জ্বলদর্চি

দুটি কবিতা /সোমদত্তা

দুটি কবিতা 
সোমদত্তা 


অব্যক্ত 

সে আকাঙ্ক্ষার আড়াল থেকে হাতছানি দেয়, 
কামনার কালো জলে ভেসে বেড়ায়। 
মধ্যরাতের ছোঁয়ায় এক ফিসফিস  শব্দ, 
এক আশ্চর্য শান্ত জিঘাংসা তার, 
আকূল হৃদয়কে স্পন্দিত করে। 
চাঁদের স্নিগ্ধ আভায় এক
অশরীরী  ছায়ার নৃত্য, 
যেখানে জাগতিক স্বপ্ন আলোড়িত হয়। 
কামনারা মুক্তি  পায় , গভীরতায় যেখানে গোপন রহস্য লুকিয়ে থাকে, 
তার কণ্ঠ দীর্ঘায়িত এক দীর্ঘশ্বাস। 
কামনার আবরণে সে নিষ্পেষণ করে নিজেকে, 
সে অন্ধকারে আগুন  খোঁজে, 
সে ভেসে যায় অন্ধকার  কামনার ফুলকিতে।।

🍂


অনড় 

আমি  কখনো কারোর অপেক্ষার জন্য  অপেক্ষা করিনি,
কোন হাতছানির জন্য আক্ষেপ নেই আমার। 
ফিরিয়ে দিয়েছি তীব্র উপেক্ষার শীত,
হাত বাড়িয়ে জড়িয়ে নিয়েছি হাতে,
আবার ছাড়িয়ে নিয়ে এগিয়ে  গেছি, 
ভূমিকা ছেড়ে ডুবে থেকেছি উপসংহারে। 
তবু... তবু মন... 
মনটাতে গাড়ির চাকার ঘসটানির শব্দ, 
কপালে টিপের পাশে টিপটিপ  একঘেয়ে শব্দ, 
অবিন্যস্ত চুলে অন্যমনস্কভাবে  হাত চালাতে গিয়ে,
কানে যাচ্ছে হাতের চুড়ির সাথে  ঘড়ির ঘসটানির এক জান্তব শব্দ, 
কোথায় যেন একটা আবছা কড়া নাড়ার আওয়াজ। 
দরজা খুললে হু হু বাতাসের সাথে একরাশ ধাতব  ধুলো। 
কেউ আসেনি... অপেক্ষা ছাড়া।।

Post a Comment

1 Comments