মাটিমাখা মহাপ্রাণ। সাতাশ /শুভঙ্কর দাস

মাটিমাখা মহাপ্রাণ। সাতাশ

শুভঙ্কর দাস 

"সংসারে মোরে রাখিয়াছে যেই ঘরে
সেই ঘরে রব সকল দুঃখ ভুলিয়া। 
করুণা করিয়া নিশিদিন নিজ করে
রেখে দিয়ো তার একটি দুয়ার খুলিয়া
সে দুয়ার খুলি আসিবে তুমি এ ঘরে
আমি বাহিরিব সে দুয়ারখানি খুলিয়া। "

কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে কুমারচন্দ্র গৃহে ফিরলেন না,প্রথমেই ছুটলেন নিজের হাতে গড়া জাতীয় বিদ্যালয়ে।
যখন অনন্তপুর পৌঁছালেন,তখন অপরাহ্নকাল। সূর্যের আলো দিগন্তের ঠিক ওপরে বলয় করে স্থির। বিদ্যালয়ের কাছে গিয়ে কুমারচন্দ্র থমকে দাঁড়ালেন। 
একি দেখছেন!
বিদ্যালয়ের সামনের বাঁশ-কাঠের বেড়াটি ভেঙে নুয়ে আছে। পুকুরের কাছে কাঠের কাজ শেখানোর জন্য খড়ের চালা করা হয়েছিল,তা ভেঙে মাটিতে মিশে গেছে।
চারটি কক্ষের একটির খড়ের চাল উড়ে গেছে,সারানোর চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তা সঠিকভাবে সম্পন্ন হয়নি।
দেওয়ালে সুন্দর করে লিখে দিয়েছিলেন, "অসতো মা সদ্গময় / তমসো মা জ্যোতির্গময় / মৃত্যোর্মা অমৃতং গময়েতি " তা মুছে গিয়ে কিছু শব্দ জেগে আছে। কুমারচন্দ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসিক বিদ্যালয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন,যাতে বিদ্যার্থীরা দিনেরাতে শিক্ষালাভ করে মানুষের মতো মানুষ হয়। কিন্তু এই সময় বিদ্যালয় থেকে যে পরিমাণ ছাত্রছাত্রীর শব্দ শুনতে পাওয়া যাওয়ার কথা,তার তো মিলছে না! তাহলে কি বিদ্যালয় আজ ছুটি?
অথবা কোনো কি দুর্ঘটনা ঘটেছে! 

কুমারচন্দ্র গেটের কাছে দাঁড়ালেন।চারিপাশে তাকিয়ে শেষে বেড়ার একটি অংশ বাঁধতে দেখেন বন্ধু সূর্যপদকে।
সূর্যপদর উশকো-খুশকো চুল,পরনের পিরানটা ময়লা এবং তাঁর চক্ষু কোটারাগত। 
একার পক্ষে বেড়াটিকে ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছিল না!
সেটা পড়ে যাচ্ছিল,সূর্য বিদ্যালয়ের দিকে তাকিয়ে 'জীবেশ' বলে কাউকে ডাক দিলেন।
কিন্তু কেউ সাড়া দিল না!

তখন বাইরে থেকে কুমারচন্দ্র ছুটে গিয়ে ধরলেন।
কুমারচন্দ্রকে দেখে যুগপৎ আনন্দ এবং অবাক হলেন।

আরে কুমার, কখন এলি! জেল থেকে ছাড়া পেলি কবে? আমরা তো হিসেব করছিলাম,আরও তিনমাস! 

আমার কথা ছাড়,কিন্তু এদিকে এ কী অবস্থা? 

অবস্থা তো ভালোই, তুই ছাড়া পেলি কবে? শুনছিলাম, গান্ধিজি সর্বভারতীয় যে সত্যাগ্রহ করবেন বলেছিলেন,সেই পরিকল্পনা ত্যাগ করেছেন,তবে তার জন্য কি? 

হ্যাঁ,তাই, কিন্তু এখানের অবস্থা সত্যি কি ভালো?

আর কী বলি বল, একবেলা খেয়ে ছোট ছোট বাচ্চাগুলো পড়াশোনা করছে,হাতের কাজ শিখছে এবং আমার বেত্রাঘাতও সহ্য করছে।

কী বললি? একবেলা খেয়ে!

হ্যাঁ,বন্ধু, আমার মাঝেমধ্যে এই স্থান ছেড়ে কোথাও চলে যেতে ইচ্ছে করে,বাচ্চাগুলোর খিদে ভর্তি মুখ দেখে দেখে বুকে পাথর জমে গেছে!

কেন? কেউ কি সহযোগিতা করছে না!

আর সহযোগিতা! তুই তৈরি করেছিলি চালভিক্ষার ব্যবস্থা,তা বেশকিছুদিন চলছিল,তারপর তাও ভেঙে গেছে, তোকে পুলিশ গ্রেফতার করার পর লোকের মধ্যে একটা চোরা ভয় কাজ করছে।কেউ সরাসরি সাহায্য করতে চাইছে না!

