জ্বলদর্চি

ছোটোবেলা ১৮৮

ছোটোবেলা ১৮৮
চিত্রগ্রাহক - ঋপণ আর্য

সম্পাদকীয়,
পাথরকুসমা গ্রামের গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে যখন রতনতনু জ্যেঠু আমাদের খুব মাতিয়ে তুলেছেন তখন ঋষিকা অদ্ভুত বন্ধুদের গল্প শোনাল। আর ঋপণ আঙ্কেল ছবি পাঠাল গ্রামের এক ছোট বন্ধুর যে টায়ার চালিয়ে খেলা করে। জয়দীপ খুব সুন্দর একটা মেয়ের ছবি পাঠিয়েছে যে খুব সুন্দর নাচতে পারে। আর রামকিশোর জ্যেঠু একটা গ্রামের গল্প বলেছেন ছড়ায় যে গ্রামে ফুল ফোটে স্বপ্নের মতো সুন্দর করে। গ্রামের গল্প এখানেই শেষ নয়। অমিত আঙ্কেল খুব সুন্দর পাঠপ্রতিক্রিয়া লিখে পাঠিয়ে আমাদের আনন্দ বাড়িয়ে দিয়েছেন। এবার তোমরাও প্রত্যেকে নিজেদের গ্রামের গল্প লিখে পাঠাও ছোটোবেলার দপ্তরে। --- মৌসুমী আন্টি।

(প্রচ্ছদটি AI এর সহায়তায় এঁকেছেন রাজীব কুমার ঘোষ)

ধারাবাহিক উপন্যাস

গগণজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ
পর্ব ৪

রতনতনু ঘাটী

পাথরকুসমা গ্রামটা অনেকটাই স্বনির্ভর। লোকজন খুব একটা যে দলে-দলে কলকাতায় চাকরি করতে যায়, তেমন নয়। এদিক-ওদিক হাই স্কুল এবং প্রাইমারি স্কুল তো আছেই। এছাড়া পঞ্চায়েত অফিস আছে। তবু এ গ্রামের মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি কলকাতায় ‘নবান্ন’তে কাজ করতে গিয়েছিলেন সেই কতদিন আগে। তখনকার দিনে ভাল ইন্টারভিউ দিলে চাকরি জুটে যেত! ইন্টারভিউ দিয়েই চাকরিটা পেয়েছিলেন। তারপর প্রমোশান পেতে-পেতে তিনি অফিসের বড়বাবু হয়েছিলেন। সারা মাস কলকাতায় একটা মেসবাড়িতে থাকতেন। মাসের কোনও একটা শনিবার রাতের ট্রেনে চড়ে কলকাতা থেকে পাথরকুসমা গ্রামে আসতেন। মাসে এই একবারই বাড়ি আসতেন। এক ছেলে এবং একজন মেয়ে। তাদের লেখাপড়ারও তেমন খোঁজখবর রাখতেন না তিনি। সব দেখতেন তাঁর স্ত্রী মন্দাকিনী। কোন শনিবার বাড়িতে আসবেন, সে কথা তাঁর স্ত্রী মন্দাকিনীও জানতেন না। তাঁর চাকরি জীবনে কতগুলো শনিবার যে তিনি গ্রামে এসেছেন হিসেব কষে চট করে বলে দেওয়া যায়। 
   সোমবার দিন খুব ভোরে উঠে স্ত্রী মন্দাকিনীকে বলতেন, ‘মন্দু, গুড় দিয়ে এক কাপ চা করে দাও। কলকাতা ছুটতে হবে তো?’ মন্দাকিনীকে ভালবেসে ওই নামেই ডাকতেন মুকুন্দকৃষ্ণ। তবে আশপাশে কেউ থাকলে মন্দাকিনী নামেই ডাকতেন। এমনকী, ছেলেমেয়েদের সামনেও স্ত্রীর নাম মন্দাকিনী।
    চা খেয়ে বাড়ির পাশের ছোট নদীটার হাঁটুজল খেয়া পেরিয়ে কলকাতার বাস ধরতেন। নদীটার তেমন কোনও নাম ছিল না। যে যেমন খুশি নামেই নদীটাকে ডাকতেন। গ্রামের কেউ-কেউ নদীটাকে ডাকত ‘কুসুম’ নামে। এই নামে কোনও নদীর কথা ভূগোল বইয়ে পড়েননি মুকুলকৃষ্ণ। তাই মুকুন্দকৃষ্ণ একবার খুব উৎসাহ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের ছোটখাটো নদীর ইতিহাস ঘেঁটে দেখেছিলেন। তিনি পশ্চিমবঙ্গের ছোট নদীর ইতিহাস জানতে ছুটে গিয়েছিলেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগ্রহশালায়। ছুটির দিনে ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে গিয়ে খোঁজখবরও করেছিলেন। না, কুসুম নদীর কোনও লিখিত নজির তিনি খুঁজে পাননি। 
   কলকাতায় ভবানীপুরের কুড়ি-বি, দেবেন্দ্র ঘোষ রোডের একটা মেসবাড়িতে থেকে সারাজীবন চাকরি করেছেন। কিন্তু কোনও দিন একটা বাড়ি তৈরি করার কথা কখনও ভাবেননি বা ফ্ল্যাট কেনার কথা চিন্তাও করেননি। কেউ ওরকম প্রশ্ন করলে তিনি হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলতেন, ‘আমার শাঁখাপোতা গ্রামে একটা ছোটখাটো বাড়ি তো আছেই!’
    তিনি এই তো সবে মাস তিনেক হল রিটায়ার করে পাথরকুসমা গ্রামে ফিরে এসেছেন। এখন গত তিন মাসে একবারের জন্যেও কলকাতা যাননি। এখন ইডেনে কত কত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের খেলা হচ্ছে। সেসব দেখার ব্যাপারে তাঁর একটুও টান নেই বললেই চলে। ওঁকে দেখলে মনে হয়, যেন মানুষটা কলকাতায় থাকেননি কখনও। ইডেনে খেলা দেখা? নাঃ! দেখে মনে হয়, তাও না। আসলে কলকাতায় রাতে থাকার মতো আস্তানা কোথায়?
   কেউ যদি বলেন, ‘কী গো মুকুলকৃষ্ণবাবু, আজ তো দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ইন্ডিয়ার হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচ আছে ইডেনে? যাবেন না?’
   উত্তরে তখন মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি বলে উঠতেন, ‘এই তোমাদের তো টিম-ইন্ডিয়ার বহর, কেমন আর খেলবে? ওরা এখনও ঠিকমতো ব্যাটই ধরতে শেখেনি!’
   পাথরকুসমা গ্রামের সকলে বলত, ‘মুকুলবাবুর মেস-পাগলামি সারাজীবনের। তাই সারাজীবন একটা মেসেই কাটিয়ে দিলেন। তাঁর আর একটাই মাত্র পাগলামি ছিল সারা জীবন ধরে—সেটা হল ক্রিকেট নিয়ে। কলকাতায় থাকাকালীন ইডেনের কোনও ক্রিকেট ম্যাচই তিনি মিস করেননি কখনও। 
