রম্য কবিতা, পর্ব-৮ /তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়

রম্য কবিতা, পর্ব-৮
তথাগত বন্দ্যোপাধ্যায়

 
(১)
উপচানো গোঁফ

উপচানো গোঁফে গিয়ে চুমু যায় আটকে,
অমাবস্যায় প্রেম ওঠে তাই আঁতকে।
ধুলোবালি ধরা পড়ে সতর্ক পাহারায়,
খোঁজা দায় হয় যদি লাল-পিঁপড়ে হারায়।
শব্দরা বেরোনার সিধে পথ পায়না,
কথা তাই বাঁকাচোরা, ঠিক বোঝা যায়না।
ঠোঁটেদের গতিবিধি ঢাকা থাকে যে মুখে;
বোঝে না সে মুখরতা- মূকে আর চুমুকে।
পানীয় ভিজিয়ে যায় গোঁফ, ঝুলে রয় সর,
কোদালের কোপে তাই ওড়ে গোঁফ সত্বর।


(২)
পেটকাটা উর্দি

আর কই গোলাগুলি, খুনোখুনি হয়না!
বসে বসে ভুঁড়ি বাড়ে, বিরক্তি সয়না।
চোর-বাটপাড় আর নেই বলা চলে, তাই-
সুখের চাকরি, শুধু বসে বসে টাকা পাই।
তাস পিটে মাস কাটে শরীরচর্চাহীন,
পেট গরমের চোটে গুড় গুড় সারাদিন।
শেষে সব পুলিশেরা ভেবে বের করলুম,
বানিয়ে উর্দি পেটকাটা -সবে পড়লুম।
বাইরের হাওয়া লেগে খোলা পেট ঠাণ্ডা, 
নিমেষে হজম হয় গোটা দশ আণ্ডা।
সরাসরি জলপটি পারি পেটে লাগাতে,
“এটাই নতুন কেতা”-বলে টেরি বাগাতে।
 সমস্যা শুধু- কারো পেটে কথা থাকেনা,
ব্যথারা বাঁধনহারা, কাঁচা থাকে, পাকেনা।


(৩)
নতুন জুতোয় পড়া ফোসকা

পরিপাটি বাবু চলেছেন ভোর-দৌড়ে,
থামলেন, এগোলেন, থামলেন শিউরে!
হয়তো বাঁ-পায় চোট, হাঁটছেন যে ভাবে!
চলেন খুঁড়িয়ে প্রায়- বুঝি তারই প্রভাবে।
চোখে চোখ পড়ে যেতে, হেসে বুলি বর্ষণ-
“ডার্মিস-এপিডার্মিসে হয়ে ঘর্ষণ,
প্রথমে রক্তরস, হলুদাভ, অচ্ছোদ,
জমে, ফুলে, ফাটতেই দেখছেন কি আপদ!
জুতো লেগে গোড়ালিতে জ্বালা না করে যাতে,
জুতোর আগা আঁকড়ে পাতা ফেলি, তফাতে।”

শুনে বলি- “দেখবেন পাতা যাতে না ঘামে,
পাউডার মেখে যান হাঁটতে বা ব্যায়ামে।
খুবই ভালো হয় যদি বিশোষক মোজা পান,
বেরোনোর আগে গোড়ালিতে স্পঞ্জ সেঁটে যান।
আটা, মধু, ভেসলিন নয় অ্যালোভেরা জেল-
বোলাতে পারেন গোড়ালিতে রান্নারও তেল।
বেশি আঁটো নয়, তবে আলগাও বেশি নয়,
সে জুতোই কিনবেন যা পায়ের মাপে হয়।
জুতোর অনমনীয় গোড়ালির প্রান্ত,
দুমড়ে কোমল করে নিন আগে, চান তো।”


(৪)
ফিরতি ট্রেনে

অনেকটা উৎপাতে, টিকিটটি নিয়ে হাতে, নিজেকে ভেবেছি যেই ষণ্ডা;
কত বাপ-বাপান্ত, দোষারোপ চূড়ান্ত, বেলাইনে কি বাগবিতণ্ডা।
যুগলের ফাঁক দিয়ে, বগলের বাঁক দিয়ে মাসিমার দেওয়া পাটিসাপটা-
ট্রেনের ঘোষণা এলো, ‘এই বুঝি ছেড়ে দিলো!’-ভেবে গলে যেতে চিঁড়ে-চ্যাপটা ।
ভিড় ঠেলে নীড় পেলে- তবেনা তীক্ষ্ণ ছেলে, পেলাম একটুখানি বসতে,
হকারেরা আরো বীর, খিমচে বা মেরে শির, মুখোমুখি দর কষা কষতে।
অর্ধেক লেগে রই, মাঝে মাঝে তাও নই, অকথ্য যেন অজাযুদ্ধ,
বাকি নাই ঠাঁই অতো, মাছি গলবার মতো, হৃদরুগী হবে শ্বাসরুদ্ধ ।
সামনে দাঁড়ানো দাদা, ভারসাম্যের বাধা কাটিয়ে ডলেন দেখি খইনি!
উপান্তে বসা জন, কাঁধে মাথা রেখে শোন, ন্যূনতম হতবাক হইনি।
কারোর পোয়াতি বউ, বমি করে তোলে ঢেউ, বসতে দেয় না লোকে শৌখিন,
দাঁড়িয়ে রয়েছে যারা, মারমুখী হয়ে তারা, গালি দিয়ে গোটাচ্ছে আস্তিন।
তবুও কি সন্তোষে, না জানি কে বসে বসে, গোপনে ছড়ায় দুর্গন্ধ!
অযাচিত সৌরভে, ভাসি যেন রৌরবে, বাড়ি নিয়ে যাবো নিরানন্দ!

জ্বলদর্চি পেজে লাইক দিন👇



Comments

Trending Posts

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

সনাতন দাস (চিত্রশিল্পী, তমলুক) /ভাস্করব্রত পতি

সর্বকালের প্রবাদপ্রতিম কবিসত্তা শক্তি চট্টোপাধ্যায় /প্রসূন কাঞ্জিলাল

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

শঙ্কুর ‘মিরাকিউরল’ বড়িই কি তবে করোনার ওষুধ!/মৌসুমী ঘোষ

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি