কবিতা অয়ন মুখোপাধ্যায়
১. সব ফ্রেমে দাঁড়াই না
আপোষ করিনি—
এই কথাটা প্রমাণ করার জন্য আমি আজকাল আর কারও সঙ্গে কথা বাড়াই না।
সব জায়গায় যাওয়া যায় না,
সবার সঙ্গে সব ছবি তোলা যায় না—
এই সত্যিটা আমি জানি।
জীবনের বেশিরভাগ জায়গায় মাথা নিচু করেই হাঁটতে হয়েছে—ট্রেনে, বাসে, পাড়ায়, স্কুলে, লাইনে দাঁড়িয়ে ফর্মের ভেতরে, ফাইলের তলায়।
আমি সেখানেও মাথা নিচু করেছি।
কারণ পেটেরও ভাষা আছে,
তারও উচ্চারণ দরকার।
কিন্তু লেখালেখির জায়গাটা, নাটকের জায়গাটা
ওখানে আমি দাঁড়াই সোজা হয়ে।
ওখানে আমার কোনও স্যার নেই,
ওখানে আমার কোনও মালিক নেই।
শব্দেরা সেখানে আমার সামনে চোখের সমান উচ্চতায় থাকে সবার আগে।
আমি প্রতিবাদ করব।
আমি মুজরো করব না।
দুটো একসঙ্গে হয় না।
সব প্রশ্নের উত্তর দিই না
সব প্রশ্নের উত্তর দিতে নেই—
এই অভদ্রতাটা আমি শিখেছি দেরিতে।
সব জিজ্ঞাসার পেছনে সততা থাকে না;
কিছু প্রশ্ন শুধু আপনাকে ছোট করতে চায়।
জীবনের বেশিরভাগ জায়গায় আমি উত্তর দিয়েছি—
নাম, নম্বর, পরিচয়, যোগ্যতার প্রমাণ।
কাগজ যা চেয়েছে, আমি দিয়েছি।
কিন্তু লেখালেখির জায়গাটা, নাটকের জায়গাটা
ওখানে আমি চুপ থাকি কারন
আমার নীরব থাকা টা ওখানে একটা বক্তব্য।
আমি সব বোঝাই না।
আমি সব কিছুর ব্যাখ্যা দিই না।
সব প্রশ্নের উত্তর দেওয়া আমার কাজ নয়।
🍂
সব হাত ধরতে নেই
সব হাত ধরা যায় না—
এই সত্যিটা আমি হালকা ভাবে নিই না।
জীবনের পথে অনেকে আমার দিকে হাত বাড়িয়েছে—কিন্তু আমি বুঝেছি
কিছু হাত সাহায্যের,
কিছু হাত দখলের।
জীবনের বেশিরভাগ জায়গায় আমি হাত ধরেছি—ট্রেনে, বাসে উঠতে;
খাদের কিনারা থেকে ফিরতে;
কাজ টিকিয়ে রাখতে।
কারণ একা থাকা সব সময় সাহস হয়ে ওঠে নি।
কিন্তু লেখালেখির জায়গাটা, নাটকের জায়গাটা
ওখানে আমি একাই হাঁটি।
কারণ ওখানে কারও হাত আমার হাতের ওপর নেই।
আমি সহযোগিতা মানি।
আমি নিয়ন্ত্রণ মানি না।
6 Comments
সহজ সাবলীল বলিষ্ঠ। কিছু বানান ভুল আছে এই যা।
ReplyDeleteধন্যবাদ
Deleteনীরব থাকাও একটা বক্তব্য - খুউব ভালো লিখেছেন। আপনার লেখা পড়তে ভালো লাগে, আপনার প্রায় অনেক লেখাই পড়েছি , আজকের কবিতাগুলো আগের সব লেখার যেনো এক সারাংশ বলেই মনে হলো। আপনার কলম এমনই নির্ভীক ,প্রতিবাদী আর সমাজের দর্পণ হয়ে উঠুক,কলমের জন্য রইলো শ্রদ্ধা আর শুভেচ্ছা।
ReplyDeleteধন্যবাদ
Deleteখুব সুন্দর লিখেছো
ReplyDeleteধন্যবাদ
Delete