   ‘উইজডেন ক্রিকেট মান্থলি’ ম্যাগাজিনে একবার নাকি মুকুলকৃষ্ণবাবুকে নিয়ে একটা বড় আর্টিকেল বেরিয়েছিল—‘কলকাতার সবচেয়ে বেশিবার ইডেনে ক্রিকেট ম্যাচ দেখা  দর্শক’—এই হেডিংয়ে। সে সংখ্যাটা পাথরকুসমা গ্রামের সিনিয়ার দু’-চারজন দেখেছেন বলে গ্রামে শোনা যায়। সকলেই যে ব্যাপারটা ঠিকমতো মনে করতে পারেন, এমন নয়। কেউ বলেন, ‘মনে হয় উইজডেনের সেই সংখ্যাটা দেখেছি।’ কেউ-কেউ বলেন, ‘হয়তো দেখেছি। এখন আর মনে করতে পারছি না!’ 
   তবে মুকুলকৃষ্ণবাবু ‘উইজডেনের’ সেই সংখ্যাটা নিজের সংগ্রহে রেখে দিয়েছেন বলে তো মনে হয় না! উনি নিজের সম্পর্কে যা উদাসীন মানুষ! তবে মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতির স্মৃতিশক্তি প্রখর বলে গ্রামের সকলেই শুনে আসছে সেই কতদিন আগে থেকে।  ক্রিকেটের কত-কত রেকর্ড বা ক্রিকেট-কাহিনি তাঁর পরিষ্কার মুখস্ত। তিনি গ্রামে এলে তাঁকে লোকে ‘ক্রিকেট কিংবদন্তি’ নামে ডাকত। ছোটরাও ওই নামেই ডাকত তাঁকে। মুকুলবাবু এখনও যখন তাঁর দেখা ক্রিকেটের গল্প করেন, তখন তাঁর গলার ধমনী ফুলে ওঠে গর্বের আতিশয্যে। 
    হেডস্যার দু’ মাস আগে গগনজ্যোতি স্কুলের বার্ষিক অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতিকে আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছিলেন। সভাপতির বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি বললেন, ‘সুনীল গাওস্করের অনেক খেলা আমি কলকাতায় ইডেনের গ্যালারিতে বসে দেখেছি। সেবার অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে ইডেনে এসেছিলেন গাওস্কর। আমি গ্যালারির সামনের দিকেই বসেছি। থার্ড টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটো ইনিংসে--একশো সাত রান এবং একশো বিরাশি রানে নট আউট থেকে ইতিহাস তৈরি করেছিলেন গাওস্কর। সে খেলা আমি নিজের চোখে দেখেছি।’ 
   এসব কথার পিঠে মুকুলবাবু খানিকক্ষণ থেমে থেকে ছোটদের দিকে তাকিয়ে হাসি-হাসি মুখে বলেছিলেন, ‘তোমরা জানো তো, সুনীল গাওস্কর কলকাতায় খেলতে এলে একবার না-একবার লাল দই খেতেনই! এসব আমার নিজের চোখে দেখা!’
   ক্রিকেটের গল্প যেই শোনাতে শুরু করেছেন, মুকুলকৃষ্ণ বাবুকে আর চট করে ক্ষান্ত করা গেল না। আজকের অনুষ্ঠানসূচি বেশ লম্বা! কী করে পুরো অনুষ্ঠান শেষ করবেন এই নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলেন হেডস্যার। হেডস্যার তাঁকে বক্তব্য শেষ করার জন্যে কিছু একটা ইঙ্গিত করলেন ড্রপ স্ক্রিনের আড়ালে দাঁড়িয়ে থেকে। সে ইঙ্গিতে খুব একটা  কাজ হল বলে মনে হল না। মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি যেমন গতিতে বক্তৃতা শুরু করেছিলেন, ওরকম গতিতে বলেই চললেন, ‘কিংবদন্তি ক্রিকেটাররা এক-একজন এক-একটা খাওয়ার খেতে পছন্দ করতেন। কলকাতায় এলে তাঁদের সেসব খাওয়ার ইচ্ছে মাথায় ঘুরপাক খেত। যেমন, সুনীল গাওস্করের প্রিয় খাবার ছিল লাল দই! তেমনি আবার কপিলদেবের পছন্দ ছিল একেবারেই অন্য রকম। তিনি একদম মিষ্টি খেতেন না। তাঁর পছন্দ ছিল বেকড ফিস। টাটকা ভেটকি মাছ লেবুর রসে জারিয়ে রেখে পরে বেকড করে পরিবেশন করা হত তাঁর প্লেটে। আপনারা সকলেই এই কথাটা তো জানেন, ফিস ফ্রাই সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের খুব প্রিয় খাবার। আর ক্রিকেটের ‘লিটল মাস্টার’ সচিন তেন্ডুলকর আবার বেশি পছন্দ করতেন কাবাবের পদ। কিন্তু একেবারেই ঝাল–তেল ছাড়া। উনি মসলাদার খাওয়ার খেতেন না। তা ছাড়া সচিন তেন্ডুলকর  দই খেতে এতটাই ভালোবাসতেন যে, সে কথা তোমাদের কী বলব! হাঁড়ির গায়ে লেগে থাকা দইয়ের সরটুকুও ফেলতে চাইতেন না।’
   হেডস্যার অন্য একটি মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে মঞ্চের বাঁ দিকে দাঁড়িয়ে পড়লেন। মুকুলবাবুর কথার ফাঁকে পটাং করে ক্যাচ করে নিলেন হেডস্যার। তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলতে শুরু করলেন, ‘আজ তোমাদের ক্রিকেটের গল্প শুনতে খুবই ভাল লাগছে বুঝতে পারছি। কিন্তু আজ তো আমাদের হাতে অত সময় নেই। আরও কয়েকজন বক্তা আছেন। তাঁরাও বলবেন। তাই আমরা বরং আর-একদিন মাননীয় মুকুলকৃষ্ণবাবুকে আমাদের স্কুলে অতিথি করে নিয়ে আসব। সেদিন অ্যাসেম্বলি হলে আমরা সকলে শুধুই মুকুলকৃষ্ণবাবুর ক্রিকেটের গল্প শুনব। তোমরা রাজি তো?’
    অনুষ্ঠানের সামনে ছোটরা বসেছিল। সকলে একবাক্যে হাত তুলে বলল, ‘হ্যাঁ, আমরা রাজি স্যার! আমরা ক্রিকেটের গল্প শুনব স্যার।’ 
   সেদিনের মতো অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগেই মুকুলকৃষ্ণবাবু মঞ্চ থেকে নেমে আসার পর-পরই ছাত্রছাত্রীরা তাঁকে ঘিরে ধরল। তারা এখনই আরও ক্রিকেটের গল্প শুনতে চায়। দেবোপমসার এগিয়ে এসে দু’ হাতে ভিড় সরিয়ে দিয়ে বললেন, ‘মুকুলকৃষ্ণবাবু তো আর-একদিন আমাদের স্কুলে আসবেন কথা দিলেন হেডস্যারকে। আগে আমরা একটা দিন ঠিক করি। সেদিন ক্রিকেটের অনেক গল্প শুনব ওঁর কাছ থেকে। আজ ওঁকে বাড়ি যেতে দাও, প্লিজ।’
   মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতি বাড়ির দিকে পা বাড়ালেন। অমনি ক্লাস এইটের পাঁচ-ছ’জন ছাত্র তাঁর পিছন-পিছন গুটগুট করে এগিয়ে যেতে লাগল। মুকুলকৃষ্ণবাবু  ওদের দিরে তাকিয়ে বললেন, ‘মুম্বইয়ের বড়া পাও ভাজি এবং আর-একটা জিনিস খেতে ভীষণ ভালবাসেন কে বলো তো? কোন ক্রিকেটার? কোন ক্রিকেটার এবং জিনিসটাই বা কী, এখনই বলছি না। ওদিকে অনুষ্ঠান চলছে। এখন সক্কলে স্কুলে ফিরে যাও। যেদিন তোমাদের স্কুলে ক্রিকেটের গল্প বলতে আসব, সেদিন তোমরা আমাকে মনে করিয়ে দিও, কোন ক্রিকেটারের প্রিয় খাবারের কথা সেদিন বলব।’
   ছেলেরা নিরাশ হয়ে ফিরে এল মঞ্চের সামনে। ততক্ষণে শুরু হয়ে গেছে ক্লাস সেভেনের মেয়েদের নৃত্যনাট্য ‘শ্রাবণ-গাথা’। ক্লাস সেভেনের কঙ্কনা দেবনাথ দারুণ নাচল। নাচ শেষ হতে হেডস্যার নিজে দাঁড়িয়ে হাততালি দিয়ে উঠলেন। ছোটরাও সামনে থেকে জোর হাততালি দিল। বাংলার গীতিকাম্যাম মঞ্চে গিয়ে কঙ্কনাকে জড়িয়ে ধরলেন।
   অনুষ্ঠান শেষের আগে হেডস্যার ঘোষণা করে দিলেন, ‘এবার তোমাদের জন্যে একটা দারুণ ঘোষণা আছে। আগামী ছাব্বিশে জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে অনুষ্ঠানের পর আমাদের অ্যাসেম্বলি হলে বসবে ক্রিকেটের গল্পের আসর। আমি একটু আগে ফোনে মুকুলকৃষ্ণ সেনাপতিকে অনুরোধ করেছি। তিনি আমাকে কথা দিয়েছেন, ওই দিন উপস্থিত থাকবেন। এ ছাড়া তোমরা হয়তো পুরোটা জানো না, আমাদের ইতিহাস-ম্যাম অনুলেখা দত্তর ক্রিকেট নিয়ে অনেক পড়াশোনা আছে। আমাকে এই মাত্র মনে করিয়ে দিলেন আমাদের দেবোপমস্যার। আমি এক কথায় রাজি। আমাদের স্কুলের ক্লাস এইটের মেয়েরা যখন অত ভাল ক্রিকেট খেলছে, তখন ক্রিকেট নিয়ে অনুলেখাম্যাম বলবেন না-ই বা কেন? ওই দিন ক্রিকেটের ইতিহাস ঘেঁটে নানা চমৎকার সব গল্প শোনাবেন অনুলেখা।’
   মঞ্চের বাঁ দিক থেকে হাত নেড়ে অনুলেখাম্যাম আপত্তি জানালেন, ‘না স্যার, আমি ক্রিকেট নিয়ে বলতে পারব না! প্লিজ!’
   হেডস্যার নাছোড় গলায় বললেন, ‘না না। অনুলেখা, তোমাকে বলতেই হবে। তুমি না বললে আমাদের মেয়েরা ক্রিকেটে উৎসাহিত হবে কেমন করে?’
   মেয়েরা সামনে দাঁড়িয়ে তুমুল হাততালি দিয়ে উঠল, ‘অনুলেখাম্যাম বলবেন! অনুলেখাম্যাম বলবেন!’
    (এরপর পঞ্চম পর্ব)
জয়দীপ সাহা
দশম শ্রেণি, সোদপুর হাই স্কুল, উত্তর ২৪ পরগণা

🍂
এক অদ্ভুত বন্ধুত্ব
ঋষিকা সামন্ত
নবম শ্রেণি
জওহর নবোদয় বিদ্যালয়
পশ্চিম মেদিনীপুর

এক সন্ধ্যায় মাঠের মাঝে বসে প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেছিলাম আর গুণছিলাম আকাশের অজস্র তারা। হঠাৎ মনে হল তাদেরই মধ্যে কোনো একটা তারা খুব জোরালো শব্দ ও অদ্ভুত আলোর সাথে নিচের দিকে নেমে আসছে। মুহূর্তের মধ্যে ওটা অনেকটা কাছে চলে এল। আমি বুঝতে পারলাম এটা কোনো তারা নয় বরং এক গোলাকার যন্ত্র ঠিক যেন গল্পের বইয়ে পড়া UFO এর মতো। ওটা কিছুটা দূরে এসে নামল। আমার ঐ যন্ত্রটার কাছে যেতে খুব ইছে করল। শেষ পর্যন্ত মনস্থির করতে না পেরে ওখানে চলেই গেলাম। যেতেই সবুজ বর্ণের অদ্ভুত প্রাণি দেখতে পেলাম। ওদের ছিল একটা চোখ আর মাথার ওপর থেকে বেরোনো দুটো লম্বা লম্বা শুঁড়। আমি হাঁ করে তাকিয়ে রইলাম। মনে হচ্ছিল ছোটোবেলার গল্পের বইয়ে পড়া সব কাল্পনিক জিনিসগুলো আমাকে তাদের দেশে নিয়ে চলে গেছে। তারাও আমাকে দেখে একটু অবাক হয়ে গেছিল। হঠাৎ তারা আমাকে কিছু বলার চেষ্টা করল। আমি তাদের কোনো কথাই বুঝতে পারছিলাম না। তখন আমাকে তারা ঈঙ্গিতের সাহায্যে বোঝাতে চেষ্টা করলাম। আমি বুঝতে পারলাম যে তাদের যন্ত্রটাতে কিছু অসুবিধে হওয়ায় তারা আর এগোতে পারেনি। তাই এখানে নামে। তারা আমার সাহায্য চাইল। কিন্তু আমি তো ঐ যন্ত্রটা বিষয়ে কিছুই জানতাম না।  তবু আমি ওদের সাহায্য করতে রাজি হলাম। 
ওরা আমাকে যন্ত্রটার মধ্যে নিয়ে গেল। ওরাই ইশারাতে বলল, এটা ঠিক করতে দুদিন লাগবে। এই দুদিন আমি যেন ওদের সাথে থাকি। আমি কিছুটা কিন্তু কিন্তু করেও শেষ পর্যন্ত ওটাতেও রাজি হয়ে গেলাম। আমার কাজ হল ওদের কিছু দরকার হলে দোকান থেকে তা কিনে এনে দেওয়া। মাঝে মাঝে যন্ত্রটা ঠিক করার জন্য কিছু সাহায্য করে দিতাম। অবসর সময়ে ওদেরকে এখানকার ভাষা, মানুষ ও প্রকৃতি সম্পর্কে বলতাম। আস্তে আস্তে দু-দুটো দিন কেটে গেল। তারপর ওদেরকে যেতেই হতো। কিন্তু এই দুদিনে আমাদের বন্ধুত্বটাও অনেকটা গাঢ় হয়ে গিয়েছিল। যদিও ওদের সঙ্গে আমার কোনো কিছুরই মিল ছিল না। তবুও যেতে দেওয়ার মন হচ্ছিল না। আমি খুবই বিষন্ন হচ্ছিলাম দেখে ওরা আমাকে আকাশে ওড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল। এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই আমরা নিচের সবকিছু ছাড়িয়ে আস্তে আস্তে উপরে উঠতে লাগলাম। আমার এতটাই আনন্দ হচ্ছিল যে সেটা বলে বোঝানো সম্ভব ছিল না। খুব উপরে ওঠায় আমি একসময় পুরো পৃথিবীটাকে দেখিতে পাচ্ছিলাম, যা হয়তো আর কোনোদিন দেখতে পাব না। একটু পরে আমাকে নিয়ে আবার পৃথিবীতে ফিরে এল। এবার বিদায় জানানোর পালা। 
ওরা আমাকে বিদায় জানিয়ে নিজদের গ্রহের উদ্দেশ্যে রওনা দিল। আমি দেখলাম ধীরে ধীরে যন্ত্রটা অস্পষ্ট হচ্ছে। শেষে আকাশের এক কোণায় গিয়ে একদম মিলিয়ে গেল। তারপর আরো অনেকবার ঐ জায়গায় গিয়েছি কিন্তু তারপর থেকে আর দেখা হয়নি সেই দুদিনে মধ্যে তৈরি অদ্ভুত বন্ধুদের সাথে।

মৌসুমী গ্রামে

রামকিশোর ভট্টাচার্য

গোলাপের চাষ ছিল মৌসুমী গ্রামে ,
যেখানে সন্ধে হলে তারারাও নামে ৷
তারাদের ভাইবোন বন্ধুরা মিলে -
সারারাত খেলা করে পদ্মের ঝিলে ৷
জোছনায় আঁকা হয় স্বপ্নের ছবি ,
দেখে বসে ছড়া লেখে পথভোলা কবি ,
এক সে রাস্তা আছে ভাবনার পাশে
সেখানেই শৈশব মিটিমিটি হাসে ৷
সে হাসির আলো যত প্রতিদিন ভোরে -
রোদ্দুর হয়ে দেখি পাখা মেলে ওড়ে ৷
তারপর সারাদিন পড়া পড়া খেলা ,
হাওয়ারা উড়িয়ে নেয় সব অবহেলা ৷

পাঠপ্রতিক্রিয়া
১৮৭তম ছোটোবেলা পড়ে ঝিখিরা  হাওড়া থেকে
অমিত কুমার রায় যা লিখে পাঠালেন 

১৮৭ সংখ্যার ছোটোবেলার প্রচ্ছদ থেকেই লেখা শুরু করি। কি মিষ্টি ছবি! চৌডল সম্পর্কে সম্পাদকীয় থেকে জানলাম টুসু পরবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এভাবেই তো জানা হয় শেখা হয়। শেখা বা জানার কোন বয়স হয় না। ছবিতে সুন্দর কিশোরীর হাতে চৌডল আর অনেক অনেক তৈরি বাঁশ ও কাগজ দিয়ে, পরব বা উৎসব শেষে নদীতে ভাসান্ দেয়া হয়। তবে নদীকে দূষণমুক্ত রাখতে নদীর পাড়ে আর্বজনা তুলে ফেলা উচিত বলে মনে করি। গগনজ্যোতি স্কুলের ক্রিকেট ম্যাচ ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব৩ পড়ে যেটুকু বুঝলাম ছাত্র-ছাত্রীদের পড়ার সঙ্গে খেলার একটা যোগ সমন্বয় থাকা অতি প্রয়োজন হয়ই, ছাত্র-ছাত্রীরা উৎসাহিত এবং শারীরিক এবং মানসিক সুস্থতার পথ খুঁজে পাবে। শিক্ষক প্রধান শিক্ষক অনেকের উৎসাহ ছাত্র-ছাত্রীদের কাছের করে নেয়, খেলার আগ্রহী করে গড়ে তোলে। জ্বলদর্চির ছোটোবেলার প্রতিটি পর্ব পড়া এবং জানা খুবই প্রয়োজন। অনুশ্রুতির ছবি আঁকা দেখে মুগ্ধ হলাম; আরো ভালো আঁকুক বড় শিল্পী হোক মানুষ হোক এই কামনা করি।কাঠঠোকরার কান্ড শীর্ষক প্রবন্ধে অনেক জানা এবং অজানা বিষয় পেলাম। ছোটোরা পড়ে মনে করে রাখলে অনেকটাই পরিবেশের ভারসাম্য সম্পর্কে জানতে পারবে।গ্রহ-বিদ্রোহ শৌর্য্য পাল নবম শ্রেণীর ছড়া পড়লাম আমি খুব খুশি কিশোর সূর্যের কলমের সাহসিকতাকে। ভালো পড়লে ভালো লেখা যায় অবশ্যই। ধন্যবাদ ছোটোবেলা।

Post a Comment

1 Comments

  1. জমজমাট জ্বলদর্চি ছোটোবেলা।

    ReplyDelete