জ্বলদর্চি

তিনটি কবিতা/ নরেন হালদার

তিনটি কবিতা 
নরেন হালদার 

দেওয়াল 

দেয়ালে দেয়ালে দুটো ঘর
কাছারিও বলা যায়
অথবা দুয়ার – 
অথবা শূন্য –
অথবা মানুষের গন্ধ - 
আঙিনা থেকে দুয়ার হয়ে ঘর
একই সরলরেখায়
কোনো একটা বন্ধন।
চেষ্টা করলে খুঁজে পাবে অনেকগুলো কঠুরি –
ঘরের মালিক একজনই
শুধুই পশারি।

কুঠুরির সঙ্গে কঠুরির বন্ধন।


দূর

কেউ দূরে যেতে চাইলে যেতেই থাকে
দূরের টান বন্ধনের শীর্ষে এসে ধরা দেয়
উন্মত্ত বিলাসিতায়।
কোনো কারণের প্রয়োজন হয় না,
ভালোলাগে তাই যায়। 
বিশ্বামিত্রও ভীষ্মকে আটকাতে পারেনি।
কারণতো কেবল ঘটনামাত্র– 
ঘটনার ঘনঘটা আর আয়োজনের সমারোহ
দূরের মধুবেলায় আমন্ত্রণ।


অভিনয়

অভিনয় করে কি ক্লান্ত হয়ে গেছ ?
নিজেকে তো ফাঁকি দিয়েছো অনেক – 
হাজারবার এভাবেই বুনে যাবে মনোময় মালা।
যদি বেতবনের নরম শলাকা না থাকে,
তবে অভিনয় দিয়ে ভরিয়ো না – 
ওটা ঠিক তোমায় মানায় না। 

ঘুমের অভাবে চোখের নীচে কী কালি জমেছে ?
জমতে দিও না। ফুঁ দাও কলাগাছের শুকনো মঞ্জরিতে।
ফল দানের পরে এমনি করে সকলেই শুকিয়ে যায়,
এমনি করে হাওয়া বয় তিল ক্ষেতের শুকনো ডাঁটিতে।
অভিনয় ছেড়ে নিশ্চিন্তে একটু ঘুমিয়ে নাও – 
ওটা ঠিক তোমার জন্য না। 

অভিনয় করে ক্লান্ত হলে একটু জিরিয়ে নিও।
আমি না হয় তালপাতার পাখায় একটু বাতাস করে দেব।
বিনুনিটাকে তুলে ধরে চোখের উপর বুলিয়ে দেব –
কোচবিহারের রাজবাড়ি থেকে আনা বাহারি জবাতে
সাজিয়ে দেব সমস্ত বাগান। তাই – 
অভিনয়টা ছেড়েই দাও। ওটা কেবল সান্ত্বনাই দিতে পারে।

🍂

Post a Comment

0 Comments