ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা- ৯১

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা- ৯১


সম্পাদকীয়,
তোমরা কি জানো বেড়ালেরা মিষ্টির স্বাদ বুঝতে পারে না? আরে যে বেড়ালটা প্রথম মহাকাশে যায় তার নাম জান কি? জানতাম, জানবে না।  তাই তো সৌগত দাদার লেখা ক্যাট কাহন নিয়ে এলাম এবারের সংখ্যায়। আর প্রতিবারের মতো পীযূষ আঙ্কেল দ্বিজেন্দ্রলালকে নিয়ে লিখেছেন।  তবে জানা অজানার গল্পে এবারের সংখ্যা যে খুব গুরুগম্ভীর তা কিন্তু একদমই নয়। মজার ছড়া লিখে তারাপ্রসাদ আঙ্কেল সুকুমার রায়ের কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন। শুধু কি তাই! ভজন আঙ্কেল চড়কের মেলার গল্প ছড়ায় বলেছেন। আর কল্যাণ আঙ্কেল রথ টানার ছবি পাঠিয়েছে। শেষ করার আগে মৎস্য মুখ করে দিই। জয়াবতীর গল্পে তৃষ্ণা আন্টি গঙ্গার ইলিশ খাওয়ার কথা বলেছেন। এই বর্ষাকালে ইলিশের নাম শুনেই তো আমি এক থালা ভাত নিয়ে বসে গেছি। আর তোমরা? রেডী তো খাতা পেনসিল নিয়ে? চটপট এঁকে আর লিখে পাঠাও গল্প ছড়া আর রঙীন ছবি।  -- মৌসুমী ঘোষ।



জয়াবতীর  জয়যাত্রা
ত্রিবিংশ পর্ব
গঙ্গার বুকে নৌকায়

২৭
সেদিন তর্পণের কাজ বেশ সুষ্ঠুভাবেই হয়ে গেল, শুধু পুণ্যি তর্পণ করবে শুনে পুরুতমশাই বাঁকা হাসি হেসে বলল ‘কালে কালে কত দেখব? মেয়েমানুষের সাধের শেষ নেই। গঙ্গায় এসে মরা সোয়ামীর জন্য তর্পণ করবে, আমাদের মা ঠাকুমারা এসব লজ্জায় মুখেই আনতে পারত না’
তা শুনেই বিরক্ত গলায় সেনমশাই বললেন ‘আপনার অত কথায় কাজ কি ঠাকুর মশাই? দক্ষিণা সেই হিসেবেই দিচ্ছি তো আমি’
তাঁর কথা শেষ হবার আগেই জয়াবতী ঝাঁপিয়ে পড়ল। ‘মা গঙ্গা তো মেয়েমানুষই, তাই কিনা ,ও পুরুত মশাই? তাঁর কাছে মেয়েমানুষ এসে যদি তার মরা সোয়ামীকে একটু জল দিতে চায়, তাতে আপনার ক্ষেতি কি? আপনারাই তো বিধেন দিয়েচেন সোয়ামী মরলে ইস্তিরিকেও ধরে বেঁধে পুড়িয়ে মারতে হবে, তা এত যখন আপন সোয়ামী, সে জল না পেলে কোন ইস্তিরি সুস্থির থাকতে পারে বলুন দিকি?’
পুরুত মশাই আর কথা বাড়াননি। কিন্তু পুণ্যি অবাক হয়ে গেল জয়াবতীর কথায়। এই মেয়েই তো তার তর্পণের কথায় একটুও খুশি হয়নি। কিন্তু তাকে কেউ কুকথা বলবে সেটাও তার সহ্য হবে না। কৃতজ্ঞতায় তার চোখে জল চলে এল।তাই দেখে সরে গেল জয়াবতী। তার এসব কান্না টান্না মোটেই পছন্দ না।
সব কাজ চুকে যেতে ঠাকমা সব্বাইকে চিঁড়ে দই আর কলার ফলার মেখে দিলেন, সঙ্গে নাড়ু আর বাতাসা। গঙ্গার ধারে কয়েকটা চালাঘর আছে। সেদিকে উনুন পেতে রান্নার উজ্জুগ করছে, রান্না কিছুই না, চালে ডালে খিচুড়ি। সোনা মুগ ডালের খিচুড়ি ঘি দিয়ে অমৃত, তবু জয়াবতী ভাবল আজ মহালয়া না হয়ে অন্য দিন হলে বেশ হত। গঙ্গার ইলিশ গরম গরম ভাজা, আহা আহা। কিন্তু জয়াবতী জানে এ কথা শুনলে সবাই তাকে মারতে আসবে।পুণ্যি তো তাকে ভষ্ম করে দেবে। তবু সে যেন আপন মনেই বলল ‘ও সেনমশাই, একবার এমনি একটা ভালো দিনে আসলে হয় না?’
ভালো দিন মানে যে মাছের দিন তা কে না জানে!খাওয়ার পর সেনমশাই সব্বাইকে ডেকে বললেন, এখন হাতে খানিক সময় আছে, কাহাররা সবে ভরপেট খিচুড়ি খেয়েছে, এখুনি তারা পালকি নিয়ে বেরুতে পারবে না, তাই তিনি ভাবছেন খানিকক্ষণ নৌকোয় হাওয়া খেয়ে এলে কেমন হয়। কিন্তু ওইপারে যাওয়া হবে না।
জয়াবতী আনন্দে লাফিয়ে উঠল। পানু তো নাচতে লাগল আনন্দে। ওইপারের কথায় উমাশশীর মুখে একটু আলো ফুটে আবার নিভে গেল।

সেটা লক্ষ্য করেই সেনমশাই বললেন ‘মা উমাশশী, তুমি আজ আমাদের বাড়ি গিয়ে কিছুদিন বিশ্রাম করে সুস্থ হও। তারপর তোমার বাড়ির ঠিকানা বললে আমি পত্রবাহক পাঠাব, সেই পত্র পেয়ে নিশ্চয় তোমার বাড়ির লোক আমার কাছে আসবে, তখন তুমি যদি মনে করো বাড়ি যাবে, যেও, নইলে আমার বাড়িতে এদের সঙ্গে থেকে অধ্যয়ন করতে পারো’
এ তো বড় আশ্চর্য কথা বললেন সেনমশাই। বাড়ি থেকে লোক আসার পরও উমাশশী নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে সে বাড়ি যাবে না, এখানে থেকে যাবে! উহহ। ভাবতেই গায়ে কাঁটা দিচ্ছে জয়াবতীর।   সে ফিসফিস করে পুণ্যিকে বলে ‘এই পুণ্যি, অধ্যয়ন মানে কী রে?’
পুণ্যি অন্য সময় খেঁকিয়ে উত্তর দিত ‘এটাও জানিস না?’
আজ সে কেমন উদাস গলায় বলল ‘পড়াশোনা’ জয়াবতী বুঝতে পারল আজ পুণ্যির জীবনে একটা বিশেষ দিন।আজ এই প্রথম সে সবার চোখের সামনে তার মরা স্বামীর উদ্দেশ্যে জল দিল। এ নিয়ে তাকে কেউ কোন বাজে কথা বলেনি, বলেনি এই পুঁটি একটা মেয়ের এত সাধ কীসের? সবাই মিলে সুন্দর করে তার সাধ মেটানোর ব্যবস্থা করে দিয়েছে। যদিও জয়াবতীর মোটেই পছন্দ ছিল না এই ব্যাপারটা। তবু সে ভাবল এ একরকম ভালই হল, প্রাণটা ঠান্ডা হল পুণ্যির, এবার থেকে ওর বরের কথা মনে করে ফ্যাঁচ ফ্যাঁচ করে কান্না বন্ধ হবে আশা করা যায়। 
কিন্তু কত বড় কথাটা সেনমশাই বললেন ভাবলে অবাক হতে হয়। ইচ্ছে করলে ফিরতে পারে, কিন্তু কিন্তু এর মধ্যে একটা কোন গুপ্ত কথা আছে, যে মেয়েকে ডাকাত মায়ের কোল থেকে তুলে নিয়ে যায়, তার তো বাড়িতে ফেরার জন্য প্রাণ আকুবাকু করবে, তার কেন ইচ্ছে করবে না? অদ্ভুত!
কিন্তু সেই মুহূর্তে ওর  সামনে নৌকা চড়ার আনন্দ ।আজ শুধু পুণ্যি কেন, তাদের সবার জীবনেই একটা বিশেষ দিন। পানু পর্যন্ত তাদের কানে কানে বলে গেল ‘ আমি ভাই জীবনে নৌকো চড়িনি, জানিস তো?’
পানু, পুরুষ ছেলে সেও নৌকো চড়েনি! জয়াবতীর আশ্চর্য লাগল।তারপর সে ভেবে দেখল ছেলেদের আর মেয়েদের জগত আলাদা তো আর ভগমান করে পাঠায়নি। করেছে এই গাঁ, পাড়া। তারা মেয়েগুলোকে ঘরে  আটকে রেখেছে, ছেলেগুলোকেও রেহাই দেয়নি। তাদেরও পায়ে বেড়ি পরিয়ে রেখেছে। অমুক তিথিতে বেগুন খেতে নেই, অমুক জায়গায় যেতে নেই। যেটুকু ছেড়েছে, তা শুধু কড়ি পাবার আশায়, পেটের ভাতের জন্যে। তবে এটাও ঠিক, তাদের এই বঙ্গ দেশ এত সুজলা সুফলা শস্যশ্যামলা যে এখানে পুকুরভরা মাছ, খেত ভরা ধান, তাই লোকের বাইরে যাবার দরকার পড়ে না। এই যে মোচলমান মোচলমান করে সবাই নাক সিঁটকোয়, ওরা নাকি সব এসেছে রুখা সুখা দেশ থেকে, এ দেশে এসে ওরা এত সবুজ দেখে চমকে গেছে নিশ্চয়, এত মণিমাণিক্য। কষ্ট করলে কেষ্ট তো পাবেই, জয়াবতী ভাবল। পুণ্যি বলল ‘কই রে গঙ্গাজল, এত তো সব জায়গায় যাব যাব করে নাপাস, এখন হাঁ করে দাঁড়িয়ে কী আকাশ পাতাল ভাবছিস? সবাই উটে গেল নৌকোয়, এরপর আর আমাদের জায়গা হবে না!’
‘হুঁ পুণ্যির যেমন কতা। জায়গা হবে না, কার ঘাড়ে কটা মাথা দেকি তো?’ মনে মনে ভাবল অবশ্য, মুখে এসব কতা বলতে নেই কো, আজ যে একটা বিশেষ দিন সে তার খেয়াল আছে। পুণ্যি পেরজাপতির হাত ধরে ওঠে নৌকায়, উমাশশীকে ধরে ধরে নিয়ে ওঠে জয়াবতী।নৌকো ছেড়ে দেয়, কী চমৎকার আবহাওয়া আজ, আকাশে শরতের ছেঁড়া ছেঁড়াসাদা মেঘ, চনচনে নীল আকাশ, সাদা সাদা পাখি জল ছুঁয়ে ছুঁয়ে আবার উড়ে যাচ্ছে, জয়াবতী ভাবল এত যে জলের ওপর ঘেঁষে ওরা উড়ে যায়, ওদের ভয় করে না? ওদের বাসা কোথায়? সে পুণ্যিকে বলল ‘দেখ ভাই গঙ্গাজল, পাখিগুলো তো মাছ নয়, আকাশেই ওদের সবকিছু, তবু জল ছুঁয়ে ছুঁয়ে কেমন উড়ছে দেখ, একটুও ভয়ডর নেই’
উমাশশী আস্তে আস্তে বলল, ‘আমার ওই হোথা বাড়ি, আমি রোজ সকাল বিকেল দেখতাম এই পাখিদের, এদের বলে গাঙ্গচিল।খুব ভালো লাগত আমার।’
সবাই চোখ চালিয়েও উমাশশীর বাড়ি পেল না। যেন সরু রেখায় চিত্র করা সবুজ কী একটা।
জয়াবতী আপন মনে বলে ‘আমরা যদি পাখি হতাম, তবে বেশ হত তাই না ভাই সাগরজল? কেমন উড়ে উড়ে নানা দেশে বেড়াতাম, সকাল হলেই থোড় কুটতে বসেছে জগোপিসি –এই দৃশ্য  দেখতে হত না রোজ। আচ্ছা ভাই, একটা নতুন দিন শুরু হল আর আমরা চোখ মেলেই মাত্তর কী খাব, কী খাব করব, কেমন লাগে বল তো? পাখি হলে গাছের ফল আর নদীর জল খেতাম, ইচ্ছেমত ঘুরে বেড়াতাম, ঘোড়ার জন্যে, পাল্কির জন্যে হা পিত্যেশ করে থাকতে হত না।’
সাগরজল মানে উমাশশী তখুনি উত্তর দিল না, ও যেন কী ভাবছে, তারপর একটু ঝুঁকে পড়ে নদীর জলে হাত দিয়ে সেই জল সবার মাথায় ছিটিয়ে দিল-
তারপর বলল-
‘কোথা ধাও কেন ধাও ওগো সুরধুনী
কী মধুর কলস্বর মুগ্ধ হয়ে শুনি!’
সবাই মুগ্ধ হয়ে গেল। সেনমশাই বললেন ‘এ তো স্বভাবকবি, মা তোমাকে আমি ছাড়ছি না। তুমি এখানে থেকে পড়াশোনা করবে।’ (ক্রমশ)


