দূর দেশের লোক গল্প – ভুটান /রাখে মামা মারে কে/চিন্ময় দাশ

দূরদেশের লোক গল্প – ভুটান

রাখে মামা মারে কে

চিন্ময় দাশ

এক গ্রামে থাকে মা আর তার ছোট্ট একটা মেয়ে। ভারি গরীব বাড়ি। পাহাড়ের ঢালু জমিতে ‘জুম’ চাষ করে মা। (জুম-- পাহাড়ি এলাকায় জঙ্গল পুড়িয়ে চাষ করবার এক বিশেষ রীতি)। তা থেকেই টেনেটুনে সংসার চলে দুজনের।
একদিন মা মেয়েটাকে বলল—যা তো মা, খেত পাহারা দে গিয়ে। 
সারাদিন পাহারা সেরে একটু বিকেল বিকেল ঘরে ফিরে এলো মেয়ে। তাকিয়ে দেখে, তার মা একটা মই লাগিয়ে চিলেকোঠায় উঠবার চেষ্টা করছে। 
মেয়ে চেঁচিয়ে বলল—ওখানে কী করছ, মা? 
--কী আর করব, বাছা। বাজরাগুলো ধামায় তুলে রাখছি। মা চটপট নেমে এসে, বলল—তা তুমি এত তাড়াতাড়ি চলে এলে কেন? পাখির দল নেমে আসে যদি?
--না, মা। ভালো করে তাড়িয়ে দিয়ে এসেছি।
এর পর মা প্রতিদিনই তাকে খেত পাহারায় পাঠাতে লাগল। সকাল হলেই, দুটো বাজরার রুটি আর লঙ্কার আচার দিইয়ে, পাঠিয়ে দিত মেয়েকে। গরীব বাড়িতে এর চেয়ে ভালো খাবার আর আছেই বা কী তাদের? 
সারাদিন লাঠি উঁচিয়ে, পাথর ছুঁড়ে ছুঁড়ে, পাখি তাড়ায় মেয়েটা। বিকেল হলে, ঘরে ফিরে আসে। ফিরেই দেখে, তার মা চিলেকোঠার ওপরটায় চড়বার চেষ্টা করছে। মেয়েকে দেখতে পেলেই, বলবে—কীরে, এত তাড়াতাড়ি চলে এলি যে? 
একদিন দেখল, তার মা চিলেকোঠার ওপরে চড়ে বসেছে। মেয়েটা বলল-- ব্যাপার কী বল তো? আজ একেবারে ওপরে উঠে পড়েছ কেন?
মা জবাব দিল—একজন কুটুম্ব আসবার কথা আছে বাড়িতে। তাই রাস্তার দিকে চেয়ে দেখছি।
পরদিন বাড়ি ফিরে অবাক কাণ্ড। মা চিলেকোঠার ওপরেই চড়ে ছিল।  মেয়েকে দেখতে পেয়েই, বাতাসে ডানা মেলে উড়তে শুরু করে দিল। 
দেখে তো ভারি ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেল মেয়েটা। তাড়াতাড়ি জিজ্ঞেস করল—এ কী করছ, মা? এভাবে কোথায় যাচ্ছো তুমি?
মা থামল না। উড়তে উড়তেই বলল—আমি চললাম রে। সাবধানে থাকিস, বাছা। বলতে বলতে ছোট্ট একটা বিন্দুর মত মিলিয়ে গেল মা।
বুকটা ছাঁত করে উঠল মেয়ের। এত দিন কেবল শুনে এসেছে। আজ নিজের চোখেই দেখল, তার মা আসলে ছিল ডাইনি। 
ভয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়ল মেয়েটা। তার পর কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছে, কিছুই মনে নাই। সকালে ঘুম ভাঙল খিদের চোটে। পেট চুঁইচুঁই করছে। 
দুটো রুটি চিবিয়ে উঠোনে নামল। দোলনা ঝুলছিল গাছে ডালে, তাতে চড়ে দোল খেতে লাগল।
তখনই বেড়ার আগল ঠেলে, একটা মেয়ে এলো ভেতরে। ভারি সুন্দর মুখখানা। কথাবার্তাও কী মিষ্টি, কী মিষ্টি! 
আরো মিষ্টি তার হাসি। জিজ্ঞেস করল—কী করছিস রে, মেয়ে?
--কেন গো, দোল খাচ্ছি।
--দোল খাচ্ছিস, সে তো দেখতেই পাচ্ছি। কিন্তু কী এমন লাভ হয় দোল খেয়ে? 
ছোট মেয়েটা বলল—লাভ ত হয়ই। মায়ের চলে যাওয়ার রাস্তাটা দেখতে পাই।
বড় মেয়েটা বলল—আমি কি একটু দোল খেতে পারি তোর দোলনায়?
--কেন নয়। এসো, চড়ে বসো এটাতে। 
দোল খেতে খেতে, বড় মেয়েটা বলল—কাল সকালে তুমি থাকবে এখানে?
ছোট জবাব দিল—থাকবই তো। এটাই আমার বাড়ি। 
বড় চলে গেল, ছোট মেয়েটা আবার একা। 
পরের দিন সকালে একটা কমলালেবুর গাছে উঠেছে ছোট। বড় মেয়েটা এসে হাজির। হাতে একটা থলে। বলল– কী করছিস রে?
--লেবু খাচ্ছি। আমার মায়ের লাগানো গাছ এটা। 
--আমাকে একটা দিবি না?
--কেন দেবো না? হাত পাতো, ছুঁড়ে দিচ্ছি ।
বড় বলে উঠল—না, না। হাতে নয়। হাত গন্ধ করবে আমার।
--তাহলে, তোমার থলেটা পেতে দাও।
--না, না। থলে গন্ধ হয়ে যাবে। তুই আমার হাতেই দে। 
যেই নীচু হয়ে হাত বাড়িয়েছে মেয়েটা, ওমনি খপ করে ধরে, এক হ্যাঁচকা টানে মেয়েটাকে নামিয়ে, থলের মধ্যে ভরে দিল বড় মেয়েটা। ভরেই থলে পিঠে নিয়ে উড়ে চলল আকাশে। 
ছোটর বুঝতে বাকি রইল না, দেখতে সুন্দর হলে কী হবে, এ মেয়ে তো মেয়ে নয়। এও ডাইনি। কিছু না বলে, চুপটি করে পড়ে রইল থলের ভেতর। 
কত দূর যাওয়ার পর, ছোট বলল—দিদিভাই, অনেকটা পথ তো পেরোনো হোল। তোমার নিশ্চয় খুব পরিশ্রম হচ্ছে। একটা খোলা জায়গা দেখে, একটু জিরিয়ে নিতে পারো তো।
বড়র বেশ মনে ধরল কথাটা। একটা পাহাড়ের উপর নেমে, বসে পড়ল। থলেটা পাশে নামিয়ে রেখে, বলল—বাইরে আয় তো, ভাই। উকুন বেছে দে তো আমার।
বড়র পিছনে বসে, উকুন বাছতে লাগল ছোট। এক হাতে বিলি কাটছে মাথায়, অন্য হাতে নুড়ি পাথর তুলে তুলে থলের ভেতর ভরছে। 
এতটা পথ মেয়েটাকে বয়ে এনে পরিশ্রম হয়েছিল। তার উপর কচি নরম হাতের বিলি কাটা। একটু বাদেই ঘুমিয়ে পড়ল বড়। ছোট তো এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। টুক করে সরে পড়ল পিছন দিক থেকে। তারপর দৌড়। 
বড় তো কিছুই টের পায়নি। তন্দ্রা কাটলে, ভারি থলে ঘাড়ে নিয়ে বাড়ির পথ ধরল। শিকার যে কেটে পড়েছে, জানেই না সে।
ঘরে পৌঁছে চেঁচিয়ে উঠল—বলে গেছলাম না, কচি নরম মাংসের ঝোল খাওয়াবো আজ। নিয়ে এসেছি। 
উনুনে কড়াই বসানো ছিলই। জল ফুটছে টগবগ করে। আনন্দে ডগমগ হয়ে, কড়াইতে থলে উপুড় করে দিল মেয়ে। টুং-টাং করে কতকগুলো নুড়িই ঝরে পড়ল কড়াইতে। কচি মাংস একেবারে ভোজবাজীর মত উধাও।
উনুনে কড়াই চাপিয়ে, মেয়ের পথ চেয়ে বসে ছিল সবাই। এখন এই অবস্থা দেখে, মেয়ের বোকামির জন্য খুব বকাঝকা করল সকলে।
পরদিন সকালে ছোটর বাড়ি এসে হাজির বড় মেয়েটা। আজ আর কোন মিষ্টি কথা নয়। ছলচাতুরি নয়। জোর করে হিঁচড়ে তুলে নিয়ে চলল ছোটকে। চল, খুব বোকা বানিয়েছিস কাল। আজ বড়মাপের ভোজ হবে তোকে দিয়ে। তারিয়ে তারিয়ে খাবো বাড়ির সবাই। 
বাড়ি পৌঁছে, সোজা গরম জলের কড়াইর কাছে। থলে উপুড় করতে যাবে, মেয়েটা চেঁচিয়ে উঠল—একটু থামো, একটু থামো। বলছি কী, তোমরা এতগুলো লোক। আমার এই রোগা শরীরে আর কতটুকু মাংস আছে? কতটুকু করে ভাগে জুটবে তোমাদের এক একজনের? তারচেয়ে এখন রেখে দাও। গায়ে-গতরে একটু মাংস লাগতে দাও। তখন খেও বরং। তাতে কিন্তু লাভই হবে তোমাদের।
মা-ডাইনির মনে ধরল কথাটা। কিন্তু তার মেয়ে রাজি নয়। একবার ধূর্তামি করেছে পুঁচকে মেয়েটা। আবার কী ফন্দি বার করে, কে জানে। মা বলল—ঠিক আছে, বলছে যখন, আজকের রাতটুকু রেহাই দে ওকে। মহাভোজটা কাল দূপুরে হবে।
সকাল হল। সবাই বেরিয়ে গেল শিকারের খোঁজে। মা তার মেয়েটাকে ডেকে বলল—দু’দিনে অনেক ধকল গেছে। আজ আর বেরোতে হবে না তোকে। বাড়িতেই থাক তুই। পাহারা দে শয়তানিটাকে।
ছোট মেয়েটা দেখল, এই সুযোগ। বুদ্ধি খাটিয়ে পালাতে হবে এখান থেকে। নইলে, আজকেই মারা পড়তে হবে। 
উনুনটার ঠিক ওপরে একটা দড়ি ঝুলছে। এই দড়িতেই শিকারকে পায়ে বেঁধে ঝোলানো হয়। জল ফুটে উঠলে, গিঁট খুলে দেয়। ঝুপ করে গরম জলের মধ্যে গিয়ে পড়ে শিকার।
ছোট করল কী, দড়িটাকে দোলনা বানিয়ে, তাতে দোল খেতে লাগল। দোল খায়, আর মিষ্টি সুরে গান গাইতে থাকে-- “কী সুন্দর এখান থেকে ঐ দূরে যায় দেখা। মা বাবা কি আসবে ধরে ওই পথটির রেখা।।“
মিষ্টি গলায় টেনে টেনে গাইছে মেয়ে। করুণ সুর। ডাইনি মেয়ের ভারি কৌতুহল হোল। কোন দিকে গেছে ওর বাবা মা?
--এই, নেমে আয় তো দোলনা থেকে। আমি দেখি পথটা। কোন দিকে আছে তোর মা বাবা?
ছোট বলল—সে পথ দেখে তোমার আর লাভ কী? 
--কী লাভ, সেটা আমি জানি। তোকে বুঝতে হবে না। তুই খালি নেমে আয়। 
মেয়েটা নেমে এসে বলল—দোলনায় চড়ো। তবে, আমার পোষাক ছাড়া, তোমার এই পোষাকে কিন্তু কিছুই দেখতে পাবে না।
--তাহলে, পোষাক খোল জলদি। পোষাক বদলা বদলি কর আমার সাথে। দেরী করিস না। এদিক জল ফুটে উঠেছে। অনেক কাজ পড়ে আছে আমার।
বড় মেয়েটার যেন তর সইছে না। দুজনে পোষাক বদল করল। দোলনায় চড়ে গান গাইতে লাগল ডাইনি মেয়ে। নীচে কড়াইতে গরম জল ফুটছে টগবগ করে। আর এক মূহুর্তও দেরি নয়। ছোট মেয়েটা দিল দোলনার দড়ি কেটে। অমনি ডাইনি মেয়ে গিয়ে পড়ল সেই কড়াইতে। জল ফুটছে টগবগ করে। দুপুরের মহাভোজের মাংস রান্না হতে লাগলো।
সন্ধ্যা হয়ে এলো। একে একে ঘরে ফিরে এলো সবাই। মা মেয়েকে জিজ্ঞেস করল—কিরে, মাংস রান্না করেছিস। 
ডাইনি মেয়ের পোষাক পরে আছে ছোট মেয়েটা। সে বলল—হ্যাঁ, মা। সেই কখন করে ফেলেছি।
--নুন আর মাখন পরিমাণ মতো দিয়েছিস তো?
--এমন সুস্বাদু মাংস আমি আগে কখনও খাইনি।
মা, বাবা, তাদের দুই ছেলে বসেছে খেতে। বেশ তারিয়ে তারিয়ে খাচ্ছে সবাই। সত্যি এমন সুস্বাদু রান্না খায়নি তারা কখনো। সবাই ভারি খুশি। 
খেতে খেতেই মা বলল—যা তো মা, খানিকটা ধান কুটে ফেল। 
মওকা পেয়ে গেল মেয়েটা। পালিয়ে যাওয়ার এই সুযোগ। সে চলল ধান কুটতে। 
ঢেঁকিশালে গিয়ে, গড় (ধান ভরে দেওয়ার গর্ত)-এ ধান ভ’রে, তিন বার পাড় দিল ঢেঁকিতে। ধুপ ধুপ ধুপ শব্দ হোল তিন বার। ঢেঁকি থেকে নেমে, তিন বার থুথু ছিটিয়ে দিল ঢেঁকিতে। তাতে হোল কী, ধুপ ধুপ শব্দ করে আপনা আপনি ওঠাপড়া করতে লাগল ঢেঁকিটা। আর, মেয়েটা ছুট লাগালো বাড়ির উদ্দেশ্যে। 
চার জন তো খাচ্ছিল তারিয়ে তারিয়ে। খেতে খেতে যখন মেয়ের মুখটা দেখতে পেল, হতভম্ব হয়ে গেল একেবারে। এতক্ষণ নিজেদের মেয়েকেই চিবিয়ে চিবিয়ে খেয়েছে তারা?
লাফিয়ে উঠে পড়ল ছেলে দুটো। কোথায় পালাবে হতভাগী? জ্যান্ত চিবিয়ে খাবো আজ।
কিন্তু যত দূর চোখ যায়, কোথাও চোখে পড়ছে না মেয়েটাকে। তখন খুঁজে খুঁজে মেয়েটার পায়ের ছাপ বের করল দুটিতে। সেই ছাপ ধরে ধরে দৌড় লাগাল তারা। বড় ছেলেটার চোখে পড়ে গেল, একটা ঝাউগাছে উঠে বসে আছে মেয়েটা। 
--তবে রে, গাছে উঠে বেঁচে যাবি ভেবেছিস তুই? চেঁচাতে চেঁচাতে ছেলেটাও উঠতে লাগল তরতরিয়ে।
আর রেহাই নাই। ভয়ে ঘাবড়ে গিয়ে গাছটাকেই কাকুতি মিনতি করতে লাগল মেয়ে—দোহাই তোমার, আরও লম্বা হয়ে যাও। নইলে ধরে ফেলবে আমাকে। ছিঁড়ে খেয়ে ফেলবে এখুনি। বাঁচাও আমাকে। 
ছোট্ট মেয়ের বিপদের কান্না শুনে, গাছটাও লম্বা হতে লাগল। কিন্তু ছেলেটাকে তাতে দমানো যাচ্ছে না। সে তখন কাছাকাছি এসে পড়েছে।
সেই কখন সন্ধ্যে হয়ে গেছে। থালার মত গোল চাঁদ উঠেছে আকাশে। মেয়েটা চিতকার করে বলল—চাঁদমামা, চাঁদমামা! বাঁচাও আমাকে। নইলে এক্ষুনি মারা পড়ব। একটা দড়ি ফেলে দাও তাড়াতাড়ি। লোহার শিকল দাও কিন্তু। সূতোর দড়ি নয়।
চাঁদমামা একবার তাকিয়ে দেখল নীচে। বলল—একটুখানি সবুর করো। আসছি।
কিছুক্ষণ পর মেয়েটা আবার বলল—চাঁদমামা, শুনছো? 
--আসছি গো, চোখমুখ ধুয়ে নিই। 
ছেলেটা অনেক কাছাকাছি এখন। মেয়েটা ডাকল—চাঁদমামা? 
--আসছি গো। জলখাবারটা খেয়ে নিই।
-- চাঁদমামা?
--আসছি গো। আমার ষাঁড়টাকে জল খাইয়ে নিই।
ছেলেটা এগিয়ে আসছে। মেয়েটা চেঁচাল—চাঁদমামা?
--আসছি গো। ষাঁড়টাকে ঘাসের মাঠে দিয়ে আসি। 
মেয়েটা আতঙ্কে চেঁচাচ্ছে, আর উপরে উঠছে। যখন একেবারে মগডালে উঠে পড়েছে, আর এগোবার রাস্তা নাই, ছেলেটার বাড়ানো হাত তখন মাত্র এক আঙুল দূরে। ধরে ফেলল বলে। তখনই একটা লোহার শিকল নেমে এল উপর থেকে।
মেয়েটা ঝটপট শিকলটা ধরে উপরে উঠতে লাগল। ছেলেটাও ঝাঁপ দিয়েছে তাকে ধরতে। ধরতে পারল না। তবে, মেয়েটার পায়ের পাতাটা ধরতে পেরেছে কেবল। এক হ্যাঁচকায় পা ছাড়িয়ে নিল মেয়েটা। তাতে হোল কী, ছেলেটার ধারালো চারটা নখে অনেকটা করে মাংস কেটে বেরিয়ে গেল মেয়েটার পা থেকে।
