জ্বলদর্চি

দুটি অণুগল্প/সুদর্শন নন্দী

দুটি অণুগল্প

সুদর্শন নন্দী


অমানুষ

 বৃদ্ধা কাননদেবী এসেছেন হাসপাতালে ডাক্তার দেখাতে।  পাশের এক মহিলা জিজ্ঞাসা করলেন,এত বয়সে একা এসেছেন, বাড়িতে কেউ নেই ? 
 কাননদেবী বললেন, আজকের সংসারে সবাই ব্যস্ত মা। তিন ছেলে আমার। বড় ছেলে ডাক্তার, বিদেশে থাকে। সারাদিন  হাসপাতাল আর রোগী নিয়ে ব্যস্ত ।  মেজ বড় ইঞ্জিনিয়ার, সারাবছর এদেশ সেদেশ করেই ব্যস্ত। 
মহিলা কাননদেবীকে জিজ্ঞাসা করলেন, আর ছোট ছেলে? 
--প্রথম দুটোকে মানুষ করতে গিয়ে এটাকে আর সময় দিতে পারি নি।  ফটো ভিডিও তোলে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের। 
-- প্রথম দুই ছেলের তুলনায় বড্ড লজ্জার মাসিমা।  অমানুষ হয়েছে বলা যায়। 
-- ওকথা বোলো না মা, ও আছে বলে দুটো খেতে পাচ্ছি।  সংসারটা যে ওর পয়সাতেই চলে, ছোটটা না থাকলে....   
                               
                           
অন্তর বাহির
                           
দাদা কটা টাকা দিন না ছেলেটা দুদিন খায় নি। বড্ড কষ্টে আছি বাবু। 
কথাকটা শুনে সুধীরবাবু  ছেলেটির দিকে তাকালেন বড় মায়া হল। বললেন , কাজটাজ করতে পারো তো? 
লোকটি কোন কথা বলল না।  সুধীরবাবু দয়া পরবশত দশ টাকার নোট একটা তার হাতে দিলেন।  টাকা নিয়ে লোকটি ছেলেকে নিয়ে চলে গেল।  
কদিন পর সুধীরবাবু বাজারের মোড়ে সেই লোকটিকে ভিক্ষে করতে দেখতে পেলেন।  এমন সময় রুগ্ন চেহারার ক্ষুধার্ত এক ভিখিরি কিশোর ঐ লোকটির কাছে খাবার চাইল। লোকটি ছেলের জন্য রাখা একটা পাউরুটি ও কলা কিশোরটিকে দিল। কিশোরটি গোগ্রাসে সেই খাবার খেয়ে নিতে লোকটি তৃপ্তির হাসি হাসল। সুধীরবাবু অবাক। মনে হল কতো মানুষই তো বাইরে ধনী কিন্তু অন্তরে ভিখারি। আর এই লোকটি নিঃস্ব হলেও অন্তরে কত যে ধনী!
🍂
                       

Post a Comment

0 Comments