দুলাল কুমার দে
যন্ত্রনা
পাওয়ার চেয়ে, পেয়েও হারানোর যন্ত্রনা
খুবই কষ্টদায়ক।
কাছে না থাকার চেয়ে , থেকেও না থাকা
খুবই বেদনাদায়ক।
ভালো বাসা পাওয়ার চেয়ে, মেকি ভালোবাসা
অনেক বেশি কষ্ট দেয় মনকে।
জীবনে অধিকারহীন পূর্ণতা
শূন্যতার থেকেও বড় যন্ত্রণার।
না পাওয়া
যা চেয়েছি, তা যদি না পাই
যা পেয়েছি, তাতেই আমার সুখ,
যা চাইনা, তাই - ই যদি পাই,
যা পায়নি, কী লাভ করে দুখ!
থাকনা কিছু চাওয়ার 'না পাওয়া'।
চাওয়া - পাওয়ার মাঝের শুন্যতা
কখনো বেশি, কখনো অনেক কম ,
যতই থাকুক , চাওয়ার ক্ষমতা,
পাওয়ার আশায় আমরা অক্ষম,
অনেক চাওয়াই থাকে ' না পাওয়া।'
একটা জীবন
একটা জীবন মানে
কিছু চাওয়া, কিছু পাওয়া,
কিছু না চাওয়া তবুও পাওয়া,
কিছু না পাওয়া, তবুও চাওয়া।
কিছু থাকা, কিছু না থাকা,
কিছু আশা, কিছু নিরাশা,
কিছু হারিয়ে যাওয়া,
কিছু খুঁজে পাওয়া।
একটা জীবন মানে
কিছু লাভ, কিছু ক্ষতি,
কখনও হার, কখনও জিত,
কখনও ভালো, কখনও খারাপ,
কখনও মসৃণ , কখনও বন্ধুর।
একটা জীবন মানে
নিজের মধ্যে নিজেকে দেখা,
নিজের ক্ষমতা নিজে প্রকাশ,
জ্ঞানের মধ্য দিয়ে চেতনার বিকাশ,
চেতনার মধ্য দিয়ে মুক্তির সন্ধান।
একটা জীবন মানে
বৈচিত্র্যের মধ্যে অজানাকে জানা,
অচেনাকে চেনা, অদেখাকে দেখা,
কিছু ভাবনা, কিছু সৃষ্টি
কিছু শেখা, কিছু শেখানো
কিছু দেখা, কিছু দেখানো।
একটা জীবন মানে
আর একটা জীবনের বন্ধু হওয়া,
জীবন দিয়ে রক্ষা করা জীবনকে ,
প্রকৃত বন্ধু খুঁজে পাওয়া,
মনের মানুষকে কাছে পাওয়া।
একটা জীবন মানে
কিছু মেনে নেওয়া, কিছু মানিয়ে নেওয়া,
কিছু ভোগ , কিছু ত্যাগ ,
কিছু ত্যাগের কিছু আনন্দ ,
কিছু সুখ, কিছু দুঃখ,
কিছু না থাকার যন্ত্রনা,
কিছু না পাওয়ার কষ্ট ,
কিছু না থাকা, সব থেকেও।
একটা জীবন মানে
একটা মৃত্যুর পরিচয় পত্র,
মৃত্যুকে সাথী করে বাঁচতে চাওয়া,
মৃত্যুর কঠিন সত্যকে মেনে নেওয়া।
ওরা থাকে আড়ালে
ওরা চিরকাল থাকে সাথে
সুখে, দুখে, বিপদে ,আপদে,
সময়ে, অসময়ে, পথে , ঘাটে
সর্বদাই নিয়োজিত প্রাণ।
তবু ওদের কথা মনে করি প্রয়োজনে
তারপর ভুলে যাই, অ -কৃতজ্ঞের মত,
মনে রেখেও যেন মনে রাখিনা।
ওরা চিরকাল কাজ করে আড়ালে।
ওরা শ্রম দেয়, নিজের শেষ টুকু দিয়ে,
আমাদের সফলতার কান্ডারী ওরাই,
আমরা প্রশংসার মালা পরি, সুখী হই
তবু ওদের নিষ্ঠা, সাহায্য, সেবার কথা বলিনা,
যদি ছোট হয়ে যাই, চুপ থাকি তাই,
ওরা চিরকাল পড়ে থাকে আড়ালে!
সৃষ্টি
যে কোন সৃষ্টির আনন্দই
জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ আনন্দ।
সৃষ্টিই স্রষ্টার শংসা পত্র,
সৃষ্টিই স্রষ্টার পারিশ্রমিক,
সৃষ্টিই স্রষ্টার দৃষ্টি,ভাবানুভূতির প্রকাশ
সৃষ্টিই স্রষ্টার অমূল্য সম্পদ।
যে সৃষ্টি জীবনমুখী,
যে সৃষ্টি মানব মুখী,
যে সৃষ্টি কল্যাণকামী,
সেই সৃষ্টির সাফল্যই
ভবিষ্যতের দিশারী।
সৃষ্টি সর্বদাই সর্বজনীন,সর্বকালীন
থাকে দেশ , ধর্ম , জাতি ভেদের ঊর্ধ্বে।
কিন্তু.........
সৃষ্টি যখন ধ্বংসের কারণ হয় ,
সৃষ্টি যখন স্বার্থ সিদ্ধির হাতিয়ার হয়,
সৃষ্টি যখন আগ্রাসনের অহংকার হয়,
তখন সৃষ্টি হয়ে যায় বিভীষিকাময় অনাসৃষ্টি,
অনাকাঙ্ক্ষিত, অনাহুত, অনভিপ্রেত।
0 Comments