্দন লক্ষ করা যায়। 
    আমাদের ছোট নদী চলে বাঁকে বাঁকে
      বৈশাখ মাসে তার হাঁটুজল থাকে 
অন্যত্র 'শিশু' কাব্যের নদী--
   ওরে তোরা কি জানিস কেউ 
   জলে কেন ওঠে এত ঢেউ 

  ... মনে ভাবিল যা আছে ভবে
      সবই দেখিয়া লইতে হবে। 
এ যেন 'ডাকঘর' নাটকের অমলের মতো যা আছে সব দেখব, কেবলই দেখে বেড়াব। তাই --
কবে মুখে তার রোদ লেগে--
  নদী আপনি উঠিল জেগে... 
 সাগর নিল তারে বুক পেতে 
তারে নীল বিছানায় থুয়ে
 তাহার কাদামাটি দিবে ধুয়ে। ১৪
মায়ের অসীম স্নেহ-মমতা, বাৎসল্য, সদা যত্ন সন্তানের প্রতি, মায়ের কাছে ফিরে আসার মতোই অপরূপ সুন্দর।

  'শিশু' কাব্যে আছে গার্হস্থ্য জীবনাশ্রিত মা আর সন্তানের মধুর সম্বন্ধ, অন্যদিকে 'শিশু ভোলানাথ' কাব্যে বড় বেশি চোখে পড়ে বন্ধনের বেদনা থেকে নিষ্কৃতির আকাঙ্ক্ষা। বিশ্বহৃদয়ের বিশ্বজননীর  বার্তা 'শিশু' কাব্যে বাৎসল্যের মাধুরীতে ধরা দিয়েছে। অন্যদিকে 'শিশু ভোলানাথ' কাব্যে ধরা পড়েছে --
"সে ভোলানাথের মতোই নিরাসক্ত, ভোগের বন্ধনে যে আবদ্ধ নহে। ... দারিদ্র্য তাহাকে দীন করে না, ধূলি তাহাকে অশুচি করে না, তাহার অন্তরে সর্বদাই অমৃত ঐশ্বর্য বিরাজ করিতেছে।"১৬

  অন্তরের এই অমৃত নিয়েই চারপাশের শিশুমনে জেগে ওঠে নানা কৌতূহল, বিচিত্র আকাঙ্ক্ষা; কবিতার ছবি জীবন্ত হয়ে ওঠে :
ইচ্ছে করে সেলেট ফেলে দিয়ে 
অমনি করে বেড়াই নিয়ে ফেরি।১৭
  কিংবা 
মা,যদি হত রাজি
 বড় হলে আমি হব 
খেয়া ঘাটের মাঝি।১৮
শিশুর মনে অসংখ্য প্রশ্ন, অসংখ্য কৌতূহল। কল্পনার এক বিচিত্র রঙিন পৃথিবী তার মনের খেয়ালেই গড়ে ওঠে। তাই তার মনগড়া যুক্তিতে রাত্রি হয়ে যায় দিন অথবা দুপুর হয়ে যায় রাত।

 মনে কর্ না উঠল সাঁঝের তারা, 
মনে কর্ না সন্ধে হলো যেন
 রাতের বেলা দুপুর যদি হয়
 দুপুরবেলা রাত হবে না কেন।১৯
 এর সঙ্গে কবির 'ছেলেবেলা'র স্মৃতিচারণটি এক্ষেত্রে মিলিয়ে নেওয়া যাক --."আমি লুকিয়ে ছাদে উঠতুম প্রায়ই দুপুর বেলায়। বরাবর দুপুর-- এই দুপুর বেলাটা দিয়েছে আমার মন ভুলিয়ে। ও যেন দিনের বেলাকার রাত্তির, বালক সন্ন্যাসীর বিবাগী হয়ে যাবার সময়।"২০
 মা-কে নিয়ে শিশুমনের অজস্র ভাবনা কল্পনা বিম্বিত হয়েছে 'মাতৃবৎসল', 'লুকোচুরি', 'দুঃখহারী' প্রভৃতি কবিতায়। শিশুরা তো স্বপ্ন-কল্পলোকে অবাধে পাড়ি দেয়। মাতৃস্নেহের মমতামেদুর রূপকথা; ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমিদের সঙ্গে রাজার বাড়ির রাজপুত্তুরকে সঙ্গে নিয়ে এমনই এক অবিস্মরণীয় বিখ্যাত কবিতা হলো 'বীরপুরুষ'। বীরপুরুষের স্বঘোষিত বালক বীর তার সদম্ভ উপস্থিতি জানিয়ে কবিতায় হাজির হয়েছে --
মনে করো যেন বিদেশ ঘুরে 
মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে। খোকার এই 'মনে করো' বহুদূর বিস্তৃত হয়ে জল স্থল অন্তরিক্ষ ছাড়িয়ে নিঃসীম নীলিমায় উড়ে চলে আর বাস্তবে ফিরে হা-হুতাশের শেষ নেই--
 রোজ কত কী ঘটে যাহা-তাহা --
এমন কেন সত্যি হয় না, আহা।
'কানাই মাস্টার' থেকে 'বিজ্ঞ' এই খোকাবীর তার মায়ের কাছে খুকিকে 'ভারী ছেলেমানুষ' জানিয়ে নিজের বীরত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আজও আমাদের চারপাশে নিজের খোকাদের এরকম বিশ্বস্তভাবে দেখতে কোন্ মায়ের না ইচ্ছে হয়! এই শিশুই বড় হয়ে ভুলতে পারে না তার শিশুকালকে, শৈশবের সঙ্গীকে, যেমন 'পুরোনো বট'কে -- নিশিদিন দাঁড়িয়ে আছ মাথায় লয়ে জট
 ছোট ছেলেটি মনে কি পড়ে, ওগো প্রাচীন বট।২১ বটের ঝুরির সঙ্গে ভোলানাথের জটের সাদৃশ্য এখানে কত সহজেই বালক-বালিকারা খুঁজে পাবার আনন্দে মশগুল হতে পারে। তাই, শিশু তার নানাবিধ স্বাদে কিংবা আকাঙ্ক্ষায় কখনো 'ফুলবাগানের মালী হয়ে, কখনো 'রামের মতো বনবাসী' হয়ে কখনো-বা বিজ্ঞানী হয়ে পথচলা শুরু করে। আর তাই 'কাগজের নৌকা', 'ছেলেবেলার গান'কে সঙ্গী করেই মনকে ভাসিয়ে দেয় যেখানে --
  কেহ  তারে কভু নাহি করে মানা
ধরে নাহি রাখে ফিরে নাহি ডাকে --
ধায় নব নব দেশে।২২

জগৎ জুড়েই প্রকৃতির বুকে শিশুর খেলাঘর --
"জগৎ পারাবারের তীরে শিশুরা করে খেলা।"
তার কোথাও অনুশাসন মেনে চলার অভ্যাস বা অভিলাষ নেই। সে মাতৃস্নেহে উদ্বেলিত, মাতৃক্রোড়ে খোঁজে বিশ্বের অনুপম মাধুর্যকে--
খোকা থাকে জগৎমায়ের
অন্তঃপুরে। 
তাই সে শোনে কত যে গান 
কতই সুরে। ২৩

  'কথা ও কাহিনী' রবীন্দ্রনাথের শিশুকেন্দ্রিক লেখা না হলেও শিশুহৃদয়কে রোমাঞ্চিত করতে কিংবা শিশুমনের বেড়ে ওঠায় যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করে। 'কথা'-য় যদি মনুষ্যত্বের পাঠ পাওয়া যায় তবে 'কাহিনী'-তে পাই মানবিকতার পরিচয়। কবিতাগুলিও সেইরকম সর্বজনপ্রিয়। 'গানভঙ্গ', 'পুরাতন ভৃত্য', 'দুই বিঘা জমি', 'দেবতার গ্রাস', 'বিসর্জন' -- আর কোনও কবি এমন প্রচন্ড, প্রবল অথচ মধুর ভাবে মানুষ হবার নিয়ম শিখিয়েছেন বলে জানি না।"২৪
   'কণিকা'-তে শিশু নিয়ে কিছু ভাবনার অন্যরকম স্ফুরণ ঘটেছে। 'যথার্থ আপন', 'রাষ্ট্রনীতি', 'প্রবীণ ও নবীন', 'ভক্তিভাজন' প্রভৃতি কবিতায় কবির যে সর্বকালীন ভাবনাটি ব্যক্ত হয়েছে তা ছোটো বড়ো সকলেরই সংবিৎকে ছুঁয়ে থাকে :
  ভাবে শিশু বড়ো হলে শুধু যাবে কেনা
 বাজার উজাড় করি সমস্ত খেলনা।
 বড়ো হলে খেলা যত ঢেলা বলি মানে,
 দুই হাত তুলে চায় ধন জন-পানে। 
আসলে এই শিশুই তো কখনো চাঁপা হয়ে ফুটতে চেয়েছে চাঁপাগাছে। মা-কে চাঁদ করে নিজে মেঘ হতে চেয়েছে আর দুষ্টুমি করে লুটোপুটি করে ছাদকে আকাশ বানিয়ে মায়ের সঙ্গে আনন্দগানে মাততে চেয়েছে :
'মা, যদি তুই আকাশ হতিস /আমি চাঁপার গাছ তোর সাথে মোর বিনি কথায়/ হ'ত কথার নাচ।'২৬ রবীন্দ্রকাব্যের শিশু রবীন্দ্রনাথের মতোই স্কুল বা বিদ্যালয়ের অনুশীলন বা চোখরাঙানিকে সহ্য করতে পারে না। পারে না গণ্ডিবদ্ধ জীবনের হাঁসফাঁস জর্জরিত প্রতিকূল পরিমণ্ডলকে গ্রহণ করতে। 'সময়হারা' কিংবা 'রবিবার' কবিতায় এই মনোভাবটি আশ্চর্যভাবে যেন ব্যক্ত হয়েছে : 
সোম মঙ্গল বুধের যেন 
মুখগুলো সব হাঁড়ি,
 ছোটো ছেলের সঙ্গে তাদের
 বিষম আড়াআড়ি। 
 কিন্তু শনির রাতের শেষে
 যেমনি উঠি জেগে, 
রবিবারের মুখে দেখি 
হাসি আছে লেগে। ২৭
সকল শিশুর মতোই স্কুলের চার দেওয়ালের ঘেরাটোপ রাবীন্দ্রিক শিশুরও ভালো লাগার কথা নয়, তাই ভালো লাগেওনি। বরং ভালো লাগে 'বাউল' কিংবা 'রাজমিস্ত্রি'কে --
বাড়ি ফেরার তরে 
তোমায় কেউ না তাড়া করে 
তোমার নাই কোনো পাঠশালা।২৮
 'সকাল থেকে সারা দুপুর
 ইঁট সাজিয়ে ইঁটের উপর
 খেয়াল মতো দেওয়াল তুলি গড়ে।২৯
 'খাপছাড়া'তে-ও যে আজগুবি খেয়াল কিংবা উদ্ভট রস আছে, তা শিশুচিত্তের নির্মল আমোদ আর আনন্দ বাড়িয়েই তোলে। শিশু যখন পড়ে -- ক্ষান্তবুড়ির দিদিশাশুড়ির/পাঁচবোন থাকে কালনায় শাড়িগুলো তারা উনুনে বিছায়/হাঁড়িগুলি রাখে আলনায়।৩০
