সন্দীপ দত্ত
জড়ুল
অত সুন্দর মুখখানাটাতে ওইটুকুন একটা দাগ। হল তো হল,তাবলে ডান গালের একেবারে মধ্যিখানে!
প্রিয়াঙ্কা নেহার চিন্তাজড়ানো কথাটাকে নিমেষে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে বলল,"আরে বাবা এটা লেজারের যুগ। ওসব নিয়ে এখন কেউ ভাবে নাকি? যা কিছু অবাঞ্চিত,সব উধাও হয়ে যায়।"
"সেটা স্বরলিপিকে বুঝতে হবে তো! ও তো রাজি হতেই চাইছে না। বার বার সেই একই কথা বলছে। 'জড়ুলটা নির্মুল করে অডিশন দিয়ে আমি হয়তো সিরিয়ালটায় চান্স পেয়ে যেতে পারি,কিন্তু ওটা মুছে ফেললে ঠাকুমা খুব কষ্ট পাবে। জন্মদাগ কি ওভাবে কখনও মুছতে হয়! ওগুলো সম্পর্কের কথা বলে। প্রজন্মকে চিনতে শেখায়। বাবারও যে ঠিক ওখানটাতেই।' বোকা মেয়ে! গ্ল্যামার জগত,অগুণতি টাকাপয়সা বাদ দিয়ে শুধু সম্পর্ক নিয়ে ভাবছে। ইডিয়েট একটা!আজকের দিনে টাকাপয়সার চেয়ে সম্পর্ক বড় হয় নাকি?"
🍂
পেঁয়াজ
বাড়ির ঠিকে ঝি হাবুলের মাকে সোহিনী আজ নিজে থেকেই বলল,"পেঁয়াজগুলো কাটবার দরকার নেই লতা। বাকি যেসব দিয়েছি,ওগুলো কেটে দিলেই হবে।"
হাবুলের মা শুনে তো অবাক। "পেঁয়াজ কাটব না? বলছ কী বৌদিমণি! দাদাবাবু বাজার থেকে যে মাংস নিয়ে এল! পেঁয়াজ ছাড়া মাংস রান্না হয় কখনও? কী জানি,আমি তো শুনিনি কোনওদিন!"
"আধুনিক রান্নার রকমসকম এখন অনেক পাল্টে গেছে লতা। তুমি জানো না,তাই বলছ। পেঁয়াজ ছাড়াও আজকাল মাংস রান্না হয়। হামেশাই হচ্ছে।" সোহিনী বলল।
পেঁয়াজ ছাড়াও আজকাল মাংস রান্না হয় ঠিকই,তবে সে রান্না এ বাড়িতে কোনওদিন করতে পারবে না সোহিনী। মুখেই তুলবে না সুদেব।
তাই সুদেব অফিস চলে যাওয়ার পর,হাবুলের মা বিকেলে এঁটো বাসন মাজতে আসবার প্রতিশ্রুতি দিয়ে চলে যাওয়ার পর ফাঁকা ঘরে সোহিনী পেঁয়াজ কাটতে বসল। পেঁয়াজের ঝাঁঝে চোখের কোণে জমল অশ্রু। এক মাসের কন্যাসন্তানটাকে আজকের দিনেই দুধের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলতে বাধ্য করেছিল সুদেব। পুত্রসন্তান জন্ম দিয়ে হারালে নিশ্চয়ই কাঁদতে পারত সোহিনী। কিন্তু কন্যাসন্তানের জন্য এ বাড়িতে এক ফোঁটাও চোখের জল নয়।
বাড়ির কোণে কোণে সিসি ক্যামেরা লাগিয়েছে সুদেব। ওই একটিমাত্র কারণে। মৃত কন্যাসন্তানের জন্য কাঁদতে পারবে না সোহিনী। তাই সোহিনীর এছাড়া আর কোনও উপায়ই নেই।
1 Comments
দুটি গল্পই খুব সুন্দর।
ReplyDelete