জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা। মনকেমনের দিন/বাসুদেব গুপ্ত

গুচ্ছ কবিতা। মনকেমনের দিন
বাসুদেব গুপ্ত

১)
থাক না ওটা পুরনো খাটের
নীচে গুঁজে রাখা  টিনের বাক্সে 
থাকুকনা মিশে ধুলো খেলা মাঠে 
পাপী দুই পদছাপ  যে
দিনগুলো গেছে দিন গুলো ঝরে 
পড়ে আছে আজ উদাস কবরে 
একদিন দিয়ে ছিলো হাত ভরে 
ঠোঁট ছিলো কিছু বিনিময় নিয়ে ব‍্যস্ত 
দুপুর বেলাকে  দুহাতে জাপটে
নেশার বাগানে দুজন বিপদে  
থাক না- 

২)
ফোন বুকে চেপে উদয় অস্তে 
করে জেন জেড  লাইকের চাষ 
প্রেম নেই আর নীরার শরীরে 
কবেকার সেই পুরানো ইউ আই 
দুটি ঠোঁট সব   টেক্সট ভুলে যায়
আজকে এ আই   জানলায় বসে নাচছে 

মরা চাঁদ মুড়ে পুরনো ঠোঙায় 
শহরটা বৃষধ্বজ ভেঙ্গে দেয়
একোকোণে শুয়ে ভাঙ্গা গলিপথ
ঘাট ভেঙ্গে হবে    ফুটবল মাঠ 
এখন রেফারী নিজে টিম গড়ে খেলছে 
 
৩)
আপনি কেমন আছেন আমার মন যে কেমন করে 
তুমি কেমন আছো আজও দাঁড়িয়ে নদীর চরে?
নৌকো হতে পারা কঠিন ঢেউগুলো তা জানে 
সূর্য জানে  চাঁদও জানে ডুবে যাবার মানে। 

আজও ছাতে  ভোরের বেলায়   আঁজলা ভরে ফুল 
দাও ভাসিয়ে পথিক হাওয়ায় সাত জনমের ভুল 
আজও হঠাৎ ফ্রিজটি খুলে আনমনা হও একা 
কাউকে কিছু বলার ছিল  যখন হবে দেখা?

আপনি চলেন গাছের ডালে পা ফেলে আকাশে 
আমার টবে মাটির শিশু ভোরের আলোয় হাসে 
তুমিও যেমন জড়িয়ে হাওয়ায় হাজার রঙীন ঘুড়ি 
আমি তেমন অন্ধকারে বাদুড় হয়ে উড়ি। 

সাত জন্ম গল্প কথা এক জন্মের কথা
হয় না বলা। প্রগল্ভতা লুকোয় নীরবতা। 
আপনি জানেন তুমিও জানো সব যায় না বোঝা
চলতে থাকে পাখির উড়ান জন্ম ভরে খোঁজা। 

৪)
ভালোবাসার এক পয়সাও সোনা
পরশটুকু কখন প্রাণে লাগে 
কোন মেঘে যে বৃষ্টি  আছে 
কার নয়নে জল 
নোটের মত যায়না সেতো গোণা 

ভালোবাসার কোয়ান্টামের টান 
সেতু হয়ে দেয় জুড়ে গাঁ শহর
ভালোবাসার এক ছোট  পা হাঁটা
ডাইমেনশন ছাড়িয়ে অচিন পথে 
পৌঁছে যাবার পায় খুঁজে সন্ধান। 

ভালোবাসার দশটি শুধু বাইট
সাত সার্ভার তেরো রাউটার ঘুরে 
ঠিক পৌঁছয় তাহার হৃদয়পুরে 
একটি সুরের গোপন আদরলিপি 
লাগে না তার সরকারী ডাকটিকিট। 

৫)
ভালোবাসার গাছ পুঁতেছি 
সন্ধেমণির হাড় গুঁড়িয়ে সার 
সন্ধেমণি আমায় নাকি লুকিয়ে ভালোবাসতো 
এর নাম সংসার। 

ভালোবাসার গাছের দুটি পাতা 
মাঠ ভরাবে  আনবে ডেকে বাঘ
দিন ফুরোলে অন্ধকারের ক্ষেতে
টর্চলাইটের  ডাক। 

ভালোবাসার শরীর জমে পাথর 
পাথর গলে কখন হবে নীর
ব‍্যাটাবেটি বানের জলে ভাসে
দাঁড়িয়ে ঘাটে ল‍্যাজ ছাড়ে হুংকার। 

ভালোবাসার গাছে কি ফুল ফোটে?
ফুলের মধুর বন্ধ যে রপ্তানী 
তাক করেছে পদ‍্যফুলের  রানী
আমি তার শিকার। 

৬)
জানি মিলবে না কিছুতেই কিছু 
তবু যাই  খেলে মেলাবার খেলা 
জীবনবাবুর ক্ষেতে রোজ ভোর বেলা 
মানুষ শস‍্য নিয়ে খেলে, ফেলে,  কাটাকুটি করে 
সবুজ স্বর্ণলতা ফেলে  ঝুলি ভরে 
বাণিজ‍্য সফল মুলো, কচু। 

কিছুই মেলে না, বোতাম ঘরের থেকে বড়
প্রেম আর শরীরের মাঝে  কবন্ধের মত
ছায়া ছায়া বিষণ্ণতা ঘোরে  ইতস্তত 
চেয়ে দেখে প্রেমিকের  প্রাণপণ মেলার প্রয়াস 
মিছিলের তীব্র তীর বুকে বাঁধে প্রতিজ্ঞার লাশ 
শতাব্দীর   হাড় জমে  পাহাড় ঋষির মত ওঠে,

কবিতাও ছন্দছাড়া যেমন কিশোরী হয় বুড়ি 
যেমন তীব্র কালো আদিবাসী ছেলে 
সঠিক আইনী মতে চলে যায় হরিণের দেশ ছেড়ে জেলে 
যেমন বিজ্ঞানী হয় ধাপ্পাবাজ সম্মান জমায় বিস্তর 
যেমন রাজার বেশে মন্চে নামলেই বাড়ে   দর 
যত লিখি, শব্দগুলো সিঁড়িতে গজায় বটঝুরি।
🍂

Post a Comment

4 Comments

  1. অনিমেষFebruary 16, 2026

    এইতো বসন্ত ফিরিয়ে এনেছে কবিকে, টেক থ্রিলার থেকে

    ReplyDelete
  2. অমিতাভFebruary 16, 2026

    বাতাসের গায়ে বসন্তের গন্ধ বেশ টের পাওয়া যাচ্ছে

    ReplyDelete