এতক্ষণের মেহনত। এত কাছে এসেও, মেয়েটা হাতছাড়া হয়ে গেল। ছেলেটা একটা চাতুরী করল। মেয়েটার গলা নকল করে, করুণ গলায় চিতকার করে বলল—চাঁদমামা, লোহার শেকল দিতে হবে নাগো। তাড়াতাড়ি একটা সূতোর দড়ি ফেলে দাও আমাকে। মারা পড়ব না হলে।
উপর থেকে চাঁদমামার সেই একই জবাব—আসছি, দাঁড়াও। হাত্মুখটা ধুয়ে নিই। 
কিছুক্ষণ পর ছেলেটা আবার ডাকল—চাঁদমামা?
উপরের থেকে একই রকম জবাব আসতে লাগল—জলখাবার খেয়ে নিই। ষাঁড়কে জল খাওয়াই। ষাঁড়কে মাঠে চরাতে পাঠাই। এইসব।
তার পর অবশেষে একটা দড়ি নেমে এল উপর থেকে। সেটা পেঁচিয়ে ধরে, চটপট উপরে উঠতে লাগল ছেলেটা।
ছেলেটা যখন মাঝামাঝি রাস্তায়, দড়ি আলগা হয়ে গেল উপর থেকে। ধপাস করে, নীচে এসে পড়ল ছেলেটা। হাড়গোড় ভেঙ্গে, শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে, মরেই গেল ছেলেটা। কচি মেয়ের নরম মাংস খাওয়া, তাদের আর হোল না। 
মেয়েটা বেঁচে গিয়েছে এ যাত্রায়। তবে কি না, একটা চিহ্ন রয়ে গিয়েছে সেদিনের ঘটনার। মেয়েটার পায়ের পাতা ধরে ফেলেছিল ডাইনির ছেলে। চার আঙ্গুলের নখে মাংস ছিঁড়ে নিয়েছিল তার। সেই চিহ্নটা রয়ে গিয়েছে চিরকালের মত। দুনিয়া জুড়ে যে দেশে যত মানুষ, সকলেরই হাত আর পায়ের পাতায়, চারখানা সরু ফাঁক গজিয়ে, পাঁচটা করে আঙ্গুল তৈরি হয়ে গিয়েছে। 
যারাই এই গল্পটা পড়বে, নিজের হাত-পায়ের আঙ্গুলের দিকে চোখ গেলে, মা হারা ছোট্ট মেয়েটার বিপদ আর চাঁদমামার সাহায্যের কথা যেন মনে পড়ে সকলের।
চাঁদমামা সাহায্য করেছিল, তাতেই না জীবন বেঁচেছিল মেয়েটার! সেদিন থেকেই দূর আকাশের চাঁদকে, দুনিয়াশুদ্ধ সবাই “চাঁদমামা” বলে ডাকে।

পেজে লাইক দিন👇

Comments

Popular posts from this blog

মেদিনীপুরের বিজ্ঞানীদের কথা

মেদিনীপুরের চোখের মণি বিজ্ঞানী মণিলাল ভৌমিক /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের রসায়ন বিজ্ঞানী ড. নন্দগোপাল সাহু : সাধারণ থেকে অসাধারণে উত্তরণের রোমহর্ষক কাহিনী /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

মেদিনীপুরের পদার্থবিজ্ঞানী সূর্যেন্দুবিকাশ কর মহাপাত্র এবং তাঁর 'মাসস্পেকট্রোগ্রাফ' যন্ত্র /পূর্ণচন্দ্র ভূঞ্যা

ঋত্বিক ত্রিপাঠী / আত্মহত্যার সপক্ষে

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

আসুন স্বীকার করি: আমরাই খুনী, আমরাই ধর্ষক /ঋত্বিক ত্রিপাঠী

শ্রেণি বৈষম্যহীন সমাজই আদর্শ সমাজ 'কালের যাত্রা' নাটকের শেষ কথা/সন্দীপ কাঞ্জিলাল

অংশুমান কর

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল