জ্বলদর্চি

বিস্মৃতপ্রায় সাহিত্যিক জগদানন্দ রায় /নির্মল বর্মন

বিস্মৃতপ্রায় সাহিত্যিক জগদানন্দ রায়
নির্মল বর্মন 

প্রাবন্ধিক ও  অধ্যাপক জগদানন্দ রায় রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী'র মতাদর্শের আলোকে সরল বাংলা ভাষায় বিজ্ঞানের প্রচার করে সুযশের অধিকারী হয়েছিলেন। অধ্যাপক জগদানন্দ রায় ১৮ই সেপ্টেম্বর ১৮৬৯ সনে  নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে অভিজাত ও বনেদিয়ানা পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। মিশনারী স্কুলে পড়াশোনা করে তিনি উচ্চশিক্ষা লাভ করেছিলেন। জগদানন্দ রায়ের আর্থিক সমস্যার সময় রবীন্দ্রনাথ যখন "সন্ধ্যা" পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন, সেই সময় জগদানন্দ কে রবীন্দ্রনাথ চাকরি দেন। রবীন্দ্রনাথ তার নিজের ছেলেমেয়েকে পড়াশোনার দায়িত্বভার  জগদানন্দ রায় কে দিয়েছিলেন। তারপর রবীন্দ্রনাথের সহযোগিতায় আজীবন অবসর অবধি বিশ্বভারতীতে শিক্ষকতার চাকরি করেছিলেন। জগদানন্দ রায় ২৫ শে জুন ১৯৩৩ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। রবীন্দ্রনাথের "সাধনা" পত্রিকায় প্রবন্ধ প্রকাশের পর রবীন্দ্রনাথের ঘনিষ্ঠতা পেয়েছিলেন। জগদানন্দ রায়ের সহজাত বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধিৎসা ও মনন সাহিত্য ক্ষেত্রে তাকে স্বীকৃতি দিয়েছেল বিজ্ঞান বিষয়ক প্রাবন্ধিক ও সমালোচক হিসেবে।
  প্রাবন্ধিক জগদানন্দ রায়ের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ গুলি হলঃ-
"বৈজ্ঞানিকী" ১৩২০ ; "প্রাকৃতিকী"১৯১৪ ; "প্রকৃতি পরিচয়" ১৩১৮ ; "গ্রহনক্ষত্র" ১৩২২;  "পোকা-মাকড়"( দ্বিতীয় সংস্করণ ১৩৩১ ); "আলো" ১৩২৬; " গাছপালা" ১৯২১; "মাছ ব্যাঙ সাপ" ১৯২৩ ; "বাংলার পাখি" ১৯২৪ ; "জগদীশ চন্দ্রের আবিষ্কার" ১৩১৯ । বিজ্ঞান বিষয়ক নানা প্রবন্ধ 'সাধনা' , 'ভারতী' ,  'সাহিত্য' , 'বঙ্গ দর্শন', 'তত্ত্ববোধিনী' ; 'ভারত বর্ষ' , 'শান্তিনিকেতন'  ও  'বঙ্গবাণী' ইত্যাদি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল!
প্রাবন্ধিক জগদানন্দ রায়ের 'বৈজ্ঞানিকী' গ্রন্থে বিশ্ব ও সূর্যের তাপ, বন ,বৃষ্টি ও ভূমিকম্প বিষয়ক জটিল তত্ত্বের আলোচিত হয়েছে!
অধ্যাপক জগদানন্দের 'প্রকৃতি পরিচয় ' গ্রন্থে পদার্থ বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক যেমন -- ইথর , বিদ্যুৎ , পদার্থের মূল উৎপাদন , উল্কাপিণ্ড,  হ্যালির ধূমকেতু ইত্যাদি বিষয়কে নিয়ে সুন্দর ভাবে উপস্থাপনা করেছেন।
'গ্ৰহনক্ষত্র' গ্রন্থটিতে অধ্যাপক রায় সৌরজগতের উৎপত্তির নানাদিক যেমন-- নক্ষত্র, নীহারিকা, সূর্য , চাঁদ , গ্রহ ও উপগ্রহ বিষয়ক আলোচনা করে পাঠকের মন জয় করে নিয়েছেন।
🍂

প্রাবন্ধিক জগদানন্দ রায়ের "গাছপালা* গ্রন্থে গাছের গঠন ,জীবনের ধর্ম  , ছত্রাক ও শ্যাওলা ইত্যাদির কথা স্থান লাভ করেছে। আবার এই গাছপালা কে লেখক ৬টি ভাগে ভাগ করেছেন -- যেমন মাছ, সরীসৃপ ,কুমির উভচর টিকটিক ,গীতি ও সাপ।
প্রাবন্ধিক রায়ের "পোকামাকড়" গ্রন্থে সাতটি শ্রেণীতে পোকামাকড়ের স্বরূপকে বিন্যস্ত করেছেন।
অধ্যাপক রায়ের 'বাংলার পাখি' গ্রন্থে বাংলার পাখির বাসা, গঠন ইত্যাদি বিষয়ে সহজ সরল ভাষায় বর্ণনা করেছেন।প্রাবন্ধিক গবেষক ও অধ্যাপক জগদানন্দ রায় বিজ্ঞানের বিষয়কে সহজ সরল করে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য সরল ভাষা ব্যক্ত করেন। জগদীশ চন্দ্রের আবিষ্কার চারটি খন্ডে বিন্যস্ত।
সুযশ সাহিত্যিক ,অ‌ধ্যাপক  রায় সরল ভাষায় বিজ্ঞান চেতনা গড়ে তুলেছিলেন। প্রাবন্ধিক রায় প্রবন্ধ থেকে ছোট্ট উদাহরণ----
"সূর্যের সাদা আলোর সাত-  রং ঢেউ পাতায় পড়লে, সবুজ রঙের ঢেউ ছাড়া আর সব ঢেউকেই  পাতাটা শুষে নষ্ট করে! কাজেই, তখন সবুজের ঢেউ পাতা থেকে ঠিকরে আমাদের চোখে পড়ে আর আমরা তাকে  সবুজ দেখতে থাকি"!

Post a Comment

0 Comments