মেদিনীপুরের মানুষ রতন, পর্ব -- ১৮৯
দেব (অভিনেতা, সাংসদ, কেশপুর)
ভাস্করব্রত পতি
১৯৯৭ সালে সময়মত অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ার দরুন নিজের মাকে হারিয়েছিলেন করিমুল হক। সেদিন থেকেই তিনি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলেন প্রত্যন্ত এলাকার অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা মুমূর্ষু মানুষজনের আশু চিকিৎসার জন্য যেন কোনও খামতি না থাকে। তাই নিজের বাইককেই অ্যাম্বুলেন্স বানিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে শুরু করেন তিনি। সম্পূর্ণ বিনা পয়সায় এই অভাবনীয় উদ্যোগ চালিয়ে যান। এই মানবিক কাজের জন্য ২০১৭ তে জলপাইগুড়ির ক্রান্তি ব্লকের চা বাগান সমৃদ্ধ প্রত্যন্ত এলাকা রাজাডাঙ্গার ধলাবাড়ির করিমুল হক পান 'পদ্মশ্রী' সম্মান। তাঁর 'বাইক অ্যাম্বুলেন্স' হয়ে ওঠে অসংখ্য মানুষের লবেজান অবস্থা থেকে মুক্তির সাহারা। গত ২৫ শে ডিসেম্বর তাঁর সেই দুর্ধর্ষ লড়াই নিয়ে একটি ছায়াছবির পোস্টার লঞ্চ হল সংবাদমাধ্যমে। ছবির নাম 'বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা'। যেখানে মুখ্যচরিত্রে নামভূমিকায় অভিনয় করবেন মেদিনীপুরের সন্তান সাংসদ অভিনেতা দেব। বর্তমান বাংলা সিনেমার অন্যতম সফল নায়ক নিজের 'সুপার হিরো' ইমেজ থেকে বেরিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধারার কাহিনিকে সামনে রেখে উপহার দিতে চলেছেন এটি।
১৯৮২ এর ২৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন মেদিনীপুরের এই কৃতি অভিনেতা। প্রকৃত নাম দীপক অধিকারী হলেও সকলের কাছে তিনি 'দেব' নামেই খ্যাত। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুরের মহিষদা গ্রামে পৈতৃক বাড়ি। দেবের বাবা গুরুদাস অধিকারী এবং মা মৌসুমী অধিকারী। বোন দীপালী। বাড়ির ডাকনাম 'রাজু'। আজও মহিষদায় রয়েছে বসতবাড়ি। কিন্তু তাঁর বেশিরভাগ সময় কেটেছে চন্দ্রকোনায় মামাবাড়িতে।
আর তাঁর বড় হওয়া মুম্বাইয়ের বান্দ্রাতে। এখানকার পুরুষোত্তম হাইস্কুলে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে পুনের BV Jawaharlal Nehru Institute Of Technology (Bharati Vidyapeeth) থেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে ডিপ্লোমা কোর্স করেন। তিনি 'কিশোর নমিত কাপূর অ্যাক্টিং একাডেমি'তে অভিনয় শিক্ষা লাভ করেন। যেহেতু বাবার কর্মক্ষেত্র ছিল মুম্বাইতে। সেই সুবাদে একবার নানা পাটেকরের 'প্রহার' সিনেমার আউটডোর শ্যুটিং দেখার সুযোগ জোটে। এরপর বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিচালকের সিনেমা সেটে ঢোকার সুযোগ জোটে। কম্পিউটারের হার্ড ডিস্ক, কি'বোর্ড, মনিটর নয়, তাঁকে টানতো সিনেমার কারিকুরি। 'রোল, ক্যামেরা, লাইট, অ্যাকশন' শব্দগুলো তাঁকে মোহাবিষ্ট করে রেখেছিল দিনের পর দিন। মনের মধ্যে জাগরিত হতে থাকা সুপ্ত সিনেমাপ্রেম পরবর্তীতে ফুল পল্লবিত হয়ে সেদিনের কিশোর দীপক অধিকারীকে অভিনেতা 'দেব'-এ রূপান্তরিত করে দেয় অচিরেই।
