জ্বলদর্চি

দুটি কবিতা /রাখহরি পাল

দুটি কবিতা 
রাখহরি পাল 

ঝর্ণা কলম

ঠাট্টা করে বলেছিলাম,উপলি
---কলমটা তোর গায়ের রঙে ম্যাচিং ---এক সালংকার,
বুকের থেকে উপড়ে হঠাৎ দিয়েছিলি ঝর্ণাকলম,
...জন্মদিনের গিফ্‌ট
আমি তাকে যত্নে রাখি হৃদয়  উপকূলে 
বরফ-শুভ্র মসৃণ ত্বকে পিছলে পড়ে
শিখর দেশের গড়ান বেয়ে গ্রস্ত-উপত্যকায় 
আবার তুলি, আবার পড়ে, আবার---
এ যেন গুলমার্গের স্কেটিং করা রিং।

কতবার যে নাকের কাছে 
বুকের নরম গন্ধে খুঁজি স্বর্ণচাঁপা‘র ঘ্রাণ! 
মাঝে মধ্যে ঠোঁটের কোণায় লাগিয়ে রাখি 
অস্ত-রঙা ক্লিপ
নরম ঠোঁটে ছড়িয়ে রাখে গ্রহান্তরের তৃষা
ঝর্ণা বেয়ে উষ্ণ স্রোতে লিখতে বসি ঝর্ণা-কলমকারি
তুই এখন হারিয়ে যাওয়া প্রহর 
অন্য কোথাও অন্য কারো 
প্রদীপ জ্বেলে শঙ্খ বাজাও— সালংকারা নারী।

🍂

নাথিং ইজ পারফেক্ট

(---Without imperfections ,neither you nor I would exist.---Stephen Hawkin)


কার কাছে রেখে যাবো দুঃসময়ের তীক্ষ্ণ দিন রাত
টাকা কড়ি সোনা দানা আর কিছু মিশ্র অজুহাত?

সন্দেহ হলে এখান ওখান করি, ড্রয়ার, আলমারি
কাপড়ের ভাঁজ, বিছানার তলা,নানা ঝকমারি। 

কিছুতে স্বস্তি মেলে না,যা ভাবি হয়তো সঠিক নয়
ভেবেছি নিস্কন্টক পথিমধ্যে বামাবর্তী শৃগালের ভয়

সত্যমিথ্যা,ভালমন্দ নিরপেক্ষ দরজার এপাশ ওপাশ
জমা-খরচের খাতা কাটাকুটি লাল বিন্যাস।

যখন যেমন সন্দেহ-তীর বিদ্ধ করে পদাতিক মনে
এড়িয়ে চলি তৎক্ষণাৎ অন্য কোনো গোপন উত্থানে।

ভাবের ঘরে চুরি হয়ে যায় লখীন্দরের প্রাণ ভ্রমর 
গোপন থাকে না হত্যার দায় খুনের রক্তে ঠিক খবর।

এই সব অস্থাবর ভাবনার অর্থহীন লুকোচুরি খেলা
জীবনের কানা-মাছি শেষে জেগে থাকে পড়ন্ত বেলা।

ডুবে গেলে মুছে যায় কিছু তার রয়ে যায় সঙ্গীতের রেশ
হাতের আঙুলে বেজেছিল ক্ষণিকের মুদ্রা অবশেষ।

Post a Comment

0 Comments