সপ্তাক্ষরী সুসম্বোধন /শুভজিৎ মুখার্জী

সপ্তাক্ষরী সুসম্বোধন
 শুভজিৎ মুখার্জী

"শুয়োরের বাচ্চা" ঠিক কবে থেকে বাংলা ভাষায় অন্যতম উল্লেখযোগ্য একটি গালাগালি হয়ে উঠলো সে তথ্যের রহস্য উদঘাটন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয় । আমি এটুকুই বলতে পারি, এই সপ্তাক্ষরী সু(?)-বচন টির সাথে আমার ব্যক্তিগত কয়েকটি অভিজ্ঞতা বা ঘটনার যোগসুত্র আপনাদের কাছে তুলে ধরাই আমার এই রচনার মূল প্রয়াস।

খুব ছোটবেলায় তখন আমি সিক্সে পড়ি । ক্লাস নাইনের এক দাদা আমাকে কি কারনে যেন টিফিন পিরিয়ডে এই মহান গালাগালিটা দিয়ে ভূষিত করেছিল । বয়স এবং উচ্চতায় অনেক ছোট খাটো হওয়ায় আমি সেদিন তার প্রতিবাদ করতে পারিনি । তবে পিতৃহারা এই আমি-টার মধ্যে, সেদিন থেকেই এই শব্দ যুগলের প্রতি কিরকম যেন একটা ঘৃণা মিশ্রিত টান জন্ম নিয়েছিল । পরবর্তীকালে আরো অন্যান্য বহু জন্তু-জানোয়ারের সাথে নানাবিধ উপমা জড়িত বিশেষণ সম্বন্ধে শুনেছি, শিখেছি, এমনকি উপাধি প্রাপ্তিও ঘটেছে স্কুল জীবনে । যেমন ধরুন, গরু কোথাকার ! ( যদিও এক্ষেত্রে মাস্টারমশাইয়ের পুংলিঙ্গ-স্ত্রীলিঙ্গ জ্ঞান সম্পর্কে আমার মনে প্রবল সন্দেহের উৎপত্তি ঘটেছিল ) বা ধরুন হাতির মাথা, সাপের পাঁচ পা দেখা ইত্যাদি, ইত্যাদি । কিন্তু তিরস্কারের হাতিয়ার হলেও এগুলোর কোনটাই সরাসরি অশ্লীল গালাগালির পর্যায়ে পড়ে না। তাই সময়ের সাথে সাথে তারাও হারিয়ে গেছে কালের গর্ভে।

আরেকটু বড় হয়ে যখন কলেজে ঢুকলাম, ( সেই আমলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এগারো ক্লাস থেকেই কলেজে ভর্তি হতে হতো ) তখন দেখলাম, এ তো পুরো জল-ভাতের মতন কেস। যে যখন যাকে যেখানে পাচ্ছে ওই সম্বোধনে ডাকছে। সাধু ভাষা থেকে অতি ব্যবহারে যেমন চলিত ভাষা সব দেশো সৃষ্টি হয়, ঠিক সেভাবেই দ্রুত ও কিঞ্চিৎ অপভ্রংশ হয়ে, প্রথমে শুয়েচ্চা এবং শেষমেষ শুভেচ্ছা -তে এসে দাঁড়ালো । লাভের মধ্যে, তারপর মেয়েরাও অবলীলায় আমাদের সাথে সমান তালে এই মহান সাত-অক্ষরীর অপভ্রংশ-শুদ্ধ রূপ নির্দ্বিধায় সম্বোধন করা শুরু করল এবং, এমনকি প্রফেসরদের সামনেও বন্ধুকে, বান্ধবীকে, উভয়ে উভয় তরফেই আন্তরিক ডাকাডাকিতে বাধা রইল না । কলেজ জীবনে এভাবেই একটা অশ্রাব্য গালাগালি কি মোলায়েম আদরের ডাকে পরিবর্তিত হয়ে গেল !

কিন্তু কলেজ জীবনের বাইরের সমাজ বা পরবর্তীকালে বিষয়টা এতটা সহজ ছিলনা । সেখানে সে আগের মতই স্বমহিমায় বিরাজিত --- ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, ছোট-বড় নারী-পুরুষের ক্ষেত্রে, জেনে বা না জেনে, নির্বিশেষে অত্যন্ত রাগের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে, তাৎক্ষণিক ভাবে বা স্বভাবদোষে উক্ত সপ্তাক্ষরী সুবচনী সম্মোধন চলতেই থাকল । বয়সটাও সংসারের যাঁতাকলে পেশাই হতে হতে কবে যেন চল্লিশ পার হয়ে গেল । অর্থ-যশ-প্রতিপত্তি-স্বাচ্ছন্দ-সুখ ভোগের তাড়নায় ক্রমাগত দৌড়াতে দৌড়াতে কবে যেন যন্ত্র হয়ে পড়লাম। এসব কিছুই তখন আর গায়ে লাগেনা । এমনকি স্যুট-বুট পরা তথাকথিত ভদ্রলোককেও দেখেছি রিক্সাওয়ালার সাথে সামান্য দুটো টাকার জন্য ঝগড়া করতে গিয়ে, সম্পূর্ণ অকারণেই শুয়োরের বাচ্চা বলে গাল দিতে । আর তার সাথে সাথে নতুন কর্ম জীবনের বন্ধুমহলে এই সংক্রান্ত চুটকি, ননভেজ জোকস । তারই একটা এখানে শেয়ার করা যাক !

এক বন্ধু তার বাড়িতে আসা বন্ধুকে নিজের পোষা টিয়া পাখি ( নাকি চন্দনা )-কে কেমন বুলি শিখিয়েছে তা দেখাতে গিয়ে বলল, "তুই যদি আমার এই সোনামণির (পাখিটার নাম ) ডান পায়ের শিকল ধরে টান মারিস, ও বলে উঠবে 'হরেকৃষ্ণ হরেকৃষ্ণ ।' বন্ধু তো বিশ্বাসই করে না । ভীষণ অবাক ! ডান পায়ের শিকল ধরে টেনে দেখবে কিনা ভাবছে, এমন সময় তার বন্ধু অর্থাৎ পাখির মালিক আরও বলল যে যদি সে বাঁ পায়ের শিকল ধরে টানে, তাহলে নাকি পাখিটা বলে উঠবে 'হরে রাম হরে রাম ।' এমনই নাকি ট্রেনিং প্রাপ্ত হয়েছে সেই টিয়া বা চন্দনা ! অত্যন্ত অবাক হয়ে বেড়াতে আসা বন্ধু দাঁড়ে বসা পাখিটার দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করল, "আর যদি দু পায়ের শিকল ধরে একসাথে টানি তালে ও কি বলবে ?" কথিত আছে, পাখির মালিক উত্তর দেওয়ার আগেই স্বয়ং পাখিটা খিঁচিয়ে উঠে নাকি বলেছিল, " এই শুয়োরের বাচ্চা ! পড়ে যাব না ?"

তো সে যাই হোক, ততদিনে বাঙালির জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হয়েছে । এখন ছোট ছোট বাচ্চাদের হাতেও স্মার্ট ফোন । নিউটন বেঁচে থাকলে, তাঁর জ্ঞান সাগরের তীরে নুড়ি কুড়োনোর স্টেটমেন্ট উইথড্র করে, গুগল সার্চ সংক্রান্ত নতুন কোনো মন্তব্য করতেন হয়ত বা ! তো এরকমই একদিন গুগল সার্চ করতে করতে একটা নতুন তথ্য পেলাম, যা বিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গিতে এই রচনাকে আরো ঋদ্ধ করবে বলেই আমার বিশ্বাস । তবে তার আগে অল্প দু-এক কথায় কিছু প্রাসঙ্গিক বিষয় বলে নেওয়া যাক ।

প্রথমতঃ, সংকরায়ন বা Hybridisation মানে দুটি ভিন্ন প্রজাতির মিলনের ফলে উদ্ভূত এক নতুন প্রজাতির জীব, যার মধ্যে পুরুষ ও নারী উভয়ের পিতৃ-মাতৃ গুণ কমবেশি উপস্থিত। যেমন স্ত্রী-ঘোড়া ও পুরুষ-গাধার সংমিশ্রণে উৎপন্ন প্রজাতি খচ্চর ( Mule )  এবং এর ঠিক উল্টোটা অর্থাৎ পুরুষ ঘোড়া ও স্ত্রী গাধার অপত্য হোলো Hinny ( বাংলা জানা নেই, দুঃখিত ) । আবার উদ্ভিদজগতের উদাহরণস্বরূপ, বিখ্যাত আম আম্রপালি আসলে দশেরি ও নিলম নামক দুটি আলাদা জাতের আমের সংকরায়ন উপলব্ধ ফল । (১৯৭১ সালে ভারতীয় কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ডঃ পীযূষ কান্তি মজুমদার এর উদ্ভাবক। ) বর্তমান জগতে এরকম বহু উদাহরণ আছে, যা অন্য কখনো আলোচনা করা যাবে।

