আমার চোখে কবিতারা
মৌমিতা চ্যাটার্জী
কবিতা লেখা বা সাহিত্য চর্চার বিষয়টির প্রতি অসীম আগ্রহী হলেও নিত্যনৈমিত্তিক জীবনের কঠোরতা আমার আর সাহিত্য যাপনের মধ্যে প্রায়শই অদৃশ্য দেওয়াল তুলে দেয়। তবুও ভালোবাসার তাগিদ বড় তাগিদ। ওরই মধ্যে একটুকরো সময়কে ধরে বেঁধে খাতাবন্দী করার প্রয়াস চলে আর কী!
কবিতা লিখতে শুরু করলে প্রথমেই যে কথা মাথায় আসে তা হল কিছু অর্থবোধক, ছন্দ বদ্ধ মায়াময় শব্দপুঞ্জ। কিছু মিলকরণের নক্সা আবার কিছু অমিলের মধ্যেও সুদৃঢ় ভাব ভালোবাসা।
কবিতার একটি নির্দিষ্ট অর্থ থাকা প্রয়োজন তা চলন বা আঙ্গিক যেমনই হোক না কেন। 🍂
আমি কবিতা লিখি মনের আনন্দ কিংবা হর্ষ বিষাদটুকু বিলিয়ে দেবার জন্য। তাই অনেকসময় পয়ার, স্বরবৃত্ত, অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ইত্যাদি ব্যাকরণগত ছন্দ মাত্রারা উপেক্ষিত হয়। ছোটো থেকে রবীন্দ্র, নজরুল, সুকান্ত র হাত ধরে কবিতার চারা রোপিত হল, তারপর ধীরে ধীরে বীরেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শক্তি-সুনীল- শঙ্খবিলাসে মন ভাসল। জীবনানন্দ তো সেই কবে থেকেই তার বিদিশার নেশায় ডুবিয়ে রেখেছিলেন। তাঁর হাত ধরে ধানসিঁড়ি , গাঙশালিখের সঙ্গে কত সোনালী মূহুর্ত পার করেছি।
বর্তমানে আধুনিক কবিতা পড়তে বসলে সত্যি বলতে কিছু লেখা যেমন হৃদয়ের অতল স্পর্শ করে যায় ঠিক তেমনি কিছু শব্দবন্ধ বড় ধন্দে ফেলে মাথার ভিতর সৃষ্টি করে অনন্ত শব্দহীনতা। সারমর্ম যেন বোধগম্য হতেই চায় না। ঐ খানিক ধরি ধরি করেও ধরতে পারি না। ‘অধরা মাধুরী’ থেকে সৃষ্টি হয় বিষাদ, বিড়ম্বনা। নিজের এই অক্ষমতার দায় বরং নিজেরই থাক।
প্রত্যেক কবিতার একটি বিশেষ বার্তা থাকে। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি যে কবিতায় রূপক, উপমা, যত সহজ সরল, যার উপস্থাপনা যত পরিস্কার তা পাঠকমনে আলোড়ন সৃষ্টি করবেই এবং তার গ্রহণযোগ্যতাও তত প্রসারিত হবে। কবি কবিতার মধ্য দিয়ে তার ভাব, চেতনা, অনুভূতি উপহার দিতে চান পাঠককে। এবার তার মর্মার্থই যদি অনুমেয় না হয়, তার সৌন্দর্য যদি পাঠকের কাছে দৃশ্য না হয় তবে কোথাও গিয়ে কী সেই উপহারের মর্যাদাহানি হয় না? দুর্বোধ্যতা একটি আদর্শ কবিতার বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। দুর্বোধ্যতা সময়কে বাঁধতে পারে না। ভাব ব্যাকুল করে অথচ ধরা দেয় না। কবিতার দুচারটি ছন্দ কাটাকুটি করতে গিয়ে মনে হয়েছে এই শব্দযাপন পাঠকহৃদয় স্পর্শ করলে তবেই সেই যাপন সার্থক।
মেধা, বিদ্যা, ওজস্বী জ্ঞানের প্রদর্শন নয় বরং কবিতা হোক অনুভবের আত্মকথা যেখানে নিভৃত চেতনার আলোয় আমরা খুঁজে পাব একান্ত আপন ব্যাক্তিগত সত্তাকে। বিশ্বকবিতা দিবসে সমস্ত দুরূহ শব্দক্ষতের যন্ত্রনা ভুলে, কবিতারা আলো হয়ে ফুটে উঠুক অনাড়ম্বর লেখনীর পৃথিবীতে।
3 Comments
একদম ঠিক বলেছেন।
ReplyDeleteদুর্বোধ্য কবিতা
দেয় না বোধেতে তা।
অনেক অনেক ধন্যবাদ
Deleteখুব সঠিক কথা তুলে ধরেছিস মৌ সৃজনশীলতায় এই বোধ অব্যাহত থাকুক। একরাশ ভালোবাসা তোকে ❤😘
ReplyDelete