কুমারচন্দ্র মুখ নিচু করে মাটির দিকে তাকিয়ে রইলেন।

সহসা একটা চিৎকার শোনা গেল।বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে শব্দটা এলো। কুমারচন্দ্র ও সূর্যপদ সেই দিকে ছুটে গেলেন।

একটি ছাত্র ভয় পেয়ে একটি কক্ষের ভেতরে দাঁড়িয়ে আছে, তার মুখে লেগে আছে,সাদা মুড়ি। তার পায়ের সামনে মাটিতে ঢালা হয়ে আছে একগাদা মুড়ি,তার পাশে ভাঙা হাঁড়ি।
পাশে দাঁড়িয়ে একজন মহিলা চিৎকার করে ককিয়ে উঠে, সেই ছেলেটিকে মারতে যাচ্ছে! 
কুমারচন্দ্র তার হাত ধরে জিজ্ঞেস করলেন,কী হল সুশীলা? এতো ক্ষেপে গেছিস কেন?

বিদ্যালয়ের আবাসিক বাচ্চাদের খাওয়ার ব্যবস্থাটি সেই লক্ষ্যনজর করে।

দাদা! বলেই কেঁদে উঠল। 

কিছুক্ষণ পরে।

কী বলব দাদা, এইসব রাক্ষুসে ছেলেপিলে পড়তে এলে তো মস্ত বিপদ!

কেন?

কেন আবার,এই যে বিটকেল নন্দ, সকালেই মুড়ি খেয়েছে আবার ক্লাসের ফাঁকে লুকিয়ে উঁচু তাক থেকে মুড়ির হাঁড়ি থেকে মুড়ি চুরি করছে!

আচ্ছা খিদে পেলে কী করবে বল?

তাহলে রাতে কী খাবে?

মানে? রাতে ভাত হবে না!

ভাত!  দাদা গো গত একমাসের মধ্যে মনেই পড়ে না,কবে ভাত খেয়েছি, এই দেখো,বলেই চালের শূন্য হাঁড়িকুঁড়ি এনে কুমারচন্দ্রকে দেখাল।

শূন্য হাঁড়ির দিকে তাকিয়ে কুমারচন্দ্রের চোখ ভিজে এলো।
তিনি সূর্যপদর দিকে চেয়ে বললেন,বন্ধু, এইভাবে কি দেশসেবা করব বলে পথে নেমেছি,দুবেলা দুমুঠো অন্ন তুলে দিতে পারছি না!

কী বলছিস? দুবেলা,একবেলাই ভাত জোটানো পর্বত ঠেলার ব্যাপার দাঁড়িয়েছে!

কুমারচন্দ্র চোখটায় হাত বোলালেন। 
সুশীলা মৃদুস্বরে বলে উঠল,দাদা,ছাত্রদের কথা তো জানলে,এই অন্নাভাবের জন্য কত ছেলেপিলে পালিয়ে গেছে! তারপর এই সূর্যমাস্টার,কতদিন রাতে শুধু জল খেয়ে কাটিয়ে দিয়েছ,যাতে অন্য বাচ্চাদের খাবারে কম  পড়ে যাওয়ার ভয়ে!
তুমি যেদিন থেকে জেলে বন্দী ছিলে,আর মোরা এখানে সেদিন থেকে যেন বন্দী হয়ে আছি!
এই দ্যাখো না,এক হাঁড়ি মুড়ি মাটিতে ফেলে নষ্ট করলে,এবার রাতে কী হবে?

কুমারচন্দ্র একবার শুধু সূর্যপদের মুখের দিকে তাকালেন। তারপর হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে গেলেন!

পশ্চাতে ছুটে গেলেন সূর্যপদ।

কোথায় যাচ্ছিস কুমার? 

বারান্দায় এক মুহূর্ত দাঁড়িয়ে কুমারচন্দ্র বললেন, আজ এই বাচ্চাগুলোর জন্য যতক্ষণ না অন্ন জোগাড় করছি,ততক্ষণ ফিরব না!
আমি চাষার ব্যাটা,খরা মাটির বুক চিরে ধান তুলে আনব...

কিন্তু এই তো সবে জেল থেকে ফিরলি? বাড়ি গেছিস?

কুমারচন্দ্র শুধু একবার সূর্যপদের দিকে তাকালেন!মুখে উচ্চারণ করলেন,বাড়ি! এই তো আমার বাড়ি! 
তারপর বেরিয়ে গেলেন।

সূর্যপদ বন্ধুর করুণ ও ব্যথাদীর্ণ মুখমণ্ডল দেখে নিজেই অন্তরে স্থির হয়ে গেলেন।
মানুষের জন্য যুগ যুগ ধরে এমন কিছু মানুষ জন্মায়, যাঁরা অন্যের জন্য নিজেকে যেন জন্ম থেকে আত্মাহুতি দিয়ে বড় হতে থাকে।তারা অন্য আর পাঁচজন থেকে আলাদা।
সূর্যপদ আজকে তাঁর বন্ধু কুমারের চোখে সেইসব আত্মাহুতি মহামানববের ছায়া দেখতে পেয়েছে! 

