জ্বলদর্চি

গুচ্ছ কবিতা /তুলি মুখার্জি চক্রবর্তী


গুচ্ছ কবিতা 
তুলি মুখার্জি চক্রবর্তী 


বাকি

কত কথা বলার ছিল বাকি 
জমছে ধুলো স্মৃতির বন্ধ ঘরে
বাগানবিলাস দোলে! নতুন সাকিন 
ভাঙে হৃদয় হাজার ভাবনা ঝড়ে।

অবসরে লিখি কতকিছু 
বন্দী হয়ে থাকবে সে সব পড়ে 
একজীবনে থাকল যে টান পিছু 
প্রজাপতি হয়ে সেসব ওড়ে!!

আকাশ পাড়ায় উড়তে থাকে চিঠি
হাত বাড়িয়ে ধরার চেষ্টা করি,
ঝাপসা চোখে ধূসর বেলার দিঠি 
মুঠো খুলি নেইতো কানাকড়ি।

জমলো কি ঋণ? সুদ আসলে বেড়ে 
করতে পূরণ  যত জন্ম লাগে
খোলা জানলায় ইশারা হাত নেড়ে 
চিনে নেবে ? যদি জন্মাই আগে 

দরজা বন্ধ জঙ ধরেছে তালা 
গোলাপ রাখি তোমার কথা ভেবে
সময় ঘনায় এবার ফেরার পালা
নীল লেফাফা আর কি খবর নেবে?


হারিয়ে পাওয়া 

হারিয়ে গেছে জন্মছকের চেনা পরিচিত দাগ
হারিয়ে গেছে মেয়েবেলার নতুন পাওয়া প্রথম ভাগ

হারিয়ে গেছে কিশোরীকাল, ছক কাটা ঘরে খেলা
হারিয়ে গেছে জীবন থেকে আনমোল কিছু বেলা

হারিয়ে গেছে রেলের গাড়ি, দিগন্তে ছুটে চলা 
হারিয়ে গেছে পাখি কাকুর, শিস দিয়ে কথা বলা।

হারিয়ে গেছে শীতের ছুটি, গরুর গাড়ির দুলকি চাল 
হারিয়ে গেছে সূর্য ডোবা, শেষ বিকেলের দিগন্ত লাল।

হারিয়ে গেছে ধানের ক্ষেতে, আল ধরে ধরে ছোটা 
হারিয়ে গেছে জীবন থেকে, একটা জীবন গোটা।

হারিয়ে গেছে অ্যাংলো পাড়ার, জিঙ্গল ক্রিসমাস চার্চ 
হারিয়ে গেছে উল্টোদিকের, আদিবাসীদের টুসু নাচ। 

হারিয়ে গেছে অনেক কিছুই, পাইনি তো খুঁজে আর
পুরোনো নতুনের সেতু বেঁধে , করে যাই পারাপার।
🍂

আকাশকুসুম 

মেঘের দেশে ঘর বেঁধেছি 
পাহাড় চূড়ায় বাড়ি,
আকাশকুসুম কল্পনাতে 
সব ছাড়াতে পারি।

তোমার মতো পারিনি তো 
পরিব্রাজক হতে 
পাকদণ্ডির পাড়ে এলাম 
তোমারই জন্নতে।

শালপ্রাংশু গাছের সারি 
খুশবু তে পাই তুমি 
ছুঁয়ে দেখি চাঁদের আলোয় 
তোমার জন্মভূমি। 

ছুঁয়ে দিয়ে অবাক হলাম 
বললো ওরা হেসে
গণ্ডীবিহীন তোমার 'তুমি',
বাঁধবে কে এক দেশে?!


খোলামকুচি 

কাল যেখানে স্বপ্ন ছিল, 
      আজ সে বেদী ফাঁকা 
লক্ষ্মীর ঝাঁপি, সিঁদুর কৌটো
      অকাজেতেই রাখা।

হাবিজাবি কতকিছু 
       গেরোস্থালীর সাজে,
পড়ে আছে ইতিউতি 
        লাগবে কি আর কাজে!

লাল শাড়িতে ঢাকা মাথা 
         আজকে সাদা থানে,
 ঝাপসা হলো শূন্য আঁখি
          খোঁজ জীবনের মানে।


পোক্ত ছিল শরীর যখন 
         রোয়াব ছিল ভরা,
এক নিমেষে খোলামকুচি
          ভাঙা মাটির সরা।

নিভলে দিয়া আঁধার কালো 
            আলো দেখাক দিশা,
কোন অজানায় ঠেকলে পরে 
             মুছবে অমানিশা।।


বোবা 

জাদুকরের জাদুকরীতে ধীরে ধীরে অদৃশ্য হয় দৃশ্যমান 
সত্যিই কি অদৃশ্য হয়!! না কি কুহক জালে জড়িয়ে পড়ি আমরা..
শ্রোতা দর্শক কে স্থবির করে নিজের ইচ্ছেয় আবর্তিত করতে থাকে জাদুকর...
সম্পূর্ণ শরীরকে আধাআধি ভাগ করে দুদিকে সরিয়ে দেওয়া এবং আবার জুড়ে দেওয়া বিনা রক্তপাতে। 
সাময়িক চেতনা লুপ্ত হয়, কিন্তু বাস্তব!!

একবার মৃত্যু হলে, সে বরাবরের মতোই ছবি হয়ে যায়।।

বাস্তবে ঘটে অনেক কিছু...
চলমান সকলেই ইচ্ছের বিরুদ্ধে স্থবির।
আখের গোছাতে আর নিজের স্বার্থে।
কে যেন সেঁটে দিয়েছে চোখে ঠুলি।
মুখে সেলোটেপ।

বোকা বাক্সের সামনে বসে উত্তেজনা গ্রহণ করি। মাছ ভাতের মতোই।
বাজারের থলে হাতে বাইরে বেরিয়ে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করি।

দৃশ্যমান বোবা জগৎ...

Post a Comment

0 Comments