দ্বিতীয়তঃ, ব্যাক ক্রসিং সংক্রান্ত বিষয়ে একটু নাড়াচাড়া করা যাক । ধরা যাক, I এবং II দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রজাতির প্রাণী এবং M ও F হলো পুরুষ ও স্ত্রী লিঙ্গের প্রতীক । সেক্ষেত্রে প্রথম প্রজাতির পুরুষ অর্থাৎ M-I -এর সাথে দ্বিতীয় প্রজাতির স্ত্রী অর্থাৎ F-II -এর মিলনে উদ্ভুত সংকর প্রাণীটণি M-H অথবা F-H ( যেখানে H বলতে HYBRID বোঝানো হচ্ছে ) উৎপন্ন হবে। এখন কালের ঘটনা প্রবাহে, প্রকৃতির নিয়মে সেই সদ্যজাত M-H বা F--H সংকর প্রজাতিটি তার মাতৃকুলের প্রজাতির সঙ্গেই ( হয়তো বা শিশুর লালন-পালন ও স্বাভাবিক বৃদ্ধির ক্ষেত্রে 'মা' অগ্রণী ভূমিকা নিয়ে থাকে বলে ) বড় হতে থাকলো । পরবর্তীকালে ওই  M-H বা F--H সংকর প্রজাতিটি আপন গোষ্ঠীর মধ্যেই যথাক্রমে হয় F-II অথবা M-II -এর সাথে মিলিত হয়ে সম্পূর্ণ নতুন আর এক প্রকার সংকর প্রজাতির সৃষ্টি করলো । এটাই ব্যাক ক্রসিং। খেয়াল রাখতে হবে ব্যাক ক্রসিং কোন নির্দিষ্ট সংখ্যক প্রাণীদের মধ্যে ঘটা স্বল্প সময় পরিসরের ঘটনা নয় । বরং দীর্ঘদিন ধরে ঘটে চলা, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বারবার ঘটতে থাকা এক স্বাভাবিক প্রাকৃতিক অভিযোজন, যেখানে দ্বিতীয় প্রজাতি II-এর জিনগত বৈশিষ্ট্যের আধিক্য থাকলেও আদি পিতা/মাতা (পিতামহ/প্রপিতামহ বা মাতামহ/প্রমাতামহ ) অর্থাৎ প্রথম প্রজাতি I-এর গুণাবলীও বর্তমান ।

তৃতীয়তঃ, এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের পরিভাষায় যে হাইপোথিসিস ( Hypothesis ) বা প্রকল্প এবং থিওরি (Theory ) বা তত্ত্ব --- এই দুটি বিষয় আছে, তাদের মধ্যেকার মূল পার্থক্যটুকু জেনে রাখা দরকার । হাইপোথিসিস হল বিজ্ঞানের সেই ধারণা, যা পারিপার্শ্বিক ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করে কোন বিশেষ বিষয়ের উপর নির্ধারণ করা হয় --- যাতে মিশে থাকে বৈজ্ঞানিক মননের ছাপ --- বিজ্ঞানভিত্তিক ভাবে যা গবেষণাগারে এখনো পরীক্ষিত সত্য নয়, যুক্তিগ্রাহ্য অনুমান মাত্র । অপরপক্ষে কোন প্রাকৃতিক নিয়ম বা তাকে বাঁধার সূত্র, বিজ্ঞানের চোখে বস্তুজগতে উপলব্ধ এক বা একাধিক মাধ্যমে পরীক্ষার পর সত্য উদঘাটন হয় --- তখন তা থিওরি হিসেবে আমাদের সামনে আসে, তা সে বিজ্ঞানের যেকোনো শাখারই হোক না কেন ! সোজা কথায় থিওরি হল কার্য-কারণ সম্পর্কের (WHERE THERE IS AN EFFECT THERE IS A CAUSE ) প্রামাণ্য দলিল।

এখন আমরা উপরিউক্ত তিনটি বিষয়ের আলোতে আমাদের মূল বিষয়ে ঢুকবো । সেই যে গুগল সার্চ করে পাওয়া এক নতুন তথ্যের কথা বলছিলাম না ! জর্জিয়া ইউনিভার্সিটির জেনেসিস বিভাগের গবেষক অধ্যাপক ইউজিন ম্যাকার্থি সাহেব, পশুদের সংকরায়নের ক্ষেত্রে যাঁর বিশ্বজোড়া খ্যাতি, তাঁরই প্রবর্তিত এক হাইপোথিসিস-ই আমাদের আলোচ্য । ম্যাকার্থি সাহেবের মতে, সুদূর অতীতে কোন এক পুরুষ শুয়োর ও স্ত্রী শিম্পাঞ্জির মিলনের ফলেই উদ্ভূত সংকর প্রজাতির প্রাণী নাকি মানুষ জাতির আদি পূর্বপুরুষ । পরবর্তীতে এই সংকর প্রজাতির প্রাণী তার মাতৃকূলে  ( অর্থাৎ শিম্পাঞ্জিদের সাথে ) থাকতে-থাকতে ক্রমাগত প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যাক ক্রসিং ও তস্য ব্যাক ক্রসিং এর মাধ্যমে অধুনা মানুষের পূর্বপুরুষের উৎপত্তি । শিম্পাঞ্জিদের সঙ্গে মানুষের বহু মিল পাওয়া যায়। আবার অমিলের সংখ্যাটাও নগণ্য নয়। আর অন্য কোনও প্রাইমেটের সঙ্গে মানুষের একই সঙ্গে এত মিল ও অমিল দেখতে পাওয়া যায় না । অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট প্রাণীদের বৈশিষ্ট্য প্রাইমেটস আত্মীয়দের থেকে মানুষকে আলাদা করেছে। শিম্পাঞ্জির সঙ্গে মানুষের জিনগত বৈশিষ্ট্যের প্রচুর মিল থাকলেও শারীরিক বৈশিষ্ট্যের প্রচুর অমিল। এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলিই প্রাণী জগতে শিম্পাঞ্জিকে দুটি পৃথক প্রজাতি রূপে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এবং ব্যাক ক্রসিংয়ের ধর্মানুযায়ী, মানুষের অধিকাংশ বৈশিষ্ট্য শিম্পাঞ্জিদের সঙ্গে মিললেও, সূক্ষ্মভাবে শুয়োরের অনেক বৈশিষ্ট্য আমাদের মধ্যে বর্তমান । উদাহরণস্বরূপ ম্যাকার্থি সাহেব বলেছেন, তুলনামূলক লোমহীন চামড়া, চামড়ার নীচে সাবকিউটেনিয়াস ফ্যাটের আস্তরণ, হালকা রঙের চোখ, বেড়িয়ে আসা নাক, ঘন চোখের পাতা --- মানুষের এই সব চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য গুলি  অব্যর্থভাবে শুয়োরের মতই। অর্থাৎ চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে যে যে জায়গায় শিমাঞ্জির সঙ্গে মানুষের অমিল পাওয়া যায়, ঠিক ঠিক সেই সেই ক্ষেত্রে শুয়োরের সঙ্গে মানুষের প্রচুর মিল খুঁজে পাওয়া যায় । শুধু তাই নয়, তাঁর মতে শুয়োরের চামড়ার কোষ ও হার্ট ভালভের চিকিৎসার জন্য মানুষের শরীরে ব্যবহারই তাঁর হাইপোথিসিসকে সত্যি প্রমাণিত করে । অতএব দেখা যাচ্ছে প্রফেসার ইউজিন ম্যাকার্থি সাহেবের হাইপোথিসিস যদি কোনদিন  সত্য প্রমাণিত হয়, তাহলে স্বয়ং শুয়োরই হোলো আমাদের আদি পিতা এবং তাদের থেকেই এসেছে আধুনিক মানুষ। 

এমনিতেই আমি একটু বেশি বকি । আর তার ওপর যদি এইরকম একটা ফালতু বিষয়ের উপর বকবক করা হয়, তবে পাঠককুলের ক্রমবৃদ্ধিপ্রাপ্ত বিরক্তির পরিমাণ সহজেই অনুমেয় । তাই এই রচনাকে আর দীর্ঘায়িত না করে আমার পাড়ায় দেখা একটা ঘটনা বলে শেষ করব।

সন্ধ্যাবেলা অফিস থেকে ফেরার পথে দু-একটা টুকটাক জিনিস কিনতে পাড়ার মোড়ের স্টেশনারি দোকানে যখন দাঁড়িয়েছি, তখন কানে এলো পাশের চায়ের দোকানে বসে আড্ডা মারা চার-পাঁচজন উঠতি যুবকের নিজেদের মধ্যে হই-হট্টগোল হাসি-ঠাট্টা --- যার মধ্যে অবশ্যই ঘুরে ফিরে আসছিল সেই বিশেষ সম্মোধনটি । কান না দিয়ে নিজের কাজে মন দিতে যাবো, এমন সময় দেখি সেখানে বীরেন বাবু ( নাম পরিবর্তিত ) উপস্থিত। এমনিতে বীরেনদা ছাপোষা নিরেট ভালো মানুষ, তবে একটু খামখেয়ালী প্রকৃতির। আর যাকে বলে, কাঠবাঙাল ! প্রচুর পড়াশোনা এবং অবসর জীবনে বাচ্চা বুড়ো সবার সাথে যখনই যেখানে দেখা হয়, গল্প জুড়ে দেওয়ার মতন এক মিশুকে ভদ্রলোক । 

হাসি হাসি মুখে বীরেন দা ছেলেগুলোকে বললেন, "বলি তরা ze শুয়ারের বাইচ্চা কইয়া গাল দেতাছোস, জানোস কি ? আমাগো হকল মানষেরই ze হেই কিসিমে এইডা কওন zaয়! মানে zaনোস কথাহানের?"
হটাৎ চুপ করে যাওয়া ছেলেগুলোর মধ্যে একজন মিনমিন করে বলার চেষ্টা করল, "না --- দাদু, স্যরি, স্যরি! মানে ওই আড্ডা মারতে মারতে একটু মুখ ফসকে গালাগাল বেরিয়ে গেছে!" ডাইনে-বাঁয়ে মাথা নাড়তে নাড়তে বীরেনদা বলতে লাগলেন, "নারে, তরা হইলি অহনকার পোলাপান ! শাস্তর তো পড়স্ লাই। ডিগ্রী 
zoটাইসোস! আমাগো পালন কত্তা কেডা ? নারাণ ঠাহুর কিনা ক ? তো হেই বিষ্ণু আমাগো হক্কলের বাপ ! আইর বিষ্ণুর ze দশহান অবতার, হেইয়ার অ্যাক্ খান হইলো গিয়া বরাহ-অবতার । বুঝছোস ? শুয়ারের বাইচ্চা শোনতে বড়ো কানে লাগে --- বরাহ-নন্দন কোবি। গাল দেওনের কালে নারাণের নাম লওয়া হইবো ।"

কথাগুলো বলে বীরেন দা আপন মনে হাঁটতে হাঁটতে চলে গেলেন । আমি তো বটেই, ওই ছেলে-ছোকরাগুলো, চা দোকানের রবিদা ( নাম পরিবর্তিত ) এবং পথচলতি আরো দু-একজন স্তম্ভিত হয়ে কথাগুলো শুনছিলাম‌ ।

বাড়ি ফিরতে ফিরতে ভাবছিলাম, দৃষ্টিভঙ্গিই সব। শুধুমাত্র জগতকে দেখার চোখের ওপরেই আমাদের ভালো-মন্দ, পাপ-পুণ্য, উচিত-অনুচিত, ন্যায়-অন্যায় এবং আরো কতশত নিত্য দ্বন্দ্বের সমাধান লুকিয়ে থাকে।

 আরও পড়ুন 

Comments

  1. দারুণ লিখেছেন

    ReplyDelete
  2. অজানা তথ্য জানতে পারলাম একটি বিতর্কিত বিষয় নিয়ে, সত্যি অনবদ্য, অসাধারণ লেখা স্যার

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি