বাংলার ঘাস পাতা ফুল ফল, পর্ব -- ১১২
মটমটিয়া
ভাস্করব্রত পতি
পথ চলতে ঘাসের ফুল। তবে এটি ঘাস নয়। গুল্ম জাতীয় বর্ষজীবী উদ্ভিদ। গ্রামের পথে আখছার দেখা মেলে। এর বিজ্ঞানসম্মত নাম Lippia alba এবং Chromolaena odorata। এটি Verbenaceae পরিবারের অন্তর্গত। মোটামুটি ১.৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য আমেরিকা, টেক্সাস, ইউনাইটেড স্টেটস, ক্যারাবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ, মেক্সিকো এলাকার এই গাছটি এরাজ্যের বুকেও বহাল তবিয়তে জন্মায়।
ছোটদের হাতে মটমটিয়া গাছ
কথ্য বাংলায় এই গাছটির নাম বন পুদিনা। এর পাতাগুলো হাতে নিয়ে দললে পুদিনা পাতার মতো গন্ধ পাওয়া যায়। আর এর নরম ডাল মটমট করে ভেঙে যায় বলেই একে 'মটমটিয়া' বলা হয়। মুন্সিগঞ্জ গজারিয়া এলাকায় পরিচিত হিয়ালমুতরা নামে। টাঙ্গাইলে বলা হয় গন্ধরাজ। ইংরেজিতে বলে Bushy Matgrass, Hierba Negra, Juanilama, Pitiona, Poleo, Bushy Lippia এবং Pamporegano।
এটি একটি ঔষধি ও অত্যন্ত ভেষজ গুণসম্পন্ন গাছ। গ্রাম এলাকায় রাস্তার পাশে এবং বনে বাদাড়ে খুব জন্মায়। শীতের শেষের দিকে পর্যাপ্ত হারে জন্মাতে দেখা যায়।
মূলত চর্মরোগ, কাটা ছেঁড়া, পেটের সমস্যা, ফোসকা, চুলকানি, খোসপাঁচড়ার উপশমে কাজে লাগে। মুখের ব্রণের নিরাময়ে এই পাতার রস খুব কার্যকরী। কেউ কেউ এই গাছের ডাল পাতা নিয়ে বিছানার চারিদিকে এবং বালিশের কভারের মধ্যে রাখে। এরফলে কয়েক দিনের মধ্যেই বিছানার ছারপোকা উধাও হয়ে যায়। যাঁদের খসখসে হাত পা রয়েছে, এক্ষেত্রে তাও স্বাভাবিক করে। মটমটিয়া গাছের কচিপাতা দিয়ে চা বানিয়ে খেলে সর্দি ভালো হয়। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রন এবং উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনও সম্ভব।
মটমটিয়ার পাতা
এছাড়াও এর পাতা ও ফুল কৃমিনাশক। বদহজম থেকে মুক্তি দেয়। হজমশক্তি বৃদ্ধি করে। দেহের কোনও অংশ আঘাতজনিত কারণে ফুলে গেলে সেই ফোলা কমিয়ে দেওয়ারও ক্ষমতা রাখে। সেইসাথে দেহে উদ্ভুত ব্যাথা নাশ করে। শুকনো মটমটিয়া জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
🍂
0 Comments