তিনি ছুটে এসে কক্ষে এসে হাসিমুখে সকলকে বললেন,ওরে,আজ তোদের ভাবনা নেই, আজ রাতে সবাই আমরা ভাত খাব,পথের দেবতা পথে নেমে গেছে, মুঠো মুঠো অন্ন ছাড়া কিছুতেই ফিরবে না!

সাড়ে সাতটার সময় জোনাকিঢাকা অন্ধকার ভেদ করে বিদ্যালয়ের প্রাঙ্গণে পৌঁছালেন কুমারচন্দ্র। সারা শরীর ঘর্মাক্ত, চুলগুলো উসকো-খুসকো,মুখের মধ্যে এক ক্লান্তির ছাপ,কিন্তু তা সত্ত্বেও তাঁর মুখে একটা যুদ্ধজয়ের হাসি।
পিঠে তাঁর একটি চালের পুঁটলি আট হাতে শাক-সবজিভরা ব্যাগ।সেই ব্যাগের হাতল থেকে দড়িতে বাঁধা চার-চারটে দেশি রুই মাছ।সাইজগুলো বেশ বড়।
তা বারান্দায় রেখে ধপ্ করে বসে পড়লেন।
সুশীলা রান্নাঘরে ছিল, কুমারচন্দ্র কে দেখে দৌড়ে এগিয়ে এলো।
বাপরে বাপ,কুমারদা, এতো কী এনেছো গো? এতো দারুণ ব্যপার।আহ্ বাচ্চাগুলো আজকে পেটপুরে চাটি খাবে।
কুমারচন্দ্র মৃদুস্বরে বলে উঠলেন,সুশীলা,আজ আমার এমন ক্ষুধা উঠেছে যে,গোটা অনন্তপুর খেয়ে ফেলতে পারি,নে নে, জোগাড়যন্ত্র করে ফ্যাল দেখি!

সে আর বলতে, তোমার অপেক্ষায় ছিলাম, তুমি একটু জিরিয়ে নাও

না,আমি চট করে পুকুরঘাট থেকে স্নান সেরে আসি,তারপর বাচ্চাগুলোর পড়াশোনা কেমন হচ্ছে একটু দেখব, সূর্য আবার কোথায় গেল?

ঐ যে মশলাপাতি কিছু কিনে আনতে গেছে, এই ফিরলেন বলে!

কতজন খাবেরে? 

ও তোমার ধরো না,চল্লিশজনা মতো 

আচ্ছা, এক কাজ কর দিকি, আরও দু'একজনের বেশি ভাত ধরবি, আহা!রে তোর বৌদিকে যদি ডেকে পাঠাতে পারতাম! তোকে একটু হাতে হাতে এগিয়ে দিতে পারত! 

সুশীলা চুপ করে থাকল।

তারপর সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে রান্নাঘরের দিকে যেতে যেতে বলল,ওসব নিয়ে ভেবো না,সবকিছু ঠিক সামলে নেব, তুমি স্নান সেরে আসোগে...
কুমারচন্দ্র পুকুরঘাটে গিয়ে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নভাবে স্নান সেরে অফিস কক্ষে এসে অবাক হল।সেখানে তার জন্য কাচা ফতুয়া-ধুতি রাখা ছিল।
সেগুলো পরে নিয়ে ভাবলেন,সত্যি, সূর্যের কতদিকে খেয়াল থাকে,এরকম বন্ধু ক'জনের ভাগ্যে জোটে।
একটি কক্ষে দুটি লণ্ঠন বাঁশের গায়ে ঝুলিয়ে দেওয়া।তাতে বেশ আলো হয়েছে। সেখানে জনা কুড়ি ছাত্র বসে আছে।
কুমারচন্দ্র টেবিল সরিয়ে তাদের মধ্যে বসে পড়লেন। জিজ্ঞেস করলেন,তোরা সব মুড়ি খাবি এখন?
তারা সমস্বরে মাথা নাড়ল।তাদের চোখেমুখে একটা দীপ্তি, কারণ দীর্ঘদিন পরে তারা ভাত খেতে পাবে। এ আনন্দ বোঝানো যাবে না!

কুমারচন্দ্রের এই কথাটি ভেবে একদিকে যেমন আনন্দ হচ্ছে, তেমনি একটা অপরিমেয় কষ্ট। দুটো ভাতের জন্য তাঁর মানুষ গড়ার পবিত্র স্বপ্ন কীভাবে ধ্বংসের পথে চলে যাচ্ছে...
দুটো পয়সা দিয়ে কেউ সাহায্য করার নেই! 
দুটো অন্ন কেউ কি নেই এই ছোট ছোট বাচ্চাগুলোর মুখে তুলে ধরে!
অথচ দেশে কি পয়সার অভাব! দেশে কি অন্নের অভাব!
জমিদারের বাড়িতে দিনরাত ফুর্তির লহর ছুটছে,তাতে পয়সা খরচ হচ্ছে নদীর জলের মতো,এই বাবু গণ্ডা গণ্ডা বিয়ে করছেন,গণ্ডা গণ্ডা বাচ্চা হচ্ছে, তাই মাসে মাসে হয় বিয়ে না হয় মুখেভাত লেগেই আছে!
তার ওপর রয়েছে বিলাসবহুল সখ-আহ্লাদ! যার না আছে মাথা,না আছে মুণ্ডু! 
এরা কি মানুষ!
এতো গেল অজপাড়াগাঁয়ের অবস্থা, অন্যদিকে কলকাতায় দেখো,বেশির ভাগই বৃটিশ সরকারের পদলেহনকারী,শুধু সাহেব সাজার ধুম,বিলিতি কায়দায় কীভাবে নিজেদের তুলে ধরতে মরিয়া! ছিঃ
দেশের কথা,দশের কথা ভাবে না! এই দেশের মানুষ,অথচ এই দেশকে, এই দেশের লোকজনকে ঘৃণা করে।তাই গুপ্তকবি এঁদের ব্যঙ্গ করে লিখেছিলেন,
" যত কালের যুবো  যেন সুবো
ইংরেজী কয় বাঁকাভাবে
হোয়ে হিন্দুর ছেলে ট্যাঁসের চেলে
টেবিল পেতে খানা খাবে "
সহসা কুমারচন্দ্রের ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ঠাকুরদার কথা মনে পড়ল।
একবার বিদ্যাসাগরের ঠাকুরদা রামজয় তর্কভূষণ গ্রামের পাশ দিয়ে একটি মাঠের রাস্তায় হেঁটে চলেছেন।এমন সময় গ্রামের একজন লোক তাকে বলল,ওদিক দিয়ে যাবেন না পণ্ডিতমশাই, ওদিকে নোংরা বিষ্ঠা আছে।
রামজয় তর্কভূষণ তা শুনে থমকে দাঁড়িয়ে পড়েননি,তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে চলতে লাগলেন,এবং মৃদু হেসে যেতে যেতে বলে উঠলেন,
" এখানে কি মানুষ আছে,যে বিষ্ঠা থাকবে? আমি তো গোবর ছাড়া কিছু দেখতে পাচ্ছি না।যে গ্রামে একটাও মানুষ নেই সে গ্রামে মানুষের বিষ্ঠা থাকবে কী করে? এখানে তো সব গরুর দল বাস করে!
সত্যি তাই গ্রামের পর গ্রামে মানুষ খুঁজে পাওয়া বড্ড ভার!  এই একই অবস্থা শহরেরও... 
তাই তো গুপ্ত কবি বলেছিলেন ব্যঙ্গ করে,

" মনের মানুষ কোথা পাই?
মানুষ যদ্যপি হবে ভাই!
যাহা বলি কর তবে তাই
দ্বিপদ হয়েছে যারা   বিপদের হেতু তারা
জগতে মানুষ কেহ নাই
মনের মানুষ কোথায় পাই?"

সত্যি জগতে এখন মানুষ খুঁজে পেতে হবে,আজ তো সেই অভিজ্ঞতা হয়েছে কুমারচন্দ্রের...
দুটো জমিদারের গৃহে গিয়ে তাঁকে শূন্যহাতে শুধু ফিরতে হয়নি,গলাধাক্কা দেওয়ার আগের মুহূর্তে বেরিয়ে এসেছেন।
অথচ যাদের প্রকৃত অবস্থা নিঃস্ব, অসহায়, তাদের দ্বারে দাঁড়াতেই,যে যেরকম পেরেছে, হাত ভরে দিয়েছে।
সেই সব কুমোর,কামার,চাষা,জেলে, মুটে-মজুর, তাঁতির দল তাঁকে নিরাশ করেনি!
কেউ বাড়ির চাল-ডাল, শাকসবজি, কেউ আবার সেই বিকেলবেলায় পুকুরে জাল ফেলে মাছ ধরে দিয়েছে
এদের কথা কোনোদিন ভুলবেন না কুমারচন্দ্র।

মাস্টারমশাই, মাস্টারমশাই, মোদের লেখা হয়ে গেছে,শতকিয়া লিখে ফেলেছি,তুমি কি দেখব? 
একটি ছোট্ট ছেলে এসে সামনে দাঁড়িয়েছে।তার পরনের কাপড়টি এতবেশি সেলাই,তাতে কাপড় কম, সেলাইয়ের সুতো চোখে পড়ে বেশি। 

কুমারচন্দ্রের ঘোর ভাঙল।হ্যাঁরে, সবার খাতা দেখব... 
এবার কয়েকটি অঙ্ক কষতে দেবো..

না, তার চেয়ে একটা গল্প বলো 

গল্প! 

হ্যাঁ,সকলে সমবেত কণ্ঠে বলে উঠল।

কিন্তু অঙ্কটা যে শিখতে হবে, ওতে ফাঁকি দিলে চলবে না!

সেই সুতোপূর্ণ বালকটি এবার করুণ স্বরে বলে উঠল,অঙ্ক না হয় কাল হবে,এখন গল্প হোক,অঙ্ক কষতে শুরু করলে ক্ষিদে পায় বেশি! 

অপর একজন চেঁচিয়ে বলে উঠল,আর গল্প শুনলে,বেশ খিদে ভুলে থাকা যায়!কী বলিস তোরা? 

সবাই সমবেতভাবে তাই সমর্থন করল।

কথাগুলো শুনে কুমারচন্দ্র কেমন বিষণ্ণ হয়ে চেয়ে রইলেন। সত্যি, তাঁকে কিছু ব্যবস্থা নিতে হবে,নিতেই হবে।

বাইরে হালকা হেসে বলে উঠলেন,আচ্ছা,তাহলে মহাভারতের গল্প শোন.. 

সকলে আনন্দে সায় দিল।

তবে শোন, সবাই,মহাভারতের এক বিরাট বীর যোদ্ধা ছিলেন অভিমন্যু। কিন্তু তিনি তোদের মতোই ছিলেন ছেলেমানুষ। তাঁর মায়ের নাম সুভদ্রা,বাবার নাম অর্জুন। তিনি রূপে-গুণে-শৌর্যে-বীর্যে একেবারেই পিতা অর্জুনের মতো ছিলেন।
পিতাই ছিলেন তাঁর গুরু।সর্বপ্রকার শস্ত্রবিদ্যায় তিনি ছিলেন নিপুণ। 
সেই সময় কুরুক্ষেত্রের সেই ভয়ংকর যুদ্ধ চলছে।মহাগুরু দ্রোণ করলেন কী একটা অদ্ভুত যুদ্ধের সূচনা করলেন।তার নাম হল সপ্তরথী চক্রব্যূহ।মানে সব বাছাই করা যুদ্ধবাজ দিয়ে একটা এলাকাকে ঘিরে ধরা।কে কে ছিল জানিস, সেই সপ্তরথী চক্রে,দুর্যোধন, দুঃশাসন, কৃপাচার্য, কর্ণ,অশ্বথামা,জয়দ্রথ আর দ্রোণ নিজে।
কী অবস্থা ভেবে দেখ তোরা!
এই সময় এই চক্রব্যূহ নিয়ে সমরক্ষেত্র প্রস্তুত করে দুর্যোধন যুদ্ধে আহ্বান করলেন অর্জুনকে।কিন্তু মুসকিল হল, সেই সময় অর্জুন সেখানে ছিলেন না!
তিনি দক্ষিন অঞ্চলে যুদ্ধ করতে গেছিলেন।আর পাণ্ডব পক্ষে একমাত্র এই চক্রব্যূহে প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার কৌশল অর্জুন জানতেন।তিনিই নেই, তাহলে কী হবে?

এই সময় তো যুদ্ধ না করলে কৌরবরা জয়ী হয়ে যাবেন।তখন এগিয়ে এলেন অর্জুনপুত্র অভিমন্যু। তিনি আবার চক্রব্যূহে ঢুকতে জানতেন, বেরোতে জানতেন না!
তাহলেও তিনি এতোখানি সাহসী ও বীর ছিলেন,সেই যুদ্ধ করার জন্য এগিয়ে গেলেন।যুধিষ্ঠির বললেন,বৎস,তুমি শুধু একবার চক্রব্যূহের দ্বারমুখ খুলে দাও,তারপর আমরা ওটা দিয়ে প্রবেশ করে তোমাকে সাহায্য করব।
অভিমন্যু সেই মতো চক্রব্যূহ ভেঙে ভেতরে ঢুকে গেলেন। দ্বারমুখও খুলল,কিন্তু মহাদেবের শক্তিতে বলীয়ান জয়দ্রথ সেই মুখের সামনে দাঁড়িয়ে যুধিষ্ঠিরদের আটকে দিলেন।
একবার ভেবে দেখ,সেই সব তাবড় তাবড় রথীমহারথীদের মাঝখানে একটি ছোট্ট বালক অভিমন্যু, কী করবে একা?
সপ্তরথীগণ সেই বালকের ওপর গদা-তলোয়ার-তীর চালাতেই লাগল।কোনো অস্ত্র বাদ গেল না!
কিন্তু অভিমন্যু থেমে থাকলেন না,তিনিও সমানে যুদ্ধ করতে লাগলেন।একটা সময় তাঁর খড়্গ, বর্ম,ধনু সবই ভেঙে গেল।
একেবারে অসহায় হয়ে পড়লেন অভিমন্যু। 

এতটা বলে চুপ করলেন কুমারচন্দ্র।

সেই সুতোময় কাপড়ের বালক জিজ্ঞেস করল,তারপর কী হল? অভিমন্যু পালিয়ে গেল?

না,রে না,তিনি খুবই সাহসী, তিনি একটা রথের চাকা তুলে প্রবল বিক্রমে যুদ্ধ করতে লাগলেন।তারপর একটা সময় সপ্তরথীগণ তাঁকে হত্যা করল।

মরে গেল?

হ্যাঁ,মরে গেল বটে,কিন্তু মানুষের মনে একজন সত্যিকারের বীর হয়ে বেঁচে থাকলেন। তোরা কি এই রকম সাহসী ও বীর হতে চাস?

সকলে চুপ। তারা অভিমন্যুর মৃত্যুতে শোকাহত।

দেখেছিস, কীরকম যুদ্ধ করল শত্রুর বিরুদ্ধে, এই রকম যুদ্ধ তোরা করতে পারবি? জিজ্ঞেস করলেন কুমারচন্দ্র

আবার নীরবতা। 

তারপর সেই সুতোময় বালক উঠে একটা অদ্ভুত প্রশ্ন করল,আচ্ছা মাস্টারমশাই, অভিমন্যু প্রতিদিন  ভাত খেতে পেত?

নিশ্চয়, কত বড় রাজার ছেলে, তার ওপর শক্তিশালী হতে হলে তো ভাত খেতেই... 

কথাটি শেষ হল কুমারচন্দ্রের 

তার আগেই সেই বালকটি বলে উঠল,মোরা তো ভাতই খেতে পাই না,কী করে লড়াই করব মাস্টারমশাই? 

প্রশ্নটা শুনে থমকে গেলেন কুমারচন্দ্র। সেই রুগ্ন ছেলেটিকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন,কে বলল,তোরা ভাত খেতে পাবি না! পড়াশোনা করতে থাক,অবশ্যই ভাত খাবি,এটাও একটা যুদ্ধ বুঝলি,এটাও সেই চক্রব্যূহ,দেখছিস না,চারিপাশে ক্ষুধা, অভাব,কষ্ট, পরাধীনতা,অশিক্ষা, কুসংস্কার, মৃত্যু সবের সঙ্গে লড়তে হবে,লড়বি,ভাত খাবি,অভিমন্যুর মতো লড়বি... 

চোখে জল এসে গেল কুমারচন্দ্রের। 

দরজার কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন সূর্যপদ। তাঁরও চোখে জল।তিনি তাড়াতাড়ি জল মুছে হাসিমুখ এনে বলে উঠলেন,লড়াই করতে হলে গায়ে শক্তি দরকার,আর শক্তির জন্য চাই ভাত, চলো, সবাই খেতে চলো।

এই আহ্বানে যেন সাড়া পড়ে গেল। হো হো হো শব্দ একটা নদীর স্রোতের মতো সকলে বারান্দার দিকে ছুটল।সেখানে আসন পাতা হয়েছে, সবাই হাত ধুয়ে একের পর এক বসছে। 

সূর্যপদ বললেন, আয় কুমার,একসঙ্গে খাবি, তুই বসলে ওরা খুশি হবে

কুমারচন্দ্র মাথা নেড়ে বললেন,দোর, তা হয় নাকি,বাচ্চাগুলো আগে খাক, তারপর, কী যে বলিস! 
তুই তো খাসনি!

দ্যাখ বন্ধু, আমি প্রতিদিন এদের সঙ্গে খাই,সে মুড়ি হোক বা শুধু জল, তুই কোনোদিন এভাবে আসিসনি, তারপর তোকে তো এই গণ্ডীর মধ্যে বেঁধে রাখা যাবে না,এই চলে যাবি,কবে ফিরবি কেউ জানে না,তাই বলছিলাম, এদের সঙ্গে খেতে বসলে,এদের আনন্দ দ্বিগুণ হয়ে যেত।

এবার কুমারচন্দ্র হেসে ফেললেন,তবে তাই হোক, প্রধানশিক্ষকের নির্দেশ কি অমান্যি করা যায়? চল আজকে হাঁড়ি উলটে খাব। 

চল চল...

বারান্দায় এসে বাচ্চাদের পাশে যখন কুমারচন্দ্র খেতে বসলেন,বাচ্চাদের মুখেচোখে একটা আনন্দের লহর বয়ে গেল। 
সুশীলা খাওয়ার ব্যবস্থা করছিল। পর পর বাচ্চাদের সুন্দর করে কলাপাতায় খাবার সাজিয়ে দিচ্ছিল।
কুমারচন্দ্রকে ভাত দিতে তিনি বলে উঠলেন,আমাকে মাছ দিবি না,এসবই বাচ্চাদের দিয়ে দিবি।

সেকি! কেন?  সবার জন্য মাছ ধরা আছে

হোক, তুই বাচ্চাদের দিবি,আরও আমার ভাগেরটা সূর্যকে দিবি,যা বললাম শুনবি 

না,শুনব না,বলেই সুশীলা রান্নাঘরে উঠে গেল। তারপর ফিরে এসে একটা ছোট্ট বাটি কুমারচন্দ্রের থালার পাশে বসিয়ে বলল,এটা খেতেই হবে।

কী এটা?

তোমার প্রিয় 

ছানার ঝোল

হ্যাঁ

তুই জানলি কী করে?  আচ্ছা, খেয়ে দেখি,মুখে দিতেই আপন মনে বলে উঠলেন,চারু! চারু এসেছে। 

হ্যাঁ গো,ঐ দ্যাখো

কুমারচন্দ্র মুখ তুলে রান্নাঘরের দিকে তাকিয়ে দেখলেন,দরজার কাছে অর্ধ আড়াল করে চারুশীলা দাঁড়িয়ে আছেন,তাঁর অর্ধেক ছায়া বাইরে এসে পড়েছে।

বৌদি সেই সন্ধ্যার সময় উপস্থিত, যদি না আসত,মুই একেবারে আউলি যেতাম গো, তোমার বউ সাক্ষাৎ অন্নপূর্ণা, কীভাবে সামলে নিচ্ছে সবদিক,অথচ তিনি যে এসেছেন, কেউ জানতে পারেনি, দেবেনদা দিয়ে গেলেন!

দাদা, এসেছিলেন 

হ্যাঁ,আবার চলে গেছেন,তোমার খোঁজ করছিলেন,যখন দেখলেন,তুমি পড়াচ্ছ, তিনি চুপটি করে তা দেখে চলে গেলেন! 

বুঝেছি,সবই তো হচ্ছে, তা সূর্য আমাকে একটি বলা যেতো না! এবার কুমারচন্দ্র বন্ধুর দিকে তাকালেন। 

সূর্য হেসে বললেন,তোর বউয়ের নিষেধ ছিল,তাই কিছু বলিনি! তুই যেভাবে খাচ্ছিস,এতে তুই গোটা অনন্তপুর কেন, সামান্য 'অ' টাই খেতে পারবি না! অত অবাক-টবাক না হয়ে খা দিকি।

কুমারচন্দ্র আনন্দের সঙ্গে ছানার ঝোল খেতে লাগলেন।
ঠিক সেই সময় বিদ্যালয়ের অদূরে অন্ধকার মাঠের মধ্যে একটা অপূর্ব শ্রুতিমধুর গান ভেসে এলো,

"ওই মহাসিন্ধুর ওপার থেকে 
কী সংগীত ভেসে আসে।
কে ডাকে মধুর তানে,কাতর পানে
আয় চলে যায়
ওরে আয় চলে আয় আমার পাশে"

কে! আব্দুল ফকির!  কুমারচন্দ্রের মুখের গ্রাস থমকে গেল!

হ্যাঁ,লোকটার বয়স হলেও কণ্ঠটা মধুরই আছে।

কী সৌভাগ্য, ওরে, ওঁকে ডেকে নিয়ে আয়, উনি যদি এখানে খান,আমাদের বিদ্যালয় ধন্য হয়ে যাবে 

বলেই নিজেই উঠে পড়লেন কুমারচন্দ্র।

ওরে কুমার,খেতে খেতে উঠতে নেই, তুই ফিরে আয়, আমি ডেকে আনছি, কাতর কণ্ঠে বললেন সূর্যপদ।

আমি এখুনি আসছি,অন্য কেউ গেলে হয়তো আসবে না! বলেই কুমারচন্দ্র অন্ধকারে এঁটো হাতে বেরিয়ে গেলেন।

একটু পরে কুমারচন্দ্র ও আব্দুল ফকির বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলেন।আব্দুল গাইছিল,

"বলে আয় রে ছুটে আয় রে ত্বরা
হেথা নাইকো মৃত্যু নাইকো জরা
হেথা বাতাস গীতিগন্ধভরা
চিরস্নিগ্ধ মধুমাসে 
হেথায় চিরশ্যামল বসুন্ধরা 
চিরজ্যোৎস্না নীলাকাশে"

আহা! এমন গান কার ফকির? 

দ্বিজুবাবুর গান,একজন ফকিরদোস্ত কলকেতার থ্যাটার থেকে শিখে এসেছে, মুই তার কাছে শিখে নিয়েছি 

বেশ, বেশ আরও শুনব, চাটি খেয়ে নাও ফকির

খাব! তুমি খেতে দেবে? বড্ড খিদে পেয়েছে, ভাবলাম আল্লাতালা বুড়ো মানুষটার কথা হয়তো ভুলেই গেছে!  কিন্তু তুমি যখন অন্ধকারে হাত চেপে ধরলে, তখনই মনে হল, আজকে আর অভুক্ত থাকবে হবেনি! 

আচ্ছা, খেয়ে নাও,ও চারু, দুটো ভাত দায় না

আসন পেতে নিজের পাশে বসাল কুমারচন্দ্র। 

মুই ভাত খাব,তবে মোর গান শুনতে হবে কিন্তু 

নিশ্চয় শুনব,কতদিন পরে দেখা হল,কোথায় হারিয়ে যাও বলো দিকি?

