দোলনচাঁপা তেওয়ারী দে
আজ ২৯শে মে মাউন্ট এভারেস্ট দিবস,মাউন্ট এভারেস্ট দিবসটি কেন পালন করা হয় এবং এর সমাজে গুরুত্ব কি, আসুন সবকিছুই বিস্তারিতভাবে জেনে নিই।
মাউন্ট এভারেস্ট হলো, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে পৃথিবীর উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ। এর উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার (২৯,০৩২ ফুট)। এটি নেপাল ও চীনের (তিব্বত) সীমান্তে হিমালয়ের মহালাঙ্গুর হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত। নেপালে এটি 'সাগরমাথা' এবং তিব্বতে 'চোমোলাংমা' নামে পরিচিত।
পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট মানব সাহস, অধ্যবসায় এবং জয়ের প্রতীক।এই বিশাল পর্বত বহু অভিযাত্রী, পর্বতারোহী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্র। প্রতি বছর ২৯শে মে “মাউন্ট এভারেস্ট দিবস” পালন করা হয়। ১৯৫৩ সালের এই দিনে নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী Edmund Hillary এবং নেপালের শেরপা অভিযাত্রী Tenzing Norgay প্রথম সফলভাবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন। তাঁদের এই ঐতিহাসিক সাফল্যকে স্মরণ করতেই মাউন্ট "এভারেস্ট দিবস" পালিত হয়।
🍂
মাউন্ট এভারেস্ট হিমালয় পর্বতমালার অন্তর্গত এবং এটি নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তে অবস্থিত। নেপালে এই শৃঙ্গকে বলা হয় “সাগরমাথা”, যার অর্থ “আকাশের কপাল” এবং তিব্বতি ভাষায় একে বলা হয় “চোমোলুংমা”, যার অর্থ “বিশ্বের জননী দেবী”।
এই পর্বতের নামকরণ করা হয় ব্রিটিশ জরিপ কর্মকর্তা George Everest এর নাম অনুসারে,যদিও তিনি নিজে কখনও এই শৃঙ্গ দেখেননি, তবুও তাঁর অবদানের জন্য এই নামকরণ করা হয়।
মাউন্ট এভারেস্ট দিবসের সূচনা মূলত নেপাল থেকে। ১৯৫৩ সালের ২৯শে মে এভারেস্ট জয়ের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি হয়। বহু ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর অবশেষে এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগে পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গে পা রাখতে সক্ষম হন। তাঁদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন ছিল না, এটি ছিল সমগ্র মানবজাতির সাহস ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
২০০৮ সালে এডমন্ড হিলারির মৃত্যুর পর নেপাল সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ২৯শে মে দিনটিকে “মাউন্ট এভারেস্ট দিবস” হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে প্রতি বছর এই দিনটি বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে পালিত হচ্ছে।
মাউন্ট এভারেস্ট দিবসের গুরুত্ব অনেক দিক থেকে উল্লেখযোগ্য।
প্রথমত, এটি মানুষের অদম্য সাহস ও অধ্যবসায়ের প্রতীক। এভারেস্ট জয় করা অত্যন্ত কঠিন ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজ। তীব্র ঠান্ডা, অক্সিজেনের অভাব, তুষারঝড় এবং দুর্গম পথ সবকিছু অতিক্রম করেই একজন অভিযাত্রীকে শীর্ষে পৌঁছাতে হয়।
দ্বিতীয়ত, এই দিবস আমাদের প্রকৃতির মহিমা ও শক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। বিশাল পর্বতমালা মানুষের কাছে প্রকৃতির সৌন্দর্য ও ক্ষমতার এক বিস্ময়কর উদাহরণ।
তৃতীয়ত, মাউন্ট এভারেস্ট দিবস তরুণ প্রজন্মকে স্বপ্ন দেখতে ও কঠোর পরিশ্রম করতে উদ্বুদ্ধ করে। জীবনে বড় সাফল্য অর্জন করতে হলে ধৈর্য, পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাস কতটা জরুরি—এভারেস্ট জয়ের ইতিহাস তার বড় উদাহরণ।
এভারেস্ট জয়ের চ্যালেঞ্জ
মাউন্ট এভারেস্ট জয় কোনো সহজ কাজ নয়। এই অভিযানে অসংখ্য বাধা ও ঝুঁকি রয়েছে।
উচ্চতাজনিত অসুস্থতা (Altitude Sickness) এভারেস্ট অভিযানের অন্যতম বড় সমস্যা। উচ্চতায় অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় অনেক অভিযাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন। এছাড়া প্রচণ্ড ঠান্ডা, হিমবাহ, তুষারধস ও অনিশ্চিত আবহাওয়া অভিযাত্রীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে।
এভারেস্ট অভিযানে শারীরিক শক্তির পাশাপাশি মানসিক দৃঢ়তাও খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দীর্ঘদিন কঠিন পরিবেশে থেকে অভিযাত্রীদের লক্ষ্যপূরণ করতে হয়।
বর্তমানে মাউন্ট এভারেস্টের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হলো, পরিবেশ দূষণ। প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক পর্যটক ও পর্বতারোহী এভারেস্ট অঞ্চলে যান। এর ফলে প্লাস্টিক, অক্সিজেন সিলিন্ডার, খাদ্যের প্যাকেটসহ নানা ধরনের বর্জ্য জমা হচ্ছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও হিমবাহ দ্রুত গলছে, যা পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক। তাই মাউন্ট এভারেস্ট দিবস শুধু জয়ের উদযাপন নয়,এটি পরিবেশ রক্ষার বার্তাও বহন করে। আমাদের উচিত প্রকৃতিকে সম্মান করা এবং পাহাড়ি অঞ্চলের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা।
মাউন্ট এভারেস্ট দিবস থেকে আমরা অনেক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাই। যেমন, জীবনে বড় লক্ষ্য অর্জনের জন্য কঠোর পরিশ্রম প্রয়োজন। সাহস ও আত্মবিশ্বাস মানুষকে অসম্ভবকে সম্ভব করতে সাহায্য করে। দলগত সহযোগিতা সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
প্রকৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া জরুরি।
এডমন্ড হিলারি ও তেনজিং নোরগের সাফল্য আমাদের শেখায় যে দৃঢ় সংকল্প থাকলে মানুষ যেকোনো বড় বাঁধা অতিক্রম করতে পারে।
মাউন্ট এভারেস্ট দিবস কেবল একটি স্মরণীয় দিবস নয়,এটি মানব সাহস, পরিশ্রম ও জয়ের এক অনন্য প্রতীক। ২৯শে মে আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে মানুষ পৃথিবীর সর্বোচ্চ শিখরও জয় করতে পারে। একই সঙ্গে এই দিবস আমাদের প্রকৃতি সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষার গুরুত্বও উপলব্ধি করায়।
0 Comments