জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /কৃষ্ণা গায়েন

                      
গুচ্ছ কবিতা 
কৃষ্ণা গায়েন

মন
   
অনেক পথ পেরিয়ে এসে 
মনের খোঁজে একি!
বিষন্ন এক দিনের শেষে 
প্রশ্ন চোখে রাখি।
জীবনের এই ধারা পাতে 
হারিয়ে গেছে মন!
কেমন করে আছি বসে 
গহীন গোপন?
হৃদয় ফাঁকি দিয়ে বাঁচি 
শুধুই বাঁচার দায়! নিজের মুখ 
লুকিয়ে ফেলি মনের দরজায়।
পৃথিবীতে সুর লহরী-
গাছে নতুন পাতা,
আমার কান্না গোপন করে 
সাধের নক্সী কাঁথা।

             
হেমন্তের গান


হেমন্তের বিষন্ন বিকালে 
বড়দ্রুত সন্ধ্যা নেমে আসে।
যেন এক অব্যক্ত বেদনা আঁকা ,
প্রকৃতির বুকে।
নিস্তব্ধ আকাশে লক্ষী পেঁচা 
উড়ে  যায় আধো অন্ধকারে।
রোদ-বৃষ্টি তে ভরা মাঠের ফসল,
ভরা যৌবনের মত শরতের মেঘ-
উৎসব শেষে,মন বসে থাকে
আসন্ন শীতের অপেক্ষায়।
গাছের শাখায় কুয়াশার অন্ধকার ,
সজিনা'র পাতা ঝরে পড়ে।
শিশিরে ভেজানো ঘাসে 
গঙ্গা ফড়িং।
আমার চোখের ভেজা  হিমের পরশ
ছুঁয়ে যায় ঘাসের সবুজ।
দূরে, নৌকায় ভরে নিয়ে যায়
হেমন্তের সোনার ফসল-
বয়ে চলা নদীটির স্রোতে।
ধান কাটা সুরে গান গেয়ে
হেমন্তের হিমেল হাওয়ায়,
উদাসী প্রাণের মাঝে।

🍂
বর্ষ শেষের কবিতা

মাঝরাতে,পৃথিবীতে শুরু হবে 
আলোর রোশনাই বর্ষ শেষ -বর্ষ শুরু  
হলে।, অসীম সময় ভেঙে বর্ষ, দিন- মাসে,
জীবন যাপন করি ভগ্নাংশের ঘরে।
প্রতিটি দশক লেখে নিজ ইতিহাস 
বিভিন্ন কাহিনী তার নিজস্ব আকরে।
পঁচিশ পেরিয়ে গেল একুশ শতক
পুঁজি তার কতগুলি তরতাজা জীবনের শেষ , 
যুদ্ধ ,হাহাকার।
হাত ভরে দিলে তুমি অন্তর্জাল,
কৃত্রিম বুদ্ধির কৌশল। বিদায় শুভেচ্ছা নিও। 
স্বাগতম নুতন বছর।


মধ্যবিত্ত

মানুষের জীবনটাই গোলমেলে,
জন্মে সোনার চামচ না পেয়ে মধ্যবিত্ত হলে।
বাঁচতে তো ভাই চায়রে সবাই সুখ দুঃখের সাথে ,
সুখ রয়েছে সুখীর সাথে, দুঃখ দুখীর হাতে।
তবু যদি বলো ঈগলের মতো আবার চাইবো বাঁচতে,
সমাজ তখনই লোহার শিকলে পেঁচিয়ে তোমাকে বাঁধবে।
তাইতো ভালই মধ্যবিত্ত চিন্তায় আর কার্যে,
বেশ আছি ভাই খেয়ে গান গেয়ে মধ্যবিত্ত ভাগ্যে।
তাইতো বন্ধু সবকিছু ছেড়ে মনের দুকথা কই;
জীবনটাই অলীক নাটক, ব্যর্থ একটা বই।


 ঠিকানা

বন্ধু তোমার ঠিকানা ঐ নদীর বাঁকে ভীষণ চেনা,
ইচ্ছে করে , চলেই যাব একা একা।
চুপটি করে গাঙ শালিকের পিঠে চড়ে, 
যেথায় সোনার ধানে ক্ষেতে শিশির ঝরে।
তারও পরে পৌষ পাবন সারা হলে,
আবার ফিরে আসবো আমার নিজের ঘরে।
সাঁঝের বেলা পড়বে মনে তোমার ঘরে প্রদীপ জ্বালা,
শাঁখের ধ্বনি উঠছে বেজে , হাতে সোনার শাঁখা পলা।
ধূসর নদীর স্রোতের মাঝে দুলবে জীবন পদ্ম পাতে,
ঠিকানা তার ধাম জানেনা  একলা পথে।
তারও পরে, জীবন যখন সলতে পোড়ার গন্ধ পাবে,
হয়তো তখন বন্ধু আমার হাঁটবে সাথে গভীর দুখে।


 অন্ধকার

হয়তো অনেক বার এই পৃথিবীর পথে 
ফিরে গেছি জন্ম-মৃত্যু অদ্ভুত 
আঁধারে।
হয়তো বা উপবাসী মন আবার চেয়েছে প্রেম,
মায়ার বাঁধন -
অথবা অলীক সবকিছু -
ভেঙে যায় হালকা কাঁচের মত।
তবুও মানুষ তাকে ধরে রাখে 
নিজ চেতনার মাঝে,চলমান জীবনের সাথে, 
এটুকুই জীবন 
পাথেয়।
মানব শরীর এই আলোর রোশনাই 
পোড়া বারুদের ‌গন্ধে অন্ধকার নেমে আসে ।নামের লিখনে কালির আঁচড় পড়ে।

Post a Comment

0 Comments