যেভাবে কেটেছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের শেষ কয়েক মাস/প্রসূন কাঞ্জিলাল

যেভাবে কেটেছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের শেষ কয়েক মাস

প্রসূন কাঞ্জিলাল


"শুনি বনে বনান্তরে অসীম গানের রেশ......
 মধুর, তোমার শেষ যে না পাই, 
প্রহর হল শেষ..."

আজ ২২ শে শ্রাবণ। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  ৮০ তম মহাপ্রয়াণ দিবস।

১৯৪১ সালের ২২শে শ্রাবণ ছিল রাখী পূর্ণিমার দিন। কিন্তু সেই পূর্ণিমার দিনেই, মধ্যাহ্নের একটু পরেই নেমে এসেছিল অমাবস্যার ঘোর  অন্ধকার - অস্তমিত হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। আজ এই বিশেষ দিনটিতে তাঁর শেষ জীবনের কিছু  স্মৃতি-

২২ শে শ্রাবণ। ৭ ই আগস্ট। ঠিক ৮০ বছর আগে এই দিনেই কলকাতার জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতে প্রয়াত হয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। জীবনের শেষ প্রায় এক বছর সময় তাঁর কেটেছিল রোগশয্যায়। ওই সময়ে ঠিক কী কী ঘটেছিল কবির জীবনে, কেমন ছিল সেই সময়ে তাঁর সৃজন, তাঁর অসুখটা ঠিক কী ছিল - এগুলো যদিও কবির আত্মীয়-বন্ধুরা লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন, তবে অনেক সাধারণ মানুষই সেটা বিস্তারিতভাবে জানেন না।

কবিপ্রয়াণের ৭৬ তম বছরে তাঁর শেষ জীবন নিয়ে জোড়াসাঁকোয় রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রতি চার বছর আগে শুরু করেছেন একটি বিশেষ প্রদর্শনী। গবেষকদের জন্য নয়, সাধারণ মানুষের জন্য এই প্রদর্শণী।

জোড়াসাঁকোর মহর্ষি ভবনের দোতলায় "পাথরের ঘর" বলে পরিচিত রবীন্দ্রনাথের প্রয়াণ কক্ষ। যাঁরা জোড়াসাঁকোয় গেছেন, তাঁদের কাছে এটা পরিচিত। কিন্তু অনেকের কাছেই এই তথ্য অজানা যে, পাথরের ঘরের পূর্বদিকের বারান্দায় তাঁর অস্ত্রোপচারের জন্য রীতিমতো একটা অপারেশন থিয়েটার বানানো হয়েছিল।

নতুন যে প্রদর্শনী শুরু হয়েছে চারবছর আগে ২২শে শ্রাবণ থেকে, সেখানে রাখা হয়েছে ওই অপারেশন থিয়েটারের একটা আদর্শ মডেল। কাঁচের বাক্সে ঘেরা ওই মডেলে দেখা যাচ্ছে কীভাবে কবির অপারেশন হয়েছিল ১৯৪১ সালের জুলাইয়ের শেষে।

এখানেই প্রদর্শনীটি শেষ, আর শুরুটা হয়েছে কয়েক বছর আগের ঘটনাক্রম দিয়ে - ১৯৩৭ সালে যখন তিনি একবার কিডনির সমস্যায় ভোগেন। তার আগে পর্যন্ত যে রবীন্দ্রনাথ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী ছিলেন, সেটাও জানানো হয়েছে প্রদর্শনীতে। এরপরেই দেখানো হয়েছে ১৯৪০ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে শুরু হওয়া একের পর এক ঘটনাক্রম।

"শান্তিনিকেতন থেকে সে বছরের ১৯শে সেপ্টেম্বর পূত্রবধূ প্রতিমা দেবীর কাছে গিয়েছিলেন দার্জিলিং পাহাড়ের কালিম্পং-এ। সেখানেই ২৬ তারিখ রাতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন কবি। দার্জিলিংয়ের সিভিল সার্জন বলেছিলেন তখনই অপারেশন না করলে কবিকে বাঁচানো যাবে না। প্রতিমা দেবী এবং মৈত্রেয়ী দেবী তখনই অপারেশন না করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন," লিখেছিলেন বিশ্বভারতী গ্রন্থন বিভাগের অধ্যক্ষ ও সাহিত্যিক রামকুমার মুখোপাধ্যায়।

একটু সুস্থ হওয়ার পরে পাহাড় থেকে নামিয়ে কবিকে কলকাতায় আনা হয়। তারপরে তিনি ফিরে যান শান্তিনিকেতনে। অপারেশন করানো হবে কী না, তা নিয়ে যে একটা দোলাচল ছিল, সেই তথ্যও রয়েছে প্রদর্শনীতে।এরই মধ্যে অবনীন্দ্রনাথ বেশ কিছু গল্প লিখে ফেলেছেন। সেগুলো পড়ে সেসময় বেশ আনন্দ পেলেন কবি, আরও লিখতে বললেন। অবনীন্দ্রনাথ রানী চন্দকে গল্প বলে যান, রানি চন্দ সেই গল্প শুনে লিখে ফেলেন। সেখান থেকে কিছু দেওয়া হয় রবীন্দ্রনাথকে। তিনি পড়লেন, হাসলেন এবং কাঁদলেন। রানী চন্দ এই প্রথম রবী ঠাকুরের চোখ জল পড়তে দেখলেন।রানী চন্দ ছিলেন রবীন্দ্রনাথের প্রিয়ভাজন, শান্তিনিকেতনের শিক্ষার্থী ও চিত্রশিল্পী।

কিছুদিন পরে চিকিত্‍সকেরা আবার অস্ত্রোপাচারের কথাই বললেন। রবীন্দ্রনাথের তাতে মত নেই। তিনি বললেন, 
"মানুষকে তো একদিন মরতেই হবে, তা এমনি করেই হোক না শেষ। মিথ্যে এটাকে কাটাকুটি করার কি প্রয়োজন?"

প্রাবন্ধিক ডা: শ্যামল চক্রবর্তীর কথায়, "সেই ১৯১৬ সাল থেকে রবীন্দ্রনাথের চিকিৎসা করছিলেন যে কিংবদন্তী ডাক্তার নীলরতন সরকার, তিনি কখনই কবির অপারেশন করানোর পক্ষে ছিলেন না। কবি নিজেও চাননি অস্ত্রোপচার করাতে। ডা. সরকার যখন স্ত্রী বিয়োগের পরে গিরিডিতে চলে গেছেন, সেই সময়ে আরেক বিখ্যাত চিকিৎসক বিধান চন্দ্র রায় শান্তিনিকেতনে গিয়ে অপারেশন করিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়ে দেন।"

রাণী চন্দের 'গুরুদেব' বইটিতে উল্লেখ রয়েছে যে কবিকে বলা হয়েছিল ছোট্ট একটা অপারেশন; এটা করিয়ে নিলেই তাঁর আচ্ছন্নভাবটা ঠিক হয়ে যাবে, পরের দশ বছর আবার আগের মতোই লিখতে পারবেন। নীলরতন সরকারকে একবারও তখন জানানোও হয়নি এত বড় একটা সিদ্ধান্ত।

"পেনিসিলিনবিহীন যুগে ওই অপারেশনের ফল যে খারাপ হওয়ারই সম্ভাবনা বেশী ছিল, সেটা একবারও বলা হয়নি কবি বা তাঁর পরিবারকে। ওইভাবে অপারেশন করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া এবং ভাল করে না বুঝিয়ে সম্মতি আদায় করাটা মেডিক্যাল এথিক্স বিরোধী," বলছিলেন চিকিৎসক ডা: শ্যামল চক্রবর্তী।

রবীন্দ্র গবেষক রামকুমার মুখোপাধ্যায় বলছেন, এই অসুস্থতার মধ্যেও কবির সৃষ্টি  কিন্তু বন্ধ হয়নি। "এই সময়ে তাঁর সৃষ্টিশীলতা একটা অন্য মাত্রায় পৌঁছে যাচ্ছে। মৃত্যুটাকে মানুষ কীভাবে দেখে, সেই দর্শন প্রকাশ পাচ্ছে তাঁর 'রোগশয্যায়', 'আরোগ্য' এবং 'জন্মদিনে' এইসব রচনার মাধ্যমে। শেষ একবছরে রবীন্দ্রনাথের চিন্তা-ভাবনার আরও তথ্য পাওয়া যায় প্রতিমা দেবীর 'নির্বান' এবং নির্মল কুমারী মহলানবীশের '২২শে শ্রাবণ'-এ।"

জন্মদিন পালিত হওয়ার কিছুদিন পরেই সাধের শান্তিনিকেতন থেকে শেষবারের মতো রওনা হন রবীন্দ্রনাথ। আধশোয়া অবস্থায় তাঁকে নামিয়ে আনা হয় বাসভবন থেকে। চারপাশে তাঁর প্রিয় আশ্রমিকেরা, বোলপুর স্টেশনে তখন অপেক্ষায় ছিল একটি বিশেষ ট্রেন, যেটির মডেলও রাখা হয়েছে জোড়াসাঁকোর মহর্ষি ভবনের দোতলার নতুন প্রদর্শনীতে। এই বিশেষ ট্রেনের মডেলটিকে বলা হয় "দা লাস্ট জার্নি"। কিন্তু যে যন্ত্রনায় কষ্ট পাচ্ছিলেন তিনি, তার উপশমের জন্য দেহে অস্ত্রোপাচার করাতেই হবে - এই ছিল চিকিত্‍সকের মত। আর সেটা করতে হলে শান্তিনিকেতনকে বিদায় জানিয়ে আসতেই হবে কলকাতায়। তাই শেষ বারের মতো শান্তিনিকেতন ছাড়লেন রবীন্দ্রনাথ। 

২৫ শে জুলাই বেলা ৩ টে ১৫ মিনিটে রবীন্দ্রনাথ এলেন জোড়াসাঁকোর বাড়িতে। পুরোনো বাড়ির দোতলায় 'পাথরের ঘর' এ তিনি উঠলেন।

জোড়াসাঁকোর যে বাড়িতে কবি ফিরে এলেন শেষবারের মতো, সেই বাড়িরই ভেতরের দিকে একটি ঘরে প্রায় ৮০ বছর আগে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি। প্রদর্শিত আছে সেই আঁতুরঘরটিও।

রবীন্দ্রনাথের জীবনের শেষ দিনগুলোর খুটিনাটিও জানা যাচ্ছে প্রদর্শনী থেকে। আরও রয়েছে অসুস্থ কবির দেখাশোনার ভার কাদের ওপরে ছিল, কী ছিল পথ্য তালিকা, সেসবের বিবরণও। প্রদর্শণীর একটি প্যানেলে দেখা যাচ্ছে অপারেশনের ঠিক আগে পরের দিনলিপি।

রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতপূর্ব উপাচার্য অধ্যাপক সব্যসাচী বসুরায়চৌধুরী লিখেছেন, "রবীন্দ্রনাথের শেষ সময়টা কীভাবে কেটেছিল, গবেষকদের কাছে তা হয়তো নতুন নয় কিন্তু সাধারণ মানুষের কাছে এই তথ্যের অনেকটাই প্রায় অজানা। তাঁদের জন্যই এই নতুন প্রদর্শনী।"

আসলে রবীন্দ্রনাথের রোগটা কী ছিল, তা নিয়েও ইদানীং উঠে আসছে নানা মত। সব্যসাচী বসুরায়চৌধুরী জানিয়েছেন, "আমাদের কাছে প্রস্টেট ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের চিকিৎসকরা সম্প্রতি প্রমাণ পেশ করেছেন যে রবীন্দ্রনাথ জীবনের শেষ দিকে আক্রান্ত হয়েছিলেন প্রস্টেট ক্যান্সারে। এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটা সাধারণ মানুষের কাছে জানানো জরুরী ছিল। তবে এ নিয়ে বিতর্ক বা গবেষণা চলতেই পারে।"

রবীন্দ্রনাথ যখন তাঁর আঁতুরঘর থেকে বেশ কিছুটা দূরে রোগশয্যায় - পাথরের ঘর বলে পরিচিত ঘরটিতে, তখন প্রদর্শনীতে ফুটে ওঠে অপারেশনের ঠিক আগে তাঁর শেষ রচনাটির প্রতিলিপি। কয়েকজন দর্শনার্থীর মতে তাঁদের কাছে রবীন্দ্রনাথের শেষ জীবনের এই অংশটা ছিল একেবারেই অজানা।

"তাঁর আসলে কী রোগ হয়েছিল বা একেবারে শেষ সময়ে যে একটা অপারেশন হয়েছিল, সেটা জানা ছিলনা। এই প্রদর্শনী দেখে জানতে পারলাম ব্যাপারটা," বলছিলেন এক দর্শনার্থী।আরেকজন দর্শনার্থীর কথায়, "এই বারান্দায় যে রীতিমতো একটা অপারেশন থিয়েটার বানানো হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের জন্য, সেটা এই মডেলটা দেখেই জানলাম। সেই যুগেও যে জীবানুমুক্ত করে বাড়িতে অপারেশন করা হয়েছিল, এটা এখনও আমরা ভাবতেও পারি না। শেষ সময়ে কারা কবির পাশে ছিলেন, সেইসব তথ্যও জানতে পারলাম এখানে।"

"অপারেশনের পরে ধীরে ধীরে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, জ্ঞান নেই তাঁর। সকলেই যখন বুঝতে পারছে কী ঘটতে চলেছে, তখনই গিরিডি থেকে খবর দিয়ে আনানো হয় কবির সুহৃদ ও বিশিষ্ট চিকিৎসক নীলরতন সরকারকে। তিনি এসে নাড়ি দেখলেন, পরম মমতায় কপালে হাত বুলিয়ে দিলেন, তারপরে উঠে দাঁড়ালেন। হেঁটে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে ডা. সরকারের দু'চোখে ছিল জল," বলছিলেন গবেষক ডা: শ্যামল চক্রবর্তী।

কবির অবস্থার তখন দ্রুত অবনতি ঘটছে তৎকালীন ৫ই ও ৬ই অগাস্টের দিনপঞ্জিতে লেখা আছে সেই দিনের ঘটনা পরম্পরা। আর শেষের যে তিনটি প্যানেল আছে, সেখানে রয়েছে ৭ই অগাস্টের বর্ণনা। ১৯৪১ সালে সেটাই ছিল ২২শে শ্রাবণ।

"বেলা ন'টায় দেওয়া হল অক্সিজেন। শেষবারের মতো দেখে গেলেন বিধান রায় ও ললিত বন্দ্যোপাধ্যায়। কানের কাছে অবিরাম পড়া হচ্ছিল তাঁর জীবনের বীজমন্ত্র 'শান্তম্, শিবম্, অদ্বৈত্যম্'। খুলে দেওয়া হল অক্সিজেনের নল। ধীরে ধীরে কমে এল পায়ের উষ্ণতা, তারপরে একসময়ে থেমে গেল হৃদয়ের স্পন্দন। ঘড়িতে তখন বাজে ১২টা ১০ মিনিট,"

শেষমুহুর্ত উপস্থিত হওয়ার আগেই জোড়াসাঁকোতে হাজির হাজারে হাজারে মানুষ। একদিকে যখন ভেঙ্গে পড়েছেন তাঁর আত্মীয়, বন্ধু, ঘনিষ্ঠরা, তেমনই বাইরে তখন আবেগে উদ্বেল সাধারণ মানুষ। কবিকে কীভাবে শেষযাত্রার জন্য সাজিয়ে দেওয়া হয়েছিল, প্রদর্শণীর একটি প্যানেলে আছে সে কথাও।

"শুনি বনে বনান্তরে 
অসীম গানের রেশ......

মধুর, তোমার শেষ যে না পাই,
প্রহর হল শেষ..."

২৬ শে জুলাই রবিঠাকুর ছিলেন প্রফুল্ল। ৮০ বছরের খুড়ো রবীন্দ্রনাথ আর ৭০ বছর বয়সী ভাইপো অবনীন্দ্রনাথ অতীত দিনের কথা স্মরন করলেন। হাসলেন প্রাণখুলে।

৩০ শে জুলাই ঠিক হয়েছিল তাঁর দেহে অস্ত্রোপাচার হবে। কিন্তু সেটা তাঁকে জানতে দেওয়া হয়নি। বেলা ১১টায় তাকে অপারেশন টেবিলে আনা হয় এবং ১১টা ২০মিনিটে তার অস্ত্রোপাচার হয়। 

পরদিন ৩১ জুলাই যন্ত্রনা বাড়ল।

১লা আগস্ট কথা বলছেন না।

২ রা আগস্ট কিছু খেতে চাইলেন না।

৩রা আগস্টও শরীরের কোনো উন্নতি নেই। 

৪ঠা আগস্ট সকালে সামান্য কফি খেলেন। 

৫ই আগস্ট রাতে স্যালাইন দেওয়া হলো কবিকে। 

৬ই আগস্ট বাড়িতে উত্‍সুক মানুষের ভিড়। 

৭ই আগস্ট ছিল ২২শে শ্রাবণ, দুপুর ১২টা ৩০ মিনটে তিনি অসীম জীবনের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করলেন, কবি চললেন চিরবিদায়ের পথে।

যেদিন কবি শান্তিনিকেতনকে পিছনে ফেলে কলিকাতা রওয়ানা দিয়েছিলেন  তখনও কি তিনি জানতেন যে তার প্রানের আরাম, আত্মার শান্তি এই ভুখন্ডে আর কখনো ফিরবেন না তিনি ?শ্রাবনবেলায় চির একলা এ প্রান্তরে রবি অস্তমিত হল সেই মূহুর্তে , সকলের অলক্ষ্যেই। কলিকাতার  সেই বাইশে শ্রাবন   শান্তিনিকেতনের বুকে আছড়ে পড়েছিল শ্রাবনের বারিধারার মত।

নশ্বর দেহের মৃত্যু ঘটতে পারে , কিন্তু রবীন্দ্রনাথের মৃত্যু হয়না । বাঙালির জীবনের প্রতিটি সুখদুঃখে  মনে আর মননে তিনি আছেন চিরকালীন হয়ে !

 ".....দিনান্তবেলায় শেষের
ফসল নিলেম তরী-'পরে,
এ পারে কৃষি হল সারা,
যাব ও পারের ঘাটে॥
হংসবলাকা উড়ে যায়,
দূরের তীরে, তারার আলোয়,
তারি ডানার ধ্বনি বাজে মোর অন্তরে। 
ভাঁটার নদী ধায় সাগর-পানে   কলতানে,
ভাবনা মোর ভেসে যায় তারি টানে।
যা-কিছু নিয়ে চলি শেষ সঞ্চয়
সুখ নয় সে, দঃখ সে নয়, নয় সে কামনা--
শুনি শুধু মাঝির গান আর
 দাঁড়ের ধ্বনি তাহার স্বরে...."

সাহিত্যিক ও বিশ্বভারতীর গ্রন্থনবিভাগের অধ্যক্ষ রামকুমার মুখোপাধ্যায় অবশ্য বলছিলেন কবি নিজে এই ভাবে নিজের শেষটা চাননি। "তাঁর ইচ্ছা ছিল কোনও জয়ধ্বনি ছাড়া সাধারণভাবে শান্তিনিকেতনে প্রকৃতির কোলেই তিনি যেন মিশে যেতে পারেন। তাঁর শেষ ইচ্ছাটা আর রাখা যায়নি।"

আরও একটা বাইশে শ্রাবণ এসে গেল। ভেজা মাটিতে শিকড় ছুঁয়ে কচি পাতা সূর্যের আলো স্পর্শ করল।

বৃক্ষরোপণ যেন কবির একটা নেশা হয়েছিল শেষ জীবনে। ১৩৩২ বঙ্গাব্দের পঁচিশে বৈশাখ কবির ৬৪ বছরের জন্মদিনে ‘উত্তরায়ণে’র উত্তরে পঞ্চবটী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নিজের হাতে। কবি রোপণ করেছিলেন অশ্বত্থ, বট, বেল, অশোক ও আমলকী— এই পাঁচটি গাছের চারা। প্রথম বৃক্ষরোপণ উপলক্ষে ‘মরু বিজয়ের কেতন উড়াও শূন্যে’ গানটি গাওয়া হয়। সন্ধ্যায় অভিনীত হয় ‘নটীর পূজা’। পণ্ডিত বিধুশেখর শাস্ত্রী আশ্রমের প্রথম বৃক্ষরোপণ উৎসব উপলক্ষে একটি শ্লোকও রচনা করেন—

‘"পান্থানাং পশুনাং পক্ষিনাং চ হিতেচ্ছায়া। 
এষা পঞ্চবটী রবীন্দ্রেনেহ রোপিতা।।’"

বাইশে শ্রাবণ, ১৩৪৮ বঙ্গাব্দের দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের কিছু পরে জোড়াসাঁকোর মহর্ষি ভবনের ঘর থেকেই কবি চলে গেলেন। পরের দিন আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল, ‘কবির বর্তমান অসুস্থতার বহুপূর্বে কবি নাকি এইরূপ ইচ্ছা প্রকাশ করিয়াছিলেন যে তাঁহার অন্তেষ্টিক্রিয়া যেন তাঁহার প্রিয় আবাস শান্তিনিকেতনে সম্পন্ন করা হয়।’

রবীন্দ্রনাথ চাননি এমন যাওয়া। তাই তো ১৯৩০ সালের ২৫ অক্টোবর ইন্দিরাদেবীকে চিঠিতে লিখেছিলেন, ‘‘আমার শ্রাদ্ধ যেন ছাতিম গাছের তলায় বিনা আঢ়ম্বরে বিনা জনতায় হয় – শান্তিনিকেতনের শালবনের মধ্যে আমার স্মরণের সভা মর্ম্মরিত হবে, মঞ্জরিত হবে, যেখানে যেখানে আমার ভালোবাসা আছে, সেই সেইখানেই আমার নাম থাকবে।’’

আর হল ঠিক উল্টোটা। নির্মলকুমারী মহলানবিশ (রানি) সে দিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে লিখেছিলেন, ‘‘যখন স্নান করানো হচ্ছে, নীচের জনতার মধ্যে একদল উপরে এসে বাইরে থেকে টান মেরে দরজার ছিটকিনি খুলে ঘরে ঢুকে পড়ল। কী দারুণ অপমান কবির চৈতন্যহারা এই দেহটার! যে মানুষের মন এত স্পর্শকাতর ছিল, যে মানুষ বাইরের লোকের সামনে নিজের ব্যক্তিগত প্রয়োজনের কথা কখনও প্রকাশ করতে পারতেন না, সেই মানুষের আত্মাহীন দেহখানা অসহায় ভাবে জনতার কৌতূহলী দৃষ্টির সামনে পড়ে রইল। তাড়াতাড়ি তাঁকে ঢাকা দিয়ে সুরেনবাবুরা সবাইকে ঠেলে বাইরে বের করে দিয়ে আবার দরজা বন্ধ করলেন। এক-একটা দরজায় এক-একজন পাহারা। ভিতর থেকে দরজায় ছিটকিনি সত্ত্বেও হাত দিয়ে ঠেলে ধরে রাখা হয়েছে। তবু বাইরে থেকে প্রাণপণ ঝাঁকানি আর উন্মত্ত চিৎকার—দরজা খুলে দিন, আমরা দেখব। তাড়াতাড়ি করে আমরা কাপড় পরানো শেষ করলাম।...বেলা তিনটের সময় একদল অচেনা লোক ঘরের মধ্যে ঢুকে নিমেষে আমাদের সামনে থেকে সেই বরবেশে সজ্জিত দেহ তুলে নিয়ে চলে গেল। যেখানে বসেছিলাম সেখানেই স্তব্ধ হয়ে বসে রইলাম। শুধু কানে আসতে লাগলো-‘জয় বিশ্বকবির জয়, জয় রবীন্দ্রনাথের জয়। বন্দেমাতরম।’

শনিবারের চিঠির সম্পাদক সজনীকান্ত দাসের কথা অনুযায়ী, ‘‘মৌলভী ফজলুল হক, স্যার সর্ব্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, রামানন্দ চট্টোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র বসু প্রভৃতি প্রধানেরা সকলেই সাড়ে বত্রিশ ভাজার মত জনতার মধ্যে মিশাইয়া গিয়াছিলেন।’’ সেটা যে কত মর্মস্পর্শী সত্যি ছিল তা প্রমাণিত হয়, ইতিহাসবিদ তপন রায়চৌধুরীর উক্তিতেও, ‘‘বাইশে শ্রাবণ আমার কাছে শুধু জাতীয় শোকের দিন নয় জাতীয় গ্লানির দিনও হয়ে আছে।’’

কবিরই দেওয়া নাম "আকাশবাণী"। রেডিও সে দিন শান্তিনিকেতনকে জানিয়েছিল কবির চলে যাওয়া। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্র কবির মৃত্যু ও নিমতলায় দেহ সৎকারের ধারাভাষ্য দিয়েছিলেন। শান্তিনিকেতনের পশ্চিম তোরণের কাছে একটি ভবনে রেডিও ছিল। সে দিন যেন বিশ্বাস করতে পারেনি শান্তিনিকেতন আকাশবাণীর দেওয়া সেই সংবাদ। কিন্তু কবির শেষ ইচ্ছে পূরণ করেছিল শান্তিনিকেতন। কণিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, শান্তিদেব ঘোষ-সহ অনেকে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে পাঠভবন গ্রন্থাগার থেকে উপাসনা মন্দির পর্যন্ত ‘সমুখে শান্তি পারাবার-ভাসাও তরণী হে কর্ণধার।’ --গানটি সমবেত কন্ঠে গাইতে গাইতে গিয়েছিলেন। অথচ এই গানটা গাওয়ার কথা ছিল 'ডাকঘর' নাটকের একটি বিশেষ প্রযোজনায়। ফকিরের চরিত্রে অভিনয়ের কথা ছিল স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। কিন্তু সেই প্রযোজনা শেষ পর্যন্ত মঞ্চস্থ হয়নি। অমলের মৃত্যুর পরে এই গান গাওয়া হবে বলে ঠিক করেও কবিই নাকচ করে দিলেন। সে দিন তাঁরই চাওয়া ছিল, এ গান যেন তাঁর স্মরণসভায় গাওয়া হয়। সে দিন বিশেষ উপাসনা মন্দির পরিচালনা করেছিলেন আচার্য ক্ষিতিমোহন সেন। সেখানেও এই গানটিই গাওয়া হয়। শালবীথিতে মৃত্যুর ইচ্ছে পূরণ না হলেও দিন কয়েকের মধ্যেই কবির স্নেহধন্য শিল্পী সুরেন্দ্রনাথ কর পিতলের কলসিতে করে চিতাভস্ম নিয়ে শান্তিনিকেতনে আসেন। যা এখনও রবীন্দ্রভবনে সযত্নে সংরক্ষিত।

কবি চলে যাওয়ার দশ দিন পরেই ৩২ শ্রাবণ রবিবার, ইংরেজির ১৭ অগস্ট, ১৯৪১ সালে সকাল ৬.৩০ মিনিটে রবীন্দ্রনাথের প্রিয় ছাতিমতলায় ক্ষিতিমোহন সেন ও বিধুশেখর শাস্ত্রী আদি ব্রাহ্মসমাজ মতে শ্রাদ্ধবাসর পৌরহিত্য করেন। শ্রাদ্ধবাসরে কঠোপনিষদ থেকে যম ও নচিকেতার অংশটি পাঠ করেন মহামহোপাধ্যায় বিধুশেখর শাস্ত্রী। পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পাদন করেন রথীন্দ্রনাথ ও সুবীরেন্দ্রনাথ ঠাকুর। উপস্থিত সকলকে কবিগুরুর শেষ বয়সের ছবি, শেষ কবিতা ও সমুখে শান্তি পারাবার গানটি মুদ্রিত হরফে দেওয়া হয়।  এর পরে বিশ্বভারতীর তরফ থেকে দরিদ্রদের অন্ন ও বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

৩০ জুলাই ১৯৪১, রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনের শেষ তিনটি পঙ্ক্তি রচনা করেন,

‘অনায়াসে যে পেরেছে ছলনা সহিতে, 
সে পায় তোমার হাতে, 
শান্তির অক্ষয় অধিকার।’

নিজের মৃত্যুকেও যে স্বপ্ন দিয়ে বুনে রাখা যায় তার উদাহরণও কবি। তাই বোধহয় প্রাণের সঞ্চারের প্রকাশ বৃক্ষরোপণেই সম্ভব, এই ভাবনাতেও তাঁর চলে যাওয়ার পরেও প্রত্যক্ষ, প্রাণবন্ত হয়ে থাকার সূচনাও করে গিয়েছিলেন নিজের হাতে কোনও না কোনও ছুতোয় গাছ লাগানোর মধ্যে দিয়েই।     

১৩৩৫ বঙ্গাব্দের ৩০ আষাঢ়, ১৯২৮ সালের ১৪ জুলাই, শান্তিনিকেতনের গৌরপ্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ উৎসবের আয়োজন করেছিলেন কবি।  এরপরে সিংহসদনের সভায় কবি তাঁর রচিত ‘বলাই’ লেখাটি পড়েন। পিতৃ–মাতৃহীন বলাই তার নিঃসঙ্গ জীবনে উদ্ভিদদের সঙ্গে আত্মীয়তা অনুভব করত। তাই তা প্রাসঙ্গিক ছিল সে দিন।

বৃক্ষরোপণ উৎসব নিয়ে উৎসাহের অন্ত ছিল না তাঁর। ইউরোপ প্রবাসী পুত্রবধূ প্রতিমাদেবীকে ২৫ জুলাই রবীন্দ্রনাথ একটি চিঠিতে লিখেছিলেন— ‘তোমার টবের বকুল গাছটাকে নিয়ে অনুষ্ঠানটা হল। পৃথিবীতে কোনও গাছের এমন সৌভাগ্য কল্পনা করতে পার না। সুন্দরী বালিকারা সুপরিচ্ছন্ন হয়ে শাঁখ বাজাতে বাজাতে গান গাইতে গাইতে গাছের সঙ্গে যজ্ঞক্ষেত্রে এল। (বিধুশেখর) শাস্ত্রী মহাশয় সংস্কৃত শ্লোক আওড়ালেন— আমি একে একে ছয়টা কবিতা পড়লাম।’

‘তপতী’ নাটক রচনার কয়েকদিন পরেই  ১৯২৯ সালের ১০ অগস্ট বৃক্ষরোপণ উপলক্ষে  কবি লিখেছিলেন —

‘আয় আমাদের অঙ্গনে
অতিথি বালক তরুদল
মানবের স্নেহ–সঙ্গ নে।’

১৯৩৬ সালের বার্ষিক বর্ষামঙ্গল ও বৃক্ষরোপণ উৎসবের আয়োজন হয়েছিল শান্তিনিকেতন আশ্রমের কাছে ভুবনডাঙা গ্রামে। সে বার ভুবনডাঙার বিশাল জলাশয় প্রতিষ্ঠা ছিল বর্ষামঙ্গল উৎসবের একটি বিশেষ অঙ্গ। কবি এই জলাশয়ের ধারে একটি কৃষ্ণচূড়া গাছের চারা রোপণ করেন। বর্ষামঙ্গল উপলক্ষে তাঁর লেখা নতুন তিনটি গান গাওয়া হল — ‘চলে ছল ছল নদী ধারা নিবিড় ছায়ায়’, ‘আঁধার অম্বরে প্রচণ্ড ডম্বরু’ এবং ‘ঐ মালতীলতা দোলে’।

১৯৩৭ সালের ১৪ অগস্ট ‘আন্দামান দিবস’–এর অনুষ্ঠান হবে। কবি চাইলেন এতেও বৃক্ষরোপণ হোক। এই গাছেদের মধ্যে তিনিও মিশে থাকবেন শান্তিনিকেতন জুড়ে। হলও তাই। শান্তিনিকেতনের কাছে সাঁওতাল গ্রামে বৃক্ষরোপণ উৎসবে পৌরোহিত্য করলেন কবি।  পরের বছর ১৯৩৮ সালে বৃক্ষরোপণ উৎসবে কবির বিশেষ আমন্ত্রণে সর্বপল্লী ডঃ রাধাকৃষ্ণন এসেছিলেন।

১৯৪০ সালের ৩ সেপ্টেম্বর শান্তিনিকেতনে বৃক্ষরোপণ ও বর্ষামঙ্গল অনুষ্ঠিত হল। কবির রচিত শেষ বর্ষা সঙ্গীত - ‘এসো এসো ও গো শ্যামছায়াঘন দিন’ গাওয়া হল।

কবি চলে যাওয়ার সময় ভিড়ের চাপে শ্মশানে পৌঁছতে পারেননি রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর। কিন্তু বাবার শেষ ইচ্ছে পূরণ করেছিলেন শান্তিনিকেতনেই। মাসখানেক পরে এখানে বৃক্ষরোপণ করেন তিনি। পরের বছর কবি–কন্যা মীরাদেবী ছাতিমতলার কাছে আরেকটি ছাতিম গাছের চারা বসিয়েছিলেন।

বৃক্ষরোপণ যে জীবনবৃক্ষের নব সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দেয়, তা বারবার মনে করিয়ে দেয় বাইশে শ্রাবণ। এই ছাতিম, আমলকী, অশোক, বেল, অশ্বত্থতেই তো কবির স্পর্শ, কবির প্রাণ জুড়ে আছে।। 


তথ্যঋণ :------

১) আনন্দবাজার পত্রিকা, চিঠিপত্র ৫
২) বাইশে শ্রাবণ- নির্মলকুমারী মহলানবিশ
৩) বাঙালনামা- তপন রায়চৌধুরী
৪) শনিবারের চিঠি, ১৩শ বর্ষ, একাদশ সংখ্যা, ভাদ্র ১৩৪৮। 
৫) অমিতাভ ভট্টশালী।
৬) ইন্টারনেট এবং আরও অনেক।
৭) রবীন্দ্রনাথ, রবীন্দ্রনাথঃ পূর্ণানন্দ চট্টোপাধ্যায়। 
৮) বাইশে শ্রাবণঃ- রানি চন্দ। 
৯)গুরুদেবঃ- রানি চন্দ।

আরও পড়ুন 

Comments

  1. পাঠে ঋদ্ধ হচ্ছি, জীবনের অনিবার্য সব ধারনা পরিবর্তিত হল।

    ReplyDelete

Post a Comment

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি