স্বাতী ভৌমিক
ব্যর্থ অপেক্ষা
রুপালি চাঁদ এসে হয়তো বা,
পৃথিবীর বুকে দিয়ে যেত ধরা।
আধো আলো আধো আঁধারে
নিবিড় এ খেলা,
খেলে যেত বুকে তার,
মনের গোপনে।
কখনো তো আসেনি ও বুকে
ফেটে পড়া বজ্রের ধারণের বাণী-
চিরদিন এঁকে থাকা নিঃশব্দতার ভোরেও।
নীল মাছরাঙা, ঝুপঝাপ পড়তো এসে জলে,
পথে বসা পথিকের নিঃসংকোচ মনে।
আজ কেন সেই রাঙা মাছ,
সেই রূপালি চাঁদ গেছে চলে দূরে!
কেটে গেছে বাতাসের সেই মধুটান!
তবুও তো স্মৃতি হয়ে পড়ে আছে
মুখ থুবড়ে হয়তো বা কোন পান্ডুলিপি পরে,
মিশে যাবে সেও হয়তো বা কোনদিন-
পৃথিবীর সনে,
গভীর মাধ্যাকর্ষণ টানে-
ব্যর্থ অপেক্ষায় থাকা এক নীরবিন্দু আশে।।
এইতো বেঁচে থাকা
সকালের ওই শিশির ভেজা ভোরে-
রাত জাগা কোন নিবিড় চিহ্ন পরে-
বসে এসে পাখি,
নতুন আকাশ খোঁজে।
শূন্যতার বুকে পূর্ণতার পদসঞ্চলন
হয় কোন নতুন কাহিনী -
জীবন্ত নদীর পরে
একটু তাবেদারী।
বাতাসের মৃদুমন্দ টানে,
নিজেরই অবাধ সংগোপনে,
মনের নীড়নষ্ট পাখি বলে যায় -
এই তো ভালো আছি।
যদিও বা আসে কোন সিক্তবসনাঞ্চল,
বুঝিবা তা প্রতিরূপ কোন -
আবেগ সজল চাতকিনী হিয়া।
জেগে থাকা স্বপ্ন,
জেগে থাকা আশা,
কিছু ভালোবাসা-
শূন্য হয়ে যায় সবই- শুধুই কুয়াশা!
তবু বলে থাকা আবেশের
ঢিমে তাল বলে যায়-
এই তো বেঁচে থাকা!
অপরিণত স্বপ্ন
ছোট্ট ছোট্ট অবোধ পায়ে ঢিমি ঢিমি চলা,
তারপর এক দৌড়ে রেসের মাঠে।
ছোট্ট ছোট্ট হাত, ছোট্ট ছোট্ট মুঠীবদ্ধ জিনিস,
তারই পরে হয়ে ওঠাএকটা অবলম্বন।
অবাধ হৃদয়ের নিঃসংকোচে
চেয়ে ফেলা কোন রত্ন হার-
ছিঁড়ে ফেলা কোন মনিমুক্তা-
দেখে থাকা চাঁদমামা -
আড়ষ্ট জিভের বর্ণপরিচয় কথামালা-
সবই হয় পরিণত সময়ের ব্যবধানে।
তবু হয়না তো কখনোই চাওয়া নিজপানে-
পরিণত হওয়া কোন হৃদয়ের স্বপনে।।
নিস্তব্ধ প্রতীক্ষা
জীবনের এক চিলতে রোদ্দুর মাখা রুপালি মেঘের ডানায়,
ভেসে চলা স্বপ্নের নীল পাখি,
হাসির করুন ডাঙায় কেঁদে কেঁদে যায়।
কলতানে ভেঙে ওঠা নিস্তব্ধতার ভোরে,
ডাকে নাতো সে আর।
যেন কোন পলকের কঠোর শাসনে
ঢেকে দিয়েছে চঞ্চলতার ডানা-
দিয়ে কোন নিবিড় আস্তরণ।
নিবিড় কালো রাতে ঝাপটায় ডানা,
ব্যর্থ মুক্তি আশে-
নাতো কোন খোলা আকাশ-
নাতো কোন মুক্ত বায়ু -
কে জানে এরা ফিরে আসবে কবে!
হয়তো বা এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার নিস্তব্ধতার ক্ষণে।।
ক্লান্ত আশা
বদলে ফেলার সময়ের দীর্ঘ ইতিহাস ভরা পাতা,
অবাক বিস্ময়ে আজি তাকিয়ে
আমার মুখের দিকে,
শ্রান্ত নাকি কোন অনিদ্রিত
শ্রাবণের ঝরা পাতা হয়ে,
কোন রূপকথা ভরা রাতে-
গেয়ে যায় জীবনের নতুন গীতিমালা।
প্রশ্নের নিরুত্তর বাণী,
আকাশের বুকে জমে থাকা ঘন মেঘের মতো।
প্রতীক্ষা থাকে একফোঁটা বৃষ্টির-
গড়ে দিতে কোন সরস প্রাণের রেখা।
হায় রে মানব হিয়া!
জন্মিবার কালে যার থাকে নাকো
কোনো চাওয়া পাওয়া,
থাকে শুধু সম্বল বিন্দু বিন্দু বিস্ময়ের ফোঁটা,
কেন সে পাতা হায় ভরতে চাওয়া বৃথা -
দিয়ে কোন বয়ে যাওয়া জীবনের-
মিথ্যে প্রতিশ্রুতি!
আমাকে চাই
আমি "আমাকে" চাই,
নানাকাজে ব্যস্ততার ঘোরে,
ক্ষয়ে যাওয়া সময়ের বিস্তীর্ণ বালুপথ
পার হয়ে এসে হঠাৎ-ই আজ মনে হলো-
'আমাকে চাই'
মনের কোনে কোণে প্রতিধ্বনিত
এই একটি কথাই-
'আমাকে চাই......'
ভুল-ঠিক,চাওয়া-পাওয়া সব ভুলিয়ে দেওয়া
একটা অকৃত্রিম বার্তা,
সামঞ্জস্য সরলীকরণের বৃথা প্রচেষ্টা -
তবে কী নিতান্তই বৃথা!
কী জানি!-
প্রচেষ্টার সফলতার সঠিক খবর পায়নি এখনও,
তোলা থাক্ তা না হয় অপেক্ষিত সময়ের সরণিতে।
আজ খোঁজ পড়েছে নিতান্তই আপনার -
'আমার আমি'-র।
নিস্তব্ধতার নিরালায় দাঁড়াতে চাই
নিজের মুখোমুখি-
উন্মীলিত দুই আঁখি যদি ঝাপসা হয়
অবরুদ্ধ জলোচ্ছ্বাসে,
তবে হোক্ তা-
তাতেও যদি খুঁজে পাই সেই 'আমিকে'-
দু চোখ বন্ধ করেই নাহয় অনুভব করবো-
0 Comments