চড়কগাছে একদিন 
ভজন দত্ত

কেনা টেনার হট্টমেলায় 
চড়ক ঘোরে কই 
চড়কে আটক ছানাপোনা 
মই আনো সই

হাত বাড়ালে আকাশ ছিল, 
কানের কাছে বাতাস ছিল 
ফুরফুরে মন ভয়শূন্য ছিল 
কেমন কাঁদোকাঁদো ভাব ছিল 
মন খারাপের বাদল ছিল 
বিনামেঘে বাজপড়ার ভয় ছিল 
মা যাবো বাপি যাবো 
মাগো বাবাগো ডাকও ছিল 
ছাড়ান দে মা বেঁচে কাঁদি
হাউমাউখাউ কেঁদে ভাসায় কেউ
অন্তরে কান্নাকান্না ভাব ছিল 
ওপর থেকে নীচের মানুষগুলিকে 
কেমন পিঁপড়ে পিঁপড়ে লাগছিল 

দূরে কোথাও হাউইবাজি ফাটছিল 
হাওয়ায় ছিল পাঁপড় গন্ধ 
চড়ার আগে ঠিক দেখেছিলাম 
গরম গরম জিলাপি ভাজছিল 
সেসবও মনে পড়ে যাচ্ছিল
খিদের পেটে খাওয়ার গন্ধ 
নাকে ঢুকে কেন জ্বালাচ্ছিল 


আমি তো সব দেখছিলাম 
সঙ্গে যে আমার বাবা ছিল…


বল কি হে
তারাপ্রসাদ সাঁতরা

দেখেছ কি রামাদাস
হাবুলের ঘোড়াটা
বল কি হে, ঘোড়া!
দেখেছি তো গাধাটা।

আরে আরে ওই হল
ওতেই তো ফুটুনি
টাট্টুর বাড়া নাকি
আমরা তা বুঝিনি।

একলাফে দশ গজ
দশলাফে একশো
বলে কিনা দেখ যদি
লাগবে তা ট্যাক্স।

এঁ বল কি হে শ্যামাদাস
তা কখনো হয় কি!
বাঁদরে লাফালে সাগর
সাগরের থাকে কি!

গাধা যদি ঘোড়া হয়
আরশোলা পাখি কও
কালে কালে কত শুনি
কান-দুটো ঢেকে নাও।

হক কথা শোন বলি
কথা নয় মন্দ
ফুটুনির ফোটা ফুলে
থাকে না-তো গন্ধ।

আমিও তো বলি ভাই
ফুটুনিটা করো না
তোমার হাঁড়ির খবর
ভাব বুঝি জানি না।।


ইচ্ছে করে
ভানুপ্রিয়া মাহাত
নবম শ্রেণী
জওহর নবোদয় বিদ্যালয়
পশ্চিম মেদিনীপুর
      
ধুর ছাই 
ভাল্লাগে না 
বোরিং এই 
লেখাপড়া 
ইচ্ছে করে 
বেড়ায় উড়ে 
পাখির মতো 
দূর দেশেতে 
ইচ্ছে করে 
কোনো এক 
অনেক দূরের 
অচিন দেশে 
যাই পালিয়ে 
পাখির ওই 
দুইটি খানি 
ডানা নিয়ে 
যেখানে নেই 
নিয়ম মানা 
নেইকো কোনো 
ছুটির পড়া 
আছে শুধু 
খুশির ভেলা 
আর আছে 
বন্ধু মেলা 
সেইখানে তেই 
ইচ্ছে করে 
যাই চলে 
এক ছুটেতে ।


জানা-অজানার গল্প

ক‍্যাট-কাহন

সৌগত রায়

নতুন জিনিস জানতে কার না ভালো লাগে ! আর বর্তমান ইন্টারনেট এর যুগে কোনো বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া খুবই সোজা কাজ হয়ে পড়েছে । কিন্তু আমরা তো তা করি না । হাতে ফোন আর তাতে ইন্টারনেট থাকলেই গেমস কিম্বা Social Media - এই করেই ১.৫ জিবি শেষ। যেমন এখন যদি আমি তোমাদের জিজ্ঞেস করি যে তোমরা কি জানো পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী বিড়াল এর কাছে প্রায় ৭ মিলিয়ন পাউন্ড (প্রায় ৬০ কোটি টাকা)র সম্পত্তি ছিল ? অধিকাংশই হয়ত জানো না। আর যারা জানো না তারা এখন হা হয়ে রয়েছ ব্যাপারটা জানার পর। ভাবছ বিড়াল এর কাছে আবার টাকা কিভাবে থাকতে পারে! আজ্ঞে হ্যাঁ, তোমরা ঠিকই শুনেছ। এই বিড়ালটির নাম ব্লাকি(blackie) । এই বিড়ালটির যিনি মালিক ছিলেন, Ben Rea  তিনি মৃত্যুর আগে তার সম্পত্তি তার বেড়ালের নামে করে দিয়েছিলেন। ভাবা যায়! তোমরা জানো কিছু বিজ্ঞানীদের মতে বিড়াল মিষ্টি স্বাদ বুঝতে পারে না! এদের 'sweet blind' বলা হয়। তাই এরপর থেকে বাড়ির বিড়ালটাকে আর মিষ্টি খেতে দিও না। কি হবে দিয়ে যখন তারা স্বাদই বুঝবে না! এই ফাঁকে তোমাদের আরেকটা কথা জানিয়ে রাখি বাড়িতে বেড়াল থাকলে কিন্তু তাকে কখনো পেঁয়াজ, রসুন, আঙ্গুর এসব দিও না। এগুলো তাদের পক্ষে খুবই ক্ষতিকারক।  চকলেট তোমার হয়ত খুব প্রিয় কিন্তু খবরদার কখনো বিড়ালকে দিও না। গবেষণা তো এও বলে যে বিড়াল নাকি দিনে প্রায় বারো থেকে পনেরো ঘণ্টা ঘুমিয়েই কাটায়। আর যেটুকু সময় জেগে থাকে সেটুকু সময়ের প্রায় চার ভাগের এক ভাগ নিজেকে সাজাতে ব্যস্ত থাকে। বিড়ালকে তো আমরা দুধ খেতে দেই। কিন্তু শুনলে অবাক হবে, গবেষণায় দেখা গেছে বেশির ভাগ বিড়াল এর শরীরেই দুধ হজম করার জন্য দরকারি উৎসেচক থাকে না। 
"লাইকা" কুকুরের নাম আশা করি শুনেছ? হ্যাঁ সেই কুকুরটা যাকে মহাকাশে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের কথা সে বেঁচে ফেরেনি। এরকমই  ফেলিসেট পৃথিবীর প্রথম বিড়াল যাকে মহাকাশে পাঠানো হয় ১৮ই অক্টোবর, ১৯৬৩ সালে। আর মজার ব্যাপার এই যে সে বেঁচে ফিরেছিল। প্রাচীন মিশরে বহু দেব দেবীর মাথা বিড়াল এর মত ছিল। অর্থাৎ সেখানে বিড়ালকে দেবতা রূপে পুজো করা হত। বিড়াল কিন্তু তোমার আওয়াজ চিনতে পারে। তাই যদি তুমি বিড়ালকে ডাকো তবুও সে না আসে তার মানে সে ইচ্ছে করে তোমায় পাত্তা দিচ্ছে না। তোমরা নিশ্চয়ই জানো প্রত্যেক মানুষের হাতের আঙ্গুলের ছাপ আলাদা হয়? ঠিক তেমনই প্রত্যেক বেড়াল এর নাকের আলাদা আলাদা ছাপ হয়। আহা! ভাবো তো বিড়াল সমাজে কোনো কিছু চুরি হলেও কিন্তু চোর পালিয়ে বাঁচতে পারবে না। "বিল্লু"-দা নাকের ছাপ পরখ করে তাকে ঠিক খুঁজে বের করে দেবে। তাই না? কালো বিড়াল দেখলে তোমরা তো অনেকেই এখনও সেটাকে খারাপ বলে মনে করো তাই না? কি জানি বাপু তোমাদের মতিগতি বুঝি না। এদিকে নিজেকে "modern" বলবে আবার এসব কুসংস্কারেও বিশ্বাস করবে। যাইহোক তোমরা কি জানো অস্ট্রেলিয়ায় কিন্তু কালো বিড়ালকে শুভ মানা হয়। বিড়ালদের স্বাভাবিক জীবনকাল ১২ থেকে ১৮ বছর। কিন্তু অস্টিন এর একটি বিড়াল যার নাম ছিল ' ক্রিম পাফ ' সে কিন্তু প্রায় ৩৮ বছর বেঁচে ছিল! বিড়াল প্রায় ১০০ রকমের আওয়াজ করতে পারে। যেখানে কুকুর মাত্র ১০ রকম আওয়াজ করতে পারে। এমনকি বলা হয় যে আমরা বিড়ালের যে ডাকটা শুনে থাকি "মেও" ওটা নাকি শুধুমাত্র মানুষের সাথে যোগাযোগের আওয়াজ। 
আজ নিশ্চয়ই অনেক কিছু নতুন জানলে বিড়ালকে নিয়ে। এক কাজ করো না! তোমাদের বন্ধুদেরকেও জানাও এগুলো , চমকে দাও তাদের। আজ তাহলে এখানেই কলম ছাড়লাম ? আবার দেখা হবে নতুন কোনো বিষয়ে এরম মজাদার তথ্য নিয়ে। ভালো থেকো সবাই। 
ম্যাও !!


স্মরণীয়
( দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)
কলমে - পীযূষ প্রতিহার

   বাংলার খ্যাতিমান কবি, নাট্যকার ও সংগীতস্রষ্টা দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ১৮৬৩ খ্রীষ্টাব্দের ১৯ জুলাই নদীয়ার কৃষ্ণনগরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা কৃষ্ণনগর রাজবংশের দেওয়ান কার্তিকেয় রায় ছিলেন বিশিষ্ট খেয়াল গায়ক ও সাহিত্যিক। মা ছিলেন প্রসন্নময়ী দেবী। তিনি ১৮৭৮ সালে প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বৃত্তি লাভ করেন। কৃষ্ণনগর গভর্নমেন্ট কলেজ থেকে এফ এ পাশ করেন। হুগলী কলেজ থেকে বি এ এবং প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে ১৮৮৪ সালে এম এ পাশ করেন। এরপর কিছুদিন ছাপরার রেভেলগঞ্জ মুখার্জী সেমিনারিতে শিক্ষকতা করার পর সরকারি বৃত্তি নিয়ে ইংল্যান্ডে যান কৃষিবিদ্যা বিষয়ে পড়াশোনা করার জন্য। রয়্যাল এগ্রিকালচারাল কলেজ ও এগ্রিকালচারাল সোসাইটি থেকে কৃষিবিদ্যায় FRAS, MRAC ও MRAS ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৮৮৬ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর একমাত্র ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ  Lyrics of Ind. ঐ বছরই দেশে ফিরে আসেন তিনি এবং সরকারি চাকরিতে নিযুক্ত হন। দেশে ফিরে প্রায়শ্চিত্ত করতে অস্বীকার করলে নানা রকম সামাজিক উৎপীড়নের শিকার হন। এইসময় তিনি জরিপ ও করমূল্যায়ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে মধ্যপ্রদেশে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তী কালে তিনি দিনাজপুরে সহকারী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ পান। শারিরীক অসুস্থতার কারণে ১৯১৩ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

    বাড়িতে বাবা, দুই দাদা এবং বৌদির সাহিত্যচর্চা এবং বাংলা সাহিত্যের দিকপাল বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন ও দীনবন্ধু মিত্রের মতো সাহিত্যিকদের নিয়মিত আগমনে অনুপ্রাণিত দ্বিজেন্দ্রলাল কৈশোরেই কবিতা লেখা শুরু করেন। ১৯০৫ সালে কলকাতায় তিনি পূর্ণিমা সম্মেলনে নামে একটি সাহিত্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯১৩ সালে তিনি 'ভারতবর্ষ' নামে একটি পত্রিকার সম্পাদনা শুরু করেন। তাঁর রচিত বিখ্যাত কাব্যগ্রন্থ গুলি হল 'আর্যগাথা'(১ম ও ২য় ভাগ), আলেখ্য, ত্রিবেনী এবং 'মন্দ্র'। "ধনধান্য পুষ্প ভরা আমাদের এই বসুন্ধরা", "বঙ্গ আমার জননী আমার" ইত্যাদি বিখ্যাত গানগুলি শুনলেই আমাদের দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের কথা মনে পড়ে। তিনি প্রায় পাঁচশত গান রচনা করেছেন। কবিতা ও গানের বাইরে যে বিষয়টি তাঁকে সবচেয়ে বেশি খ্যাতি প্রদান করেছে সেটি নাটক। নাট্যকার দ্বিজেন্দ্রলাল আজও সমান জনপ্রিয়। প্রহসন, কাব্যনাট্য, ঐতিহাসিক নাটক ও সামাজিক নাটকে সমান দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন তিনি। তাঁর রচিত সবচেয়ে বিখ্যাত নাটক হল 'সাজাহান'(১৯০৯)। এছাড়াও তাঁর অন্যান্য বিখ্যাত নাটক হল 'একঘরে'(১৮৮৯), 'কল্কি-অবতার'(১৮৯৫), 'বিরহ'(১৮৯৭), 'সীতা'(১৯০৮), 'তারাবাঈ'(১৯০৩), 'রাণা প্রতাপসিংহ'(১৯০৫), 'মেবার পতন'(১৯০৮), 'নূরজাহান'(১৯০৮), 'চন্দ্রগুপ্ত'(১৯১২) ইত্যাদি। তাঁর রচনায় দেশপ্রেম বারবার ফিরে ফিরে এসেছে।

    ১৯১৩ সালের ১৭ই মে কলকাতায় দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের জীবনাবসান হয়।


পাঠ প্রতিক্রিয়া
(ছোটোবেলা ৯০ পড়ে অদ্রিজা সাঁতরা যা লিখল)

মৌসুমী ঘোষ সম্পাদিত জ্বলদর্চি- ছোটবেলা ৯০ পড়তে পড়তে যেন ফিরে যাচ্ছিলাম ছোটবেলার সেই বৃষ্টিখেলার দিনগুলিতে। হ্যাঁ, বৃষ্টি আর খেলা-- এই দুইয়ের মিশেলে এবারের সংখ্যাটি ছোটদের জন্য যেমন মজাদার, বড়দের কাছে তেমনই নস্টালজিক।ঋপণ আর্যর প্রচ্ছদ চিত্রে যেন লেগে আছে বৃষ্টিধোয়া সোঁদা মাটির গন্ধ, সেইসঙ্গে দুটি অনাবিল হাসিমুখ। প্রতিবারের মতোই তৃষ্ণা বসাকের ধারাবাহিক উপন্যাস "জয়াবতীর জয়যাত্রা"র দ্বাবিংশ পর্বটিও বেশ বলিষ্ঠ। সাহসী, স্বাধীনচেতা, উদারমনা জয়াবতী পেয়েছে তার নতুন সই উমাশশীকে, যে কিনা মুখে মুখে ছড়া কেটে তাক লাগিয়ে দেয় সব্বাইকে। জয়াবতী বা উমাশশীর মত শক্তিশালী নারীচরিত্ররা নিঃসন্দেহে একবিংশ শতকের একজন আধুনিক পাঠকের কাছেও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠতে পারে। আমাদের মেয়েরাও হয়ে উঠুক জয়াবতীর মতো, বেরিয়ে পড়ুক জীবনের জয়যাত্রায়।
ছোট্ট শুভঙ্করের আঁকার হাতটি বড় সুন্দর। পাইরেট হ্যাট পরা নোবিতা ডোরেমনের ছবি যেন একেবারে জীবন্ত, ঠিক যেমনটা আমরা দেখি টিভির পর্দায়।
মুক্তি দাশের নিবন্ধটি অসাধারণ তথ্যসমৃদ্ধ। আমার মত আরও অনেক মানুষেরই হয়তো পঁচিশ, পঞ্চাশ আর পঁচাত্তর ছাড়া বাকি বর্ষপূর্তিগুলির নাম  সম্পর্কে এমন সম্যক জ্ঞান ছিল না। প্রতিটি বর্ষপূর্তির যে এমন এক একটা মজার মজার নাম আছে, মুক্তিবাবুর নিবন্ধটি না পড়লে জানতেই পারতাম না। এমন একটি আকর্ষণীয়, শিক্ষামূলক প্রতিবেদনের জন্য তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।
  এরপর আছে আরেক ছোট বন্ধু অনুশ্রুতির আঁকা সুন্দর একটি বৃষ্টির ছবি। পুকুরে ছিপ ফেলে মাছ ধরতে কার না ভালো লাগে! আর তার উপরে যদি আকাশ জুড়ে এমন ঝমঝম করে বৃষ্টি নামে? সে তো এক ভারী মজার ব্যাপার! এই মজার ছবিটাই আমাদের উপহার দিয়েছে অনুশ্রুতি।

  রূপা চক্রবর্ত্তীর  "খোকার বায়না" খুব মিষ্টি একটি ছড়া। সত্যিই তো, খোকার মতো আজব বায়না আমরাও ছোটবেলায় কতই না করেছি! টাপুর টুপুর বৃষ্টির দিনে খোকার যে পড়াশোনায় মন বসবে না, জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে সে হারিয়ে যাবে সুদূর কোনো কল্পলোকে, সেটাই তো স্বাভাবিক!
  রিয়া ক্লাস নাইনে পড়ে। পড়াশোনার বেশ চাপ। আর সেই চাপেই যেন কোথায় হারিয়ে গেছে ওর ছোটোবেলা। শৈশবের দিনগুলোকে ও কতটা মিস করে, সেটাই প্রকাশ করেছে ওর কবিতায়। এমন শৈশব তো আমাদেরও ছিল! রান্নাবাটি, পুতুল খেলা, কাদামাখা সব দিন! "ধুলো বালির খাবার" গুলো হয়তো মিথ্যে ছিল, কিন্তু সেইসব খেলাগুলো ছিল ভীষণ সত্যি। আর সেইজন্যেই তো আজকের এই ব্যস্ত বেরঙিন জীবনে, যান্ত্রিক সভ্যতার যাঁতাকলে প্রতিনিয়ত পিষে যেতে যেতে শুধুই ফিরে যেতে ইচ্ছা করে ছোটবেলার দিনগুলোয়, আর বলতে ইচ্ছা করে "এখন আমি খেলা ছেড়ে কোথাও যাবো না।"

  জয়তী রায়ের কলমে ধারাবাহিক ভ্রমণ-এর এই পর্বে ব্যাংককের দুর্গাপুজোর কথা জানতে পারলাম। কাশফুল-শিউলিফুল থাকুক বা না থাকুক, মা দুর্গার আরাধনাকে ঘিরে বাঙালির হৃদয়ের যে চিরন্তন আবেগ, তা যুগে-যুগে, দেশে-বিদেশে একইরকম অমলিন। আসলে উৎসবকে কখনই কোনো দেশ-কাল-জাতি-ধর্মের গন্ডীতে বেঁধে রাখা যায় না। বেঁধে রাখা উচিতও নয়। উৎসব হোক সবার, উৎসব হোক মানবতার।
  পরিশেষে পীযুষ প্রতিহারের "স্মরণীয়" শীর্ষক নিবন্ধে বিশিষ্ট লেখক ও ক্রীড়া সাংবাদিক মতি নন্দীর সংক্ষিপ্ত জীবনীটি বেশ তথ্যসমৃদ্ধ। মনে পড়ে, ছোটবেলায় স্কুলের লাইব্রেরী থেকে পাওয়া "স্ট্রাইকার" উপন্যাসটির মাধ্যমে মতি নন্দীর লেখার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। উপন্যাসটি সেসময় গভীর দাগ কেটেছিল মনে। এ সংখ্যার বিষয়বস্তু যেহেতু খেলা, তাই মতি নন্দীর জীবন ও রচনার প্রতি এই আলোকপাতটুকু না থাকলে হয়তো সত্যিই সবটা অসম্পূর্ণ থেকে যেত। মিহিকার আঁকা মতি নন্দীর প্রতিকৃতিটিও বড় চমৎকার।

  সম্পাদক মৌসুমী ঘোষকে ধন্যবাদ এমন একটি সুন্দর সংখ্যা পাঠককে উপহার দেবার জন্য। জ্বলদর্চি আরো সমৃদ্ধ হোক। পৌঁছে যাক অজস্র পাঠকের কাছে।

আরও পড়ুন 

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি