জাতীয় চিড়িয়াখানা প্রেমী দিবস
রুদ্র শঙ্কর দাস
"ভালোবাসার তুমি কী জানো" ৷ --- ১৯৬৭ সালের ২৯ শে সেপ্টেম্বর মুক্তি পায় সত্যজিৎ রায় পরিচালিত "চিড়িয়াখানা" চলচ্চিত্র ৷ এই গানটি ঘিরে ব্যোমকেশ বক্সী রুপী উত্তম কুমার তার সত্যানুসন্ধান চালিয়ে গেছেন। তবে আজ কোন সত্যানুসন্ধান নয় । তবে চিড়িয়াখানা সম্পর্কে আমাদের ভালোবাসা কতটা তা একবার জেনে নেওয়ার দিন, ৮ই এপ্রিল বিশ্ব বা জাতীয় "চিড়িয়াখানা প্রেমী দিবস"। খুব ছোটবেলা থেকেই বাড়ির বড়দের থেকে আমাদের চারপাশের পশুপাখি চিনে নেওয়া ও তাদের দেখে আনন্দ পাওয়া প্রায় সকলেরই জীবনে কমবেশি ঘটেছে। পৃথিবীর গভীরতম অরণ্যের আড়ালে বসবাস করা হরিণ বাঘ চিতা , জলের অতলে নাম না জানা মাছেদের রঙিন জীবন , সুদূর আফ্রিকার লম্বা গলার জিরাফ , উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমির বিচিত্র সরীসৃপদের নিঃশব্দ চলাচল কিংবা রাতের অন্ধকারের শীকারী শ্বাপদদের এত কাছ থেকে নিরাপদে দেখবার সুযোগ কেবলমাত্র চিড়িয়াখানাতেই সম্ভব । এ আসলে কেবল বিপন্ন প্রজাতির সংরক্ষণের স্থান নয় এটি আজ আমাদের শিক্ষামূলক ভ্রমণের , গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠান বা বিনোদনমূলক প্রাঙ্গণের অপর নাম । "Menagerie" পরিভাষাটির প্রথম উল্লেখ সপ্তদশ শতকের ফ্রান্সে । যা গৃহস্থালী বা পশু সম্পদের ব্যবস্থাপনাকে বোঝাত। পরে অভিজাত বা রাজকীয় পশু সংগ্রহ শালা রূপে প্রসার লাভ করে । "মেথডিক্যাল এনসাইক্লোপিডিয়া"- তে একে 'বিলাসিতা ও কৌতূহলের প্রতিষ্ঠান' বলা হয়েছে। ক্ষমতা প্রদর্শন-এর ও নিজেদের আভিজাত্যের পরিচায়ক রূপে পশু সংগ্রহ ও তা প্রদর্শন জন্যই এর প্রসার ৷ আধুনিক সময়ে তা চিড়িয়াখানা, প্রাণী উদ্যান বা পশু সংগ্রহশালার রূপ লাভ করেছে। প্রথমে রাজতন্ত্রের হাতে থাকলেও ধীরে ধীরে তা সর্ব সাধারণের জন্য উন্মুক্ত হয় ৷
।।ইতিহাস।।
প্রাচীন গ্রিক শব্দ Zoion(প্রাণী) Logia (অধ্যায়ন ) থেকে 'Zoology' প্রাণী অধ্যয়ন বা প্রাণিবিদ্যা শব্দের আগমন ৷ সেই সূত্র ধরে Zoological gargen । প্রাণী উদ্যান ,পশুশালা , চিড়িয়াখানা বিনোদনের এক অন্য পরিভাষা ৷ প্রাণীদের জন্য মুগ্ধ বিস্ময়ের এই বয়স প্রায় মানবজাতির অস্তিত্বের সমসাময়িক ৷ আবিষ্কৃত গুহাচিত্রে যা আনুমানিক চল্লিশ হাজার বছরের পুরনো ৷ যেখানে প্রাণীদের ছবিই বেশি ৷
আনুমানিক ৩৫০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে মিশরের হিয়েরাকনপোলিস- এ আবিষ্কৃত পশুশালা প্রাচীনতম প্রাণী সংগ্রহশালা রূপে পরিচিতি পায় ২০০৯ সালে ৷ মধ্য অ্যাসিরীয় সাম্রাজ্যের রাজা আশুর-বেল-কালা-র খ্রিস্টপূর্ব একাদশ শতাব্দীতে প্রাণী ও উদ্ভিদ উদ্যান তৈরি করা খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতাব্দী চিনা সম্রাজ্ঞী টাংকি-র 'হরিণের ঘর ' তৈরি, আলেকজান্ডার দ্য গ্রেট দ্বারা গ্রিসের পশু প্রেরণ , রোমান সম্রাটদের চিত্ত বিনোদনের আখড়ায় ভালুক ও ষাঁড়ের লড়াই, কলোসিয়ামের উৎসর্গ অনুষ্ঠানে একদিনে পাঁচ হাজার প্রাণীর হত্যা --- সবই বন্যপ্রাণ নির্ভর ইতিহাস। ভাবনার পরিবর্তন আসতে লেগেছিল আরও বেশ কয়েকশো বছর।
সংক্ষিপ্ত কিছু উল্লেখযোগ্য চিড়িয়াখানা স্থাপনকথা ---
** খ্রিস্টপূর্ব ১৪৮০ মিশরের রানী হাতশেপসুতই তাঁর পশু প্রদর্শনী জনগণের জন্য খুলেদিয়েছিলেন ৷
** খ্রিস্টপূর্ব ১০৬০ সম্রাট ওয়েন-ওয়াং হরিণ পাখি মাছ নিয়ে 'জ্ঞানের বাগান' গড়ে তোলেন চীন দেশে ৷
** ১১১০ রাজা প্রথম হেনরি অক্সফোর্ড শায়ারের উড স্টক রাজকীয় এস্টেটে বাঘ উট সিংহ সজারু নিয়ে চিড়িয়াখানা করেন। ইংল্যান্ড। ১২৩৫ এ তা টাওয়ার অফ লন্ডন এ চলে আসে ও ছ'শ বছর এখানেই ছিল।
** সপ্তম শতাব্দী খাঁচায় বন্দী করে প্রাণী রাখার অভ্যাস গ্রিকদের ছিল ৷
** খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতেও বন্দী প্রাণীদের নিয়ে গবেষণাও করত গ্রীকরা ৷
** অষ্টম শতাব্দীতে সম্রাট শার্লমেইন-র ব্যক্তিগত পশু সংগ্রহের উল্লেখ মেলে ৷
** ১৩৩৩ রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ, পশুশালা, প্যারিস , লাভার ৷
** ১৫১৯ দ্বিতীয় মন্টেজুমা বা মোক্ত জুমা তেনোচিতলানর (অধুনা মেক্সিকো সিটি) চিড়িয়াখানায় অনেক পাখি মাংসাশী স্তন্যপায় সাপ এবং যত্ন করবার জন্য প্রায় 300 কর্মচারী ছিল ৷
১৫৯১তে তেনোচিতলান বিজয়ের স্মারক হিসাবে এটিকে ধ্বংস করা হয় ৷
** ১৭৫২ শোনব্রুন এর চিড়িয়াখানা যা অবিচ্ছিন্নভাবে আজও পরিচালিত ও প্রদর্শিত হয়ে চলেছে। ভিয়েনা শহর প্রথম আধুনিক ভাবনার চিড়িয়াখানা এটিকে ১৭৬৫ তে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় ৷
** ১৭৯৫ জার্দিন দে প্লান্টেস জ্যাক হেনরি বর্নাদিন , ভার্সাই রাজকীয় চিড়িয়াখানা গবেষণা ও শিক্ষার জন্য তৈরি হয় ৷
** ১৮০৬ কাজান চিড়িয়াখানা, কাজান ফেডারেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কার্ল ফুকাস প্রতিষ্ঠা করেন ।
** ১৮১২ পলিটোর রয়েল মেনাজেরি, এক্সেটার চেঞ্জ স্ট্র্যান্ড ওয়েস্টমিনস্টার, লন্ডন ৷
এছাড়াও প্রায় সব দেশেই বহু কাল থেকে চিড়িয়াখানা বর্তমান। 🍂
৷৷আরো কিছু সংক্ষিপ্ত তথ্য ৷৷
@ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল পার্ক চিড়িয়াখানা ১৮৬৪ তে জনসাধারণের জন্য খোলা হয়।
@ ১৮৫৯ সালের সনদ আছে ফিলাডেলফিয়া চিড়িয়াখানায় ৷ ১৮৭৪-এ যা সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
@ ডিজনি অ্যানিমেল কিংডম এ ৮.৮ মিলিয়ন লোক দেখতে এসেছিল ২০২৩ সালে ৷
@প্রথম আধুনিক চিড়িয়াখানা কার্ল হ্যাগেন বেকে(১০ই জুন ১৮৪৪ ১৪ এপ্রিল ১৯১৩) - র টি আর পার্ক ৷ একজন সাধারন বন্যপ্রাণী ব্যবসায়ী হলেও আধুনিক চিড়িয়াখানা ধারণার প্রবর্তক হিসাবে তাকে "চিড়িয়াখানার জনক" বলা হয় ৷
@ ১৮৪৭ এ ক্লিফটন চিড়িয়াখানার জন্য মার্কিন মুলুকে মুদ্রণে প্রথম জিওলজিক্যাল গার্ডেন এর সংক্ষিপ্ত 'Zoo' কথাটির ব্যবহার শুরু হয় ৷ কুড়ি বছর পর শিল্পী আলফ্রেড ভ্যানসের "ওয়াকিং ইন দা জু" নামক ছড়ার গানে জনপ্রিয়তা পায় ৷
@ বিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে চিড়িয়াখানা সংরক্ষণ পার্ক বা বায়ো পার্ক নাম লাভ করে ৷
@ ২০২১ সালের এক সমীক্ষায় সারা বিশ্বে চিড়িয়াখানা ও অ্যাকোয়ারিয়ামে প্রায় ১১ লক্ষ প্রাণী রাখা আছে ৷ প্রতি বছর 50 মিলিয়ন ডলার এর বেশি ব্যয় হয় প্রাণী রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্নের প্রয়োজনে ৷
@ বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রাকৃতিক চিড়িয়াখানা নর্থ ক্যারোলিনা চিড়িয়াখানা (USA)।
@ সর্বাধিক প্রজাতির হিসাবে হেনরি ডোরলি চিড়িয়াখানা ও অ্যাকোয়ারিয়াম (ওমাহা, নেব্রাস্কা)বৃহৎ ৷
@ এখন বিশ্বের বৃহত্তম চিড়িয়াখানা ভারতের গুজরাটের জামনগরে রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক নির্মিত 'গ্রিনস জুলজিক্যাল রেসকিউ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন কিংডম'।
৷৷প্রকারভেদ ৷৷
চিড়িয়াখানায় প্রাণী ও দর্শনার্থীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পরিবেশ নির্মাণ করা হয় ৷ যাতে প্রাণীদের স্বাভাবিক জীবন বাধা প্রাপ্ত না হয় ৷ দর্শনার্থীরাও আনন্দ পেতে পারেন নিরাপদে৷ সেই ভাবনায় ----
# চিড়িয়াখানা ঐতিহ্যবাহী খাঁচা বা আবদ্ধ চিড়িয়াখানা ,
# সাফারি পার্ক :: খাঁচায় না রেখে বড় খোলা জায়গাতে রাখা হয় বা পরিখা বেষ্টিত অবস্থায় ঘুরে বেড়াতে দেয়া বা উঁচু বেড়ার দ্বারা আলাদা করে রাখা হয়। ইংল্যান্ডের বেড ফোর ফায়ার হুইপ সনেড পার্ক , ১৯৩১,
# অ্যাকোয়ারিয়াম:: ১৮৫৩ লন্ডনে প্রথম জলজ প্রাণীদের থাকার মত পরিবেশ তৈরি করে স্বাভাবিক চলাচলের উপযোগী করে প্রদর্শনী,
# পক্ষীশালা বা এভিয়ারি :: রাঙ্গুনিয়া ইকোপার্ক , পূর্বনাম শেখ রাসেল পক্ষিশালা ও ইকোপার্ক বাংলাদেশ,
# সরীসৃপ কেন্দ্র বা রেপ্টাইল হাউস:: দক্ষিণ ডাকোটার Black Hills Reptile Gardens,
# রাস্তার ধারের চিড়িয়াখানা :: উত্তর আমেরিকায় এ ধরনের চিড়িয়াখানার দেখা পাওয়া যায়৷ দর্শককে পশুদের কৌশল দেখানোর প্রশিক্ষণ দিয়ে আনন্দ দানের ব্যবস্থা করা হয়। লাভজনক এ সকল স্থান অপেক্ষাকৃত কম নিয়ন্ত্রিত বলে প্রায়শই প্রাণী অবহেলার অভিযোগ ওঠে ।
# পেটিং চিড়িয়াখানা :: শিশুদের চিড়িয়াখানা রূপে বিশেষ জনপ্রিয় ৷ যেখানে গৃহপালিত বা অপেক্ষাকৃত শান্ত প্রাণীদের সঙ্গে সময় কাটানো যায় তাকে খাওয়ানো স্পর্শ করা যায়৷ জাপানের AniTouch (টোকিও ডোম সিটি) এবং দিল্লির Zoofari ,
# বিশেষ প্রজাতি সংরক্ষণ কেন্দ্র বা বায়ো পার্ক :: যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগো চিড়িয়াখানা, ভারতের পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুলজিক্যাল পার্ক ও নন্দনকানন চিড়িয়াখানা
# রেসকিউ সেন্টার::
# অ্যানিম্যাল থিম পার্ক:: মূলত বিনোদনমূলক ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত বিনোদন ও চিড়িয়াখানার সংমিশ্রণ ৷ ফ্লোরিডার ডিজনি'স অ্যানিমাল কিংডম ৷
# চেন্নাইয়ের ভাণ্ডালুর আরিগনার আন্না জুওলজিক্যাল পার্ক দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম ৷ভারতের প্রথম চিড়িয়াখানা ৷ ৬ ০২ হেক্টর এলাকা জুড়ে এই পার্কে ১৩৮ টিরও বেশি প্রজাতির প্রাণী রয়েছে। প্রথম সরকারি চিড়িয়াখানা এটি৷
# আমাদের দেশের প্রথম চিড়িয়াখানা ১৮০০ সালে ব্যারাকপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় । যা ছিল ব্যক্তিগত উদ্যোগে গড়ে ওঠা প্রথম । পরে ১৮৭৬ থেকে '৭৮ সালের মধ্যে আলিপুরে স্থানান্তরিত হয় ৷
# সমতল ভূমি থেকে সাত হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থিত পদ্মজা নাইডু হিমালয়ান জুওলজিক্যাল পার্ক বা দার্জিলিং চিড়িয়াখানা( সাতষট্টি দশমিক পাঁচ ছয় একর) ভারতের উচ্চতম চিড়িয়াখানা ৷
# সেন্ট্রাল জু-অথারেটি তালিকায় দেশে মোট ১৬৬ টি চিড়িয়াখানা আছে ৷ আলিপুর চিড়িয়াখানা (১৮৭৬, ২৪ শে সেপ্টেম্বর) চতুর্থ । ৩১ টি পশু নিয়ে এর পথ চলা শুরু আজ প্রায় ১২৬৭ টি ও ১০৮ টি প্রজাতির প্রাণী দেখতে পাওয়া যায়।
কেন এই দিনটি আমরা উদযাপন করব এবার দু'এক কথা সেজন্য। যদিও প্রকৃতিপ্রেমী জিম করবেট বলেছেন "মানুষ বন্যপ্রাণীদের বন্দী করে প্রকৃতির সাথে নিষ্ঠুরতা করে"।
তবুও আমরা শীত কাল মানে ঘুরতে যাওয়া বনভোজন এবং অবশ্যই চিড়িয়াখানা দেখতে যাওয়া। আজ এই বিশেষ দিনে আমরা যদি বন্ধুবান্ধবদের সাথে চিড়িয়াখানা পরিদর্শন করতে পারি , চিড়িয়াখানার কোন কাজকর্মের অভিজ্ঞতা অন্যদের সাথে ভাগ করে নিতে পারি, সেই অভিজ্ঞতা সমাজ মাধ্যমে শুভ উদ্যোগে প্রচার করতে পারি, চিড়িয়াখানার উন্নতির জন্য সামান্যতম হলেও অনুদান করে আমরা এই দিনটিকে সর্বাত্মক সফল করে তুলতে পারি, এখানে গিয়ে বসবাসকারী প্রাণীদের বিষয়ে জানবার ,তাদের স্বভাব, আহার পদ্ধতি, প্রজনন সময় সম্পর্কে ধারণা লাভ করে, চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনে নিতে আমরা চিড়িয়াখানার আধিকারিক দের সাহায্য নিতে পারি তবেই দিনটির সার্থকতা ৷ বন্যপ্রাণ ও চিড়িয়াখানার অধিবাসীদের জন্য আমাদের কি কি কর্তব্য , তাদের প্রতি আমাদের কি ধরনের আচরণ করা উচিত তা শিখে নিতে পারি এই অবসরে ৷ প্রাণী কল্যাণের কথা মাথায় রেখে তাদের স্বাভাবিক চলাফেরায় বিঘ্ন না ঘটিয়ে , অযথা বিরক্ত না করে, স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসের বাইরে গিয়ে কোন খাওয়ার খাওয়ানোর চেষ্টা করে আমরা তাদের জীবন যাপনে বাধার সৃষ্টি করব না। বরং চেষ্টা করব আজ এই বিশেষ দিনে আধিকারিকদের অনুমতি ও সহযোগিতা নিয়ে তাদের পছন্দের খাবার "স্পেশাল ট্রিট" হিসেবে দেওয়ার ৷
৷৷চিড়িয়াখানা নিয়ে কিছু সমস্যা৷৷
যেহেতু প্রত্যেক প্রাণী বন্য ও স্বাভাবিক প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে ধরে এনে কৃত্রিমভাবে পরিবেশর সঙ্গে মানিয়ে নিতে বাধ্য করা হয় তার ফল সব সময় ভালো হয় না। পর্যাপ্ত পরিকাঠামো বিজ্ঞানসম্মত লালন-পালন পদ্ধতি , স্বাস্থ্য সম্পর্কিত যথেষ্ট চিকিৎসার ব্যবস্থা , আধুনিক গবেষণার দ্বারা মৃত্যুহার কমানোর পদ্ধতি , পশুপাখি বাহিত সংক্রমনের ব্যাপারে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল থাকা , নির্দিষ্ট জায়গায় বাঁধা পড়ে গিয়ে স্বাভাবিক আচরণ পরিবর্তিত হওয়ার সম্ভাবনা চলাফেরার বৈশিষ্ট্যে কিছু অসঙ্গতি--- এ সকল বিষয়ে খুব সচেতন ভাবে আমাদের খেয়াল রাখতে হবে ৷ আশার বিষয় এক গবেষণায় ( ৫০টি স্তন্যপায়ী প্রাণীর ওপর করা) দেখা গেছে বন্যপ্রাণী খোলা জায়গা থেকে চিড়িয়াখানায় ৮৪% বেশি দিন বেঁচে থাকছে ৷
সবশেষে চিড়িয়াখানা জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বন্যপ্রাণী সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন এবং বিনোদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাক ৷ বর্তমান সময়ে চিড়িয়াখানাগুলো বন্যপ্রাণীদের কল্যাণ বা 'অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার' নিশ্চিত করার উপর বেশি জোর দিয়ে আরো সফলতা ও জনপ্রিয়তা লাভ করুক এই আশা নিয়ে দিনটি পূর্ণতা লাভ করুক ৷
0 Comments