বৌদ্ধ দর্শন - ৫ /বিশ্বরূপ ব্যানার্জী

 বৌদ্ধ দর্শন  -  ৫ 
বিশ্বরূপ ব্যানার্জী 


এই ভাবে রাজা সিদ্ধার্থ তাঁর ঊনত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত ঐহিক
সুখভোগে পরিবৃত হয়ে রইলেন ।একদিন তিনি দেখতে চাইলেন বাইরের দুনিয়াটা ঠিক কেমন । তিনি যেমন সুখ ও ভোগের মাঝে বসবাস করেন আর সকলেও কি এ ভাবেই
সুখ, আনন্দ ও ভোগের মাঝেই বসবাস করে ?এটা তাঁর একটা কৌতূহল মাত্র । তিনি তাঁর একান্ত অনুগত সারথিকে নিয়ে 
বাইরে পা বাড়ালেন । এই সারথির নাম ছিলো ছন্দক ওরফে চন্ন । সে ছিলো সিদ্ধার্থের বিশেষ প্রিয় পাত্র ও বিশ্বস্ত । প্রথমেই
রাজোদ্যানে তিনি দেখলেন এক বৃদ্ধকে   এতো দিন পর্যন্ত তিনি কোনও বৃদ্ধ ব্যক্তিকে দেখার সুযোগ পান তাঁর পিতার
অতি সাবধানতার কারণে । লোল চর্ম পলিত কেশ বৃদ্ধটি
অতি ধীরে ধীরে পথ চলছিলো । সাধারণ মানুষের সঙ্গে
তার কোনও মিলই নাই ।তিনি তাঁর সারথি ছন্দক কে লোকটির পরিচয় জানতে চাইলেন । সারথি ছন্দক উত্তর দিলো, " মহারাজ এ একজন বৃদ্ধ লোক" ।
সিদ্ধার্থ জিজ্ঞাসা করলেন ,"আমি এরকম কাউকে আগে কখনও দেখিনি । আমিও কি পরে কোনও দিন এরকম
বৃদ্ধ হবো " ?
ছন্দক উত্তর দিলো , " হাঁ মহারাজ শুধু আপনি নন পৃথিবীর 
সব মানুষকেই একদিন বৃদ্ধ হতে হবে আর এই রকমই কষ্ট
ভোগ করতে হবে "।সিদ্ধার্থের সামনে থেকে যেন একটা অন্ধকার পর্দা সরে গেলো । তিনি ঐহিক জীবনের শূন্যতা
উপলব্ধি করতে পারলেন । অনিবার্য কষ্ট দায়ক বার্ধক্যের
এক ভয়ঙ্কর দুর্ভাবনার বোঝা মাথায় নিয়ে তিনি রাজপ্রাসাদে
ফিরে এলেন । কিন্তু তিনি তাঁর প্রমোদ ভবনে গেলেন না ।
আর একদিন তিনি ভ্রমণে বেরিয়ে একজন রোগীকে দেখতে
পেলেন । রোগ যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে লোকটি করুণ
আর্তনাদ করছিলো । ইতি পূর্বে তিনি কোনও দিন কোনও
রোগীকে দেখেন নি । আগের দিনের মতোই তিনি তাঁর
সারথিকে জিজ্ঞাসা করলেন এই কাতর লোকটির পরিচয় ।
সারথি ছন্দক বললো, " লোকটি একজন রোগী । রোগের কারণে সে এ ভাবে কষ্ট পাচ্ছে আর কাতর চিৎকার করছে ।
পৃথিবীর প্রায় সকলকেই মাঝে মাঝেই এরকম রোগ ভোগ করতে হয় । কষ্ট পেতে হয় ।রোগ কোনও রাজা বা দরিদ্র
বিচার করে না । আপনি রাজা তবুও রোগের হাত হতে আপনি নিষ্কৃতি পাবেন না । এবার ও সিদ্ধার্থ খুবই বিচলিত হলেন।
সুনিশ্চিত রোগের কথা ভাবতে ভাবতে তিমি সেদিনও
প্রাসাদে ফিরে এলেন ।
পরবর্তী একদিন তিনি  যখন বাইরে বেরোলেন তখন দেখলেন 
পথের মধ্যে এক শব দেহ পড়ে আছে । ছন্দক জানালো  এটি
একটি মৃতদেহ । বিশ্বের সকলেই অনিবার্য অমোঘ গতিতে
মৃত্যুর দিকে র্গিয়ে চলে । মৃত্যু মানুষের চরম ও শেষ পরিণতি ।

তার পর আর এক দিন সিদ্ধার্থ যখন প্রাসাদ উদ্যানের পথ
ধরে যাচ্ছিলেন তখন তাঁর চতুর্থ পূর্ব নিমিত্ত দর্শন হলো ।
তিনি দেখলেন এক সন্ন্যাসীকে । তিনি এর আগে কখনও
কোনও সন্ন্যাসীকে দেখেন নি । এঁর প্রশান্ত অপরূপ মূর্তি
দেখে তিনি যেমন বিস্মিত হলেন তেমনি মুগ্ধ হলেন। ছন্দক
তাঁকে জানালো ," ইনি একজন সন্ন্যাসী সংসার ত্যাগ করে 
দুঃখ কষ্ট জ্বালা যন্ত্রণা হাত হতে মুক্তির পথ খুঁজছেন ।
সংসারের জরা ,ব্যাধি ও মৃত্যুর কবল হতে মুক্তি পাওয়ার
জন্যই তাঁর এই সংসার পরিত্যাগ" । সিদ্ধার্থ এর আগে
তিনটি পূর্ব নিমিত্ত দেখেছেন : জরা , ব্যাধি ও মৃত্যু ।

 
পেজে লাইক দিন👇

Comments

Trending Posts

ড. সুকুমার মাইতি (গবেষক, শিক্ষক, প্রত্ন সংগ্রাহক, খড়গপুর)/ভাস্করব্রত পতি

‘পথের পাঁচালী’ এবং সত্যজিৎ রায় : একটি আলোচনা/কোয়েলিয়া বিশ্বাস

রাষ্ট্রীয় মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি পরিষদ (NAAC) এর মূল্যায়ন ও স্বীকৃতি: উদ্দেশ্য ও প্রস্তুতি - কলেজ ভিত্তিক অভিজ্ঞতা /সজল কুমার মাইতি

প্রাচীন বাংলার জনপদ /প্রসূন কাঞ্জিলাল

খাঁদারাণী, তালবেড়িয়া, মুকুটমণিপুর ড্যামের নির্জনতা ও 'পোড়া' পাহাড়ের গা ছমছমে গুহা /সূর্যকান্ত মাহাতো

বাংলা ব্যাকরণ ও বিতর্কপর্ব ১৮/অসীম ভুঁইয়া

ছোটোবেলা বিশেষ সংখ্যা ১১০

সুন্দরবনের উপর গুচ্ছ কবিতা/ওয়াহিদা খাতুন