দুটি কবিতা/পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়

 দুটি কবিতা
পলাশ বন্দ্যোপাধ্যায়

বেপরোয়া

১.
যারা আমাকে দেখে অহংকারী ভাবে।
তারা যেমন ভাবে যা খুশি তা ভাবুক।
জানি কখনো তারা খোঁজ করেনি ভুলেও।
ছিল কখনো পিঠে আঘাত কষা চাবুক।

আমি তাদের এতে দোষ ধরিনা কোনো।
যারা দৃষ্টিসুখে গভীর দেখেনা রে।
শুধু করুণা দিয়ে অবজ্ঞাকে ধুয়ে।
বুকে লালন করি তাদের বারে বারে।

তারা সংখ্যাগুণে পিঁপড়ে সারি সারি।
তারা দায়ীত্বতেও পাশ ফিরে শোয় রোজই।
তাই তাদের আমি বাঘ ভাবি না  ভুলেও।
ভাবি মার্কা মারা অলস তৃণভোজী।

যারা আমায় ভাবে উদ্ধত ও জেদী।
আর স্বাধীনতায় সেই ভাবাকে ফলায়।
তারা শত্রু হবে মুরোদ এত আছে?
নাকি বন্ধু হবে ভীষণ, গলায় গলায়?

আমি এড়িয়ে চলি তাদের আনাগোনা।
আমি সমঝে চলি তাদের অভিশাপ।
তারা স্বপ্নে দেখা ভুল পৃথিবীর প্রাণী।
তারা জলের বুকে মিথ্যে জলছাপ।

কেন দেবই বা রে তাদের সাথে আড়ি।
যাতে মানুষজনা তাদের খ্যাতি করে।
শুধু বাধ্য হয়ে বুকের গভীরতায়।
অনুকম্পা গুলো তাদের প্ৰতি ঝরে।

যাদের গভীরতায় দ্বেষের অতিমারী।
আমি তাদের সাথে এমন হতে পারি।


২.
এখনো ভাবি তাই

এই তো, যে দিন বাঁচতে, নিয়ে
তোমার যেমন তেমন।
সেই তখনো এও বলিনি
মানুষ যেন কেমন!

যখন তোমার ও মুখ থেকে
ঝরত অমুক তমুক।
প্রশ্রয়ী মন ভাবত বসে
ক্ষোভটা খানিক কমুক!

কারণ ভুলে যখন আমায়
ভাবতে আবর জাবর।
ভাবিই নি সে ভাবনাগুলো
স্থবির না অস্থাবর।

ঈর্ষা যখন আকাশ ছুঁয়ে
করত ধানাই পানাই।
ভাবনা ছিল এ সব কিছু
তোমায় কিন্তু মানায়।

কখনো ভুলে এ সব নিয়ে
হইনি আরোপিত।
'কথার কথা কষ্ট' তাতে
ভরসা'টা বেশ দিত।

আদতে তুমি মানুষটাকে
মিথ্যে কিছু নেই।
আগের যা যা ভাবনা, তাতে,
এখনো ভাবি সেই।



প্রেমাস্পদ


তোমার সাথে সহজ ভাবে
বললে কথা, রোজ।
কিসের কথা,কেমন কথা
মানুষ করে খোঁজ।
খোঁজার লোভে, শালীনতার
নিয়ম ভাঙার ছাঁচ।
কি বা বলি, ভরসা শুধু
হাতে রইল পাঁচ।।

ইচ্ছে তবু, হিসেব মানা
অঙ্ক কষা ভুলে ।
মন ক্যামেরার যন্ত্রণাকে
সামলে রাখে, তুলে।
সামলে রাখে বে আক্কেলে 
প্রশ্ন করার ধাঁচ।
কি বা করি, ভরসা শুধু
হাতে রইল পাঁচ।

মানুষ মানুষ স্বভাব যাদের
মানুষ খুঁজে মরে।
সিঁদুরে মেঘ দেখলে তারাই
হাঁফিয়ে ওঠে ডরে।
বুকের মাঝে গুমরে ভাঙে
শার্সি মনের কাচ।
কি বা করি, ভরসা শুধু
হাতে রইল পাঁচ।

হাতের পাঁচের মধ্যে আমার
বিদ্রোহী মন থাকে।
সাধাসিধা হৃদয়, হেসে
বুঝিয়ে বলে তাকে।
'রক্ত খোঁজে শ্বাসের বায়ু
শ্বাস খোঁজে কার ধারা?
যে বাঁচে যার জন্য, কেবল
বলতে পারে তারা।

ভরসা তাতে পথিক হয়ে
চলার অজুহাতে।
পারস্পরিক বোঝাপড়ার
ওজর ঈশারাতে।
পাঁচ মুসাফির ইন্দ্রিয়কে
জড়িয়ে ধরে বলে।
তোমরা আছো তাইতে আমার
এমন বাঁচাও চলে।'

বুকের মাঝে তুফান তোলে
অনুভূতির ঝড়।
সুখের দাওয়ায় পান্তাভাতের
আবেগ নিরন্তর।
অঙ্ক কষার ছল মানে না
কাঙাল হওয়া মন।
সকাল সাঁঝে তাই চলে রোজ
আত্মসমর্পণ।

সমর্পণের গভীরতা,
কি সে গভীরতর!
যেমন ভাবে শব্দ ছাড়া
ভাষার মানে পড়ো।

তেমন ভাষার বুকের খাঁচা,
যেমন বোঝে আশায় বাঁচা,
তেমনটি আর কেউ কি বোঝে
গুন ভাগে, সাত পাঁচ?
বুকের নদীর বুকের খেয়া,
বলে বলুক শঠ, বেহায়া,
তবুও বলি উত্তরে, 'এ-ই
আমার সুখের ধাঁচ।'


জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇

আরও পড়ুন 

Comments

Trending Posts

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -১০৯

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

পুঁড়া পরব /ভাস্করব্রত পতি

পতনমনের ছবি /শতাব্দী দাশ

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া