জ্বলদর্চি

দুটি কবিতা /গৌতম বাড়ই

দুটি কবিতা 
গৌতম বাড়ই

ধ্রবচোখে রাত 

"সব ফেরা সম্ভব নয়, কিছু ছায়া কেবল আলোয় ফিরে আসে..." 

বল, পালিয়ে গিয়েছিলি কেন?
খইফোটা সকালের অমল আলোয়
নীলকণ্ঠের মতো ডানা মেলে গিয়েছিলি দূরে।
বছর পেরিয়ে আজ ধবলচূড়ার ছায়ায়
তোর কাব্যিক উপস্থিতি ফের জ্বলে ওঠে হাল্কা আলোয়।

এখানে এখন চাঁদ মেঘে ঢেকে যায়,
শৈশবেরা বাতাসে ওড়ায় গল্পের ঘুড়ি।
রূপোলী নদীর তীরে বেদনার পাল তুলে
চলেছে নৌকা, নিঃশব্দে, নির্বাক ভরসায়।
আমি আর আমার ব্যথারা বসে আছি তটের ধারে,
অশ্রুর খালে ঝরে পড়ে নীরবতার ভার।
তোর ছায়ায় খুঁজি মায়া, খুঁজি ছলনা,
বল, পালিয়ে গিয়েছিলি কেন, এই স্বপ্নহীন রাতে
ধ্রুবতারায় চোখ রেখেও হারিয়েছি কাকে?
🍂

ধোঁয়ার ভিতর সময়

বন্ধুরা ছড়িয়ে পড়েছিল এদিক-ওদিক,
ভগ্নাংশে দেখা— বাঁধের ধারে কিছু বিকেল।
কুলবনে, বয়রার গন্ধে মিশে যেত
গণিতের মতো অগোছালো দিনগুলো।

কেউ ঠিক থাকিনি, তবু রঙিন ছিল সময়,
ঠোঁটে সিগারেট, ধোঁয়ায় হারানো বয়স।
নগরের দিকে হাঁটতে হাঁটতে ভুলেছি নাম,
ভালো লাগা ঝরে পড়েছে বিজ্ঞাপনের দেয়ালে।

এখন শহরই আমাদের স্থায়ী ঠিকানা,
নীয়ন আলোয় ঝুলে থাকে ক্লান্ত মুখগুলো।
হুঁস করে ছুটে গেলে শববাহী গাড়ি,
এক অচেনা ঠান্ডা লাগে বুকের ভেতর।
মনে পড়ে— একদিন আমরা বেঁচেছিলাম
অগোছালো কিন্তু সম্পূর্ণভাবে।

Post a Comment

0 Comments