আল্লার দরবারে হারাবো কোথায়? এ যে মজার দুনিয়া,দেখি,শুনি আর মানুষরতন ছোঁবো বলে হন্যে হয়ে ঘুরে মরি, বলে গান ধরল,
"ওরে সেই যে পরমানন্দ 
যে আমায় ভালোবাসে
কেন ঘরের ছেলে পরের কাছে
পড়ে আছিস পরবাসে।"

গানে গানে রাত কাটল।

আব্দুল ফকিরকে একটি ক্লাসরুমে শোওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছিলেন কুমারচন্দ্র।
কিন্তু তিনি সেই পুকুরপাড়ে গাছতলায় নিজের স্থান নির্বাচন করলেন।
বাচ্চাগুলো ও মেয়েরা কক্ষে ভাগাভাগি করে শুয়ে পড়লেন।
কুমারচন্দ্র ও সূর্যপদ বারান্দায় মাদুরে শুলেন।
সকলেই প্রচণ্ড ক্লান্ত। প্রায় সকলেই একটু পরেই গভীর নিদ্রাদেবীর ক্রোড়ে আশ্রয় নিলেন। 

ঘুম ভাঙল অতি ভোরে।

আব্দুল ফকিরের গানে।

"ধনধান্যপুষ্পভরা আমাদের এই বসুন্ধরা 
তাহার মাঝে আছে দেশ এক সকল দেশের সেরা
ও সে স্বপ্ন দিয়ে তৈরি সে-দেশ, স্মৃতি দিয়ে ঘেরা

এমন দেশটি কোথায় খুঁজে পাবে নাকো তুমি 
সকল দেশের রানি সে যে আমার জন্মভূমি। 

চন্দ্র সূর্য গ্রহ তারা কোথায় উজল এমন ধারা
কোথায় এমন তড়িৎ এমন কালো মেঘে! 
তার পাখির ডাকে ঘুমিয়ে উঠি,পাখির ডাকে জেগে! 


সহসা ঘুম থেকে উঠে সূর্য চারিপাশে কুমারচন্দ্রকে খুঁজতে লাগলেন।
আশেপাশে সর্বত্র খোঁজার পর চারুশীলাকে জিজ্ঞেস করলেন,বউঠান,আপনি জানেন,কোথায় গেল কুমার?

চারুশীলা মাথা নাড়লেন।

আপনাকেও বলেনি! গতরাতে আমাকে বার বার বলছিল,বন্ধু, এই বিদ্যালয়কে বাঁচাতে হবে, এই বিদ্যালয় তো শুধু পড়াশোনার জন্য নয়, ভবিষ্যত দেশ গড়বে যারা,তাদের জন্য এই বিদ্যালয়,কিছু একটা করতে হবে। 

আমি বললাম, ভাই,ঘুমিয়ে নে, সকালে আলোচনা করব

আমার তো ঘুম আসছে না,বন্ধু, একটা অগ্নিময় অস্থিরতা কাজ করছে,এই বিদ্যালয়ের উন্নতির জন্য পয়সা চাই? পয়সা জোগাড় করতে হবে।

এইসব বলে সারারাত বিড়বিড় করছিল,তার মধ্যে কখন আমার চোখটা জুড়ে এলো,ফকিরের গান শুনে, উঠে দেখি নেই! 

সেই সময় বিদ্যালয়ের গেট খুলে ঢুকলেন দেবেন।

তিনিও জানালেন,কুমার বাড়ি ফেরেনি!

তাহলে? 

সহসা একটা চিঠি পেলেন সূর্য মাদুরের নিচ থেকে। 
খুলে পড়লেন,

বন্ধু, সূর্য

আমি বেরিয়ে পড়লাম।রাত থাকতে থাকতেই। এই বিদ্যালয়কে বাঁচাতেই হবে।আমি আমার শরীরের শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে চেষ্টা করব।
পয়সা জোগাড় করতেই হবে।এই যুদ্ধে অভিমন্যুদের আমি জেতাবই...কিছুতেই তাদের মরতে দেবো না।

চলি।চারুকে বুঝিয়ে বলিস।

গান ভেসে আসছিল..

ভায়ের মায়ের এত স্নেহ কোথায় গেলে পাবে কেহ?
ও মা তোমার চরণ দুটি বক্ষে আমার ধরি
আমার এই দেশেতে জন্ম যেন এই দেশেতে মরি... 

এমন দেশটি কোথায় খুঁজে পাবে না ক তুমি, 
সকল দেশের রানি সে যে আমার জন্মভূমি। "

চারুশীলা প্রশ্ন করলেন সূর্যপদকে,আচ্ছা,ঠাকুরপো, সত্যি কি আমাদের মতো দেশ কোথাও নেই? সত্যি এই দেশ রানি? 

সূর্যপদ বলে উঠলেন,বউঠান,যে দেশে কুমারের মতো মানুষ জন্মেছে, সেই দেশ সত্যিকারের রানি...  একদম সত্যিকারের রানি... 


ক্রমশ....

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇
 

Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি