ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা -৪৬




সম্পাদকীয়,
🇹🇯স্বাধীন কথাটা বললে যেমন পাখির কথা মনে পড়ে, যেমন উন্মুক্ত আকাশে, বাতাসে, পাহাড়ে, সমুদ্রে বেড়ানোর কথা মনে পড়ে ঠিক তেমনি স্বাধীনতা শব্দটির উচ্চারণের সঙ্গে সঙ্গে ১৫ই আগস্টের পতাকা উত্তোলন, জন গন মন, বন্দেমাতরমের গানের সুর কানে বেজে ওঠে। এবারের ছোটোবেলা সংখ্যায় স্বাধীনতার অর্থটি আরো প্রাঞ্জল করে তোমাদের শুনিয়েছেন শুভেন্দু মজুমদার স্যার।  ভারতবর্ষ ছাড়াও সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যেখানে যেখানে ভারতীয়রা আছে সেখানে সেখানে আনন্দের সাথে এই দিনটি পালন করা হয় সেই সব দেশের স্বাধীনতা দিবসের গল্প এসো আমরা শুনে নিই অনন্যা আন্টির কাছে। না না এবারের সংখ্যায় শুধু নিবন্ধ আছে তা নয়। বিশিষ্ট সাহিত্যিক যশোধরা রায়চৌধুরী দিদি ও কবি তারাপ্রসাদ জেঠু তোমাদের আনন্দ দিতে ছড়া লিখেছেন। তোমাদের বন্ধু রেনেসাঁও ছড়া লিখেছে। এবারের ১৫ ই আগস্ট ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস, কিন্তু ভুললে চলবে না কোভিড পরিস্থিতি এখনও কাটেনি। তাই স্বাধীনতার আনন্দ ছাড়াও কোভিডের কথা ভেবে সেই মজা কিছুটা হলেও কমে গেছে। স্বাধীনতা দিবস ও কোভিড - এই দুই পরিস্থিতি নিয়ে গল্প লিখেছেন  গল্পকার যুগান্তর আঙ্কেল  ও তোমাদের বন্ধু শ্রীপর্ণা। পতাকার রঙ ঢেলে অসাধারণ ছবিটি তুলে পাঠিয়েছেন মৃণাল আঙ্কেল। স্বাধীনতা দিবস ছাড়াও ১৫ ই আগস্ট আবার ঋষি অরবিন্দের জন্মদিবস। তাঁর জন্মদিনটি স্মরণীয় হয়ে উঠেছে পীযূষ আঙ্কেলের কলমে। আর এসবের সাথে আছে ফুলকুসুমপুরের কুমি বিংগোদের নিয়ে মেতে ওঠার মজার কথা। স্বাধীনতা দিবসের আনন্দের সঙ্গে যাদের আত্ম-বলিদানের কথা মনে হলেই আমাদের চোখ জলে ভরে ওঠে আজকের দিনে সেইসব মনীষীদের কয়েকজনকে এঁকে আমাদের ছোটো বন্ধুরা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। জয়হিন্দ🇹🇯 - মৌসুমী ঘোষ।



স্বাধীনতার ভাবনা  
শুভেন্দু মজুমদার 

স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে গুবলুর মাথায় আগুন জ্বলে উঠলো । তার পড়ার টেবলের বইপত্র আর নানা সামগ্রী যেমন স্ট্যাম্পের খাতা আর টেবলের দেরাজে রাখা নানা টুকিটাকি যেমন মার্বেলের কৌটো , লাট্টু , টেবলের পেছনে রাখা ঘুড়ি ও লাটাই ---- সবকিছু কে যেন তছনছ করে দিয়ে গেছে । গুবলু ছুটে গিয়ে তার মাকে বললো , মা ! আজও আমার ঘরে এসে ঢুকেছিল তিন্নি ? মা চোখ-কপালে তুলে বললো , তাতে কী হয়েছে ? তিন্নি তো তোরই ছোট বোন । ওভাবে কথা বলতে নেই গুবলু ।

তিন্নি গুবলুর মাসতুতো বোন । গুবলুর চেয়ে তিন বছরের ছোট । গুবলুর এখন ক্লাস ফাইভ । আর তিন্নির ক্লাশ টু । আজ দুপুরে গুবলু স্কুলে যাবার পর তিন্নি ও তার মা গুবলুদের বাড়িতে কিছুক্ষণের জন্যে এসেছিল । তিন্নির মা পারমিতা গুবলুর মা সংগীতার ছোট বোন । পারমিতা তিন্নিকে সাথে নিয়ে একটু মার্কেটিঙে বেরিয়েছিল । তিন্নিদের স্কুল আজ ছুটি। ফাউন্ডারস্ ডে। পারমিতা নিজের জন্যে একটা শাড়ি কিনেছে । রঙটা ঠিক পছন্দ হচ্ছে না বলে দিদির পরামর্শ নিতে এসেছে ---- তাকে পরলে মানাবে কিনা ? সংগীতা পারমিতাকে বলেছে , তোর আর এমন কি বয়েস হয়েছে যে এ রঙ মানাবে না ?  

এদিকে গুবলু হাত-মুখ না ধুয়ে , টেবলে রাখা টিফিন না খেয়ে নিজের ঘরে ঢুকে নিজের সব সামগ্রী টেনে-টুনে বের করে এনে আবার গোছাতে শুরু করলো । তার টেবলের বইপত্রে বা তার খেলার সামগ্রীগুলোয় কেউ হাত দিলে সে খুব রেগে যায়।  এমনকি তার পড়ার ঘরে নিজের মা-বাবা ছাড়া অন্য কেউ ঢুকুক এটাও সে পছন্দ করে না । 

গুবলু চায়না তার এই স্বাধীনতায় কেউ হস্তক্ষেপ করুক। না , এমনকি তার মা-বাবাকেও সে কোন হস্তক্ষেপ করতে দেয় না।  

গুবলু তার বইপত্র , খেলার সামগ্রী --- এ সব তার নিজের পছন্দ বা ইচ্ছা অনুযায়ী সাজিয়ে রাখে । এটাকে বলা যেতে পারে গুবলুর স্বাধীনতা । আমরা প্রত্যেকেই নিজের স্বাধীনতা চাই । অন্য কেউ আমার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করুক সেটা আমরা কেউই চাই না । যেমন গুবলুও চায়না যেন তার স্বাধীনতায় তিন্নি এসে হাত না দেয় । যখন আমার অনুমতি ছাড়া অন্য কেউ জোর করে আমার যেটা এক্তিয়ার সেটায় হস্তক্ষেপ করে তখন এই হস্তক্ষেপ করাটা আমরা কেউই পছন্দ করি না । এটাকে আমরা বলি পরাধীনতা । পরাধীনতা কেউ পছন্দ করে না । এমনকি তিন্নিও চায়না তার সাজানো গোছানো পুতুলের সংসারে গুবলু এসে হাত দিক । 

এই স্বাধীনতা আর পরাধীনতার অনুভূতি আমাদের সকলের ভেতরেই আছে । তা সে গরিব-বড়লোক , ছেলে-মেয়ে যাই হোক না কেন ? মনে পড়ে কি কবির কবিতা ----
স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে ---
কে বাঁচিতে চায় ? 
দাসত্ব শৃঙ্খল বল 
কে পরিবে পায় হে 
কে পরিবে পায় ? 

ধরা যাক গুবলুদের ক্লাশে তারা রবীন্দ্রজয়ন্তী কীভাবে পালন করবে বা তাদের ক্লাব ' লিটিল টারজানস্ ' এবারে কোথায় পিকনিকে যাবে সেটাও তো তারা নিজেরা বসেই ঠিক করবে । সেটাই তো হওয়া স্বাভাবিক। তাই না ? কিন্তু সেটা না হয়ে যদি গুবলুদের ওপরের ক্লাশের ছেলেরা এসে রবীন্দ্রজয়ন্তীর ব্যাপারে কিংবা গুবলুদের কম্পিটিটর ক্লাব রয়্যাল ড্রাগনস-এর ছেলেরা যদি পিকনিকের ব্যাপারে তাদের কোন নির্দেশ দেয় এবং সেটাই করতে বাধ্য করে তখন তারা সেটা মানবে কেন?  গুবলুদের স্বাধীনতায় অন্য কেউ হস্তক্ষেপ করুক সেটা গুবলুদের ক্লাশের কেউই চাইবে না। 

গুবলুদের ক্লাশের ছেলেরা যেমন চায় না তাদের ওপর অন্য কোন ক্লাশের ছেলেরা বা গুবলুদের ক্লাবের ছেলেরা যেমন চায় না তাদের ওপর অন্য কোন ক্লাবের ছেলেরা খবরদারি করুক --- তেমনই একটা গোটা দেশের মানুষ কোনদিন চাইবে না তাদের ওপর অন্য কোন দেশের মানুষ এসে খবরদারি করুক । গোটা দেশের মানুষের মধ্যে যখন এই মনোভাব তীব্র হয় তখন এই মনোভাবকে বলে জাতীয়তাবোধ । এই জাতীয়তাবোধ যত তীব্র বা যত শক্তিশালী হয় ততই একটা জাতির মধ্যে স্বাধীনতা লাভের ইচ্ছা বা আকাঙ্খা তৈরী হয় । তারা যদি পরাধীন জাতি হয় তবে পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত হতে চায় ।  আর যদি স্বাধীন জাতি হয় তবে বিশ্বের অন্যান্য জাতির সাথে যাবতীয় প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে চায় । যেমন ধর , এবারের অলিম্পিকে যখনই কোন ভারতীয় পদক পাবে তখনই ভারতীয় জাতি হিসাবে সেটা আমাদের সকলের কাছেই গর্বের বিষয় হয়ে দাঁড়াবে । আমরা সকলেই চাইবো ভারতের প্রতিনিধিরা সবার সেরা হোক। অন্যদিকে , কোন পরাধীন জাতির কাছে ---- যে জাতি তাদের শাসন করতে এসেছে , তাদের অধীনতা মেনে নেওয়া খুবই বেদনাদায়ক । কোন জাতিই চায় না তারা অন্য কোন জাতির পদানত হয়ে থাকুক । অন্যদিকে , যারা কোন পরাধীন জাতিকে শাসন করে তারা নিজেদের স্বার্থেই চায় পরাধীন জাতিকে জোরজবরদস্তি করে শাসন করতে । এর পেছনে শাসকদের একটা নিজস্ব তাগিদ বা স্বার্থও থাকে ।

গুবলুদের ক্লাবের খেলার মাঠটা অনেকদিন আগে একবার রয়্যাল ড্রাগনসের ছেলেরা দখল করে নিয়েছিল। রয়্যাল ড্রাগনস ভেবেছিল তাদের মাঠটা দখল করে নিতে পারলে তাদের ক্লাবটা আরো উন্নতি করতে পারবে । ঠিক তেমনই ব্রিটিশ জাতি আমাদের মাতৃভূমি ভারতবর্ষ দখল করে অর্থনৈতিকভাবে নিজেদের বিপুল উন্নতি করেছে । সারা পৃথিবীর কাছে অন্যতম শক্তিশালী ও প্রতিপত্তিশালী হতে পেরেছে শুধুমাত্র ভারতবর্ষ দখল ও শাসন করার জন্যে । 

আমাদের দেশের মানুষের মধ্যে নানা ধরণের পার্থক্য বা ভিন্নতা আছে । যেমন ধর , ভাষা , ধর্ম , জাতপাতের পার্থক্য , অর্থনৈতিক বিভেদ , সাংস্কৃতিক ভিন্নতা ইত্যাদি।  সেইজন্যে সারা ভারতের মানুষের মধ্যে জাতীয়তাবাদী চেতনা আসতে দেরী হয়েছে । যখন ব্রিটিশরা পলাশির যুদ্ধ জয় করে এদেশে প্রথম দন্ডমুন্ডের কর্তা হয়ে বসলো তখন সাধারণ মানুষের মধ্যে এই জাতীয়তাবাদী চেতনা ছিল না । পরে তারা ধীরে ধীরে বুঝতে পারে যে , যতদিন না ইংরেজদের উৎখাত করে নিজেদের শাসন কায়েম করা যাবে ততদিন ভারতীয়রা পরাধীন থাকবে । 

এই পরাধীনতার শৃঙ্খল মোচনের জন্যে ধীরে ধীরে জাতীয়তাবাদী আন্দোলন গড়ে ওঠে মোটামুটিভাবে ঊনবিংশ শতকের একেবারে শেষ লগ্নে ও বিংশ শতকের গোড়ায় । যত দিন গেছে সেই আন্দোলন তত শক্তিশালী হয়েছে । প্রথমদিকে আন্দোলনকারীরা ইংরেজদের থেকে কিছু কিছু সুযোগসুবিধা চেয়েছিল । ক্রমে তারা বুঝতে পারে যে পূর্ণ স্বাধীনতা ছাড়া জাতি হিসেবে ভারতীয়দের কোন প্রকৃত উন্নয়ন হতে পারে না । ব্রিটিশ-বিরোধী এই আন্দোলনের নানা পর্যায় ছিল --- যেমন বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন , অসহযোগ আন্দোলন , লবণ সত্যাগ্রহ আন্দোলন ও ভারত ছাড়ো আন্দোলন । আর ছিল নানা আন্দোলনের নানা ধারা যেমন অহিংস ও সশস্ত্র  আন্দোলন । এই আন্দোলনে হাজার হাজার মানুষ জেল খেটেছেন এবং অগণিত মানুষ শহিদ হয়েছেন । সে সব কাহিনি লিখতে গেলে একটা মহাভারত হয়ে যাবে । কখনো কখনো আবার এই দুই ধারা মিলেমিশেও গেছে । আসল লক্ষ্য হল স্বাধীনতা । এখানে উপায়ের থেকে লক্ষ্যের দিকে আন্দোলনকারীদের বেশি নজর ছিল । তাছাড়া ছিল সেনাবিদ্রোহ । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে পরাজিত ইংরেজ বাহিনীর অন্তর্ভুক্ত ভারতীয় সেনাদের নিয়ে রাসবিহারী বসু ও নেতাজি সুভাষের যৌথ উদ্যোগে গড়ে উঠেছিল আজাদ হিন্দ বাহিনী । অন্যদিকে , দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইংরেজদের শক্তিও অনেক ক্ষয় পায় । তারা বুঝেছিল , এখনই যদি ভারতীয়দের স্বাধীনতার দাবি মানা না হয় তবে ভবিষ্যতে সেটা ব্রিটিশ জাতির পক্ষে আরো বেশি বিড়ম্বনার ও অর্থনৈতিক বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে । অনেক টানাপড়েন ও আলোচনার পর ব্রিটিশরা আমাদের দেশের নেতৃত্বের কাছে শাসন ক্ষমতা ছেড়ে দিতে রাজি হল । ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ভারতকে একটা স্বাধীন রাষ্ট্র বলে স্বীকৃতি জানানো হল । সেই কারণে এই দিনটি আপামর ভারতীয়দের কাছে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে পালিত হয় । এ বছর আমাদের দেশের স্বাধীনতার ৭৪ বছর পূর্ণ হয়ে ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস পালিত হবে । এখন আমাদের সকলের লক্ষ্য হওয়া উচিৎ এক শক্তিশালী উন্নত ও দারিদ্র্যমুক্ত ভারত । এই লক্ষ্য পূরণের অঙ্গীকার করতে হবে আমাদের সকলকে । তোমরা কি এই দেশের ভবিষ্যৎ নাগরিক হিসেবে চাইবে না আমাদের দেশ সারা বিশ্বের অন্যতম সেরা দেশ হোক । আমাদের একজন কবি কিন্তু তেমনটাই চেয়েছিলেন । তাঁর গানের কথাগুলো নিশ্চয়ই ভুলে যাওনি তোমরা -----
ধনধান্যে পুষ্পে ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা
তাহার মাঝে আছে সে এক সকল দেশের সেরা ।
সে যে স্বপ্ন দিয়ে তৈরী সে দেশ স্মৃতি দিয়ে ঘেরা ।।

স্বাধীনতার জন্যে যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন তাঁদের সবাইকে আজ আমরা করজোড়ে প্রণাম জানাই । জয়হিন্দ , বন্দেমাতরম ।


স্বাধীন 
যশোধরা রায়চৌধুরী 

দেশ আমাদের স্বাধীন
তা ধিন তা ধিন তা ধিন
স্বাধীনতাটা কী রে?
কলার সংগে চিঁড়ে?
সবার পেটে খাবার?
ইশকুলে ভিড় আবার?
হাসপাতালে ওষুধ
মাঠের খেলা প্রচুর
লাল রঙা এক বল
রাঙা ফুলের দল
পুকুর জুড়ে ভাসে
রোদটা অনেক হাসে

সবার মাথাই সোজা
বাঁচাও ত নয় বোঝা! 

সেসব আছে,  আছে.. 
সংগে জেনো নিজে
হতেই হবে বড়
সত্যি কথায় দড়!

স্বাধীন যে লোক, তারই
কাজের দায় যে সব চে' বেশি ভারি!!



মার্কিন দেশে ১৫ই আগস্ট
অনন্যা দাশ

১৫ই আগস্ট মানেই আমাদের ভারতীয়দের মনে অন্য একটা অনুভূতি, সে বিশ্বের যে প্রান্তেই থাকি না কেন। ১৫ই আগস্ট মানে ভারতের স্বাধীনতা দিবস। এখানে, মানে মার্কিন দেশে নয় নয় করে প্রচুর ভারতীয় আছে। তাদের কেউ এসেছে পড়াশোনা করতে, কেউ বা চাকরিবাকরির জন্যে। তারা সবাই ভারতেই বড়ো হয়েছে তাই ১৫ই আগস্টের মাহাত্ম্য তারা কেউই ভোলেনি। সব ছোট বড়ো শহর যেখানেই ভারতীয়রা আছে সেখানেই ১৫ই আগস্ট পালন করা হয় বলেই জানি।  

পৃথিবীর অন্যতম বড়ো শহর নিউ ইয়র্কে যখন থাকতাম তখন দেখেছি সেখানে ১৫ই আগস্ট বেশ ঘটা করে পালন করা হয়। তবে ১৫ই আগস্ট দিনটা যদি সপ্তার কাজের দিনের মধ্যে পড়ে যায় তাহলে কিন্তু সেদিন কিছু করা যাবে না কারণ সবার কাজ আছে, অত লোক তো আর এক সঙ্গে ছুটি নিতে পারবে না। সেক্ষেত্রে উৎসবটা হবে আগের বা পরের শনি-রবিবার। অনেকদিন আগে থেকে পরিকল্পনা, টিভিতে বিজ্ঞাপন ইত্যাদি চলে। ভারত থেকে বেশ কিছু নামকরা তারকা আসেন সেই উৎসবের প্যারেডে  অংশগ্রহণ করার জন্যে। বিভিন্ন রাজ্যের লোকেদের যে সব সংগঠনগুলো আছে তাদের পক্ষ থেকে বড়ো বড়ো ঝাঁকি বা ফ্লোট তৈরি করে হয় (কিছুটা রেড ফোর্টের গণতন্ত্র দিবসের প্যারেডের মতন)। স্কুলের ছেলেমেয়েরা নাচগান করতে করতে যায়। সব চেয়ে বড়ো ব্যাপার হল অত ব্যস্ত শহর নিউ ইয়র্কের একটা খুব ব্যস্ত রাস্তা সেই দিন অনেকক্ষণের জন্যে বন্ধ রাখা হয় প্যারেড যাবে বলে। মেরা ভারত মহান, ভারত মাতা কি জয় বলতে বলতে প্যারেড যায় আর রাস্তার দুধারে লোকজন ভারতের পতাকা নিয়ে উদ্গ্রীব হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সেই প্যারেড দেখার জন্যে। প্যারেড একটা বড়োসড়ো মঞ্চের কাছে এসে থামে এবং নিউ ইয়র্কের ভারতীয় কন্সুলেটের প্রধান, ভারত থেকে আসা তারকা, নেতারা কিছু বলেন আর ভারতীয় নাচগান ইত্যাদি হয়। ভারতের পতাকা উত্তোলন হয়। সবই স্থানীয় ভারতীয় ছেলেমেয়ে আর বাসিন্দারা নিজের চেষ্টায় নিজেদের আনন্দের জন্যে করেন। ভারত থেকে অনেক দূরে থাকলে কী হবে তাদের মনগুলো সেখানেই পড়ে থাকে যে।     

এখন আমরা পেন্সিল্ভেনিয়াতে থাকি। এখানেও ১৫ই আগস্টের দিনটা স্থানীয় ভারতীয়দের জন্যে খুব আনন্দের। পেন্সিলভেনিয়ার রাজধানী হ্যারিসবার্গে এই উপল্ক্ষে এখানকার একটা স্থানীয় কলেজ প্রাঙ্গনে সারাদিনব্যাপী একটা মেলা চলে। মেলাটার নাম ‘ইন্ডিয়া ডে’। তবে ওই যা বললাম, ১৫ই আগস্ট সোম থেকে শুক্রবারের কোন একটা দিনে পড়ে গেলে আগের বা পরের শনিবার বা রবিবার ‘ইন্ডিয়া ডের’ জন্যে ধার্য করা হয়। সেই মেলাতে বিশাল মঞ্চে সারাদিন ধরে ভারতীয় নাচগান চলে। সিনেমার গান থেকে শুরু করে আঞ্চলিক নাচগান অবধি সব কিছুই থাকে। প্রচুর স্টল থাকে সেই মেলায়। নানা রকম ভারতীয় খাবার আর পোশাকআশাকের স্টল। আমরা বাঙ্গালিরা প্রতিবার বাঙালি মিষ্টির স্টল দিই। সারা ভারতের লোকজন এসে সেই মিষ্টি খেয়ে বাহ বাহ করে। বলা বাহুল্য সেই সব মিষ্টি আমাদেরই বাড়িতে তৈরি করে নিয়ে যেতে হয়। অনেকে মিলে করা হয় তাই কষ্টটা কারো গায়ে লাগে না। মিষ্টি যাতে এক রকম দেখতে আর খেতে হয় সেই জন্যে একটা রেসিপি বলে দেওয়া হয়। রসোগোল্লা, সন্দেশ, চমচম, পান্তুয়া, ল্যাংচা, পাটিসাপ্টা, নারকেলের সন্দেশ, মিষ্টি দই  ইত্যাদি  অনেক রকমের মিষ্টি থাকে। তেমনি অন্য রাজ্যের লোকজনও তাদের রাজ্যের বিভিন্ন খাবার ইত্যাদি নিয়ে স্টল দেয়। মেলার মধ্যে এক ফাঁকে ছোট পরিসরে একটা প্যারেডও হয়। তাতে বিভিন্ন রাজ্যের লোকজন তাদের রাজ্যের স্থানীয় পোশাক পরে হাঁটেন। অনেক সময় গুজরাতের দলের সঙ্গে গান্ধীজি সেজেও কেউ কেউ হাঁটে আর বাংলার দলের সঙ্গে সুভাষ বোস সেজে এই রকম আর কি। অনেকেই ভারতের পতাকার রঙের সঙ্গে মিলিয়ে পোশাক পরেন। পতাকা উত্তোলন হয়। আমাদের জায়গাটা নিউ ইয়র্ক থেকে বেশি দূরে নয় তাই অনেক সময়ই নিউ ইয়র্কের ভারতীয় কন্সুলেটের প্রধানও এসে মেলায় অংশগ্রহণ করেন। কিছুটা এলাকা জুড়ে বেশ কিছু পোস্টারও থাকে। ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের নানান খাবার দাবার, পোশাকআশাক আর বৈশিষ্ট্য সম্বন্ধে যাতে জানতে পারে এখানকার নতুন প্রজন্মের ভারতীয় ছেলেমেয়েরা। সবাই (স্থানীয় আমেরিকানরাও সব আসে কিন্তু) মেলায় এসে সারাদিন আনন্দ করে ভারতীয় নাচগান উপভোগ করে, ভারতীয় খাবারদাবার খেয়ে বাড়ি ফেরে। ১৫ আগস্টের দিনটা সবার মনে স্মরণীয় হয়ে থাকে।    
এ বছর কোভিডের জন্যে মেলা অংশটা স্থগিত রাখা হয়েছে। নাচগান ইত্যাদি সব অনলাইন ভারচুয়ালি হবে। এবারের থিম হচ্ছে বিয়ে। তাই ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের বিয়ের সাজসজ্জা, গান ইত্যাদি অভিনয় করে দেখানো হবে। এখন সব প্র্যাকটিস চলছে।  ১৫ই আগস্টের দিনটা আনন্দেই কাটবে মনে হচ্ছে।      



স্বাধীনতা আমাদের
তারাপ্রসাদ সাঁতরা

স্বাধীনতা গর্বের
স্বাধীনতা মহাদান
আকাশে রঙীন আলো
হৃদয়ে প্রবহমান...

ওড়ে পাখি খুশিমতো
ডানা মেলে মুক্তির
নদীজলে ঢেউ ওঠে
ভরা প্রাণ প্রকৃতির।

ফুল ফোটে গাছে গাছে
উঁকি ঝুঁকি তারাদের
গাঢ় নীল নীলিমায়
যত কথা সাগরের।

ছোট গাঁয়ে ছোট শিশু
তিন রঙ পতাকা
পায়ে পায়ে পথ চলা
নব যুগ বারতা।

দিকে দিকে দেশ জুড়ে
জয়হিন্দ, জয় জয় -
শহীদ স্মরণে প্রণাম
মুগ্ধ ও শ্রদ্ধায়।

দেশ মানে মাটি নয়
জননীর রূপ সে
বন্দনা গানে গানে
ধ্বনি ওঠে বাতাসে।

সীমান্ত জাগে যারা
জোয়ান এ স্বদেশের
অতন্ত্র প্রহরী তারা
বীর সবে ভারতের।

ভালো হোক ভাল থাক
প্রার্থনা মনেতে
আনন্দ ভরা থাক
সকলের প্রাণেতে।

ক্ষুদিরাম ভগৎ সিং...
এই দেশ আমাদের
এসেছিল স্বাধীনতা
পথ ধরে শহীদের

ভুলবোনা তাহাদের
বীরগাথা কোনদিন
স্মরণে মননে রবে
চিরদিন চিরদিন।।




দুদ্দার মজা
যুগান্তর মিত্র

সন্তুকাকা আমাদের বাড়িতে এলেই দারুণ মজা হয়। ‘হয়’ না বলে ‘হত’ বলাই উচিত। কেননা কাকা গত দুবছর আসতে পারেননি। এখন তো খুবই অসুস্থ! 
বাবার পিসতুতো ভাই সন্তুকাকা। ছোটবেলাতে বাবা-মা যাওয়ার পর থেকে আমাদের বাড়িতেই থাকতেন। একসময় রেলে চাকরি পেয়ে চলে গেলেন চিত্তরঞ্জনে। সেখানকার কোয়ার্টারে থাকেন। এক-দেড় মাস বাদে বাদেই কাকা আমাদের বাড়িতে আসতেন। আমাদের মনের মধ্যে তখন কুলকুল করে আনন্দ বয়ে যেত। 
সন্তুকাকা সারাদিনই যে খুব হইহই করতেন তা কিন্তু নয়। কোণের ঘরে চুপ করে বসে বই পড়তেন। কতকিছুই যে জানেন, ভেবে অবাক হই! নিজে এত পড়াশোনা নিয়ে থাকলে কী হবে, কখনো-কখনো বলতেন, ‘সারাবছরই তো পড়িস, একদিন-দুদিন না-পড়লে কিচ্ছুটি হবে না! আয়, আমরা বরং একটু গল্পগুজব করি।’ আমাকে চুপিচুপি কাকা বলেছিলেন, ‘এও এক ধরনের স্বাধীনতা রে পাগলা!’ 

শেষ যেবার সন্তুকাকা এলেন, সেটা ছিল চোদ্দই আগস্ট। সকাল তখন খানিকটা গড়িয়ে গেছে। সেবার আমার জন্য এনেছিলেন বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পথের পাঁচালী’ আর সত্যজিৎ রায়ের ‘সেরা বারো’। বোনের জন্য সুকুমার রায়ের ‘আবোলতাবোল’। এছাড়া এনেছিলেন একটা বড়সড় কাপড়ের তেরঙ্গা পতাকা আর একগোছা কাগজের ছোট পতাকা। বাবার হাতে সেসব তুলে দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন, ‘আগামীকাল আমরা সবাই মিলে স্বাধীনতা দিবস পালন করব।’ 
আমার স্বাধীনতা পালন অবশ্য আগেরদিন রাতেই শুরু হয়ে গিয়েছিল। পড়ার বইখাতা বন্ধ করে আমরা সবাই মিলে জমিয়ে গল্প করছিলাম। পরদিন পতাকা তোলার পরে উপস্থিত সব্বাইকে লজেন্স দেওয়া হবে। পারলে জিলিপি আনা যেতে পারে। কাকা এইসব পরিকল্পনার কথা বলছিলেন। মা শুনে চোখ বড়বড় করে বললেন, ‘তুমি বড্ড খরুচে সন্তু। এত টাকাকড়ি খরচ করার কোনও মানে হয়!’ 

হা-হা করে এমনভাবে হেসে উঠেছিলেন সন্তুকাকা, যেন একঝাঁক চড়াইপাখি উড়ে গেল। ‘ভালো বলেছ তো বউঠান। টাকাকড়ি! তা টাকাকড়ি কী জিনিস বলতে পারবি?’ শেষ কথাটা আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন। আমি ক্লাশ সেভেনে পড়ি। বোন পড়ত থ্রিতে। ওর জন্য এই প্রশ্নটা হতেই পারে না বুঝে আমি বিজ্ঞের মতো জবাব দিয়েছিলাম, টাকাকড়ি মানে হল টাকাপয়সা। 

বেশ বলেছিস! তা টাকার সঙ্গে যে কড়ি জুড়ে আছে, সেটা কী? 

চেনা প্রশ্ন পেয়ে আমিও আনন্দে বলে উঠেছিলাম, কড়ি আমি চিনি কাকা। আমাদের লক্ষ্মীর আসনে আছে। 
আচ্ছা। কিন্তু টাকার সঙ্গে কড়ি কেন, জানিস? 
এবার আমার চুপ থাকার পালা। টাকা চিনি, কড়িও চিনি। কিন্তু টাকার সঙ্গে কড়ি কেন জুড়ে আছে, তা তো জানি না! আমাকে নিশ্চুপ দেখে কাকা বলেছিলেন, শোন তবে। একসময় যখন টাকাপয়সা তৈরি করতে পারেনি মানুষ, মানে তৈরির কথা ভাবেইনি, সেইসময় কড়ি দিয়েই কেনাবেচা হত। তারও আগে গোরুর বিনিময়ে কেনাবেচা হত। তুই তো পড়েছিস ইতিহাস বইতে। তা, কড়ি দিয়ে কেনাকাটা করলেও মুদ্রা বানানোর পরও কড়ি কথাটা রয়ে গেল। বলার সময় অনেকে টাকার সঙ্গে কড়ি কথাটা জুড়ে দেয়, বুঝলি? 
আমাকে বললেও কড়ির গল্পে ঢুকে পড়েছিলেন বাবা-মাও। বোন কিছু বুঝতে না-পেরে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখছিল কাকাকে। 

কড়ি এখন আর চলে না। এক-এক দেশে এক-একরকম মুদ্রা ব্যবহার হয়। বলেছিলেন বাবা। 

না না দাদা, একেবারেই ব্যবহার হয় না তা কিন্তু নয়। 
এর মধ্যেই মা প্রশ্ন করেছিলেন, কড়ি আসলে কী গো ঠাকুরপো?  

কড়ি হল এক ধরনের সামুদ্রিক প্রাণীর খোলস। যেমন শামুক বা শঙ্খ এক ধরনের প্রাণীর খোলস। এখনও দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু গ্রামে কড়ি দিয়েই কেনাকাটা চলে। সবথেকে মজার কাণ্ড হল, আমাদের ওড়িশা রাজ্যের কটক শহরে একজন লোক বিরাট বাংলো বাড়ি বানিয়েছিলেন বহুদিন আগে। সেই বাংলো বানাতে তার কত খরচ হয়েছিল জানিস বুবাই? এক কোটি ষাট লক্ষ কড়ি। সব খরচই কড়ি দিয়ে মেটাতে হয়েছিল। 
পরদিন হইহই করে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হল। বিমল জ্যেঠুর বাবা আমাদের অঞ্চলের একজন বিশিষ্ট কবি। তাঁকেই ডেকে আনা হয়েছিল পতাকা তুলতে। লোকজনও কম হয়নি! বেশ জমজমাট হয়েছিল পতাকা তোলার অনুষ্ঠান। এর মধ্যে সন্তুকাকা ঠিক জিলিপি কিনে এনেছেন অনেকটা। সবাইকে দেওয়াও হল। 
পরপর দু-বছর আর আমাদের বাড়ির সামনে পতাকা তোলা হয়নি। একে তো সন্তুকাকা না-থাকায় উদ্যোগ নেওয়ার লোক নেই। তার ওপর করোনার আক্রমণে সবাই তটস্থ। তবু পাড়ার বিবেকানন্দ ক্লাবের পতাকাটা যখন উড়ছিল হাওয়ায়, সন্তুকাকার কথা খুব মনে পড়ছিল। 

রেলগাড়ি চললেও বাবা আমাদের সবাইকে ট্রেনে করে নিতে চাননি। তাই গাড়িভাড়া করে বাবা-মা আর আমরা দুই ভাইবোন মিলে চিত্তরঞ্জনে যাচ্ছি সন্তুকাকাকে দেখতে। দূর তো কম নয়! বর্ধমান থেকে চিত্তরঞ্জন। ড্রাইভার কাকুর পাশের সিটে বসে চারিদিক দেখতে দেখতে যাচ্ছিলাম। সেইসময়ই সন্তুকাকার কথা ভাবছিলাম। 

সন্তুকাকা অবশ্য কোরোনায় আক্রান্ত হননি। বাবা বলছিলেন হার্টের সমস্যা। তবে কতটা খারাপ অবস্থা বলতে চাননি। জিজ্ঞাসা করায় বলেছেন, ‘যাচ্ছিই তো দেখতে। গিয়েই দেখিস!’ শুনেছি কিছুদিন নার্সিংহোমে ভর্তি ছিলেন। আপাতত বাড়িতে আছেন। 
এমনিতেই কাকা বেশিদিন ঘরে থাকার লোক নন। একবার হাসতে হাসতে আমাকে বলেছিলেন, ‘আমার পায়ের নীচে সর্ষে আছে, বুঝলি বুবাই! কিছুদিন পরপরই কোথাও না-বেরোলে মনটা হু হু করে। বেশিদিন ঘরে থাকলে কেমন যেন পরাধীন মনে হয় নিজেকে।’ 
গাড়ি চলেছে হু হু করে। পিছন ফিরে দেখলাম বোন বাবার কোলে বসে ঘুমিয়ে পড়েছে। বাবার চোখও বন্ধ। আর মা চুপ করে বসে আছেন বাইরের দিকে তাকিয়ে। মুখটা গম্ভীর। 

আমরা দুই ভাইবোন আর মাও অনেকদিন বাদে বাড়ির বাইরে দূরে কোথাও পা রাখলাম। বাবা কিছুদিন অন লাইনে কাজ করলেও আবার অফিসে যাচ্ছেন। তাছাড়া অন্য দরকারেও বাড়ির বাইরে বের হন। আমরাই শুধু বেরোতে পারিনি সেভাবে। 

আর কিছুক্ষণ পরেই আমরা পৌঁছে যাব চিত্তরঞ্জনের রেল কোয়ার্টারে। ড্রাইভার কাকা বলছিলেন। তার মানে আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে না। সন্তু কাকাকে দেখতে পাব। কাকা নিশ্চয়ই তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠে আবার স্বাধীন হবেন। আমাদের বাড়িতে আসবেন আর দুদ্দার মজা হবে। এটাও কাকারই কথা। ‘স্বাধীনতা মানে দুদ্দার মজা। রইরই কাণ্ড। মুক্তির আনন্দ’। 
ও কাকা, তুমি সুস্থ হয়ে ওঠো তাড়াতাড়ি। দুদ্দার মজা করতে হবে যে! মনে মনে বললাম আমি। আর তখনই যেন স্বাধীনতার পতাকাটা পতপত করে উড়তে দেখলাম হাওয়ায়। আমার কথাটাও গাড়ির জানালা দিয়ে হাওয়ায় ভেসে ভেসে চলে গেল, হয়তো সন্তকাকার কাছেই।



স্বাধীনতা দিবস
রেনেসাঁ গঙ্গোপাধ্যায় 
সপ্তম শ্রেণী, স্যাক্রেড হার্ট স্কুল, আদ্রা, পুরুলিয়া

দেশের জন্য রক্ত দিয়েছে যারা
বৃটিশের পায়ে নোয়ায়নি যারা শির
আজকের দিনে তাদের শ্রদ্ধা করি
তারা তো শহীদ  তারা বিপ্লবী বীর। 

ফাঁসির দড়িতে অমর যাদের প্রাণ
পায়ের ধুলোয় পবিত্র কারাগার 
"স্বাধীনতা মানে সোজা রাখো শিরদাঁড়া "
তারা শিখিয়েছে  এ কথাই বারবার। 

আজকের দিনে সেই ইতিহাস পড়ি
 শ্রদ্ধার সাথে তাদের স্মরণ  করি।


ওড়ার স্বাধীনতা 
শ্রীপর্ণা ঘোষ
সপ্তম শ্রেণী, জওহর নবোদয় বিদ্যালয়, পশ্চিম মেদিনীপুর

আজকে স্বাধীনতা দিবস কিন্তু এখন আমরা স্বাধীন নই, এই করোনার জন্য। বাড়ি থেকে বেরোতে পারছি না। 

আমাদের বাড়ির পাশে একটা পেয়ারা গাছে চারটে শালিখ পাখি থাকে। তাদের আজ ভারি আমোদ। সকাল থেকে চারটে মিলে চেঁচামিচি করছে। আমি রোজ ওদের মুড়ি খেতে দিই। আজ ওরা মুড়িগুলো খাচ্ছেনা, মুখে করে তাদের বাসায় নিয়ে গিয়ে জমাচ্ছে। আজ যেন সবার মধ্যে ভারি ব্যস্ততা। যেন ওদের কী জরুরি কাজ আছে। দেখি ওরা এখান ওখান থেকে অনেক খাবার যোগাড় করেছে। ওরা একটা ছোট্টো পতাকা বানিয়েছে।  সবুজ রঙের পাতা, সাদা রঙের পাখির পালক আর কমলা রঙের ফুলের পাপড়ি দিয়ে। মাঝখানে নীল রঙের ফুটকি। ঠিক যেন আমাদের জাতীয় পতাকার মতো। তারপর এক একটা পাখি সামনে আসছে। কী যে কিচির মিচির করে বলে যাচ্ছে। ঠিক যেন স্পিচ দেওয়ার মতো।

 চারটে পাখি স্পিচ দেওয়ার পর তাদের জড়ো করা খাবার খেয়ে এক সাথে গান বেঁধে খোলা আকাশে উড়ছে। আজ মনে হয় ওদেরও স্বাধীনতা দিবস। 

তখন মা আমার দিকে এগিয়ে এল একটা খুব খুশির খবর নিয়ে। টিভিতে ঘোষনা হয়েছে, আজ থেকে আমাদের দেশে কোনো পাখিকে কেউ ধরে রাখতে পারবে না। এমন কি চিড়িয়াখানার পাখিদেরও ছেড়ে দিতে হবে। আমি আকাশের দিকে তাকালাম,  দেখলাম গোটা আকাশ রঙবেরঙের পাখিতে ভরে গেছে।





স্মরণীয়
ঋষি অরবিন্দ ঘোষ
কলমে - পীযূষ প্রতিহার

বাঙালি বিপ্লবী ও আধ্যাত্মবাদী দার্শনিক অরবিন্দ ঘোষের জন্ম ১৮৭২ সালের ১৫ই আগষ্ট। তাঁর পিতা কৃষ্ণধন ঘোষ ছিলেন বিলেত ফেরত ডাক্তার, মা স্বর্ণলতা কলকাতার বিখ্যাত রাজনারায়ণ বসুর কন্যা। বাল্যকালে দার্জিলিঙে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে এবং পরে বিলেতে সেন্ট পলস স্কুলে শিক্ষালাভ করেন। ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ট্রাইপস(প্রবেশিকা) পাশ করে কিংস কলেজে পড়াশোনা করেন। ১৮৯০ সালে ICS পাশ করলেও অশ্বচালনা ট্রেনিং না নেওয়ায় চাকরি থেকে বঞ্চিত হন। বিলেতে থাকাকালীন বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ভারতে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের খবর পান এবং ১৮৯৩ এ দেশে ফিরে আসেন। ঐ বছরই বরোদা এস্টেটে চাকরি নেন এবং গুপ্ত সমিতির সঙ্গে যুক্ত হন। নিজের অনুজ বারীন্দ্রকুমার ঘোষকে বিপ্লবী মন্ত্রে উদ্বুদ্ধ করেন। ১৯০০সালে বরোদা কলেজে ইংরেজির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দেন এবং ১৯০৪ সালে অধ্যক্ষ হন।১৯০৫ সালে বাংলায় বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে স্বদেশী আন্দোলন শুরু হলে তিনি বাংলায় এসে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেন।

১৯০৮ সালে ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করে বোমা মারার ঘটনায় অরবিন্দ ঘোষ গ্রেফতার হন। এই বিখ্যাত আলিপুর বোমা মামলা থেকে ১৯০৯ এর ৬ মে প্রমানাভাবে মুক্তি পান।জেলে থাকাকালীন তিনি আধ্যাত্মিক সাধনার প্রতি আকৃষ্ট হন ও ১৯১০ সালে রাজনীতি ত্যাগ করে পন্ডিচেরী চলে যান। তিনি পন্ডিচেরীতে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন এবং বেদ,পুরাণ, উপনিষদ,ষড়দর্শন, গীতা প্রভৃতি হিন্দুধর্মীয় গ্রন্থ অধ্যয়ন করে গভীর জ্ঞান অর্জন করেন।ঐ সময়ে ভারতীয় ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা নিয়ে ৩৮টি বই লেখেন। তাঁর লেখা বিখ্যাত কয়েকটি বই হল The Life Devine, Savitri, Lights on Yoga, A System of National Education, ভারতের নবজন্ম, ধর্ম ও জাতীয়তা প্রভৃতি।
১৯৫০ সালের ৫ ডিসেম্বর এই মহান মানুষটির মৃত্যু হয়।



ফুলকুসুমপুর খুব কাছে ১৯

রতনতনু ঘাটী

বাড়ির বাইরে বিকেল পড়ো-পড়ো। রাধাগোবিন্দ খাঁচার ভিতর উদাস হয়ে তাকিয়ে দেখছিল ইচ্ছেঠাকুরমাকে। ছড়াপিসি, বুম্বা, লিমেরিক, তিন্নি আর হাইকু, সকলেই রাধাগোবিন্দর খাঁচার চারপাশে । ওর খাঁচার পাশের খাঁচাটা মিঁউয়ের। সে একসঙ্গে অনেককে দেখে খাঁচার ভিতর অকারণে লম্ফঝম্ফ করতে শুরু করে দিল। আর খাঁচার ভিতরে শুয়ে আছে বিংগো। তার এখন কোনও দিকে ভ্রূক্ষেপ নেই। সে এই বিকেলে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারলেই যেন বাঁচে। কুমি তার খাঁচার ভিতরে কয়েকটা সবুজ ঘাসে মুখ ডুবিয়ে যেন এত লোকের সামনে নিজেকে লুকনোর চেষ্টা করছে। 

   ‘এদের সকলের চেয়ে কুমি একটু বেশি লাজুক!’ এ কথা সব সময় বলেন শুধুকাকা।

   ঠাকুরমা বললেন, ‘আমার রাধাগোবিন্দকে একটা সহজ দেখে ছড়া শিখিয়ে দে তো ছড়াপিসি! বুম্বা তো ওকে কথা-বলা শেখায়। বুম্বা তুইও দু’-একটা সহজ ছড়া শিখে নে ছড়াপিসির কাছ থেকে। মাঝেমধ্যে ওকে ছড়া শোনাবি। দেখবি, আমার রাধাগোবিন্দ ঠিক মুখস্থ করে ফেলবে। আমার রাধাগোবিন্দর স্মৃতিশক্তি প্রখর, যে দেখে, সে-ই বলে!’

   সঙ্গে-সঙ্গে ছড়াপিসি আবৃত্তি করে উঠলেন—
‘আয় রে আয় টিয়ে
নায়ে ভরা দিয়ে!
না নিয়ে গেল বোয়াল মাছে,
তা দেখে দেখে ভোঁদড় নাচে!
ওরে ভোঁদড় ফিরে চা,
খোকার নাচন দেখে যা!’

      ইচ্ছেঠাকুরমা হাততালি দিয়ে উঠলেন, ‘বাঃ! এই ছড়াটাই আমার রাধাগোবিন্দর পক্ষে মুখস্থ করা সহজই হবে।’ বুম্বার দিকে তাকালেন, ‘তুইও তো ছোটবেলায় এই ছড়াটা পড়েছিস? মনে করে রাখ। সময় পেলে রাধাগোবিন্দকে মাঝে-মাঝেই এই ছড়াটা শেখাবি।’
   ইচ্ছেদাদু কখন ওদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন, কেউ নজর করেনি। দাদু বললেন, ‘বুম্বা, তোর আর স্কুলে গিয়ে কাজ নেই। রাধাগোবিন্দর সঙ্গে এই খাঁচার-স্কুলে ভরতি হয়ে যা! ঠাকুরমা যখন চান না, তুই লেখাপড়া শিখে বড় হ’। তুই আর কী করবি বল!’

   ইচ্ছেঠাকুরমা দাদুর কথায় নাচার হয়ে তাকিয়ে থাকলেন দাদুর মুখের দিকে।

   বিন্নি বলল, ‘ছড়াপিসি, একটা ভাল ছড়া বলো না গো!’
   ‘ভাল ছড়া? সব ছড়াই তো ভাল রে! কোনও ছড়া কখনও খারাপ হয় না। কবিরা মন থেকে ভেবে-ভেবে লেখেন তো?’ বলে চোখ বন্ধ করে মনে করার চেষ্টা করলেন। তারপর বললেন, ‘শোন, একটা দারুণ ছড়া শোনাই--- 

দিনে হই এক মতো, রাতে হই আর।
রাতে যে স্বপন দেখি মানে কী যে তার।
আমাকে ধরিতে যেই এল ছোটো কাকা
স্বপনে গেলাম উড়ে মেলে দিয়ে পাখা...’
    প্রতিদিন শুধুকাকা কনককাঁকন প্রাইমারি স্কুল থেকে ফিরে এসে প্রথমে এসে দাঁড়িয়ে দেখেন তাঁর খরগোশ কুমি কী করছে? এখন এসে ছড়াপিসির ছড়াটা শুনে বললেন, ‘ছোটকাকার ভয়ে কে কোথায় পালাল রে বিন্নি?’ তারপর কুমিকে খাঁচার বাইরে থেকে হাত গলিয়ে আদর করতে-করতে বললেন, ‘দ্যাখ, আমার কুমি কেমন পোষ মেনেছে!’ বলেই খাঁচার দরজাটা ঝপাং করে খুলে দিলেন।

   ইচ্ছেদাদু চেঁচিয়ে উঠলেন, ‘এই রে, এবার বাগানের দিকে ছুটে পালাবে!’
   শুধুকাকা বললেন, ‘না বাবা! কুমি এখন পোষ মেনে গেছে। ও কোত্থাও যাবে না। দ্যাখো তুমি!’ বলে কুমির দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘তুমি কোত্থাও যাবে না কুমি! চুপ করে তোমার এতজন দিদি-দাদাদের সঙ্গে খেলা করো!’

   সত্যি-সত্যি লাল উলের জামা পরা কুমি খাঁচা থেকে বেরোল। কোনও দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টাই করল না। চুকচুক করে ছোট-ছোট পা ফেলে এসে থামল হাইকুর কাছে। হাইকু কুমিকে জিজ্ঞেস করল,, ‘হোয়াট ইজ ইওর নেম?’

   কুমি কুঁই-কুঁই করে কীরকম একটা শব্দ করল। শুধুকাকা বললেন, ‘এই তো, ও বলল, ‘কুমি!’
   হাইকু ফের বলল, ‘প্লিজ, ইউ রিসাইট আ রাইম সো লেটস সি!’

শুধুকাকা কুমির পক্ষ নিয়ে বললেন, ‘কুমি তো তোমার মতো দুমকা সেন্ট্রাল স্কুলে পড়ে না। এখনও ইংরেজি শেখেনি! তুমি পরেরবার দুমকা থেকে যখন আমাদের বাড়িতে আসবে, তখন কুমি তোমাকে একটা মস্ত রাইম শুনিয়ে দেবে!’

   ‘ওয়ান, টু, বাকল মাই শু/ থ্রি, ফোর, শাট দ্য ডোর/ ফাইভ, সিক্স, পিক আপ স্টিকস... এই ছড়াটা খিশিয়ে দিও মামা। তা হলে কুমি ওয়ান থেকে টেন কাউন্ট করতেও শিখে যাবে!’ বলল হাইকু।

   দাদুর দিকে তাকিয়ে শুধুকাকা বললেন, ‘বাবা, কুমির সুবিধে হল, ওকে ভ্যাকসিন দিতে হয় না। মাজে-মাঝে ক্রিমির ওষুধ খাওয়ালেই চলে। তাও তিন-চার মাস অন্তর। মিঁউ বা বিংগোর মতো স্নান করানোরও দরকার নেই। মাসে একবার করে নখ কেটে দিলেই হয়।আর একটু গরম জামা পরিয়ে রাখলে কুমি বেজায় খুশি হয়।’
   ছোট মামার কথা শুনে হাইকু হেসে বলল, ‘ঠিক, লিমেরিকদিদির মতো, বড্ড শীতকাতুরে!’

   ইচ্ছেঠাকুরমা বললেন, ‘তা যা বলেছিস হাইকু! কুমির কত সেট উলের জামা কেনা হয়ে গেল!’
   শুধুকাকা হাত-মুখ ধুতে যেতে-যেতে বলে গেলেন, ‘কুমি তোদের সঙ্গে খেলুক এখন! অন্ধকার হওয়ার আগেই কুমি ওর খাঁচায় ঢুকে পড়বে পুটুস করে!’
   ইচ্ছেঠাকুরমা সব পোষ্যকে সন্ধের খাবার দিতে লাগলেন। ইচ্ছেদাদু বললেন, ‘অনিচ্ছে, কাল থেকে তোমার খাটুনি কমে যাবে! কাল থেকে এসে যাচ্ছে পরিপালন খাটুয়া।’

   ঠাকুরমা বিংগোর খাঁচার দরজা খুলে দিয়ে বললেন, ‘যাও বিংগো! তুমি এখন ঢের বড় হয়েছ। ঘরময় খানিক ঘুরে বেড়াও! দেখো, খবরদার, মিঁউয়ের সঙ্গে খুনসুটি করবে না কিন্তু! তা হলে তক্ষুনি খাঁচাবন্দি করে দেব!’
   তারপর দাদুর দিকে তাকিয়ে ঠাকুরমা জিজ্ঞেস করলেন, ‘পরিপালন খাটুয়া কে গো?’
   দাদু বললেন, ‘আরে, ওই যে পরিতোষ খাটুয়া পলাশবীথি গ্রামীণ ব্যাঙ্কে দরোয়ানের কাজ করে। পরিপালন তো ওরই ছোট ভাই! পশুপাখিদের লালনপালনের ট্রেনিং নিয়ে এসেছে। কাল থেকে ও আমাদের হযবরল চিড়ায়াখানার সব পোষ্যকে খাওয়ার দেবে, স্নান করাবে, ওষুধপথ্য দেবে, খাঁচা পরিষ্কার করবে। এসব কাজে কাল থেকে তোমার ছুটি!’
   ‘ভালই হবে। যাক, তুমি যে আমার দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছ, এই ঢের! আমার কষ্ট তো তুমি জীবনে কোনও দিন চোখে দেখতেই পাও না!’
ইচ্ছেঠাকুরমার গলায় অভিমান ঝরে পড়ল।
   ইচ্ছেদাদু বললেন, ‘আহা-হা অনিচ্ছে, সন্ধের সময় অভিমানের কথা বলতে নেই। এতে গৃহস্থের অমঙ্গল হয়!’

   হযবরল চিড়িয়াখানার সব পোষ্যই ঢুকে গেল তাদের খাঁচায়। ছোটরা চলে গেল পড়ারঘরে। ঠাকুরমা মুখভার করে চলে গেলেন ঠাকুরঘরের দিকে। একটু পরেই সন্ধেরবেলার শাঁখ বেজে উঠল ইচ্ছেঠাকুরমার পুজোর ঘরের দিক থেকে।
(এর পর আগামী রোববার)


গল্পে গল্পে ক্যুইজ
রাজীব কুমার ঘোষ
পর্ব ৬ 
উত্তর

১।। চট্টগ্রাম সশস্ত্র বিপ্লব। অগ্নিপুরুষ সূর্য সেন, যিনি মাস্টারদা নামেই খ্যাত, ১৯৩০ সালে তিনি পরিকল্পনা করেছিলেন চট্টগ্রামকে দখল করে বিচ্ছিন্ন করার। উদ্দেশ্য ছিল এইভাবে অন্যান্য জায়গাতেও বিপ্লব ঘটবে। ট্রেলারে যে আটজন প্রধান বিপ্লবীদের দেখিয়েছে তারা হলেন — মাস্টারদা সূর্য সেন, কল্পনা দত্ত, নির্মল সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দাদার, গণেশ ঘোষ, লোকনাথ বল, অনন্ত সিংহ, অম্বিকা চক্রবর্তী।
  দিনটি ছিল ১৮ এপ্রিল। যুব বিদ্রোহীরা পুলিশ লাইনের অস্ত্রাগার দখল করে নেয়।  অক্সিলিয়ারী ফোর্স আর্মারিও দখল করে নেয়। এর আগেই টেলিফোন ও টেলিগ্রাফ ব্যবস্থা বিধ্বস্ত করে দেওয়া হয়েছিল। বিপ্লবীদের দুর্ভাগ্য তারা জানতেন না আর্মারিতে অজস্র রাইফেল এবং আরো বন্দুক থাকলেও একই জায়গায় গুলি রাখা হয় না। ফলে তারা এগুলো ব্যবহার করতে পারেন নি। তারা পুলিশ লাইন জ্বালিয়ে দেন। নানা ঘটনায় ভ্রান্তি বশত তারা শহর দখল করার বদলে শহর ছেড়ে পাহাড়ে আশ্রয় নেন। বাস্তবে শহর তখন ছিল অরক্ষিত। ২২ এপ্রিল জালালাবাদ পাহাড়ে মিলিটারিদের সঙ্গে বিপ্লবীরা এক অসম সংগ্রামে লিপ্ত হয়। একদিকে ছিল স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, মেশিনগান অন্যদিকে শুধু মাস্কেট রাইফেল। শহীদ হয়েছিলেন, টেগরা (হরি বল, জেনারেল বলের ছোটো ভাই), ত্রিপুরা সেন, নির্মল লালা, বিধু ভট্টাচার্য, নরেশ রায়, বিনোদ দত্ত, অর্ধেন্দু দস্তিদার, শশাঙ্ক দত্ত, মধুসূদন দত্ত, মতি কানুনগো, পুলিন বিকাশ ঘোষ, জিতেন দাশগুপ্ত, প্রভাস বল। আরো কতজন যে ছিলেন তার কোনো হিসাব পাওয়া যায়নি। মিলিটারিরা অন্ধকার নামতেই ফিরে যায়। দলের বাকিরা সবাই গা ঢাকা দেন। ব্রিটিশ মিলিটারিরা এই দেহগুলি প্রেট্রোল ঢেলে পাহাড়েই জ্বালিয়ে দিয়েছিল। পরে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন মামলায় ১২ জনের যাবজ্জীবন দ্বীপান্তরের সাজা হয় (আন্দামানে সেলুলার জেলে পাঠানো হয়েছিল)। এরা ছিলেন গণেশ ঘোষ, অনন্ত সিংহ, লোকনাথ বল, আনন্দ গুপ্ত, ফণী নন্দী, সুবোধ চৌধুরী, সহায়রাম দাস, ফকির সেন, লালমোহন সেন, সুখেন্দু দস্তিদার, সুবোধ রায়, রণধীর দাশগুপ্ত। মাস্টারদা ধরা পড়েন গৈরালা গ্রামে। দিনটি ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৩৩, পরেরদিন আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত খবরটি তোমাদের জন্য এখানে তুলে দিলাম অবিকল, বানান সেই সময়ের।
চট্টগ্রামে সূর্য সেন গ্রেপ্তার
১৭ই ফেব্রুয়ারি, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন সম্পর্কে ফেরারী সূর্য সেনকে — গতরাত্রে পটিয়া হইতে ৫ মাইল দূরে গৈরালা নামক স্থানে — সূর্যকুমার সেন, ওরফে মাস্টারদাকে গ্রেপ্তার করা হইয়াছে।
সূর্যকুমার সেনকে চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন মামলার প্রধান ফেরারী আসামী বলিয়া অভিহিত করা হইয়াছে। গত ১৯৩০ সাল হইতে সূর্যকুমার সেন পলাতক ছিলেন এবং তাহাকে ধরাইয়া দিবার জন্য গবর্ণমেন্ট দশ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করিয়াছিলেন।
১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি তার ফাঁসি হয় চট্টগ্রাম জেলে। শোনা যায় যে তার শবদেহে পাথর বেঁধে ব্রিটিশ যুদ্ধ জাহাজ এইচ এম এস এফিংগাম থেকে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া হয়েছিল।

২।। চলচ্চিত্রটি ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত “সুভাষচন্দ্র”। পরিচালক ছিলেন পীযূষ বসু। তোমরা অবশ্যই এই চলচ্চিত্রটি দেখবে। এই চলচ্চিত্রটি না দেখা তোমাদের পক্ষে বড় লজ্জার হবে। শুধু পড়াশুনো করা নয়, বিশেষ কিছু সিনেমা দেখা, গান শোনা, বই পড়াটাও বাঙালি হিসাবে তোমাদের কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। বিদেশে বহু জায়গায় পড়াশুনার সিলেবাসে সিনেমা দেখাটাও আছে। আমাদের দুর্ভাগ্য এখনো আমরা সেভাবে তা শিক্ষায় প্রয়োগ করে উঠতে পারিনি। সিনেমায় যে সাহেবকে দেখানো হয়েছে তিনি হলেন ওটেন সাহেব। প্রেসিডেন্সি কলেজে যাকে মারার অভিযোগে সুভাষচন্দ্রকে কলেজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। যে গানটি তোমরা শুনেছ সেটি দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের লেখা। সুরটিও তারই করা।

৩।। এই তিন বিপ্লবী হলেন, ভগৎ সিং, রাজগুরু এবং সুখদেব। ১৯৩১ সালে ২৩ মার্চ এই তিনজনকে লাহোর জেলে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল। তোমরা গানে সেই দৃশ্যই দেখেছ। ১৯২৮ সালে পাঞ্জাবে চন্দ্রশেখর আজাদের নেতৃত্বে সমাজতান্ত্রিক আদর্শে উদ্বুদ্ধ বিপ্লবীরা হিন্দুস্তান সোস্যালিস্ট রিপাব্লিকান অ্যাসোসিয়েশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এরা স্বাধীন সমাজতান্ত্রিক ভারত প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে সশস্ত্রসংগ্রামের পথকে বেছে নিয়েছিলেন। ১৯২৮ সালে ভগৎ সিং, চন্দ্রশেখর আজাদ আর শিবরাম রাজগুরু লাহোরের পুলিশ অফিসার সান্ডার্সকে হত্যা করেছিলেন। ১৯২৯ সালে ভগৎ সিং আর বটুকেশ্বর দত্ত দিল্লির আইনসভা কক্ষে বোমা ফেলেন। সবার বিরুদ্ধে লাহোর ষড়যন্ত্র মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গানের দৃশ্যটির শেষে তারা ইনক্লাব জিন্দাবাদ শ্লোগান দিচ্ছিলেন। এরও একটি ইতিহাস আছে। আইনসভা কক্ষে বোমা ফেলার সময় তারাই প্রথম ভারতে প্রকাশ্যে ইনক্লাব জিন্দাবাদ শ্লোগান দিয়েছিলেন। ইনক্লাব কথাটির অর্থ বিপ্লব। সুতরাং ইনক্লাব জিন্দাবাদ কথার অর্থ বিপ্লব দীর্ঘজীবি হোক। ফারসি ভাষা থেকে এই শব্দদুটি এসছে, যদিও মনে করা হয় সরাসরি বিপ্লবীদের কাছে এটি ফারসি থেকে আসেনি, উর্দু ভাষা হয়ে এসেছে।  ১৯২১ সালে উর্দু কবি, ভারতীয় মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের একজন নেতা, মৌলানা হাসরত মোহানি এই স্লোগানটি রচনা করেন। ভগৎ সিং তার লেখালেখির মাধ্যমে এটিকে জনপ্রিয় করেন। ফ্রান্সের বিখ্যাত ‘ভিভা লা রেভল্যুশন’ ইংরাজিতে হয়েছিল ‘লং লিভ দ্য রেভুল্যুশন’, এরই অনুসরণে ভারতে ইনক্লাব জিন্দাবাদ। বর্তমানে বামপন্থীরাই মূলত এই শ্লোগান ব্যবহৃত করেন। 
৪।। ১৯১৯ সালের কুখ্যাত জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড। রাওলাট আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার সময় পাঞ্জাবের দুই কংগ্রেসি নেতা সত্যপাল এবং কিচলিউকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখা দেয় এবং পাঞ্জাবের সেই সময়ের শাসনকর্তা মাইকেল ও’ডায়ার সভা-সমিতি নিষিদ্ধ করে দেন। অমৃতসরের জালিওয়ানওয়ালাবাগে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও বহু লোক সমাবেত হয়েছিল একটি সভায়। এর চারদিক পাঁচিল দিয়ে ঘেরা ছিল এবং বাইরে যাবার জন্য একটি মাত্র পথ ছিল। সভা চলার সময় ইংরেজ জেনারেল ডায়ারের নির্দেশে প্রায় দশ মিনিট ধরে গুলি চালানো হয়েছিল। ধারণা করা হয় যে কম করেও এক হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলেন। এই ঘটনার সময় উধম সিং নামে এক কিশোর মনে মনে শপথ নিয়েছিল জেনারেল ডায়ার আর মাইকেল ও’ডায়ারকে হত্যা করার। একুশ বছর পরে (ততদিনে জেনারেল ডায়ার মারা গেছেন) ইংল্যান্ডে গিয়ে তিনি গুলি করে মাইকেল ও’ডায়ারকে হত্যা করেন। ১ জুন ১৯৪০, উধম সিং-এর ফাঁসি হয়। এই দৃশ্যটি একটি পৃথিবী বিখ্যাত চলচ্চিত্রের, নাম গান্ধি। ১৯৮২ সালের এই সিনেমাটি বিখ্যাত ব্রিটিশ পরিচালক রিচার্ড অ্যাটেনব্রো পরিচালনা করেছিলেন। গান্ধিজির ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন এক বিখ্যাত অভিনেতা বেন কিংসলি। এই সিনেমাটিও তোমাদের দেখা উচিত।

৫।। এই বীর দেশপ্রেমিকের নাম লালা লাজপৎ রায়। তাকে বলা হত পাঞ্জাব কেশরী। বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে বাংলায় যে আন্দোলন হয়েছিল তা তাকে প্রভাবিত করেছিল। তিনি পাঞ্জাবে বয়কট ও স্বদেশীর প্রচার করতে থাকেন এবং তার সঙ্গে ভূমিরাজস্ব আইনের বিরোধিতা, সেচ করের বিরোধিতা করতে থাকেন। ব্রিটিশ সরকার তাকে গ্রেপ্তার করে বার্মার মান্দালয় জেলে বন্দী রাখে। সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে তিনি অসহযোগ আন্দোলনে যোগ দেন। বারাণসী কংগ্রেসে তিনি চরমপন্থী নেতাদের সঙ্গে দাবী করেন যে কংগ্রেস আবেদন নিবেদনের নীতি ছেড়ে সক্রিয় আন্দোলনের নীতি নিক। ভারতের সংবিধানের খসড়া তৈরি করার জন্য ব্রিটিশ সরকার স্যার জন সাইমনের নেতৃত্বে এক কমিশন বানায় কিন্তু এই কমিশনে কোনো ভারতবাসী ছিল না। ভারতের সেই সময়ের সব রাজনৈতিক দল তাই এই কমিশনকে বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।  ১৯২৮ সালের ৩০ অক্টোবর সাইমন কমিশনের সদস্যরা লাহোরে আসে। সাইমন কমিশনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাবার সময় পুলিশের লাঠির আঘাতের ফলে তিনি গুরুতর আহত হন, আহত হয়েও তিনি বক্তব্য রেখেছিলেন। এই আঘাতের ফলেই ১৭ নভেম্বর তার মৃত্যু হয়। এই লাঠি চার্জের আদেশ দিয়েছিল পুলিশ সুপারিনটেন্ডেন্ট জেমস এ স্কট। স্কটকে হত্যা করার জন্যই ভগৎ সিং, চন্দ্রশেখর আজাদ আর শিবরাম রাজগুরু গিয়েছিলেন, কিন্তু ভ্রান্তি বশত তারা স্কটের জায়গায় সান্ডার্সকে হত্যা করেছিলেন।


পাঠ প্রতিক্রিয়া
( জ্বলদর্চির ৪৪ তম সংখ্যা পড়ে গল্পকার তপশ্রী পাল যা লিখলেন) 

জ্বলদর্চি মানে হলো জ্বলন্ত আগুন!
উজ্জ্বল দীপ্তিময় কতো তার গুণ!
তেমনি পত্রিকা এক ছোটদের তরে
লেখা আঁকা নিয়ে, পৌঁছলো ঘরে ঘরে।
এবারের সংখ্যাটি চুয়াল্লিশতম
এ পত্রিকা, মৌসুমী আন্টির প্রাণসম!

এবারের সংখ্যার মলাট বড় প্রিয়
দুষ্টুমিষ্টি শিশুমুখ অতি রমণীয়
আমরাও ছিলাম যবে অমনি বয়েসে
বর্ষাকালে ভিজতাম কেমন আয়েসে!
ভারী সুন্দর তুলেছেন রিপন আর্য ভাই
এমন মলাট হলে আর বেশি কী চাই?

দীপবাবুর রাম-রাবণ জমে জমজমাট
ছন্দে মজায় ছড়াখানি লাগলো ভারী স্মার্ট!

দাদরা তাল না কাহারবা তাল? কোন তালটা ভালো?
এ তাল তো সে তাল নয়! কী গোল পাকালো!
তালফুলুরি, তালের লুচি? নাকি মালপোয়া?
পোয়াবারো ভূতেদের! ফুলুরি গেছে খোয়া!
জানতে যদি চাও কেউ, কী হলো এরপর,
“তাল ত্যালামো” পড়ে নাও, তাল কি তোমার পর?
ছেলে তাল! মেয়ে তাল! তাল রকমারী
শ্রীকান্ত অধীকারী মশাই গপ্পো ফেঁদেছেন ভারী!

এই তো সবে রথ গেলো, এঁকেছে সান্নিভ
রঙিন এমন ছবি পেলে, নিয়েই এবার নেবো!
বছর গেলো স্কুল বন্ধ, করোনা বিভীষিকা!
নিয়ে নিতেই হবে এবার করোনার টিকা
কিন্তু টিকা গেলো কোথা? রাত থাকতে লাইন
মানুষ আছে, টিকা নেই? এ কেমন আইন?
তাই তো ছড়া লিখেছেন তথাগতবাবু
টিকা না পেলে যে হতে হবে করোনায় কাবু!

বিকেলবেলা আসে যদি আইসক্রিমের গাড়ি,
লোভ সামলে আর কি ঘরে থাকতে পারি?
একা একা খেয়ে নিলো মোহনা বাগ
আমায় একটাও দিলো না তো! তাই হচ্ছে রাগ!
করছি মজা। বড্ড সুন্দর রঙচঙে সব ছবি
ও মোহনা, তুই বড় হয়ে বড় শিল্পী হবি!

উড়ুম্বুটে কাকের মনে জিলিপির প্যাঁচ!
রসোর জিলিপি, উধাও হলো! রসো বলে “ক্যাচ!”
পাতের মাছের টুকরো তাও হলো হাওয়া?
শুভশ্রী আন্টির কাছে নালিশ নিয়ে যাওয়া!
কেন লিখলো আন্টি এমন দুষ্টু কাকের কথা?
আমাদের তো পড়তে মজা! রসোর যতো মাথাব্যাথা!
আত্রেয়ী বিশ্বাসের ছবি সুন্দর ভারী
জগদীশ শর্মার ছড়া জলের কারিকুরি!

তারপরেই এসে পড়ে ফুলকুসুমপুর
ধারাবাহিকে এইবার পড়াশুনার সুর!
অনেক হলো জন্তু পোষা, অনেক হলো মজা
ইচ্ছেদাদুর ইচ্ছে, এবার মাস্টারমশাই খোঁজা!
কেমন হবেন মাস্টারমশাই? ছোটদের কৌতুহল!
পড়ে দেখতে হবেই – সবাই মিলে চল!

শুধু কি আর গল্প ছড়া? শুধু কি আর আঁকা?
তোমাদের জন্য রাজীবকাকুর ক্যুইজও আছে রাখা!
বুদ্ধির গোড়ায় ধোঁয়া দিতে হবে যে এইবার!
জি কে ক্লাসে এ সব উত্তর ভীষণ দরকার!
মোবাইল নিয়ে গেম খেলো না, জানার দরজা খোলো
এইবারের ক্যুইজ বুঝি এই কথাই শেখালো!

অভীক রায়ের বড় দুঃখ, নেই পিকনিকের মজা
করোনার ভয়ে ঘরে বসে জীবন ভাজা ভাজা!
আর কতোদিন? আর কয়টি আসবে সামনে ঢেউ?
ছড়ায় শুধায় অভীক, তোমরা উত্তর জানো কেউ?

মেয়েটির ছবি ভারী সুন্দর, এঁকেছে ইমন
মাস্ক ঢাকা মুখ নিয়ে বড্ড মনকেমন!
মন ছুঁয়ে যায় স্বস্তিকার গল্পটি ভারী!
রূপাইয়ের স্বপ্নে মা আসেন, এ গল্প তারই!
মিহিকার কৃষ্ণ আর জগন্নাথের রথ!
বড়ো রঙিন সুন্দর এই আমার মত।

এই সংখ্যায় নতুন এলো স্মরণীয়দের কথা
পীযুষ বাবুর কলমে “প্রফুল্ল রায়” যথা
ছোটদের জানতেই হবে কে ছিলেন তিনি
রসায়ণ গবেষণা তাঁর কাছে ঋণী!
   
দিনে দিনে আরো ভালো হোক জ্বলদর্চি!
রান্না দিলে কেমন হয়? হবে তোমরা বাবুর্চি?
কিংবা যদি গোয়েন্দা হও? কিংবা ছোট পাহাড়ে?
আগে আগে দেখো আরো কতো কী আসে! আহা রে!

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇
আরও পড়ুন 








Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি