জ্বলদর্চি

বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল ২০২৫- নতুন পরিচিতি নতুন ব্যাখ্যা/পর্ব ২/সজল কুমার মাইতি


বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিষ্ঠান বিল ২০২৫- নতুন পরিচিতি নতুন ব্যাখ্যা
পর্ব  ২

সজল কুমার মাইতি

লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য 
এই আইনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হল 
এই বিলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য (Aims and Purposes) অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। মূলত ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে গড়ে তোলার জন্য এই বিলটি আনা হয়েছে। নিচে এর মূল লক্ষ্যগুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো।

​১. একক ও সংহত নিয়ন্ত্রণ (Unified Regulation)
​বর্তমানে ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা বিভিন্ন সংস্থা (যেমন UGC, AICTE) দ্বারা খণ্ডিতভাবে পরিচালিত হয়। এই বিলের প্রধান উদ্দেশ্য হলো সমস্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (চিকিৎসা ও আইন বাদে) একটি মাত্র ছাতার নিচে (Single Umbrella) নিয়ে আসা, যাতে প্রশাসনিক জটিলতা কমে।
​২. শিক্ষার মানোন্নয়ন (Enhancing Quality of Education)
​ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে বিশ্বমানের (Global Standards) করে তোলা এই বিলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। এটি নিশ্চিত করবে যে শিক্ষার্থীরা যেন কেবল ডিগ্রি না পায়, বরং আন্তর্জাতিক স্তরের জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জন করতে পারে।
​৩. স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতা ( Autonomy and Independence)
​ভালো ফল করা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রশাসনিক ও একাডেমিক ক্ষেত্রে আরও বেশি স্বায়ত্তশাসন (Autonomy) প্রদান করা। এর ফলে তারা নিজেরাই নিজেদের পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ এবং গবেষণার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
​৪. স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা (Transparency and Accountability)
​শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা আনা। ফিস কাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ এবং পরিকাঠামো সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করতে বাধ্য করা, যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা প্রতারিত না হন।
​৫. গবেষণা ও উদ্ভাবনে জোর (Focus on Research and Innovation)
​কেবল পুঁথিগত বিদ্যা নয়, বরং গবেষণা (Research) এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের পরিবেশ তৈরি করা। ভারতের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বৈশ্বিক র‍্যাঙ্কিংয়ে উপরের সারিতে আসতে পারে, তার জন্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো নিশ্চিত করা।
​৬. জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020) বাস্তবায়ন
​২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে যে আমূল পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছিল, সেগুলোকে আইনি রূপ দেওয়া এবং কার্যকরী করাই এই বিলের মূল ভিত্তি।

🍂

​বিলের উদ্দেশ্যের সার-সংক্ষেপ
লক্ষ্য
উদ্দেশ্য
সরলীকরণ
একাধিক নিয়ন্ত্রক সংস্থার বদলে একটি সহজ ব্যবস্থা তৈরি করা।
সাশ্রয়
শিক্ষার খরচ নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের কাছে উচ্চশিক্ষা পৌঁছে দেওয়া।
আধুনিকীকরণ
ডিজিটাল লার্নিং এবং মাল্টি-ডিসিপ্লিনারি শিক্ষাকে উৎসাহিত করা।
শাস্তি
দুর্নীতিগ্রস্ত বা নিম্নমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া।

চলবে

Post a Comment

0 Comments