Posts

Showing posts from July, 2021

দীর্ঘ কবিতা (নিঃসঙ্গ প্রোফাইল)/ মণিদীপা বিশ্বাস কীর্তনিয়া

Image
দীর্ঘ কবিতা  নিঃসঙ্গ প্রোফাইল  মণিদীপা বিশ্বাস কীর্তনিয়া চায়ের দোকানে পোড়া তাওয়ায় ডিমপাউরুটির সাথে খিদের কেমিস্ট্রি মেলাতে চাইছি যত ঝনঝন গড়িয়ে যাচ্ছে খুচরো পয়সা-রূপেয়া-কয়েন মাটিতে পড়লেই সিলমোহর! চাকার ছাপ আঁকা! বিশ্বাস করুন দাদা,নেশা করিনি একটুও কাল থেকে বলে নিকোটিন লেভেলই নেমে যাচ্ছে ফাঁকা পকেটের দরুন মুখভর্তি ওয়াটারব্রাশ যেন খুলে গেছে ক্ষতমুখ আর লালায় হড়কা বান টপকাচ্ছে ভুখ কম করনেওলা দাওয়াই আভিতক  মিলা নেহি যত্ত ঢ‍্যামনামো আর ভাল্লাগে না দাদা তবু দেখছি অসংখ্য টায়ারের ছাপ ফেলে গড়িয়ে যাচ্ছে চাকা শাদা শূন্যের দিকে হিমনীল মুক্তবর্ণ চরাচর আধমরা জোয়ার খেত ঝলসে দিচ্ছে মধ‍্যদিন অরণ্যবেলা,গভীরতর শূন্যতায় ডুবে আছে হিমানী নিস্পত্র খা খা উদ্ভিদ চাক্কীপেষায় ছিটকে উঠছে আগুনদানা অথচ নক্ষত্র লোক সৃষ্টির পরে নবীনতর সৃজনে আগ্রহী ছিলেন ঈশ্বর! টিউশানি ধরা ফালতু বেকার হাড়হাভাতে দিন কাটছে  ছাইপাশ লেখা খুঁড়ে খুঁড়ে সাইকিডেলিক যত খুঁজছি ব্লাক আর্ট শেকড় বাকড়ের যাদুটোনা এইসব তুকতাক যাতে করে নিতান্ত চেনা মুখের সাউখুড়ি প্রশংসা মিনিমাম ছাপা অক্ষরে নামটাম তত উঠে আসছে পাখিটানা রথের খেলনা গজসিংহমুখ দেবতা

নাস্তিকের ধর্মাধর্ম --- পর্ব--(১৫)/সন্দীপ কাঞ্জিলাল

Image
নাস্তিকের ধর্মাধর্ম --- পর্ব--(১৫) সন্দীপ কাঞ্জিলাল ধর্মে ঈশ্বরের প্রবেশ এবার একটু আলোচনা করা যাক, বিভিন্ন ধর্ম সৃষ্টি সম্বন্ধে কি বলে। পৌরাণিক হিন্দু ধর্মে এবং বৌদ্ধ ধর্মে মোটামুটি একই রকম সৃষ্টি স্থিতি প্রলয়ের কল্পনা আছে। মনুস্মৃতি, মহাভারত, বিষ্ণুপুরাণ প্রভৃতি গ্রন্থে হিন্দুধর্মের সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়ের যে হিসেব পাওয়া যায়, তা সংক্ষেপে এরকম। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর ও কলি এই চার যুগ আর তাদের সন্ধ্যা ও সন্ধ্যাংশ মিলিয়ে মোট বারো হাজার বৎসর। মানুষের চার যুগের এই বারো হাজার বৎসরে দেবতাদের এক যুগ। দেবতাদের এরকম এক হাজার যুগে ব্রহ্মার এক দিন। ব্রহ্মার এক দিনের শেষে মহাপ্রলয় আসে এবং তখন মহাবিশ্ব পরমব্রহ্মে লয় হয়ে যায়। ব্রহ্মার রাত্রি বা নিদ্রাবস্থাও দিনের সমান, এবং তখন মহাবিশ্ব সৃষ্টিহীন লয়াবস্থাতেই থাকে। রাত্রির শেষে ব্রহ্মার জাগরণে আবার সৃষ্টি আরম্ভ হয়। চার যুগ এবং মহাপ্রলয়ের মধ্যে মহাযুগ, মন্বন্তর, কল্প, মহামন্বন্তর প্রভৃতি আরো বিভাগ আছে। প্রতিটি কালের বিভাগের শেষেই মহাবিশ্বে এবং পৃথিবীতে কিছু পরিবর্তন আসে। কালের বিভাগ যত দীর্ঘ, পরিবর্তনের মাপও তত বেশি। এভাবে ছোট-বড় স

দুটি কবিতা/পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়

Image
  দুটি কবিতা পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায় বেপরোয়া ১. যারা আমাকে দেখে অহংকারী ভাবে। তারা যেমন ভাবে যা খুশি তা ভাবুক। জানি কখনো তারা খোঁজ করেনি ভুলেও। ছিল কখনো পিঠে আঘাত কষা চাবুক। আমি তাদের এতে দোষ ধরিনা কোনো। যারা দৃষ্টিসুখে গভীর দেখেনা রে। শুধু করুণা দিয়ে অবজ্ঞাকে ধুয়ে। বুকে লালন করি তাদের বারে বারে। তারা সংখ্যাগুণে পিঁপড়ে সারি সারি। তারা দায়ীত্বতেও পাশ ফিরে শোয় রোজই। তাই তাদের আমি বাঘ ভাবি না  ভুলেও। ভাবি মার্কা মারা অলস তৃণভোজী। যারা আমায় ভাবে উদ্ধত ও জেদী। আর স্বাধীনতায় সেই ভাবাকে ফলায়। তারা শত্রু হবে মুরোদ এত আছে? নাকি বন্ধু হবে ভীষণ, গলায় গলায়? আমি এড়িয়ে চলি তাদের আনাগোনা। আমি সমঝে চলি তাদের অভিশাপ। তারা স্বপ্নে দেখা ভুল পৃথিবীর প্রাণী। তারা জলের বুকে মিথ্যে জলছাপ। কেন দেবই বা রে তাদের সাথে আড়ি। যাতে মানুষজনা তাদের খ্যাতি করে। শুধু বাধ্য হয়ে বুকের গভীরতায়। অনুকম্পা গুলো তাদের প্ৰতি ঝরে। যাদের গভীরতায় দ্বেষের অতিমারী। আমি তাদের সাথে এমন হতে পারি। ২. এখনো ভাবি তাই এই তো, যে দিন বাঁচতে, নিয়ে তোমার যেমন তেমন। সেই তখনো এও বলিনি মানুষ যেন কেমন! যখন তোমার ও মুখ থেকে ঝরত অমুক তমুক। প্

বাংলা ভাষায় বাঙালি মেয়ের লেখা প্রথম মৌলিক উপন্যাস ‘মনোত্তমা/'প্রসূন কাঞ্জিলাল

Image
বাংলা ভাষায় বাঙালি মেয়ের লেখা প্রথম মৌলিক উপন্যাস ‘মনোত্তমা' প্রসূন কাঞ্জিলাল একটা বই নিয়ে আজ একটু জানার চেষ্টা করছি। বইটি "মনোত্তমা"। ১৮৬৫ সালে দুর্গেশনন্দিনী প্রকাশ পাবার তিন বছর বাদে মানে ১৮৬৮ সালে বাংলা ভাষায় প্রকাশিত বাঙালী মহিলার লেখা প্রথম মৌলিক উপন্যাস। লেখিকা হিন্দু কুল কামিনী।  বিশিষ্ট প্রাবন্ধিক স্বর্গত শ্রী অদ্রীশ বিশ্বাস মহাশয় ব্রিটিশ লাইব্রেরী থেকে এই বইটার প্রথম প্রকাশিত সংস্করণ খুঁজে বার করেন। দেশে ফিরে এসে আনন্দ পাবলিশার্স থেকে বইটি প্রকাশ করেন। উনি দেশে ফিরে এসে অনেক খোঁজ খবর করে দেখেন ১৮৬৭ সালে "নবপ্রবন্ধ" পত্রিকাতে এক বছর ধরে ধারাবাহিক বার হয়েছিল। মূল বইতে উনি প্রকাশকের নাম পাননি, একমাত্র মুদ্রক ছাড়া। কাহিনী আলাদা এই উপন্যাসের।  এক শিক্ষিত  নারীর গল্প। যে বিয়ের পরে তার অশিক্ষিত স্বামীকে পড়াতে শুরু করে। স্বামী তাকে জব্দ করতে আর একটা বিয়ে করে। মনোত্তমা স্বামীর ঘর না ছেড়ে তার নতুন সমস্যাকে শিক্ষা দিয়ে মোকাবিলা করে। চমকপ্রদ উপন্যাস। অদ্রীশ বাবু জানিয়েছেন যে লেখিকার নাম কামিনী দেবী, হুগলীতে বাড়ি। পাঁচশো কপি ছাপা হয়েছিলো। বাংলাভাষায় ল

হাত বাড়ালেই বন্ধু?/মুক্তি দাশ

Image
হাত বাড়ালেই বন্ধু? মুক্তি দাশ বাল্যবয়সে পাঠ্যপুস্তকে সেই ‘দুই বন্ধু ও ভালুকের গল্প’ আমার মতন যাদের পড়তে হয়েছে, আমি বিশ্বাস করি না, পরবর্তীকালে বন্ধু বা বন্ধুত্ব সম্পর্কে তাদের মনে খুব একটা স্বচ্ছ ও অনাবিল ধারণা গড়ে উঠতে পেরেছে। ছোটবেলায় সেই নীতিবাক্যমূলক গল্পটি আমাদের অনেককেই পড়তে হয়। হয়েছে। সেই যে, দুই অভিন্নহৃদয় বন্ধু ঘোর জঙ্গলের মধ্যে কোথায় যেন যাচ্ছিল। এমনসময় উল্টোদিক থেকে আসছিল এক ভালুক। প্রথম বন্ধুটি গাছে ওঠায় ওস্তাদ। বিদ্যেটি এই আপৎকালে তার কাজে লেগে গেল। সে তরতর করে গাছে উঠে মগডালে গিয়ে বসে থাকল। ভালুক তো আর গাছে উঠতে পারে না! কিন্তু দ্বিতীয় বন্ধুটি পড়ল মহা ফাঁপরে। সে গাছে-ফাছে উঠতে পারে না। ছুটে যে কোথাও পালিয়ে যাবে, সে গুড়েও বালি! ঘন বন-জঙ্গলের পথে সে প্রয়োজন মতো দ্রুত ছুটতেও পারবে না। তাছাড়া ভালুকের সংগে পাল্লা দিয়ে ছোটা, বিশেষত গহন অরণ্যের পথে…অসম্ভব! দ্বিতীয়বন্ধুর অনেক কাকুতি-মিনতি সত্ত্বেও প্রথমবন্ধু তাকে গাছে ওঠার ব্যাপারে সাহায্য করল না। তার নিজেরই তখন ‘আপনি বাঁচলে বাপের নাম’ অবস্থা। এইরকম পরিস্থিতিতে, জীবন ও মৃত্যুর মাঝামাঝি দাঁড়িয়ে একটা কথা  বিদ্যুৎঝলকের ম

আবৃত্তির পাঠশালা-৩৪/শুভদীপ বসু

Image
আবৃত্তির পাঠশালা-৩৪ শুভদীপ বসু বিষয়:মেদিনীপুর শহরের আবৃত্তির ইতিহাস(দ্বিতীয় পর্ব) ১১) পাঞ্চালি চক্রবর্তী- আবৃত্তির শিক্ষাগুরু হিসেবে উনি পেয়েছেন শ্রী শিব সুন্দর বসু কে। সারা বাংলা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় বহুবার পুরস্কার অর্জন করে খুব ছোটবেলা থেকেই সকলের নজরে এসেছিলেন। শিক্ষাগুরুর উদ্যোগেই ১৯৯৭সালে পাঞ্চালি চক্রবর্তী তৈরি করেন আবৃত্তির শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এসো আবৃত্তি করি। পরে কিছুটা সময় সাংসারিক কাজে ব্যস্ত থাকায় প্রতিষ্ঠানটির সাময়িক কাজ বন্ধ থাকলেও ২০১২সাল থেকে পুনরায় আবৃত্তির আঙিনায় নব রূপে প্রকাশ হয় প্রতিষ্ঠানের। নাম-'পাঞ্চালির কাব্যতীর্থ'। ১২) অজন্তা মাইতি- পিতা শ্রী অরুণ কুমার মাইতি ছিলেন অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার বিশিষ্ট আবৃত্তিশিল্পী নাট্যব্যক্তিত্ব, মাতা শ্রীমতি মনিকা মাইতি অলিগঞ্জ ঋষি রাজনারায়ান বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ছিলেন। পড়াশুনার পাশাপাশি পারিবারিক সাংস্কৃতিক জগতে ছোট থেকেই বড় হয়ে ওঠা শিল্পীর।  প্রথমে বাবার কাছে  আবৃত্তি চর্চার সূত্রপাত। বর্তমানে  শ্রী উৎপল কুন্ডু অধীনে আবৃত্তি চর্চা চালিয়ে যাচ্ছেন শিল্পী। পেশায় শিক্ষিকা বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছা

মেদিনীপুরের রসায়ন বিজ্ঞানী ড. নন্দগোপাল সাহু : সাধারণ থেকে অসাধারণে উত্তরণের রোমহর্ষক কাহিনী /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

Image
বিজ্ঞানের অন্তরালে বিজ্ঞানী ।। পর্ব ― ৩২ মেদিনীপুরের রসায়ন বিজ্ঞানী ড. নন্দগোপাল সাহু : সাধারণ থেকে অসাধারণে উত্তরণের রোমহর্ষক কাহিনী পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা গোড়ার কথা ― ১ : 'আমি একদিনও না দেখলাম তারে বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথায় পড়শি বসত করে              একঘর পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখলাম তারে।' ―বলে গেছিলেন এক আধ্যাত্মিক বাউল কবি। আজ থেকে আনুমানিক প্রায় দেড়শ বছর আগে। তিনি সাধক লালন ফকির (১৭৭৪―১৮৯০)। গোঁড়া জাতি-ধর্ম-বর্ণ'র উর্ধ্বে মানবতাবাদী, সমাজ সংস্কারক এবং গভীর দার্শনিক। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ, নজরুল আর বাংলাদেশে তখন বাংলা সাহিত্যের স্বর্ণযুগ। অথচ লেখাপড়া-না-জানা, স্কুলের গণ্ডি পার না-হওয়া এক বাউলের এ হেন সুগভীর দর্শন আপামর বাংলার মননকে অভূতপূর্ব নাড়া দিয়ে গেল। তিনি প্রদীপের শিখার তলায় যেটুকু অমানিশা ছেয়ে থাকে, তার নিচে ঢাকা-পড়ে-থাকা এক চিলতে আলো যেন। অবজ্ঞা আর অবহেলার পঙ্কিল সলিলে আজীবন নিমজ্জিত। অথচ নিয়তির কী নিষ্ঠুর পরিহাস! সমকালীন সমাজে আজও তিনি বড্ড বেশি প্রাসঙ্গিক। প্রাসঙ্গিক তাঁর মনন, দর্শন আর চিন্তন প্রণালী।  আসলে এ হেন গভীর দার্শনিক ভাবনা-চিন্তায় ব্যথিত লে

উত্তর আমেরিকা (নেটিভ ইন্ডিয়ান গোষ্ঠী)-র লোকগল্প /স্বভাব গুনে রাজার জামাই/ চিন্ময় দাশ

Image
দূরদেশের লোকগল্প-- উত্তর আমেরিকা (নেটিভ ইন্ডিয়ান গোষ্ঠী) স্বভাব গুনে রাজার জামাই  চিন্ময় দাশ   একেবারে গাঁয়ের একটেরে থাকতো এক বুড়ি। উলুঝুলু একটা ঝুপড়ি তার। চালগুলোও ফুটোফাটা। সুয্যিদেব একটু উপরে উঠলো, কি রোদ ঢুকে পড়ল বুড়ির ঘরে। বাদলার দিনে তো কথাই নাই। মাটিতে দু'ফোঁটা  পড়বার আগে, বৃষ্টির ফোঁটা টুপটাপ করে বুড়ির ঘরে পড়তে শুরু করে দেয়। তবে হ্যাঁ, যখন চাঁদ থাকে আকাশে, মিষ্টি আলোয় ভরে যায় কুঁড়েটা। তখন ভালো লাগে বটে, কিন্তু জ্বালাও কম নয়। সে মায়াময় আলো থেকে না যায় চোখ ফেরানো, না যায় ঘুমানো।   বয়স হয়েছে বুড়ির। কোনরকমে টলোমলো পা দুটি নিয়ে চলাফেরা তার। দু'বেলা পেটের অন্ন জোটাতেই  হিমশিম খেয়ে যায় মানুষটা। ঘরের ছাউনি সারানো কি তার সাধ্য?   ব্যাপারটা হল, ঝুপড়িতে বুড়ি কিন্তু একা থাকে না। সোমত্ত একটা নাতি আছে বুড়ির। তবে, নাতি আছে-- এই পর্যন্তই। রাজ্যের কুঁড়ে সে ছেলে। কুটোটিও নাড়ানো যায় না তাকে দিয়ে।   রাত-দিন কত করে বোঝায় তাকে বুড়ি-- কাজকম্ম না করলে, পেট চলবে কী করে তোর? আমি আর ক'দিন আছি? যাওয়ার তো সময় হয়ে এলো আমার। তখন তোকে কে দেখবে?  তা কোন কথা কানে নিলে তো?  বুড়ি বলে-- তোর