তৃতীয় অংশ
উত্তীয় ভট্টাচার্য
এখন আর সময় হিসেবের
সময় নয়।
বুড়ো ঘড়িটার ওই ঢং ঢং শব্দ
আলাদা কনো মানে বলছে না
তবুও সে বেজে যাচ্ছে, ইচ্ছে খুশি।
"স্যার বরেন! স্যার বরেন
আপনি কি বাড়িতে আছেন?"
এক ফস ফসে গলা বলে উঠল।
" স্যার বরেন,আপনি কি বাড়িতে আছেন?"
আবার সেই এক প্রশ্ন।
কেউ উত্তর দিলনা,
কোনও উত্তর এলো না।
ভারি টর্চের হালকা আলোতে
দরজার ওপর খোদাই করা
নামগুলো ভেসে উঠল।
'রায় পরিবার '
স্যার বরেন রায়
নবনীতা রায়
তিয়াশা রায়।
তৃতীয় বারের আবার সেই ডাক,
" স্যার বরেন,আপনি.."
এবার আর পুরো প্রশ্ন শেষ হলনা, উত্তর এলো।
"কে?"
🍂
আর্দালির হাতের ছোঁয়া,
আর 'ঘস ঘস' শব্দ করে
ভারি দরজাটা খুলেই অন্তরমহল।
সামনে গোল মার্বেল টেবিল,
পুরোনো মহাগনির খোদাই করা টেবিলের পায়ে জমে থাকা ঝুলের টুকরো।
দেওয়াল থেকে ঝুলন্ত
হিংস্র চিতা বাঘের কাটা মুন্ডু,
বিশালাকার হাতির দাঁতের তৈরি ছবির ফ্রেম,
আর শঙ্কর মাছের কাটা ল্যাজ দিয়ে তৈরি চাবুক।
এটাই একটা গোটা পৃথিবী।
গোল টেবিলের উল্টো দিকে
বসে আছেন স্যার বরেন,
চোখে কালো চশমা
আর তার থেকে গড়িয়ে পড়া জল।
সময় এখানে থমকে আছে,
হালকা বয়ে আসা ভিজে বাতাস,
সিলিং থেকে ঝুলন্ত ঝাড়বাতির আলোগুলোকে
ছড়িয়ে দিচ্ছে এদিক ওদিক।
আগন্তুক সেই লোকটি জিজ্ঞেস করল,
"কি, চিনতে পারছেন?"
স্যার বরেনের কোন উত্তর এল না।
শুধু গোল টেবিলের ওপর রাখা জহরত বসানো
ফুলদানি কিছু একটা উত্তর
দিয়ে গেল।
তবু সময় এখানে স্থির,সময় এখানে ধির।
তিয়াশা ও তার বন্ধু এখনও
বাইরে দাঁড়িয়ে, শক্ত চৌকাঠের পিছনে
এখনো তারা পেরোয়নি,
কিছু একটা ভেবে,ওরা ওখানে।
"স্যার বরেন ,স্যার চিনতে পারছেন?", আবার প্রশ্ন সেই আগন্তুকের।
স্যার বরেন নিরুত্তর।
" তোমার কি কাজ শেষ?"
এবার কথা বলে ওঠেন স্যার বরেন।
"হ্যাঁ, পাদ্রী সাহেব ফিরে গেছেন আগেই,
বুড়ো চৌকিদারটাও ফিরে গেছে আগে, আমিই শুধু এসেছি।
আমার শাবলটা শুধু ফেলে এসেছি কবরখানাতে"
"তিয়াশা,তুমি শুনতে পারছ ও কি বলছে?"
কাঁপা কাঁপা গলাতে
জিজ্ঞেস করলো তিয়াশার সেই বন্ধু।
স্যার বরেন বলে ওঠেন
"দরজার সামনে ওখানে কে?"
আগন্তুকের উত্তর এলো,
"স্যার দরজার কাছে কেউ নেই তো,আপনি কার কথা বলছেন?"
কোনো উত্তর এলো না
স্যার বরেনের কাছ থেকে।
তিয়াশা ও তার বন্ধু এখন,
সেই স্থির জায়গাতেই,
তাদের শুধু ' অপেক্ষা '
0 Comments