চলচ্চিত্রের পাশাপাশি রাজনীতিতেও পরিপক্ক এই মানুষটি যথার্থই মেদিনীপুরের গর্বের ধন। যে মাটিতে বিদ্যাসাগর, ক্ষুদিরাম, মাতঙ্গিনী হাজরার জন্ম, সেই মাটির সোঁদা গন্ধ তাঁর গায়ে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে। একজন মঞ্চ এবং পর্দার সফল শিল্পী হয়েও তিনি অনেকখানিই মাটির কাছাকাছি। জন্মভূমির প্রতি অনাবিল টান আর ভালোবাসার বাষ্পচাপ অনুভব করেন প্রতিনিয়ত। কোনও মেকি দেখনদারি ভঙ্গিমা নয়, স্রেফ জেলাবাসীর উন্নয়নে এবং জেলার প্রতি অকৃত্রিম টানে নিজের উন্নত এবং শিখরছোঁয়া ক্যারিয়ার থেকে সময় বের করে সাংসদ হয়েছেন। হয়তো ইত্যবসরে সব সমস্যার সমাধান করা হয়ে ওঠেনি তাঁর পক্ষে। কিন্তু চলনে, গমনে, মননে তাঁর ভাবনার মিশেল মেদিনীপুরকে ঘিরেই। সীমিত 'সাধ্য' নিয়েই লালন পালন করেন মনের 'সাধ' পূরণের বাসনা।
দেবের প্রথম সিনেমা প্রবীর নন্দী পরিচালিত 'অগ্নিশপথ' (২০০৬)। নায়িকা ছিলেন রচনা ব্যানার্জী। যদিও তা সাফল্যের মুখ দেখেনি। হয়তো তখনই হারিয়ে যেতে পারতেন। কিন্তু না, তিনি হারিয়ে যেতে তো আসেননি ইন্ডাস্ট্রিতে। তিনি মেদিনীপুরের ছেলে। সংগ্রাম, লড়াই আর Fighting attitude তাঁর রক্তের শিরায় উপশিরায়। তাই তাঁকে হারাবে কে? একদিকে অনবদ্য জেদ, অন্যদিকে অভিনয় দক্ষতা এবং হার না মানা জেদ -- এই তিনের ত্রহ্যস্পর্ষে বলীয়ান 'মেদিনীপুরের মানুষ রতন' সাংসদ অভিনেতা দেব।
অবশেষে রবি কিনাগী পরিচালিত তাঁর অভিনীত 'আই লাভ ইউ' (২০০৭) ছিল ক্যারিয়ারের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। বিপরীতে ছিলেন নায়িকা পায়েল সরকার। এই বছরেই মুক্তি পায় তাঁর 'প্রেমের কাহিনি' ও 'মন মানে না' সিনেমা দুটি। কিন্তু সবচেয়ে বড় সাফল্য জোটে রাজ চক্রবর্তী পরিচালিত 'চ্যালেঞ্জ' (২০০৯) তে। ব্যাস, আর ফিরে তাকানোর অবকাশ নেই। তরতরিয়ে ছুটতে লাগলো 'যোদ্ধা' দেবের অশ্বমেধের ঘোড়া। এই মুহূর্তে বাংলা ছায়াছবির সফল অভিনেতাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক তাঁকেই দেন প্রযোজকরা। কেননা, তাঁর ব্র্যান্ড ভ্যালু রয়েছে দর্শকদের কাছে। বিশেষ করে মহিলা ফ্যানদের হার্টথ্রব তিনি। তাঁর মতো সুদর্শন নায়কের প্রতি অমোঘ আকর্ষণই তাঁর সফলতার গূঢ় রহস্য।
বহু সফল হিট ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি। বাঁচিয়ে রেখেছেন বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিকে। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রগুলি হ'ল আই লাভ ইউ (২০০৭), প্রেমের কাহিনি (২০০৮), মন মানে না (২০০৮), চ্যালেঞ্জ (২০০৯), পরাণ যায় জ্বলিয়া রে (২০০৯), দুজনে (২০০৯), লে ছক্কা (২০১০), বলাে না তুমি আমার (২০১০), সেদিন দেখা হয়েছিল (২০১০), দুই পৃথিবী (২০১০), পাগলু (২০১১), রোমিও (২০১১), চ্যালেঞ্জ-২ (২০১২), খােকাবাবু (২০১২), পাগলু-২ (২০১২), খোকা ৪২০ (২০১৩), রংবাজ (২০১৩), চাঁদের পাহাড় (২০১৩), বুনো হাঁস (২০১৪), যোদ্ধা দ্যা ওয়ারিয়র (২০১৪), বিন্দাস (২০১৪), শুধু তোমারই জন্য (২০১৫), হিরোগিরি (২০১৫), আরশীনগর (২০১৫), কেলোর কীর্তি (২০১৬), জুলফিকার (২০১৬), লাভ এক্সপ্রেস (২০১৬), চ্যাম্প ( ২০১৭), ককপিট (২০১৭), আমাজন অভিযান (২০১৭), হইচই আনলিমিটেড (২০১৮), কবীর (২০১৮), কিডন্যাপ (২০১৯), পাসওয়ার্ড (২০১৯), সাঁঝবাতি (২০১৯), কমাণ্ডো (২০২০), গোলন্দাজ (২০২১), টনিক (২০২১), কিসমিস (২০২২), কাছের মানুষ (২০২২), প্রজাপতি (২০২২), বাঘা যতীন (২০২৩), ব্যোমকেশ ও দুর্গ রহস্য (২০২৩), প্রধান (২০২৩), খাদান (২০২৪), টেক্কা (২০২৪), ধুমকেতু (২০২৫) এবং রঘু ডাকাত (২০২৫)। এছাড়াও আরও কিছু ছায়াছবিতে তাঁর বিশেষ উপস্থিতি লক্ষ্য করা গিয়েছে। সেগুলি হল চিরদিনই তুমি যে আমার (২০০৮), জ্যাকপট (২০০৯), একটি তারার খোঁজে (২০১০), বাওয়ালি আনলিমিটেড (২০১২), অভিশপ্ত নাইট (২০১৪), আহরে মন (২০১৮) এবং উমা (২০১৮)। এইসব সিনেমার গান, নাচ, ডায়লগ তাঁর ফ্যানদের মুখে মুখে ফেরে।
তিনি কাজ করেছেন প্রবীর নন্দী, কমলেশ্বর মুখার্জী, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, অরুণ রায়, রবি কিনাগী, রাজ চক্রবর্তী, সুজিত মণ্ডল, সুজিত গুহ, সুজিত দত্ত, সৃজিত মুখোপাধ্যায়, রাহুল মুখোপাধ্যায়, রাজীব বিশ্বাস, শঙ্কর আইরা, রাজা চন্দ, বিরশা দাশগুপ্ত, অনিকেত চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, পথিকৃৎ বসু, অভিজিৎ সেন, ধ্রুব ব্যানার্জী, শৈবাল গাঙ্গুলী, লীনা গাঙ্গুলী, শামীম আহমেদ রণি প্রমুখ পরিচালকদের পরিচালনায়। আর তাঁর বিপরীতে বিভিন্ন সিনেমায় নায়িকা হিসেবে দর্শক পেয়েছে শুভশ্রী গাঙ্গুলী, রচনা ব্যানার্জী, পায়েল সরকার, কোয়েল মল্লিক, পাওলি দাম, শ্রাবন্তী চ্যাটার্জী, সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়, কৌশানী মুখোপাধ্যায়, ইশা সাহা, তানিয়া সেনগুপ্তা, মিমি চক্রবর্তী, নুসরাত জাহান, পূজা বোস, ইধিকা পাল, রুক্মিণী মৈত্র, সৃজা দত্ত, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, অঙ্কিতা মল্লিক প্রমুখদের।
বাংলা চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রিকে সচল রাখতে সবসময় সদর্থক ভূমিকাই নিয়েছেন মেদিনীপুরের এই নায়কটি। সমালোচকদের বক্তব্য, রাজনীতির অঙ্গনে এসে দেবের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারের ক্ষতি হয়েছে বহুলাংশে। রাজনীতিতে না এলে হয়তো আরও অনেক ছায়াছবিতে আরও ভালো কাজ করতে পারতেন। কিন্তু সবকিছু সামলে তিনি যেভাবে একের পর এক ছবিতে চুটিয়ে অভিনয় করে যাচ্ছেন, তাতে বাকিরা তো বেশ পেছনেই। একদিকে স্টুডিওর কৃত্রিম লাইট, আর অন্যদিকে রাজনীতির মেঠো জমি। দুই ধরনের জগতেই তাঁর সাবলীলতা এবং সফলতা অবাক করার মতোই।
সাহিত্যিক সমরেশ মজুমদারের 'বুনো হাঁস' কাহিনি অবলম্বনে নির্মিত 'বুনো হাঁস' ছবিতে 'অমল' চরিত্রে অভিনয় করেছেন লেখকের ইচ্ছানুযায়ী। ক্লাসিক কাহিনি নিয়ে নির্মিত আরও একটি ছবিতে তিনি ছিলেন নায়ক। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত 'চাঁদের পাহাড়' কাহিনির 'শঙ্কর' চরিত্রে দেবের অভিনয় প্রশংসা কুড়িয়েছে দর্শকদের। এই ছবির শুটিংয়ের জন্য গিয়েছেন সুদূর আফ্রিকা। একেই বলে ডেডিকেশন। এরপর 'আমাজন অভিযান'তেও দুর্ধর্ষ উপস্থিতি তাঁর। কেবলমাত্র গতানুগতিক ধারার ফ্যান্টাসি সিনেমায় অভিনয় করতে তিনি নিজেকে ব্যাপৃত রাখতে চাননা। তাঁর অভিনীত চলচ্চিত্রের তালিকা দেখলেই তা বোঝা যায়। ইতিমধ্যে নিজের প্রোডাকশন হাউস 'দেব এন্টারটেনমেন্ট ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেড' গঠন করেছেন। আর আজ তিনি টলিউডের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক নেওয়া সফল অভিনেতার শিরোপা মাথায় ধারণ করে আছেন। মেদিনীপুরের বুক থেকে উঠে এসে কলকাতায় ঠাঁই খুঁজে নিতে কেবল 'কবজি' নয়, লাগে 'কলিজার জোর'। কোনও 'কবজ মাদুলি'র ভরসায় নয়, অভিনয় দক্ষতার 'কল কবজা' তাঁকে উত্তরণের দিশায় আলোকিত করেছে বলা যায়।
অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মান পেয়েছেন ফিল্মি জগতের ঘেরাটোপে থাকার সুবাদে। ২০১০ সালে পান 'স্টার আনন্দ সেরা নতুন প্রতিভা' পুরস্কার। এছাড়াও এই বছরই ‘সেরা বাঙালি অ্যাওয়ার্ড ২০১০’ পেয়েছিলেন। ২০১৪ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার থেকে পেয়েছেন 'মহানায়ক' সম্মান। ‘জুলফিকার’ সিনেমায় অসামান্য অভিনয়ের জন্য ‘এন এ বি সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলা ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন। কলকাতা টাইমসের বিচারে ২০১৩ সালে ‘সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুরুষে'র শীর্ষে থাকার কৃতিত্বও তাঁর। 'চ্যালেঞ্জ' সিনেমাতে দুর্দান্ত অভিনয়ের কারনে তিনি 'আনন্দলোক' থেকে সেরা অভিনেতা এবং সেরা অ্যাকশন হিরোর জোড়া পুরস্কার পান। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে পেয়েছেন টেলি সিনে অ্যাওয়ার্ড ২০১০, কলাকার অ্যাওয়ার্ড ২০১০, বিগ বাংলা মুভি অ্যাওয়ার্ড ২০১১, আনন্দলোক অ্যাওয়ার্ড ২০১২, জি বাংলা অ্যাওয়ার্ড ২০১২, কলাকার অ্যাওয়ার্ড ২০১২, টলিউড ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ২০১৪ ইত্যাদি। পুরস্কার তাঁর মাথা ঘুরিয়ে দিতে পারে নি। বরং আরও বেশি মাত্রায় কাজের প্রতি অনুরক্ত হতে পেরেছেন। নিজেকে ভেঙেচুরে নিত্যনতুন চরিত্রের মধ্যে প্রবেশ করাতে সচেষ্ট হয়েছেন। দর্শকদের কথা ভেবে নিজেকে আরও সাবলীলভাবে উপস্থাপন করতে পেরেছেন। এককথায় বাংলা চলচ্চিত্র জগতে একজন দক্ষ এবং বলীষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে নিজের কুর্শিটিকে দৃঢ়তরভাবে স্থাপন করেছেন।
এরই মাঝে রূপোলী পর্দা থেকে নেমে এলেন জনগণের দরবারে। সাংসদ গুরুদাস দাশগুপ্তের স্থলাভিষিক্ত হলেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। ২০১৪ এর ১৬ ই মে লোকসভা নির্বাচনে তিনি নিজের জেলায় ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে প্রথমবারের জন্য সাংসদ হিসেবে নির্বাচিত হন। চললেন দিল্লি। সেবার পেয়েছিলেন ৬৮৫৬৯৬ টি ভোট (৫০.২%)। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সন্তোষ রাণা পেয়েছিলেন ৪২৪৮০৫ টি ভোট (৩১.১%)। টানা তিনবার তিনি এই ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ। ২০১৯ এর ২৩ শে মে দ্বিতীয়বার সাংসদ হন মোট ৭১৭৯৫৯ টি ভোট (৪৮.২%) পেয়ে। সেবার তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ভারতী ঘোষ পেয়েছিলেন মোট ৬০৯৯৮৬ টি ভোট (৪১%)। শেষবার ২০২৪ এ জেতেন মোট ১৮২৮৬৮ টি ভোটের ব্যবধানে। তিনি পেয়েছিলেন মোট ৮৩৭৯৯০ টি ভোট। সেখানে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আরেক বিখ্যাত অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায় পেয়েছিলেন মোট ৬৫৫১২২ টি ভোট। যদিও রাজনীতি তাঁর জগত নয়। কিন্তু অসাধারণ দক্ষতায় সবকিছু মানিয়ে নিয়েছেন সবকিছু অক্ষত রেখেই। তাঁর প্রথম প্রেম 'অভিনয়' থেকে তাঁকে বিচ্যুত করতে পারেনি এই রাজনীতি।
২০১৪ এর ১ লা সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ শে আগস্ট ২০১৬ পর্যন্ত তিনি সংসদের চলচ্চিত্র শিল্প ও সদস্য সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১ লা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ থেকে দেশের প্রতিরক্ষা স্থায়ী কমিটির সদস্য হন। যা তাঁর মুকুটের অন্যতম পালক বৈকি। এছাড়াও তিনি খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প মন্ত্রকের পরামর্শক কমিটির সদস্য হিসেবেও নিযুক্তি পান। 'ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে'র বাস্তবায়ন করাই এখন তাঁর কাছে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। এই ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান বাস্তবায়নের জন্য সংসদে তুলে ধরেন তাঁর দাবী। এই বিষয়ে ভরা সংসদে তিনিই প্রথম বাংলা ভাষায় বক্তৃতা করেন। যা বেশ চমকপ্রদ।
🍂
0 Comments