অয়ন মুখোপাধ্যায়
শেলফে শুয়ে থাকা নাম
প্রথম বই ছাপার পর
আমি অনেক রাত ঘুমোইনি—
ভাবতাম, শব্দগুলো এখন কাগজের ভেতর,
মানুষের বুকের ভেতরও ঢুকে পড়বে।
কিন্তু ভোরবেলা
দোকানের শেলফে নিঃশব্দে শুয়ে রইল আমার নাম,
কোনও হাত এগোল না,
কোনও বুক কেঁপে উঠল না।
প্রকাশক শুধু হেসে বলল—
“সময়টা খারাপ, কবিতা কেউ কেনে না।”
তবু আমি লিখে যাই,
কারণ কবিতা বিক্রির জন্য নয়,
বরং ব্যথা লুকোবার জন্য—
যেমন রাতের ভেতর
চাঁদ হঠাৎ দেখা দেয়,
আর কিছুই বদলায় না,
তবু মনে হয়,
সবকিছু বদলে যাবে।
🍂
হারানো মানচিত্রের ভেতর
আজকাল আকাশে মেঘ হলে
মানুষ ভাবে বৃষ্টি,
কিন্তু আমি দেখি—
একটা মেয়ে হাঁটছে গলির ধারে,
তার চোখে মানচিত্র নেই,
শুধু ফাঁকা নদী।
লোকেরা বলে—
“এই তো জীবন!”
আমি হেসে ফেলি,
কারণ জীবন যদি হয়
দরকারের দড়ি,
তবে মৃত্যুই সব থেকে নির্ভরযোগ্য গিঁট।
রঙপেন্সিল ভাঙলে
শিশুরা কাঁদে,
কিন্তু এই শহরে
মানুষ ভাঙে প্রতিদিন—
কেউ কাঁদে না।
তবু আমি দেখি
সেই মেয়েটি দাঁড়িয়ে আছে,
তার ঠোঁটে অদ্ভুত আলো—
না প্রেম, না বিদ্রোহ,
কেবল এক অজানা ঢেউ
যা ডুবিয়ে দেয় পুরো শহরকে।
তাকে কি নীলা বলা যায়?
না কি শুধু
একটা হারানো মানচিত্রের ভেতর
মৃত্যুর লাল দাগ?
ইতিহাসের সত্যি
হলদিঘাটির যুদ্ধ কে জিতেছিল?
প্রশ্নটা খুব জটিল নয়—
দলিল আছে, নথি আছে,
সবই চোখের সামনে।
কিন্তু আজকাল দেখি
রাজনীতির মঞ্চে দাঁড়িয়ে
মাইকের চিৎকারে
সত্যিই পাল্টে যাচ্ছে!
হেরে গিয়েও জয়ী,
জিতে গিয়েও পরাজিত—
এমন কারসাজি কেবল
নেতারাই পারে।
ইতিহাস তো কবিতা নয়
যেখানে শব্দ বদলালে মানে বদলায়।
ইতিহাস মানে প্রমাণ,
আর প্রমাণের চোখে ধোঁকা দেওয়া যায় না।
হলদিঘাটির ধুলো হাসছে—
“আমিই জানি কে হেরেছে, কে জিতেছে,
তুমি যতই বক্তৃতা দাও,
তোমার মুখটাই বদলাবে,
6 Comments
অয়নের কবিতা ভাল লাগল। চলুক।
ReplyDeleteধন্যবাদ
Deleteবাহ,আমি কিন্তু কবিতাগুলো পড়েছি।
ReplyDeleteধন্যবাদ
Deleteঅনবদ্য
ReplyDeleteThanks
Delete