 অথবা
সমাস এগিয়ে গেল/ ভেসে গেল সন্ধি
 পাঠ এগোবার তরে /এই তার ফন্দি ৩১
 কিংবা
 ইস্কুলে যাওয়া নেই সেইটে যা মঙ্গল
 পথ খুঁজে ঘুরিনেকো গণিতের জঙ্গল
 কিন্তু যে বুক ফাটে দূর থেকে দেখি মাঠে 
ফুটবল-ম্যাচে জমে ছেলেদের দঙ্গল।৩২
 তখন সেই শিশুমন প্রসন্ন হবেই হবে। পাঠভার, সিলেবাসের জটিল আবর্ত, পরীক্ষার জাঁতাকল, খেলাধুলাসম্পৃক্ত স্বাভাবিক জীবনের ছন্দপতন ঘটিয়ে পড়াশোনার বিশাল রাজ্যের মধ্যে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা -- কোন্ শিশুর মনই বা মেনে নিতে চায়? তাই শিশুমনকে পীড়িত করার সনাতন প্রক্রিয়াগুলোকে রবীন্দ্রনাথ এভাবেই বারবার আক্রমণ করতে চেয়েছেন। যোগীন্দ্রনাথ সরকার কিংবা সুকুমার রায়ের আজগুবি জগতে প্রবেশ করার আগে বাঙালি আবালবৃদ্ধবণিতার দল এই যে ব্যঙ্গলোকের পরশটুকু পেল তা আমাদের জন্য এক মূল্যবান উপহার তথা চিরন্তন সম্পদ বলেই বিবেচিত হবে। 
  শিশুরা চিরকাল সম্ভাবনার মাটিতেই বসবাস করে। তাই তাদের বিশ্বটিও এক অলৌকিক অপরূপের উপকরণ দিয়েই গড়া হয়। শিশুমন একদিকে যেমন তালগাছের মতো উঁকি মারতে পারে আকাশে তেমনি মায়ের মমতার টানে মাটির কোণটির মতোই মায়ের কোলটিকে আঁকড়ে ধরে থাকে। পরিবেশ বিজ্ঞানীর মতেোই তাই রবীন্দ্রনাথ যে শিশুকে 'ঠাকুরদাদার ছুটি'তে নীল আকাশের সঙ্গে দিঘির ঘাটে নিয়ে যান, তাকেই আবার বৃক্ষচেতনার পাঠে বৃক্ষহৃদয়ের রসে জারিত করেন  :
তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে
 সব গাছ ছাড়িয়ে 
উঁকি মারে আকাশে
. . .  মা যে হয় মাটি তার
ভালো লাগে আরবার
 পৃথিবীর কোণটি। ৩৬
  এভাবেই প্রকৃতি ও শিশুর এক ছেদহীন বন্ধন গড়ে ওঠে এক চিরকালীন সম্পর্কের সুতো বেঁধে। এই সত্যটিই অনুভূত হয় রবীন্দ্রনাথের 'ছেলেভুলানো ছড়া'র( লোকসাহিত্যে) মধ্যেও -- 
"ভালো করিয়া দেখিতে গেলে শিশুর মতো পুরাতন আর কিছুই নাই। দেশকাল শিক্ষা প্রথা অনুসারে বয়স্ক মানুষের কত নূতন পরিবর্তন হইয়াছে,  কিন্তু শিশু শত সহস্র বৎসর পূর্বে যেমন ছিল তেমনি আছে। তাই অপরিবর্তনীয় পুরাতন বারংবার মানবের ঘরে শিশুমূর্তি ধরিয়া জন্মগ্রহণ করিতেছে, অথচ সর্বপ্রথম দিন সে যেমন নবীন, যেমন সুকুমার, যেমন মূঢ়, যেমন মধুর ছিল আজও ঠিক তেমনি আছে। এই নবীন চিরত্বের কারণ এই যে,শিশু প্রকৃতির সৃজন।" ৩৭
   
  বড়দের মতো শিশুদেরও পথ চলাতেই জীবন, তাতেই আনন্দ। 'চরৈবেতি'র সেই মন্ত্রও আমরা শুনতে পেলাম 'বলাকা'তে। এমনকি বয়স যতই বাড়ুক মনের সারল্য, সজীবতা, নবীনের মতোই যেন কোমল থাকে। তাই গতিময় জীবনের স্পন্দন সর্বদাই যেন আমাদের কাছে কচিকাঁচাদের আমন্ত্রণ জানানোর মধ্যে দিয়েই কবি শিশুর প্রতি কী তীব্র আকুতিতেই না তাঁর মোহমুগ্ধতাকে প্রকাশ করেছেন --
 ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা,
 ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,
... পুচ্ছটি তোর উচ্চে তুলে নাচা
আয় দুরন্ত আয় রে আমার কাঁচা।৩৮
 অথবা 
ব্যাঘাত আসুক নব নব 
আঘাত খেয়ে অটল রব
বক্ষে আমার দুঃখে তব 
বাজবে জয়ডঙ্ক।৩৯

  আত্মশক্তি, আত্মবিকাশ, আত্মজাগরণ মানবজীবনে সূচিত হয় শৈশবকাল থেকেই। ভবিষ্যতের আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রাপ্তি-প্রতিষ্ঠা তাই শিশুকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়। সেজন্য শিশুকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা, প্রতিপালন করা, সুকুমার প্রবৃত্তিগুলোকে প্রসারিত করা কিংবা মানবিক মূল্যবোধের চেতনায় দীক্ষিত করা আমাদের কাছে একান্তই কাম্য।সেই বিপুল কর্মযজ্ঞটি কত অনায়াসেই না রবীন্দ্রনাথ করে গেছেন 'গীতবিতান'-এর পাতায় পাতায়। সকল মানুষকেই যেন তিনি শিশু হয়ে প্রার্থনা করতে শিখিয়েছেন আপন অন্তরের বিকাশে, উজ্জীবিত করতে চেয়েছেন সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার আদর্শে উদ্বুদ্ধ করে :
অন্তর মম বিকশিত করো অন্তরতর হে --
নির্মল করো, উজ্জ্বল করো, সুন্দর করো হে।।জাগ্রত করো, উদ্যত করো, নির্ভয় করো হে।
মঙ্গল করো, নিরলস নিঃসংশয় করো হে।৪০
 প্রকৃতির আলোকিত ঝর্নাধারায় স্নাত হয়ে শিশুমন ব্যাপ্ত হয় নিখিলের আনন্দধারায় উদ্ভাসিত হতে হতে। 'গ্রীষ্মের দারুণ অগ্নিবাণে' 'রজনী নিদ্রাহীন' থাকলে শুদ্ধরূপে স্নিগ্ধ বর্ষা আসে ছুটি আর অবকাশের আমেজে।  মেঘের কোলে রোদের হাসির স্ফূর্তির মতো ঋতুরঙ্গ প্রবাহে ছুটে চলে  শিশুমনের তরিখানি।তাই শিশুমনেও জোয়ার-ভাঁটা সঞ্চারিত হয় ধানের ক্ষেতে রৌদ্রছায়ায়। আর এভাবে চলতে চলতে 'হিমের রাতে' হৈমন্তিকা ছাড়িয়ে এসে যায় পৌষের ডাক শিশুমনকে পাকা ফসলের আহ্বানগীত শোনাতে। 
   শিশুর কাছে যা থাকে তাকেই তারা আপন করে নিতে চায়। কথা আর শব্দ যখন সুর নিয়ে হাজির হয় তখনই তা শিশুমনে ঝংকার তোলে, আনন্দ দেয়। এমনকি যে কোনো কাজই তখন খেলা, মজা,চঞ্চলতার আবেগে শিশুচিত্তে সানন্দে সমাদৃত হয় --
সব কাজে হাত লাগাই মোরা সব কাজেই 
বাধা বাঁধন নেই গো নেই। ৪১

 শুধু কাজেই নয়,কোথাও হারিয়ে যেতেও তার মানা নেই। যদি কাজকর্ম হিসাব-কিতাব তার সামনে পাথরের মতো বোঝা হয়ে যায় তবে মনে মনে নিরুদ্দেশের পথিক হয়ে কোথাও না কোথাও সে হারিয়ে যেতে পারে গানের সুরের ডানা মেলে। শিশুর এই আনন্দময় রূপটিকে রবীন্দ্রনাথ সযত্নে, গভীর মমতায় রক্ষা করতে চান। তাই তাদের বুকের মাঝে বিশ্বলোককে জাগিয়ে রাখতে প্রাণিত করেছেন --
 যেখানেতে অগাধ ছুটি 
মেল সেথা তোর ডানা দু'টি, 
সবার মাঝে পাবি ছাড়া। ৪২
  অচেনাকে ভয় না করে তাকে চিনে চিনে শিশুর জীবন ভরে উঠুক। যুদ্ধই জীবন, জীবনই যুদ্ধ। তাই বিপদে ভয় না পেয়ে, ম্রিয়মান না হয়ে, সংকটে একলা চলার যে অভয় আমাদের রবীন্দ্রনাথ দিয়েছেন তা শিশু তথা বালক-বালিকাদের সুস্থিত চেতনায় প্রবাহিত হওয়া জরুরি। দুর্বলতা, ভীরুতা, সংকট, অবসন্নতা, গ্লানি, ক্লীবতা, মালিন্য দূর করে প্রাণের মানুষ হয়ে ওঠার শিক্ষা শিশুকাল থেকেই আমরা যেন ঘরে-বাইরে ব্যবস্থা করতে পারি।
 ভক্তি, প্রেম, শ্রদ্ধা,ভালোবাসা, সহনশীলতা, সংকল্প,সৌজন্য, সংহতি, সম্প্রীতি, ভারতীয়ত্ব   কিংবা আন্তর্জাতিকতার অনুভূতিগুলো আমরা রবিচৈতন্য দীক্ষিত হয়েই যেন উচ্চারণ করতে পারি শিশুদের মঙ্গলাকাঙ্ক্ষায়:
বিশ্বসাথে যোগে যেথায় বিহারো
 সেইখানে যোগ তোমার সাথে আমারও। ৪৩
তবেই সত্যদ্রষ্টা, ঋষি রবীন্দ্রনাথের শিশুচেতনার সার্থকতা শুভকর্মের পথে নির্ভয়ে গান ধরার মতো বাঙালির চিত্তভূমিতে খুঁজে পাওয়া যাবে। শিশুরাও উপলব্ধি করবে আমাদের জাতীয় সংগীতে জাতীয় সংহতির বার্তা, স্বদেশের গানে এদেশে জন্মানোর কী গৌরব কিংবা নৃত্যের তালে তালে ছন্দিত হওয়ার মধ্যে জীবনের কী অপূর্ব প্রকাশ। সংগততভাবেই রবীন্দ্রনাথের শিশুচেতনা একদিকে যেমন রাঙামাটির পথে ছড়ানো তেমনি রামধনুর রঙেও বিছানো 'নবীন আগন্তুক' বা স্নেহময় নবজাতকের আলিঙ্গনে--
 মানবের শিশু বারে বারে আনে 
চির আশ্বাসবাণী --
নূতনপ্রভাতে মুক্তির আলো 
বুঝি বা দিতেছে আনি।(নবজাতক)৪৪


তথ্যসূচিঃ
১. রবীন্দ্র রচনাবলী ১১খণ্ড,পৃষ্ঠা ৫৩৭
২.সহজপাঠ ১ম ভাগ পৃ. ৩
৩.ভাষা দেশকাল -- পবিত্র সরকার  পৃ. ৪২
৪. রবীন্দ্র রচনাবলী ১৫ খণ্ড পৃ ৪২( বিশ্বভারতী সু ) 
৫.  র।র ১৫ খণ্ড পৃ ৪৪৭ (বিশ্বভারতী সুলভ সংস্করণ) 
৬. র।র ১৫/৪৫০(বি।সু।সং)
৭.র।র ১৫/৪৫২(বি।সু।)
৮. র।র ১৫/৪৫৩(বি।সু)
৯.র।র ১১/৭২৪(বি।সু)
১০.র।র ২/৪০  ( বি।সু)
১১.র।র ১৫/৪৬৪(বি।সু)
১২.র।র ২/৪০(বি।সু)
১৩. রবীন্দ্রচর্যা -- দেবীপ্রসাদ ভট্টাচার্য, পৃ ১৮৭
১৪.র।র ১ম খণ্ড, পৃ ৪৫৩-৪৫৮(বি।সু)
১৫.কবিগুরু -- অমূল্যধন মুখোপাধ্যায়, পৃ ১৬২
১৬.রবীন্দ্র রচনাবলী - ২য় খণ্ড পৃ২০(বি।সু)
১৭.র।র - ২য়/ পৃ ৩০( বি।সু)
১৮. র।র ২/২৬(বি।সু)
১৯.র।র।১০/১৪৮(বি।সু)
২০. জীবনস্মৃতি (বিশ্বভারতী প্রকাশন)
২১ র।র ২/৬২(বি।সু)
২২.র।র।২/১৬(বি।সু)
২৩. রবীন্দ্রনাথের শিশুসাহিত্য - লীলা মজুমদার 
        পশ্চিমবঙ্গ রবীন্দ্র সংখ্যা, পৃ ১৩৯৬
২৪. র।র ১ম/ ৫৯২(বি।সু)
২৫. র।র ২য়/ ৫৭৩(বি।সু)
২৬. র।র ২য়/ ৫৮০(বি।সু)
২৭.র।র ২য়/ ৫৯৫(বি।সু)
২৮. র।র ২য়/ ৬০৩( বু।সু)
২৯. র।র ৩য়/ ৪৬৯( বি।সু)
৩০. র।র ৩য়/ ৪৪২(বি।সু)
৩১. র।র ৩য়/ ৪৪৮(বি।সু)
৩২.র।র ৭ম /৫৬ (বি।সু)
৩৩.র।র ৩য়/৭৫০(বি।সু)
৩৪.র। র ৬ষ্ঠ/২৪৩(বি।সু)
৩৫ র।র ৬/২৪৮(বি।সু)
৩৬/গীতবিতান ১ম/পূজাও স্বদেশ.৫১(বিশ্বভারতী)
৩৭.গীতবিতান ২য়/পৃ.৬০০(বিশ্বভারতী) 
৩৮.গীতবিতান ১ম/ ১৪৮(বিশ্বভারতী) 
৩৯.গীতবিতান ১ম/১৫১(বিশ্বভারতী) 
৪০.রবীন্দ্র রচনাবলী ১২খণ্ড/ পৃ ১০৫(বিশ্বভারতী) 
৪১.গীতবিতান অখণ্ড /পৃ৬০০/বিচিত্র (বিশ্বভারতী) 
৪২.গীতবিতান অখণ্ড /পৃ৪২/পূজা(বিশ্বভারতী) 
৪৩.গীতবিতান অখণ্ড /পৃ৪৩/পূজা (বিশ্বভারতী) 
৪৪.রবীন্দ্র রচনাবলী পৃষ্ঠা১০৫ (বিশ্বভারতী ১৯১০  সুলভ সংস্করণ )
 * বি।সু -- বিশ্বভারতী সুলভ সংস্করণ ১৯১০
র।র -- রবীন্দ্র রচনাবলী

 জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇

Comments

Trending Posts

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

পুঁড়া পরব /ভাস্করব্রত পতি

পতনমনের ছবি /শতাব্দী দাশ

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া