জ্বলদর্চি

কবিতাগুচ্ছ /শিবালোক দাস


কবিতাগুচ্ছ 

শিবালোক দাস 


পাত্র 

খুলতে খুলতে যদি খুঁজে পাও
নিপাট, বর্ণহীন কৈবল্য;
যদি সামান্য রাত্রির কাছে মুঠোভর্তি 
বালির ফলিত অর্ধনাম রাখো;
একটি নতুন নাম দিও, সন্তর্পণে…

সমস্ত স্ফীতির পর, একদিন মরশুম
খর্ব হতে হতে, ছায়া খুঁজে পায়।

শুকিয়ে যাচ্ছে।

বিকৃত নিশ্চিহ্নতার জন্য দু ফোঁটা
পূণ্যস্নান এনে দাও !


শীর্ষ

খণ্ডন করেছি শীর্ষ,
বিনিময়ে অর্জিত নক্ষত্রের
ঝরা পালকে পালন করি
সম্ভাবনাময় পথ..

ছোট ছোট বিদ্যুতে বলিরেখা
পড়ে এলে মনে হয় এতদিন মিথ্যে
ছিল বিকল্প, মিথ্যে ছিল গান।

দরজায় দাঁড়িয়ে লঙ্ঘন করেছি--

লঙ্ঘন করতে করতে ভুলে যাই,
একবার পাথর হয়েছিলাম নির্মিত তর্জনীতে…

🍂


নিহত সাপের আকারে 

নিহত সাপের আকারে বসে থাকি,
তারামগ্ন স্বরে ব্যর্থ যে জলাশয় থেকে
এতদিন তুলেছি বিন্যাস, 
তাকে শেখাই ব্যবধান।
তাকে সমস্ত অনুমানে করি অরণ্য—

নিহত সাপের আকারে ব্যাহত হয়েছে যাবতীয় নুন…
 
যে দিন আমার আগুনে ছিঁড়ে গেল,
গোপনে ফেলে গেল সঙ্গম, সঙ্গীতে;
সে জানে, কল্পিত শ্বেত‌ কখনো ফেরে
না ঘাসের বিহ্বলতায়…


ছোবল

বহমান উদ্যত ছোবলে খুন‌ হয়েছে
তোমারই উৎস…
যে পথে মেঘ, তার উল্টো পথে ঝরেছে নকশা,
এতদিন পর কেন তাকে ফেরাতে চাও ?

খোলো চোখ, ফুটে ওঠা শিরা উপশিরায়
অপরিবর্তিত শিরোনাম,
যে দিকে দাঁড়াও, তার উল্টো দিকে ভাঙে
পুরোনো ধ্বংস,
ভাঁজ খুলে কেন ভাসাও ?

দ্বিধাহীন বুকে জড়িয়ে নিতে একবার হাত রাখো,

নিরুত্তাপ নীল, মনে মনে তোমাকে ভেবেছিল
অরণ্য-ছায়া,
আঘাতের উল্লাসে…


মধুমাস

দাঁড়িয়ে আছ।
মধুমাস পেরিয়ে হাত দুটি
ছুঁয়েছে রক্তাক্ত পাখির ঠোঁট..
সে কেবল জ্যোৎস্নামুক্ত হতে চেয়েছিল।

চেয়ে আছ।
আলো তোমাকে পারত লঙ্ঘন করতে,
সন্ধ্যা নামলেই পাঁজরে শব্দ আসে রঙিন হবার;
বিজাতীয় রেখা শনাক্ত করার--

মৃত্যু বরাবরই শ্রেষ্ঠ, প্রশ্রয়ে তাকে ভাসাও জলে...
তফাত চাইনি।

Post a Comment

0 Comments