জ্বলদর্চি

দুটি অণুগল্প /সুদর্শন নন্দী

দুটি অণুগল্প  

সুদর্শন  নন্দী

সম্পর্ক 

প্রতিদিন সকালে অতি প্রবীণ তরুণবাবু হোয়াটসঅ্যাপ খুললে অনেকগুলি ম্যাসেজ পান।  এই ম্যাসেজ দেখতে দেখতে আর তার প্রতি-উত্তর দিতে দিতে অনেকটা সময় কেটে যায়। এখন আর কেউ এসে মেশে না।  সবই এস এম এসে।   
বছর খানেক পর। তরুণবাবুর তিন চারজন বন্ধু এখনও ভালো থাকার, গুড মর্নিংয়ের ম্যাসেজ পাঠান। সেদিন ওনার মেয়ে তাদের ম্যাসেজ করে বললেন, বাবা গত বছর মারা গেছেন। আর ম্যাসেজ পাঠাবেন না এখানে। 
অনেকের আবার ম্যাসেজ মন দিয়ে পুরো পড়ার ধৈর্য্য রাখেন না। দুজনের কাছ থেকে ওনার মেয়ে ঐ মৃত্যু সংবাদের উত্তর পেলেন, “বাঃ খুব আনন্দের কথা”।

🍂

শ্রদ্ধা
    
আলতোভাবে আমার পায়ে পা লেগে গেল বৌয়ের । অন্যদিন পা মুচড়ে দিয়ে চলে গেলেও ভ্রুক্ষেপ থাকে না তার।  পরোয়া করে না সে। আজ এক অদ্ভুত ব্যতিক্রম । দেখি মাথা নীচু করে আমার পায়ের দিকে সে হাত বাড়াল প্রণাম করবে বলে । স্ত্রীর মানসিকতার এই  পরিবর্তন দেখে আমি যারপরনাই অবাক! আমি তার হাত ধরে উঠিয়ে বললাম থাক থাক আর প্রণাম করতে হবে না। 
উত্তরে বৌ বিরক্ত হয়ে বলল, মরণ, প্রণাম করতে যাব কেন?  কাল আমার পায়ে কাঁটা ফুটেছিল বলে তুমি কত ব্যঙ্গ করেছিলে, তাই আজ আমি একটা আলপিন ফেলে রেখেছিলাম তোমার পায়ে যাতে ফোটে। গন্ডারের পা তোমার । দুবার মাড়িয়ে গেলে তবু ফুটল না। তাই নীচু হয়ে আলপিনটা কুড়িয়ে নিচ্ছি যাতে আমার পায়ে না ফুটে যায়। আর তুমি ভাবছ প্রণাম করছি তোমাকে। যত্তোসব।

Post a Comment

1 Comments